Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Manibegam Vol. 1"

See other formats


| "তীয় নূধ ১৩১৭ 


% 
॥ 


ই পুল 
সি রা 


বঠিনিত সা 


! 





রা 

















৯: &৫8 রী 
৪৬৭৪৪৩৪৪৫৪৬ ৬৬% ক৬৬%ওক$৪৪৩৬ ৬৩০৪৩ ০ খ কক কবকরড$৪৩3 
এ 
॥ ৪৬৬৩৬++৬৬ ওরা ৪০৩০৪৩৫৭৮৪৪ ৮৫৪৩৪ ৪০ এ ৪ ও দম ক8৩ ৬০৪6৫ 


$$৪৮৪২858868%85856৬৮০১৪৪৪৩৪৪ কতক 


& ৪ 
৪৯৩৮৪ % কত ডিও কতক ৬ তিউিজী ৬ ডর 


1 ৩৮০০৩ ত৯৮*০০০১০০৭৯১১৭ 
রি ৮ 


শিলা 





শপে পনর 


|8 সাহিত-সম্াট ব্ধিমচন্তরের জাতুপ্পোত্র-্গায় ছামোদর মুখোপাধ্যায়ের ফৌহির 
শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ চট্টোপধ্যায় বিরচিতগন 
রাজপুতনার লীলা-বান্ত-গলিত 
স্লাব্জপ্পুতিলল সের 
| আমাদের চে উনবিংশ সম্পূর্ণ উপন্তাল | 








শ্মণিবেগম" প্রকাশিত হইল। আমার নুতন রচন! ও পুরাতন" 
রচনাছুইয়ের সমাবেশে এই গ্রন্থ-খণ্ড বিরচিত। 
এক হিসাবে এই “মপিবেগম” কির়ৎপরিমাণে আমার পুরাতন রচনার" 
সহিত সংশ্লিষ্ট থাকিলেও অন্ত হিসাবে ইহা অভিনব মুক্তিতে প্রকাশিত, 
_শমশিবেগম | ূ 
. এই গ্রন্থ খণ্ড-_মণিবেগম উপন্াসের প্রথম অংশ। মপিবেগম কি 
প্রকারে শক্রমিত্র সকলের প্রীতিভাজন কবন্পিন্বেঞা্সগ এই 
উপন্যাসে অপর অংশে তাহারই পরিচয় আছে। 
“যে নামে বে ভাবেই হউক, গ্রন্থের নিগুঢ় লক্ষ্য-_লৌক-দৃষ্টির আকর্ষক” 
হউক, ইহাই আকাঙ্ষা । ইতি--২*এফাল্তন, ১৩২৭ সাল । ৃ 


পৃথিবীর ইতিহাস” নিবেদক 
উন শ্িদুর্গীদাস লাহিড়ী » 
হাওড় রঃ র্‌ : 


১৯৯ উপাধি 2০০০০০০ 
সপ 4 সা ৩ পাপ পক 


_ কমালিলী-সাহিভ-সান্দির | 


হা পাপ ক শব সপ 





নে 


ক 


ক ৭1 ৮১৪1০, 2৮১০ 
চা রি 


হা 
সপ ্ 
ূ স্ঠ মী ঘাছ নে ঠা ২২২ 


প্রথম খণ্ড । 


শউদ্ত্তমং মুমুদ্ধি নে! বি পাশং মধামং চত । 
অবাধমানি জীবসে 1” 
হখেদ। 


শত শর 
ঁ 


সাধুগণ প্রার্থনা করেন, - 
“ছে ভগবন্! 'আমার ব্রিবিধ বন্ধন মোচন করুন। উত্তষ, মধ্যম ও গু. 
অধন--কোনও বন্ধন যেন আম্মাকে আবদ্ধ লা করে। 
| আর, আমাদিগের চেষ্টা. 
কিসে বন্ধনের পর বন্ধন আসিয়া আমাদিগকে বন্ধ করে,--বন্ধনের 
নাগপাশকে, আমরাই, আকর্ষণ করিয়া! আনি |. 
“ধনলিগ্সা ক্ষপতৃবা! বিষ বন্ধন 1. 
নাগপাশ সম বান্ধে নীবে অহ 


৪ শ্ীদূরগাদাস লাহিডী- 
স্মল্বহ্ 


সবল 
১ বন্ধনের সুত্র 
“কি সংবাদ ? হঠাৎ ফিরে এলে যে!” 


“আজ্তে, শুধু ফিরে আপিনি ! এক অমূল্য মণি লুঠন করে এনেছি!» | 


*ভোঁর রাত্রে পুরী লুঠন কপ্রবার কথা ছিল নয় ? তোমরা! সন্ধ্যার 
প্রার্কালে ফিরে এলে কি করে ?” 


“ততদুর অগ্রসর হ+বার পূর্বেই ষে রত্ব হস্তগত হয়েছে, আপনাকে 
ও সর্বাগ্রে উপটৌকন দেওয়া আবশ্তক মনে করেই ফিরে এসেছি” 
সেনাপতি একটু বিরক্তির ভাব প্রকাশ করিয়া কহিলেন,__“সে আবার কি 
কথা-_রহমন? আমার জন্য আমি তে! কোনও সামগ্রীই আন্তে বলিনি! য! 
কিছু লুষ্টিতদ্রব্য আসবে,সকলই তে! নবাব-সরকারের তোষাথানায় জম। হবে !” 
_ বুহমন সঙ্কুচিততাবে উত্তর দিল,-_*আপনার যা আকাঙ্ষা্ড সামগ্রী, 


আপনার জন্যই তা আনা হয়েছে ।” 
সেনাপতি উত্তেজিত কঠে কহিলেন,_-”আমার আকাজঙ্কার সামগ্রী! 


"্পুনর্ধার একথা উচ্চারণ করলে, তুমি দণ্ড পাবে-_-জেনে রেখ রহমন ? 
নবাবের প্রাপ্য সামগ্রীর প্রতি আমি কোনও*দিন কোনও আকাজ। 


প্রকাশ করেছি কি ?” 
রহমন মনে মনে কহিল, জারা । মনের অগোচর পাঁপ নাই। 


কআগনার অন্তরকেই জিজ্ঞাসা করে দেখুন দেখি, নবাবের অতীম্সিত 
কোনও সামগ্রীর প্রতি আপনি প্রলুব্ধ কিনা? সঙ্গে সঙ্গে. রহমনের . 
স্বদয়ে একটা প্রতিধ্বনি উঠিল, প্রতিহিংসা প্রতিহিংসা 1 রহুমন্‌ 
. প্রান্তে উত্তর দিল/--“আক্তে, যে রত্র এনেছি, সে রত্বের পে নবাবের. 
১ সিনও সন নাই। সে মণি--আপনারই কঠভূষণ |». .. | 
্ ধষেনাশা একটু বিশ্রিতগাবে কহিলেন, _প্রহমন। তুমি যে কি. | 
বন! সা আমি বে প পারছি না)” 








প্রনীত-_“মণিবেগম' | & 


রহমন। আজ্ঞে, সে মণি-মণি! দশ হাজার টাক! দিয়ে, 
 সাজাহানাবাদ থেকে ঘে মনি কিনে আন! হয়েছে! মাসিক পাঁচ শত 
টাকা ব্যয় করে যাকে রক্ষা কর্‌তে হচ্ছে! সে মণি আপনারই । 

মীরজাফর চমকিক়! উঠিলেন। কি ধেন একটা পুরাতন স্থতি-লেখ! | 
নিছাতের প্রবাহের স্তায় তাহার শিরায় শিরার প্রবাহিত হইল। তিনি 
একটু ব্যগ্রভাবে কহিলেন,--“রহমন ! হেয়ালীর ভাষ! ত্যাগ কর। তুমি 
কি বল্ছ, স্পষ্ট করে বল।” 

রহমন। আকন্তে, অস্পষ্ট তে কিছু বলি-নি | 

মীরজাফর । ভূমি সকল বিষয়েই" রছস্ত করে থাক! তুমি রহসতপট 
বলে তোমার সকল কথাই উড়িয়ে দিই। কিন্তু রহস্যের সময় অসময় আছে । 

রহমন একটু বিনীতম্বরে উত্তর , দিল,--”আজ্ঞে, রহস্ত করি-নি। 
যা, সত্য, তাই বলেছি। অন্কুমতি দেন, এখনই সে রতু সম্মূথে খানে 
উপস্থিত কর্ছি। ' বত্বু-_আপনার হয়, আপনি, গ্রহণ কর্বেন ) না হয়. 
নবাব-সরকারে ভেট্‌ দেবেন। এই বলিয়া, মৌন-সম্মতি লক্ষণ পাই্য়! 
রহমন উদ্যান-বাটিকার বহিরভিমুখে প্রস্থান করিল। নীরজাফর, পরার 
সন্ধ্যার প্রাকালে এই উদ্যান-বাটিকার বিশ্রাম করিতে আসিতেন ; কোনও 
কোনও ব্রাত্রিতে এখানে নিজ্জনবাসে অবস্থিতি করিতেন। মীরজাফর 
গভীর চিস্তা-নাগরে নিমগ্ন হইলেন । সত্যইকি সেই? মণি_-আমার 
কণ্ঠমণি! আবার কি আমি তারে ফিরে পাব? কার লোভ নেই তার 
প্রতি ? দিল্লীর দরবারে সকলেরই মনোহরণ করেছিল সে ! যুর্শিদাবাদে 
এসে সকলেরই মনোভূষণ হয়ে আছে দে ! তার প্রতি লোলুপ -দৃষ্টি--. 
কত জনেরঃ দে কি আমার হবে? নবাবের ভয়ে ভাল করে একদিন 
বেখতে পাই-নি তারে? শা-খাহুন খরৃষ্টি রেখেছিল তার প্রতি! বোধ 
হয়, ভাই-বোনে যুক্তি করেই আমার দৃষ্টির অন্তরালে রাখতে! তারে, ব. 
মাপিবন্দী আশ্রয়দাতা! ছিলেন_আমার; আপন ভঙ্মী শাখাহুমকে.. 


১১৪ নং আহিরীটোল। ঘট, কলিকার)। 





৬ | শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


আমার করে অর্পণ করে নবাব-সরকারে সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছিলেন-__ 


“আমার । তাই তখন লজ্জায় শঙ্কায় যণির সম্বন্ধে কোনও ব্যবস্থাই. 


. কর্তে পারিনি! কিন্তু এখন আমি সেনাপতি! এখন আমার প্রবল 
-প্রতাপ। এখন যদ একবার আমি দেখতে পাই, নিশ্চয়ই তারে 
আপনার করে নেই ! নবাব !--সিরাজ্জ! তার ভয় অল্পই করি! 


চিন্তার শ্রোত পরিবন্তিত হইল! মীরজাফর দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ 


করিয়। কহিলেন,__*বৃথ| কি ভাবন। ভাবছি! মণি এখন কোথায়? আজ 
ছু তিন মাস তার সন্ধানই নেই! সে এখন ফিরিঙ্গীদের কুঠীতে গিয়ে 
নাচ-গান মুজ্রে!. করে বেড়াচ্ছে! তার আর এখানে ফির্বার কি 
সম্ভাবনা আছে? বিশেষতঃ নবাবের সঙ্গে ফিরিঙগগীদের যে হন উপস্থিত, 


তাতে আসা-যাওয়ার পথ রোধ হুয়ে গেল বলেই মনে হয় । রহমন কি 


ব্ল্‌্তে কি বলে গেল। তার এ হেয়ালীর কোনও অর্থ হয় না।” 
সহল। চিন্তার গতি অবরুদ্ধ হইল। হরিদ্রান্ত রেশমী-বস্ত্রারৃত 
একখানি শিবিকা, মীরজাফরের প্রকোষ্ঠ-দ্বারে উপস্থিত হওয়ায়, তিনি মন্ত্র 
চালিত পুস্তলিকার স্তায় তদভিমুখে উপস্থিত হইলেল। 
শ এ ১ 
২। প্রতিজ্ঞার বন্ধনে । 
এক অনিন্দান্ুন্দরী ঘুবতী,শিবিকার অভ্যন্তর হইছে অবতরণ করিলেন । 
তখন, সান্ধ্য-গগনে নবঙ্গীর চন্দ্র উদ্দিত হইয়| দিকৃ_উতদ্ভাপিত করিতেছিলেন ? 
“মনে হইল,নবাবের অলিন্দে আপিয়া তিনি যেন রমণী মূর্তি ধরিয়া দাড়াইলেন। 
মীরজাফর হস্তধারণ-পূর্ববক মণিকে আপন প্রকোঠীস্যত্তরে লইয়া 


গেলেন। শিবিকা ও বাহকগণ সহ রহমন, চুকিতের মধ্যে অনৃষ্ত হইল। 


অনে মনে কহিল/--“বন্ধু বেগম ! তোমার বড় রর হয়েছে !. ৮ 
| দেখ প্রতিহিংস-_ প্রতিহিংসা-_কেমন প্রতিহিংসা | | 
(প্রকোষ্ঠ আলোক-পুলকিত ছিল। সে রা মণির ছটা 


 ফষলিনী-মাধিভা-মনদির, 


হু শনি ১ 


প্রনীত- “মণিবেগম' | ্ু- 


নবালোক উদ্ভাসিত হইল । সেনাপতি, মণির মুণাল-কোমল বাহুত্থয়-- 
সংলগ্ন পদ্মদ্লসন্লিভ তাহার হস্ত ছ'থানি ধারণ করিয়া, আনন্দ-গদগদ-স্বরে 
কহিলেন+--“মণি! আজ কার মুখ দেখে উঠেছিলাম---বল্‌্তে পারি না ! 
'মমাবহ্যায় ষে পৃর্ণচন্দ্রের উদয় হয়, জগতে এই নুতন দেখলাম !” 

মণি কটাক্ষ করিয়। কহিল,-_”"আপনাদের কথাই সার! কথা আমি 
অনেক শুনেছি। কথা আর শুনতে চাই না |” 

সেনাপতি । মণি! মনের ভাব কথায় বুঝাবার নয় । আমি, 
দেই থেকে পাগলের স্তায় হয়ে আছি! 

মণি। তা হলে আর ভুলেও একবাধ সন্ধান নিতেন ন! ? 

সেনাপতি । বল্‌্লে, হয় তে! তুমি বিশ্বাস করবে না! নবাঝ' 
'আলিবদী জীবিত থাকতে, তুমি জান্তেই তো, তোমার সম্বন্ধে আমার. 
কোনও হাত ছিল না। কিন্তুত্তীবর মৃত্যুর পর থেকে, আমি তোমাক? 
জন্য কত সন্ধানই করেছি । কত যায়গায় কত লোক পাঁঠিয়েছি। কিস্ত 
কেউ তোমার সন্ধান দিতে পারে-নি | 

মণি ভ্রকুটিতঙ্গীসহ উত্তর দিল,__“আমি বিশ্বাস করি না যে, আমার. 
জন্য আপনার হৃদয়ের এক কোণেও একটু স্থান আছে !” 

মীরজাফর ব্যগ্রভাবে কহিলেন,--"মণি ! যদি দেখাবার হতো বুক 
চিরে দেখাতে পার্তাম--তুমি হবদয়ের কতখানি স্থান কেমন তাবে, 
অধিকার ক'রে আছ! তুমিকিবিশ্বান কর্বে--মণি!” মণি সঙ্কচিতা 
হইয়া! কহিল---পমেহেরবান্‌! এই বাদীর প্রতি এতই করুণ। !” 

মীরজাফর ।--“মপি ! মনে রেখ, মীরজাফর মিথা1 কহে নাই ।* | 

মণি উদ্বেলত কণ্ঠে উত্তর দিল,--প্নবাব ! নবাব! আমার ক্ষম! 
কর্বেন! কি বল্তে কি বলেছি, বদি অন্তায় হয়ে থাকে, অবলা বলে 
ভুলে বাবেন।” 

“নবাব সক্ষোধনে নীরজাফর-একটু' চমকিয়া! উঠিলেন ? কহিলেন - 


১১৪ নং আহ্রীটোল! হট, কলিকাত!) 


৮ “অণিবেগম' 


“আমায় বিদ্রপ কর কেন মণি? আমি নবাব নই। নবাব--দিরাজুদ্দোলা ! 
“তাঁর জন্য তৃমি যদ্দি ব্যাকুল হও, ভাল, সেই ব্যবস্থাই করা যাবে |” 
মণির চক্ষপ্রাস্তে অশ্রুবিন্দু দেখা দিল। তাহার রক্তিম গণুস্থলে 
সে বিন্দু রক্তাভমূত্তি ধারণ করিল। মণি বাম্পগদগদ-কণ্ঠে কহিল, 
“ভাহাপনা! বজ হতে কঠোর এমন কঠিন কথা কেন বল্লেন? 
তার প্রাণপ্রিয় এই আপনাকেই স্পর্শ করে মণি শপথ করে বল্ছে, 
মণি আপনাকে ভিন্ন আৰ দ্বিতীয় জানে না। নাথ! নিশ্চয় জান্বেন-- 
মণির প্রাণমন আপনাতেই সমর্পিত হয়ে আছে। তবে যে মণি আজ 
আপনাকে নবাব ব'লে সম্বোধন 'করেছে, তারও কারণ আছে। মণির 
অন্তরাত্া ব্ল্ছে--আজি হউক আর কালি হউক, মণি আপনাকেই 
বাঙ্গালার মস্নদে অধিষ্ঠিত দেখবে । নাথ! বদি ত। হয়--* মণি আপন 
মণাল-তুজদ্বয়ে মীরজাফরের কঠদেশ বেষ্টন করিয়! ধরিল ; কহিল,_-“নাথ | 
ঘদি--তাই হয়-_ 
মীরজাফর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন,--"্তাই বদি হয়, মণি আমার 
পাট-বেগম হবে ।* , 
“নাথ! সত্যি্-সতা বল্ছেন কি ?” 
মণির বীণা-বিনিন্দী কণ্ঠের এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গেই মীরজাফর আবার 
 ফহিলেন,--*তাই-_তাই হবে|” 
"সতা--সত্য বল্ছেন?” 
"মীরদ্বাফর কখনও মিথ্যা বলে নাই $ 
“সতা--সত্য রল্ছেন ?* 
"মীরজাফর কখনও মিথ্যা বলে নাই । | 
মণি গদগদকণ্ঠে উত্তর দিল,-*এত ন: ইলে আর দামী আপনার 
উরণে বিক্রীত হয়ে আছে! 


শ্বন্সিশ্বেচাঙ্ষ £ 


শসা 





প্রথম পরিচ্ছেদ । 


| বন্ধন-মোচন। 


“বালো যুবা চ বৃদ্ধণ্চ যঃ ফরোতি শুভা শুভম্‌। 
তক্তাং তন্ঠামবস্থায়াং ভুঙক্তে জন্মনি জন্মনি ॥” 
-ধ্যান-বাক্য। 


“মাহ! ! বেঁধ' না বেধ' না! ছেড়ে দেও-- ছেড়ে দেও!” 

“আনি পুষব যে!” 

“বন্ধনে বড় কষ্ট! বন্ধন মুক্ত ক'রে দেও! দেখছ ডিপ 
ফাদ্ছে কত!” 

«আমি একে বত ক*র্ব--খাঁচায় রাখব ! ফড়িং ধ'রে এনে দেব-- 
ছাতু খেতে দেব--কত ভালবাস্ব !” 

“অবোধ বালক! পাখী অনস্ত-আকাশের উনুক্ত বায়ুক্রোড়ে 
বিচরণ করে) বন্ধনে তার কি ৭ কি বুঝবে? ছেড়ে মেও-. 
ছেড়ে দেও।* 


১০ শ্রীহ্র্গাদাস লাহিড়ী- 


“ছেড়ে দেব কেন ?--আমি যে পাখীটিকে কিনেছি! কষ্ট দেব' 
কেন ?--আমি যে ওর জন্ত সুন্দর পির প্রস্তুত করিয়েছি! সেই 
পিঞ্করে ওকে রাখব, প্রত্যহ ক্ষীর-সর-ননী খেতে দেব। কৃত যত্রে-_ 
কত আদরে লালন-পালন ক'র্ব ! ওর কোনই কষ্ট হবে না।” 

“পাথী তোমার যে যত্বচায় না। তাই দেখ এ-_পাবী পালাবার: 
বন্ত কত আকুলি-ব্যাকুলি ক/র্ছে ! তুমি একবার ওকে ছেড়ে দেও দেখি! 
ও এখনি উধাও হ'বে উড়ে ফাবে !” 

শ্ছই এক দিন আমার যত্ব পেলেই পাখী পোষ মান্বে !”--এই বলিয়া, 
বালক, অনন্তমন! হইয়া, পাখীর পায়ে দড়ি বাধিতে লাগিল। 

বালকের নাম--গোপাল। গোপাল কেবল নামে গোপাল নহে ১ 
রূপ-মাধুধ্যেরও. যেন সাক্ষাৎ গোপাল-মুত্তি! সৌন্দর্য ফুটিয়া বাহির 

হইতেছে । আকর্ণ-বিস্ৃত বিস্ফারিত নয়নঘ্য়-_সেই সৌন্দধ্যের কেন্ত্রী- 

ভূত হইয়া আছে। গোপালের পরিধানে পট্ট-বস্ত্র; গোপাল মালকৌচ? 
. বীধিয়া পরিয়া আছে । গোপালের পায়ে মল; হাতে বালা, কোমরে গোট ॥ 
মন্তকে ঘন-কৃষ্ক কেশরাশি বেণীবদ্ধ হইয়া! দোছুলামান । গোপালের: 
'অধরোষ্ঠ, হস্তপদতল---অলক্তক-রপ্রিত। ললাট, বক্ষ,-- সকলই সুলক্ষণা- 
ক্রান্ত। এই সুলক্ষণাক্রাস্ত বালক কেন পাধীটিকে ধরিয়! কষ্ট 
জিতেছে! | 

একজন সন্গ্যাসী সেই পথে যাইতোছিলেন | বালক একমনে 
পার্থীটিকে বাধিতেছে দেখিয়া, তিনি একটু বিচলিত হইলেন। তাই 
তিনি বালককে বুঝাইয়া পাখীটিকে ছাড়িয়া দিরার জন্ত অনুরোধ করিতে 
লাগিলেন। 

গোপাল সঙ্গাসীর অনুরোধ গুনিল না। সে এক মনে পাথীটিকে 
ৰাধিতে প্রবৃত্ত হইল। পাখী ছটফট করিয়! চীৎকার করিতে লাঙ্গিল। 


কমজিনী*নাভিত্য-মন্দির, 


প্রণীত---“মণিবেগম | নং 


সম্াপী আবার বলিলেন,-_-স্তুমি আমার কথা শোন ! পাখীটি ছেড়ে 
দেও। আহা! দেখ দেখি--পা্ী কত ছট ফট কর্ছে।* 

পাথ্ীটিকে বাধিতে যাইয়া, সন্গ্যাসীর কথাদ্র গোপাল এক-এক বান 
অন্যমনস্ক হইতেছে; স্থতরাং তাহার বন্ধন-কাধ্যে বিস্ব ঘটিতেছে। এবার 
তাই সে একটু বিরক্ত হইয়া বলিল,-_-”কেন টিকৃটিক্‌ করছেন? খাচায় 
নিয়ে গিন্নে রাখলেই পাখী শান্ত হবে,__পাখীর ধড়ফড়ানি আর 
থাকবে না!” 

সন্গযাসী। তাও কি কখন সম্ভবপর! মনে কর দেখি,--তোমায় 
যদি কেহ এইরূপ-ভাবে বেঁধে নিয়ে যায়,--তোমার পিতামাতার কাছে 
আর আস্তে ন দেয়,__খাচার মধ্যে পুরে রাখে,-তোমার তখন কি কষ্ট 
হয়? বন্ধনে পাখীর সেই কষ্ট !_বেশী বই কম নয়। তোমাকে ধারে 
নিয়ে গিয়ে, লোকালয়ে মানুষের কাছে--মান্ুষের খর বাড়ী-সংসারের 
ভিতরে রাখলেও তোমার প্রাণটা কত ব্যাকুল হর--ভাব দেখি! কিন্তু 
পাথীকে উন্মুক্ত আকাশ-রূপ তাহার বিচরপ-স্থান পরিত্যাগ করে ক্ষুদ্র 
পিঞ্করে সম্পূর্ণ বিপরীত-ধন্্মাবলম্বী মানুষের কাছে থাকৃতে হবে। তার 
কষ্ট কত অধিক-_অন্কুভব কর্তে পার কি ? 

গোপাল একটু বিচলিত হইল? কিন্তু পাখীটিকে পরিত্যাগ করিতে 
সম্মত হইল ন]। 

সন্নানী কহিলেন,-*ভাল--তোমার পাঁখীটি আমি বেঁধে দিচ্ছি। ' 
কিন্তু তোমায় আমি ধ'রে নিয়ে যাব। পিতা-মাতা আত্মীয়-স্বজন পরিত্যাগ 
ক'রে আমাদের নিকট থাকৃতে যদি তোমার কষ্ট বোধ নাহয়, এই 
পাখীটিকে আর তোমায় ছেড়ে দিতে ক'ল্ব ন! |” 
"আই বলিয়া সন্ন্যাসী গোপালকে “ধরিয়া লইয়া যাইবার ভাব প্রকাশ 
৷ করিলেন । রি হি, 


১১৪ মং আহিরাটোল। ছ্ীট,.ককিকাতা 





প্টই শ্রীহর্গাদাস লাহিড়ী- 


গোপাল কহিল,--"আপনার সঙ্গে আমি যাব কেন?” 

সন্্যাপা। পাখীই বা তোমার সঙ্গে যাবে কেন ? 

গোপাল । আঁমি কিনেছি ;--ন্ুন্দর খাঁচা প্রস্তুত ক'রে রেখেছি! 
কত আদর ক'রে ক্ষীর-সর"ননী খাওয়ার! 

সন্গযাসী। আমিও তোমাকে আদর কর্ব--মআমিও তোমাকে 
ক্ষীর-সর-ননী খাওয়াব। তবে তুমি আমার সঙ্গে যেতে স্বীকার কর্দ্ছ 
না কেন! * 

গোপাল । আমার নিজের দেশ, নিজের গ্রাম, নিজের পিতামাতা, 
এ সব পরিত্যাগ ক'রে আমি কেমন করে পরের সঙ্গে যেতে পারি? 
"আমার এ স্বাধীনতা পরিত্যাগ করে, আমি কেন পরের নিকট বন্ধনে 
আবদ্ধ হ'তে যাব? 

সঙ্সযাসী। পাখীরও নিজের দেশ, নিজের পিতা-মাতা, নিজের 
স্বাধীনত। আছে। সে নথ পরিত্যাগ ক'রে, সেই বা কেমন ক'রে 
তোমার বন্ধনে আবদ্ধ হ'তে বাবে? সে ষে উন্মুক্ত-গগন-বিহারী বিহঙ্গম ! 
'তাৰ শ্বাভাবিক গতি তাকে আপনিই অনস্তগগন-পথে আকধণ কছে 
নিয়ে যাবে! তুমি তাকে ন্বর্ণ-পিপ্তরে রেখেছ, কি লৌহ-পিগ্তরে রেখেছ, 
"সে. একবারও তা ভেবে দেখবে না;--তোমার ক্ষীর-সর-নবনী খাদা-দ্রবোর 
প্রলোভনেও সে কদাট 'প্রলুন্ষ হবে না! তুমি কি দেখ-নি--কত যত্ব 
কত আদ্বরের পরও, 'একবার পিঞ্জরের দ্বার উন্মুক্ত পেলে, বিহঙ্গম কেমন 
উধাও হয়ে উড়ে পালায়! ূ : রর 

গোপাল সন্গ্যাসীর মৃখপানে চাহিয়া দেখিল। সেই প্রশাস্ত-গম্ভীর 
জ্যোতির্য় মুখমণ্ডলের প্রতি বই তাহার দৃষ্টি :পড়িতে লাগিল, সে ঘেন 
ততই আত্মহার! হইয়া পড়িল। গোপালের চিন্তার গতি পরিবর্তিত হইল। 
এক একবার তাহার মনে হইতে লাগিল;--প্দত্যই তো! স্বাধীন গ্রতি 


ফমলিনী-সাছিতা-অন্দিয়, 


প্রণীত---“মণিবেগম ১৩ 


রোধ করিতে যাওয়া-_বন্ধন করিতে চেষ্টা পাওয়1--পাখী কেন, সকল' 
প্রানীর পক্ষেই তে দারুণ কষ্টদায়ক ! আমাকে যদি কেহ বন্ধন করিয়া 
লইয়! যায়, আমার প্রাণ বিদীর্ণ হয় না কি?” 

চিন্তার শ্রোতে ভাসমান হইয়া, গোপাল মনে মনে বলিল,--*না--না ! 
আমি এমন কার্জ আর করিব না। আমি পাখীটিকে ছাড়ি! দিই ।” 

সন্গযাপী গোপালকে নীরব দেখিয়। পুনরপি কহিলেন,--"কি বালক ! 
| তবে কি তুমি আমার সঙ্গে যাবে 1” 

গোপাল উত্তর দিল,--”ন1--আমি যাব না! আমি পাখীর বন্ধন 
মোচন ক'রে দিচ্ছি | বুঝেছি--বন্ধনই কষ্টের মূল ! বুঝেছি---বন্ধন- 
মোচনই পরম সুখ! আমি অবশ্ই বন্ধন-মোচন করব ।” 

এই বলিয়া গোপাল পাখীটিকে উড়াইগনা দিল। যেন মৃত প্রাণে 
| নব-জীবন লাভ করিয়া, পাথী গগন-মার্গে উড্ডীন হইল। 
ৃ কি জানি কেন, সন্ন্যাসী শিহরিয়া উঠিলেন। 
.. প্বন্ধনই কষ্টের মূল! বন্ধনমোচনই পরম নু!” বালক একি 
(কথ। বলিল! আবেগ-পুর্ণ কণ্ঠে গোপালকে সম্বোধন করিছগা সঙ্ধযাসী 
'গম্ভীর-্বরে কহিলেন,__*্বালক ! তুমি সত্যই বলিয়াছ/-_বন্ধনই কষ্টের 
ৃ মূল, বন্ধন-মোচনই পরম সখ ।” 

সন্ন্যাসী আবার কহিলেন,--“দেখ-_-দেখ, বন্ধন-মোচনে পাখীর কত 
আনন্দ । যত যত্বুই কর না কেন, পিপ্ররে আবদ্ধ ক'রে পাখলে কি ওর 
এত আনন্দ হত! ওকে পুষলে--তুমিই যে আনন্দ লাভ ক'র্তে, তাও 
আমার মনে হয় না। তাতে কত বাধ বিস্ব ছিল ;--কত বিপদ-আপদ 
ঘটতে পার্ত ; হয় তো পাখীটিকে কোন্‌ দিন কিসে মেরে ফেল্ত ১ 
হক্ব তে! দিনে দিনে ক্ষয় হ'য়ে :পাথী কোন্‌ দিন আপনা-আপনিই মরে 
বেত ; তাতে তোমার মলে কত কষ্ট হ'ত, ভাব দেখি!” 


১১৪ নং জাহিরীটোলা দ্রীট, কলিকাত। 


১৪ আীতর্গাদাস লাহিড়ী- 


গোপাল উত্তর দিল,--“পিঞুরে না রাখলে তে! আর পাখী পোষ! হয় 
না! আমার যে পাখী পুষতে বড় সাধ ছিল।” 

সন্যাসী । পিঞ্জরে না রাখলে কি আর পোষা হয় না! মনে কর না 
কেন,__-এ বে বৃক্ষের উপরে, এর যে আকাশের গায়ে, অগণিত বিহঙ্জম 
বিচরণ করে বেড়াচ্ছে, এগুলির সবই তোমার পোষা পাখী! তুমি 
খাচায় পূরে রেখে একটি পাখীকে আপনার বলে মনে কর্ছ; আর 
তাতেই তোমার আনন্দ হচ্ছে! কিন্তু এ পাখীগুলিকে আপনার ব'লে 
মনে কূ'র্লে, তোমার কত পাখী হয়, আর তাতে কত আনন্দ হয়--ভাব 
দেখি! তুমি ভাবন! কেন,--অনন্ত-গগন-বিহারী বিহঙ্গমগুলি সকলই 
তোমার ! সামান্ত লৌহ-পিঞ্রে একটি পাখীকে আবদ্ধ ক'রে রেখে 
কতটুকু আনন্দ! কিন্তুএ অনন্ত উন্মুক্ত আকাশের অসংখা পাখীকে 
আপনার ব'লে মনে করায় যে আনন্দ, সে আনন্দের কি শেষ আছে ? 

গোপাল পলকহীন-নেত্রে সন্ন্যাসীর মুখের প্রতি চাহিয়া রহিল । 

সন্ন্যাসী আরও বলিলেন,__প্বন্ধন ! বন্ধনে পাথীটারে আবদ্ধ ক'রে, 
তুমিও যে অধিকতর বন্ধনে আবদ্ধ হ'তে !--সে কথা কি একবারও ভেবে 
_ দেখেছ পাখীটিরে সময়ে আহার দিতে হ'ত )--সর্ধদা সাবধানে রাখুতে 
হত ;এইন্প কত বদ্ধনেই তোমাকে আবদ্ধ হতে হ'ত! তুমিই 
বলেছ--বন্ধনই কষ্টের মূল, বন্ধন-মোচনই পরম স্থুখ! তবে কেন 
আপনার বন্ধন আপনি দৃঢ় ক'রতে যাচ্ছিলে !* 

গোপালের হৃদয়-তন্ত্রী সেই ন্বরে বাজির। উঠিল। গোপালের হৃদয়ে 
হৃদয়ে সেই মন্ত্র প্রবিষ্ট হইল। গোপাল মনে মনে বলিল,-_-প্বন্ধনই 
কষ্টের মুল )--বন্ধন-মোচনই পরম সখ 1. কামি বদ্ধন-মোচনেরই চেষ্টা 
করিব ।” 


(হাতার 


কমলিনী-সাহিত্য-সন্দির, . 


প্রণীত---“মণিবেগম' ১৫ 


ছিতীর পরিচ্ছেদ । 
শিপ (সপ 
পরিচয় । 


“9 3081)176 ৪7৩9১ 106--80 ৮৮11) 91800 (1)18.1 


৪715575 


সে প্রায় দেড় শত বৎসর অতীত হইল । রাজদাহীর অন্তর্গত একটী 
পলীগ্রামে গোপালের সহিত সন্ন্যাসীর এইরূপ কথাবার্তা হইতেছিল । 

গ্রামের নাম-_আটগ্রাম । কিংবদন্তী এইরূপ--এ গ্রাম পূর্বে 
গোপালপুর নামে পরিচিত ছিল । আমর! যে সময়ের কথা বলিতেছি, 
গ্রামথানি তখন কোন্‌ নামে অভিহিত হইত, পুরাতত্বানদন্ধানে তাহ! 
নির্ণয় করা ছুবহ। কেহ বলেন, গোপালের বয়ঃক্রম যখন নবম বর্ষ 
উত্তীর্ণ প্রায়, এ গ্রাম সেই সময়ে “আউগ্রাম” নাম প্রাপ্ত হয়) কেহ 
আবার বলেন, নানা, তা নয়, আবহমান-কাল হইতেই গ্রামখানি 
'আটগ্রাম নামে প্রলিদ্ধ / যাহ! হউক, গ্রামথানি যে নামেই তখন পরিচিত 
থান্ুক না কেন, আমর! কিন্তু আটগ্রাম বলিগ়্াই উহাকে অভিহিত 
রুরিলাম। ্‌ 

এখন যেখানে নাটোর মহকুমা, পূর্বে যেখানে অর বঙ্গেশ্বরী মহারাণী 
বানীর রাজধানী ছিল, তাহার প্রায় বার ক্রোশ উত্তরে, একটা বিস্তৃত 
[বিলের ধারে আটগ্রাম অবস্থিত। এ গ্রাম_-আমরুল পরগণার, অস্তর্থত ॥ 


১১৪ নং আহিরীটোল! গ্রীট, কলিকাত। । 


৬৬ জীতুর্গাদাস লাহিড়ী- 


'আটগ্রাম--মহারাণী ভবানীর জমিদারীর অন্তভূক্তি ছিল। মহারাণী” 
হরিদেব রায়কে সেই সম্পত্তি পুরফার-ম্বরীপ প্রদান কতিয়াছিলেন। দে 
অবশ্য পরবর্তি কালের. ঘটন। 7; সে পরিচয় যথাস্থানে প্রদত্ত হইবে। 

জমিদারী মহারাণীর হইলেও, হরিদেব রায়--আটগ্রামের এক জন 
গণ্য মান্ত ব্যক্তি ছিলেন । যে বংশ নাটোর-রাজ্যের অধিপতি হইয়্া-: 
ছিলেন, হুরিদেব রায় সেই বংশের অন্ততম বংশধর 1 নাটোরের রাজ। 
রামজীবন বায়ে পিতা কামদেব রায় এবং হরিদেব রায়ের প্রপিতামহ, 
অভিরাম রায়, উভয়ে সহোদর ভ্রাত! ছিলেন । এ বংশের আদি পুরুষ 
মথুরানাথের তিন পুত্র রতিরাঁধ, কামদেব এবং অভিরাম ; রতিরাম 
জ্যেষ্ঠ, কামদেব মধ্যম, অভিরাম কনিষ্ঠ । কামদেবের সন্তানগণ 
সৌভাগ্যক্রমে নাটোর রাজ্যের আধিপত্য লাভ করেন! 

অভিরামের ছুই বিবাহ ;- তাঁহার প্রথমা পত্বীর গর্তজাত সম্ভানের! 
মাধনগরে বসতি . করিয়া 'মাধনগরের রায় আখ্যা প্রাপ্ত হন; আর 
স্থিতীয় পত্তীর গর্ভজাত সন্তানেরা আটশ্রামে বসতি করেন। অভিরামের 
জ্যেষ্ঠপুজ রামনারায়ণ হইতে মাধনগরের রায়-বংশের এবং তাহার কনিষ্ঠ 
পুজ মহাদেব রায় হইতে আটগ্রামের রা়-বংশের উৎপত্তি । 

হরিদেব---মহাদেবের কনিষ্ঠ পুভ্র। তিনি অতি সুপুরুষ ছিলেন 
তাহার সময় হইতে আটগ্রাম বাঁয়-বংশের জমিদারী মধ্যে পরিগণিত হয় 
তিনি আটগ্রামের বহু উন্নতি-সাধন করিয়াছিলেন । তাহার তিন পুক্র। 
আমাদের এই প্রসঙ্গোক্ত গোপাল-_তীহার কনিষ্ঠ পুক্র। গোপালের 
স্টায় রূপ-সম্পন্ন বলিয়াই, কনিষ্ঠ পুভ্ুকে তিনি গোপাল বলিয়! আদর 
করিতেন। সেইজন্ত সকলেই তাহাকে গোপাল বলিয়া সম্বোধন করিত । 
'আমরাও তাই বালককে গোপাল বলিয়া! পরিচিত করিলাম । 

হবিদেব খায়ের বসত-বাটার পশ্চিমাংশে একটা বৃহৎ বাগান ছিল? 


. কমলিনী-পাহিত্য-অন্থির, 


প্রণীত-_'মণিবেগম' | : ১৭ 


বাগান--আম, জাম, নারিকেল, গুবাক, প্রভৃতি নানা বৃক্ষে পরিপূর্ণ? 
যখনই ধিনি মেই বাগানের প্রতি দৃষ্টিপাত করিতেন, তখনই তিনি 
দেখিতে পাইতেন, কোন-না-কোনও বৃক্ষে কোন-না-কোনও রূপ ফল 
ফলিয়৷ আছে । বাগানের উত্তর পার্থে-সড়ক। সড়কের উত্তরে বিল। 

বিলের ধারে, সড়কের উপর, আত্মবৃক্ষের ছায়ায় বিয়া, গোপাল 
পাখীর পায়ে দড়ি বীধিবার চেষ্ট। কব্রিতেছিল। একজন বেদিয়! 
সেইদিন প্রাতঃকালে পাখী বিক্রন্ন করিতে আসিমাছিল । সেই 
বেদিয়ার লিকট হইতে গোঁপাল এবং রাখাল ছুই জনে ঢুইটা পাখী ক্রস 
করিয়াছিল । ্‌ 

রাখাল--গোপালের খেলার সাথী। উভয়ের মধ্যে বড়ই সন্তাব। 
গোপাল পাথী কিনিল দেখিয়া, রাখালও পাখী কিনিবার "জন্য ব্যগ্র 
হইয়াছিল! গোপাল তাড়াতাড়ি বাঁড়ী হইতে পাখীর মুলা আননয়া দিয়া, 
পাখীটিকে গ্রহণ করিবামাত্র রাখাল বেদিয়াকে আপন বাড়ীতে ডাকিয়! 
লইয়! যায়। ্‌ 

গোপালের হাতে পাখীটি সমর্পণ করিয়া বেদিয়া চলিয়া ঘাওয়ার 
অব্যবহিত পরেই সন্স্যাসী আসিম্। সেই স্থানে উপনীত হন। 

সন্গাসীর নাম-__জ্ীজী। শ্রীজী-_-অনুপম শ্রী-সম্পন্ন। যেমন গঠন, 
তেমনই ব্রং। বদ্দি তিনি সন্্যাসী-বেশে উপস্থিত না হইজেন, তাহাকে 
রাজপুত্র বলিয়া ভ্রম হইত। তাহার বিস্তৃত ললাট, বিশাল বক্ষ; আজানু- 
লঞ্ষিত বাহুছবয়, জ্যোতিঃপুর্ণ মুখমণ্ডল আঁকর্ণ-বিশ্রান্ত নয়ন প্রান্তে 
ভ্রমররুষ্ণ ভ্র যুগল--সেই মুখদগ্ডলের কি অপুর্ব শোভাই সম্পাদন 
করিয়াছে! তাহার চম্পক-বিনিন্দিত গৌরবর্ণে বুক্তচন্দনের ত্রিপুগ,কে 
"সে শোভা আরও উজ্জল করিয়! তুলিয়াছে। সর্বাঙ্গে বিভূতি লেপনে 
দেহজ্যোতিঃ ভন্মাচ্ছাদিত অধির ন্যায় প্রতীত হইতেছে । পাটলবণৃ 


১১৪ নং আহিরীটোলা ছ্রীট, কঃলকাতি:। 


১৮ | শরীতূ্গাদাস লাহিড়ী 


জটারাশি কুণ্ডালাকারে বিত্স্ত হইয়! মুকুটের স্যার শোভা পাইতেছে। 
সেই প্রশাস্ত-মুক্তি সন্ন্যাসীর মুখে যেন চির-আনন্দ বিরাজমান |: 

সন্াসীর পরিধানে গৈরিক বসন। এক হস্তে কমণ্ডলু অপর হস্তে 
ত্রি্ছল। দসন্গ্যাসী যুবাপুরুষ | | ্‌ 

এ কন্দর্পকাস্তি যুবাপুরুষ কেন সন্গ্যাস-ব্রত অবলম্বন করিলেন 1 
'সন্ন্যাধীকে দেখিলে দর্শকের মনে স্বতঃই সেই চিন্তার উন্মেষ হয়। 

এই সন্ন্যাসী আর কখনও আটগ্রামে আসিয়াছিলেন কিনা, সে 
সম্বন্ধে অবস্ত মতবিরোধ আছে | প্রাচীনেরা--ধাহারা এই সন্নযাসীকে 
দেখিয়াছিলেন--সন্তামী চলিয়া গেলে বলা-বলি করিতে লাগিলেন, 
ত্রিশ বহসর পূর্বে এইরূপ একজন সন্গাসী একবার আট গ্রামে 
আপিয়াছিলেন। সেই সন্যাসীর সহিত এই সম্ন্যাসীর কি ষেন এক অপূর্ব 
সাদৃশ্ত আছে।» তাহাদের অনেকেরই মনে সংশয় হইয়াছিল,--ইনিই 
কিতবেতিনি? কিন্তুত্রিশ বংসরেও তে! চেহারার কোনও পরিবর্তন 
হয় নাই ?” থাহা হউক, ত্রিশ-চল্িশ বৎসরের কম বরস্ক কোনও ব্যক্তিই 
সে বিষয়ের সাক্ষ্য দিতে পারে না। তাহারা কখনও এ সন্ন্যালীকে 
দেখে নাই। 

দেখা দূরে থাকুক, গোপাল কখনও এ সন্নযাসীর প্রসঙ্গ পর্যাস্ত সুনে 
নাই! তবে কেন তাহার মনে হইতে লাগিল,-ইনি কে? আমি 
কি পূর্বে ইহাকে কখনও দেখিয়াছি ?” 

সন্ত্যামী চলিয়া গেলে, বৃক্ষমূলে ছায়াতলে বলিয়া, গোপাল একমনে 
সেই ভাবনায় বিভোর হুইয়। পড়িল। 

গোপাল বসিয়। বপিয়। ভাবিতেছে, এমন স্ময় রাখাল ফিরিয়। আনিল। 
বেদিয়ার নিকট হইতে পাখী,কিনিয়া, পাথীটিকে খাচায় পূরিয়া, 
গোপালের সন্ধানে প্রথমে সে গোপালের বাড়ী গিয়াছিল। কিন্তু তাহাদের 


কমলিনী-সাহিত্য-মন্দির, 


প্রসীত--_“মণিবেগম? ১১৯ 


বাড়ীতে গিয়! তাহাকে দেখিতে পায় নাই; তাই সে গোপাঁলকে থৃ'জিতে 
বিলের ধারে সড়কের উপর আসিয়াছে । রাখালের হাতে খাচ! , খাচার 
মধো পুরিয়। সে তাহার সেই কেন! পাখীটিও সঙ্গে আনিয়াছে। 

রাথাল--গোপালের প্রতিবাসী। তাহার পিতার নাম--হলধর মৈত্র | 
মৈত্র মহাশয় গোপালের পিতার স্টায় সঙ্গতিসম্পন্ন ছিলেন না। কিন্ত 
তথাপি তিনি পুত্রের সাধ-পূরণে কখনও কুষ্টিত হইতেন ন1। রাখাল 
তাহার একমাত্র পুত্র । ন্ুতরাং রাখাল বখনই যাহা আব্দার করিত, 
তিনি তাহা পুরণ করিতে চেষ্টা পাইতেন। 

গোপালের ন্যায় কান্তি-সম্পন্ন না হইলেও, রাখাল দেখিতে মন্দ ছিল 
না ।. গোপালের অপেক্ষা তাহার রং একটু কাল ছিল বটে; কিন্তু মৈত্র 
মহাশয় বেশ-ভূষায় তাহাকে গোপালের মত করিয়াই সাজাইয়া রাখিতেন। 
গোপালের সায় রাখালের$ তিনি অনঙ্কারাদি গড়াইয়া দিয়াছিলেন । 
গোপালের স্টায় রাখালেরও পায়ে মল, হাতে বালা, কোমরে গোট ছিল। 
অধিকন্তব তিনি রাখালের গলায় একটা হান্থুলি গড়াইয়া দিয়াছিলেন। 

রাখাল ফিরিয়া আসিয়া দেখিল,--গোপালের হাতে পাখী নাই। 
গোপাল 'একমনে বয়! কি ভাবিতেছে ! দেখিয়া, বাখাল আশ্চর্যান্থিত 
হুইল) কৌতুহল-বশে জিজ্ঞাস! করিল,_-“হা! ভাই! তোর পাখী কি 
হল ?” 

গোপাল শুনিক়াও যেন শ্রনিতে পাইল না । রাখাল নিকটে গিয়। 
-পুনরপি জিজ্ঞাসা করিল,_”তোর পাখী! কি উড়ে গেল? তাই তুই 
অমনি ক'রে বসে আছিম্‌? তুই বড় অসাবধান ভাই (* 

গোপাল উত্তর দিল,__”পাখী উড়ে যায়-নিঃ আমিই তাঁকে উড়িয়ে 
পৃ্দিয়েছি ! + 

রাখালের যেন বিশ্বাস হইল না। রাখাল বলিল,--প্তা গিয়েছে--- 


১১৪ নং আহিরীটোলা স্রীট, কলিকাতা । 


২০ শ্ীহর্গাদাস লাহিড়ী- 


গিয়েছে; তার আর কি হবে? মঙ্গলবার দিন আবার বেদে আস্বে ৮. 
তুই আর একটা পাখী কিনে নিস্‌। সেদিন কিনে একেবারেই খাঁচায় 
পুরে রাখিস্‌।” 

গোপাল । যদি কিনি, আমি দে পাখীকেও উড়িয়ে দেব। তোর 
পাখীটাকেও উড়িয়ে দেনা--ভাই ? 

রাখাল চমকিয়! উঠিল; বলিল,_-”সে কি বলিস? আমি দাম দিযে 
পাখী কিনেছি, আমি ছেড়ে দেব কেন? আমি ওকে পুষব ষে!” 

গোপাল। ওর কত কষ্ট হচ্ছে, বুঝতে পার্ছিস্-নে ? 

এই বলিয়, আকাশের প্রতি লক্ষা করিয়া, গোপাল কন্িল;+-“&ঁ 
দেখু দেখি--আকাশের পানে চেয়ে! এ পাখীগুলি কত আনন্দ করে" 
বেড়াচ্ছে! ওদের বেড়াবার স্থান অনস্ত আকাশ 7 এই ক্ষুদ্র পিঞজরে ওদের" 
কি আবদ্ধ ক'রে রাখ! উচিৎ? দে-_-দে-ভাই 1--পাখিটিকে ছেড়ে দে।” 

গোপাল রাখালের খাচার দিকে হাত বাড়াইল ; বলিল,.-_-পর্থাচার' 
দরজ! খুলে দিতে তোর ক বোধ হয়, আয়--আমি খুলে দিচ্ছি! 

গোপাল খাচার দরজ। খুলিয়া! দিতে গেল । রাখাল বেগতিক বুঝিয়' 
শর্বীচ। লইয়া! সেখান হইতে ছুটিয়। পলাইল | যাইবার সময় বলিয়া গেল» 
--”তোর মাকে আমি বলে দিচ্ছি। দেখ্বি এখনি--কি হয়|” 

রাখাল চলিয়া গেল। গোপাল আবার সেই সন্ন্যাসীর ভাবনায় 
বিভোর হইয়। প1 ডিল। তাহার মনে হইতে লাগিল,_সে ষেন সন্ন্যাসীকে 
কত বার দেধিয়াছে ! তাহার স্মরণ হইতে লাগিল, পূর্বের শ্রী সন্ন্যাসীর- 
সহিত তাহার যেন কত পরিচয় ছিল! কিন্তু কোথায়--কত কাল পূর্বে-_ 
শ্মংণ করিয়া সে কিছুই স্থির করিতে পারিল না.। : 


উরি 


কমলিনী-সা হিত্য-সন্দির, 


প্রণীত “মণিবেগম' ৯১ 


তৃতীয় পরিচ্ছেদ । 





0 





তাবাস্তর। 


“|? স]0]) 0 069 00800906051] 010৫ ০07, 
48159 10006 107 101816180601985 আ1)62 1108 ৫৪৮ তত 0009” 


সা | 014200717,. 


অনেকক্ষণ হইল, গোপাল খেল! করিতে গিয়াছে । বেল! দেড় প্রহর 
'অতীত হইতে চলিল ; অথচ, গোপাল বাড়ী ফিরিল না! গোপালের ম! 
বড়ই চিন্তান্বিতা হইলেন । 

গোপালকে খু'ঁজিতে গিয়া! রাখালও আর ফিরিয়! আমিল না দেখিয়া, 
“তিনি বিশেষ একটু চঞ্চল হুইয়। পড়িলেন। পন্মমণিকে ডাকিয়! গোপালের ৃ 
"অনুসন্ধান করিতে কহিলেন । পদ্মমণি- রায়-পরিবারে দাসীবৃত্ভি করে । 

পল্পমণি--আট গ্রামেরই এক সদেশাপের কন! | আক্ুতি-*নাতি-স্থুল, 
'নাঁতি-ীর্ঘ 9 বর্ণ--ঘনকৃষ্ণ 9 দাত প্রায়ই পড়িয়া গিয়াছে; চুলগুলি কতক 
পাকিয়াছে, কতক পাক ধরিয়াছে। বয়স পঞ্চাশ উত্তীর্পপ্রার। দেখিলে, 
বয়স আরও বেশী বলিয়া! মনে হস্ব। কিন্তু পন্মমণি তত বয়সের কথ স্বীকার 
করে না। বয়সের কথ! জিজ্ঞাসা করিলে, সে কত কথাই বলে! বলে 
. -প্সমার আর কিসের বয়স ? অদেষ্ট মন্দ, তাই আমায় এ বয়সে, 
৪ কর্তে হ'চ্ছে। নইলে তার কি এখন ম+রবার সময় হয়েছিল ?” 


১১৪ নং আহিয়ী টোল ছুট, কফলিকাত! 


২২ শ্রীহূর্গাদাস লাহিডী- 


পাঁচ বখলর হইল, পন্সমণির স্বামীর মৃত্যু হুইয়াছে। কিন্তু পদ্মষণ্ি 
মনে করে--'সে যেন বাল-বিধবা, সে অতি নিষ্টাবতী, তার মত 
সাধবী-সতী-_বামুনের ঘরে মেলাও  স্থকঠিন। কঠোৌরতা-পাঁলনে, 
ব্রা্মণ-বিধবাও তাহার সমকক্ষ নহে |? 
ঘতট| মনে করে, ততট। ন! হউক, পগ্মমণি অনেক পরিমাণে: 
বা্মণ-বিধবারই পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া! চলে। বারব্রত পাপন, 
পৃ্জা-উপবাস প্রভৃতিতে তাহাট্ম উৎ্কট আগ্রহ। তাহাতে সময়ে সমক্ষে 
সে মনিবের আদেশ পধ্যস্ত অমান্ত করিয়া বসে। কিন্তু তাহার নান! 
গুণের কথা স্মরণ করিয়া, রায়-পরিবারের কেহই পল্মমণির প্রতি কখনও. 
অসত্ষ্ট হন না। পদ্মমণি কত সময় মনিবের মুখের উপর উত্তর দেয়, কত 
সময় কত কাজ “পাৰিব ন” বলিয়া! অগ্রান্থ করে ; তথাপি তাহার প্রতি 
মনিব বিরূপ নহেন। পদ্মমণির একটা গুণ--মিষ্ট মুখে বলিলে পদ্মমণি' 
বাঘের মুখে যাইতে পারে। কিন্তু মুখ বীকাইয়া তাহাকে কেহ যদি. 
সন্দেশ খাইতে বলেন, পদ্মমণি তাহা স্পর্শও করে ন। 
- গোপালের মা বলিলেন,_-প্য| না পদ্ম! একবার দেখে আয় না--+ 
গোপাল আমার কোথায় গেল ?” ূ 
পদ্মমণি প্রথমবার ষেন শুনিতেই পাইল না! দ্বিতীয় বারে উত্তর দিল, 
--পকোথায় আর যাবে বাছ। ! পাড়ার মধোই খেল! ক'র্ছে ; এখনই ফিরে 
আসবে ।” এই বলিয়। উত্তর দিয়! পদ্মমণি গোয়াঁল-ঘরে প্রবেশ করিল। 
গোপালের মা একবারের অধিক ছুইবাঁর প্রায়ই কাহাকেও কোনও. 
কথ। বলেন না। একবারও যাহা! বলেন, তাহাও অতি মিষ্ট স্বরে । তাহার 
নাম--শাস্তি। তিনি যেন মুত্তিমৃতী শান্তি; তাঁহার কথাবার্ডাও- 
শাস্তি-পূর্ণ। আজ যে তিনি ছুই বার পদ্মমণিকে অঙ্থরোধ করিলেন, তাহার 
কারণ--গোপালের সম্বন্ধে মন বড়ই চঞ্চল হইস্াছিল। কিন্ত ছুই বাক 


ৃ -ফমলিনী-সাহিত্য-মদির, 


প্রণীত--“মণিবেগম' ২৩ 


বলায়ও পদ্মমাণ যখন তীহার কথায় কর্ণপাত করিল না, হখন ভি 
কুমুদিনী দেবার জন্ত অপেক্ষা করিতে লাগিলেন । 

অল্পকণ পরেই কুমুদিনী দেব্যাও স্নান করিয়া ফিরিয়। আমিলেন। 
কুমুদিশী দেব্যা-হরিদেব রায়ের জ্যেষ্ঠা ভন্নী। থাজুর! গ্রামে তাহার: 
বিবাহ হইয়াছিল। পতির মৃতার পর, তিনি এখন ভ্রাতার সংসারে আপিয় 
অবস্থিত কপ্িতেছেন। তিনিই এখন সে সংসারের কর্রী-শ্বরূপিণী ৷ 

কুমুদিনীকে স্নান করিয়া ফিরিতে দেখিয়া, গোপালের মা জিজ্ঞাসা 

করিলেন, -ঠাকুরুঝি ! গোপালকে রাস্তায় দেখলে কি? গোপাল ষে.... 
অনেক্ণ বাড়ী ভাসে নি।” 

কুমুদিনী জিজ্ঞাসা করিলেন, “সেই গিয়েছে, এখনও ফেরে-নি?, 
তা যাক্‌ না--পন্স |গয়ে একবার খুঁজে নিয়ে আন্মক না!” | 

গোপালের মা। আমিও তাই বল্ছিলাম। 

গোয়াল-বর হইতে একটা ঝুঁড়ি হাতে করিয়! পন্মমণি বাহিরে আল ।. 
সে গোরাল-ঘগে ছাই ছড়াইয়া দিতে গিক্লাছিল । 

কুমুদিনী পদ্মমণিকে বলিলেন,_প্যা না পদ্ম! দেখেই আম 7» 
একবার 1” 

পল্মমণি উত্তর দিল,_-“তোমাদের বাছা, সদাই হারাই হারাই! 
গোপাল খেল! ক'র্তে গিয়েছে, এখনই বাড়ী আন্বে। তার জন্তে আন 
এত ভাবনা কেন? আমি কান কর আগে সেরে নিই। তখনও না 
আসে; ভার পর গিয়ে ডেকে নিয়ে আস্ব।” | 

ঝলিতে বলিতে অকল্মাৎ গোপাল আসিয় গৃহে উপস্থিত হইল । সঙ্গে 
গোপালের পিতা হঞ্িদেব প্রায় । তিনি গোপালের হাত ধরিয়া গোপালুকে 
লইয়া বাড়ীর মধ্ো প্রবেশ করিলেন। | 

১রদেব রায়ের হস্তধারণ করি] গোপালকে বাড়ী আঁদিতে দেখিয়া. 


১১৪ “ং আহর কোলা হী, কছিবাতা । 


২৪ শ্রীহুর্গাদাস লাহিভী- 


-পল্পমণি টিট্কারী দিয়া চীৎকার করিয়া! উঠিল) বলিল,_-”গোপাল-_ 
গোপাল--গোপাল! এ গোপাল এয়েছে । তোমাদের যেমন বাছ৷ সদাই 
হারাই হারাই ! এ দেখ! বাবার সঙ্গে গোপাল আস্ছে।” 

তিন দিন হইল, হরিদেব রায় চৌগ্রামের চৌধুরী বাড়ীতে নিমন্ত্রণ 
উপলক্ষে গমন করিয়াছিলেন । গোপালের অগ্রজ দুই জন তাহার সঙ্গে 
গিয়াছিল। তাহাদের নাম-_-ভবানী প্রসাদ ও রামপ্রসাদ | হরিদেব রায় 
ফিরিয়া আসিলেন, কিন্তু ভবানী প্রসাদ ও রাম প্রসাদ ফিরিয়। আসিল না। 
কুমুদিনী দেব্য! তাই কনিষ্ঠকে জিজ্ঞাসা করিলেন,-_প্হারে হরি ! ভবানী 
আর রাম এল না কেন?” 0. 

হরিদেব। তার! সেখান থেকে মামার বাড়ী গেল । তাদেরও 
আগ্রহ, চৌধুরী মহাশয়ও ছাড়লেন না। আমাকেও বড়ই অনুরোধ 
করেছিলেন । কিন্তু বিশেষ কাধ্যের জন্ত আমার যাওয়! হ'ল না। 
গোপালকে সঙ্গে ক'রে কাল আমার নাটোর যাবার প্রয়োজন আছে । 
গোঁপালকে সঙ্গে লইয়। নাটোর যাওয়ার প্রস্তাব শুনিয়া, শাস্তিদেবীর 


প্রাণে ষেন কি এক ছুর্ভাবনা! আপিয়৷ উপস্থিত হইল । কুমুদিনী- 


দেব্যার সম্মুখে তিনি স্বামীর সহিত কথা কহিতেন না) সেকালে 
সেরূপ প্রথাও ছিল না? সুতরাং গোপালকে সঙ্গে করিরা হঠাৎ নাটোর 
ফাইবার কারণ কি--ভাহা জানিবার জন্ত একান্ত আগ্রহ হইলেও 
প্রকান্তে তাহ! ব্যক্ত করিতে পারিলেন না। কুমুদিনী দেব্যাও তাড়া- 
তাঁড়িতে সে বিষয়ে কোন প্রশ্ন করিলেন না। 

হরিদেব রায় বহির্ব্বাটাতে চলিয়া! গেল্নে। ভূত্য শ্যামটাদ তাহার 
ধূমপানের আয়োজন করিতে. লাগিল । পকল্লমণি পদপ্রক্ষালনের জল 
দিনা আসিল ।২ এই সময় রাখাল, আপনার পাখীটিকে বাড়ীতে রাখিয়া, 
গোপালের পাখীর কথা গোপালের মাতাঁকে বলিতে আলিয়াছিল। 


প্রশ্নীভ__“মণিবেগম' ২৫ 


অবসর বুঝিল্না,. শান্তিদেবীকে লক্ষা করিয়া, রাখাল বলিরা উঠিল,-_ 
*শ্ুনেছ কাকি-মা! পরস। দিয়ে পাখী কিনে, গোপাল সেই পাখীটিকে 
উড়িয়ে দিয়েছে 1” 
পন্মমণি আগবাড়া হইয়। জিজ্ঞাস! করিলেন,-_“হাঁরে গোপাল ! এ 
নাকি ?” 
কুমুদিনী দেবা। জিজ্ঞাপ। করিলেন,_“সকালে 'যে তোকে পরসা 
দিয়েছিলেম, সে পঞ্নলা কি করলি ? 

গোপাল কোনই উত্তর দিল ন!) অধোবদনে নীরবে দীড়াইয়া রহিল। 
গোপালকে ক্রোড়ের নিকট টানিয়। লইয়। শাস্তিদেবী কহিলেন,_-"লত্যি 
নাকি গোপাল! পয়পাট। নষ্ট ক'রেছিস্‌ ?” 

জননীর যুখপানে চাহিয়া! গোপাল উত্তর করিন,-"নাঁমা! আমি 
তে পর়স1 নষ্ট করি-নি 1” 

রাখাল বাধা দরা কহিল,--"ন1--তুই পরস! নষ্ট করিস্নি? আমি 
'দেখ্লাম--তুই পয়দা দিয়ে পাঁখী 'কিন্পি! তোর দে পাখী গেল 
কোথায় ?” 

পদ্মমণি বলিল,--পরাখাল কি তবে মিছে কথ! ঝল্ছে 1” র 

এই বলিয়াই পগ্সমণি পুনরায় গোয়াল-্ঘরের দিকে গমন করিল । 
“ছেলে বড় বদ্‌ হ'য়েছে*--এই কথা বলিয়া! কুমুদিনী দের্যাও কাধ্যান্তরে 
চলিম্না গেলেন । 

শাস্তিদেবী জিজ্ঞাসা করিলেন,--“আস্ছা গোপাল! কি হয়েছিল, 
বল দেখি? পন্নসা নষ্ট করিস্-নি--বলছিস্? আবার দেখুছি--তোর 
কাছে পয়দাও নেই ! . তবে সে পয়সা তুই কি কণ্রূলি ?” 

গোপাল ধীরে ধীরে উত্তর দিল,--“পর়স! নষ্ট করি-নি-_ম1! প়লায় 
এএকটী প্রাণীর বন্ধন মুক্ত করেছি!” 


১১৪ নং আহিরীটোলা। ছ্রীট, কলিকাতা | 


২৬. শ্রীছর্গাদাস লাহিড়ী- 


জননী কিছুই বুঝিতে পারিলেন না! “একটা প্রাণীর বন্ধন মুক্ত 
ক”রেছি,_গোপাল এ কি বলে? জননী কহিলেন,-_*বুঝেছি, পাখাটা 
তোর হাত থেকে পালিয়ে গিয়েছে ।” 

গোপাল । নাম! পাখী তো পালিয়ে যায-নি? আমিই 
পাখীটাকে উড়িয়ে দিয়েছি । পাধী ব্যাধের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল; আসি 
তাকে মুক্ত করেছি ! | 

শান্তি। তুই একিঝল্ছিস? এ কথ! তোঁকে কে শিখিয়ে দিলে? 

গোপাল । শিখিয়েছেন সেই সন্যাসী ঠাকুর। তিনি বলেন,-_ঘারা 
অনস্ত আকাশের উন্মুক্ত বাযুতে বিচরণ করে, তাদের ক্ষুদ্র পিঞ্জরে বদ্ধ 
করে রাখা-- মহাপাপ । আমি তাই পাখীটার বন্ধন মোচন ক'রেছি। মা! 
তিনি বলেছেন,__প্বন্ধনই সর্ব দুঃখের মূল, বন্ধন মোচনই পরম সুখ !” 

গোপাল তোতা পাখীর ন্যায় কথাগুলি বলিয়া গেল। কিন্তু মায়ের 
গ্রাণে কথাগুলি বিষবৎ বিদ্ধ হইল। শাস্তিদেবী গোপালের মুখ-চুম্বন 
করিয়া বলিলেন, প্য। হ'য়েছে- হয়েছে । ত1--অমন ক'রে আর 
পয়সা নষ্ট ক'র না_বাঁব1 1” 

প্রকাশ্তে তিনি এই কথাই বলিলেন বটে $ কিন্ত তাহার মনোমধ্যে 
এক দারুণ দুর্ভাবনা উপস্থিত হইল। ভিনি ভাবিতে লাগিলেন,-_ 
পবন্ধন-মোচন ! জানি না গোপালের মনে কি আছে 1” তিনি কর- 
ষোড়ে ভগবানকে ডাকিলেন,--ভগবান ! তুমি গোপালের স্থমতি দিও । 
গোপাল তোমারই পদাশ্রিত !” ] 

জননীর কথায় গোপাল কোনও উত্তর দিল না; কিস্ত মনেমনে 
বলিল._“যদি পয়স। কখনও পাই, বন্ধন-মোচনই, আমার লক্ষ্য থাকিবে ।” 





ৃ কষলিনী -সাহিতা-মন্দির, 


প্রণীত-_-“মণিবেগম, ২৬ 


চতুর্থ পরিচ্ছেদ । 


স্বামিসকাশে। 


+0306 1080. 100 16965 60 0198]: 018 0000598- 


-৮ 78717857807, 


দিন কাটিল।। রাত্রি আপিল। পতি-পত্রীতে সাক্ষাৎ হইল। 

শাস্তিদেবীর প্রাণ উদ্দেগ-পূর্ণ। গোপালকে লঙ্গে লইয়া বজনী- 
প্রভাতে স্বামী নাটোর-যাত্রা করিবেন শুনিয়া অবধি তাহার চিত্ত চঞ্চল 
হইয়! উঠিয়াছিল। এ দিকে আবার সন্লাসীর সহিত গোপালের সাক্ষাৎ- 
কারের সমাচারে এবং গোপালের মুখে বন্ধন মোচনই পরম নখ” এবনিধ 
ওদাসীন্যব্যঞক উক্তি শ্রবণ করিয়া, তাহার চঞ্চল চিত্তের চিন্ত-বন্িতে 


যেন ইন্ধন সংযুক্ত হইয়াছিল । 
পতিকে প্রকোষ্ঠে পাইয়া, তাই প্রথমেই তিনি জিজ্ঞাস! করিলেন, 


"গোপালের কথা সর শুনেছেন কি ?” 
হরিদেব বায় উত্তর দিলেন,--"পাগল ছেলের পাগলামির কথা আর 
কি শুন্ব ?” 
শাস্তিদেবী। সন্গ্যাসীর সহিত গোপালের সাক্ষাত হওয়া অবধি 
গোপালকে কেমন যেন আমি আন্মন। দেখ,চ্ছি। আমার মনে কত যেন 
কি আশঙ্কার কথ! উদয় হচ্ছে! কপালে কি আছে, কে ব'ল্তে পারে! 
১১৪ নং আহিরীটোল। ইট, কলিকাত।। 


২৮ শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


হরিদেব। সামান্তেই তুমি বিচলিত হও ছেলে মানুষের সব 
কথা কি ধর্তে আছে ? 

“কথাট! শুনেই প্রাণট। কেমন চমকে উল, তাই বল্ছিলাম 1” এই 
বলিয়া শাস্তিদেবী জিজ্ঞাসা করিলেন,--“আচ্ছা, কাল আপনি গোপালকে 
নিয়ে নাটোরে যাবেন--বল্ছিলেন ন! ?--কেন ?” 

হরিদেব রায় উত্তর করিলেন,--্তুমি শোন-নি কি--মহারাণী ভবানী 
পোষ্যপুক্র গ্রহণ করবেন? তার দেওয়ান দয়ারাম রায়ের সহিত আমার 
সাক্ষাৎ হয়েছিল। তিনি গোপালকে নিয়ে আমায় নাটোরে যেতে 
বালেছেন। এদিকে পোস্যপুত্র গ্রহণ উপলক্ষে নাটোর রাজবাড়ী থেকে 
নিমন্ত্রণ-পত্রগ এসেছে ।” 

শাস্তিদেবী। নিমন্ত্রণ রক্ষে করতে আপনি যাবেন ; তা গোপালের 
যাওয়ার আবগ্তক কি? দেওয়ানই বা গোপালকে নিযে যেতে বল্লেন 
কেন? 

হরিদেব। বিশেষ একটু উদ্দেন্তী আছে। মহারাণী, তবানীর যদি 
নজরে লাখে, তা হ'লে গোপাল আমার অর্ধবঙ্গেশ্বর হ'তে পার্বে। 

কথাট] গুনিয়া, শান্তিদেবীর প্রাণট। যেন কেমন-কেমন করিয়া উঠিল। 
শাস্তিদেবী কহিলেন,_“আপনি কি বলছেন, আমি কিছু বুঝতে 
পার্ছিনে 1” 

হরিদেব রায় টি রান গোপাল যেরূপ - স্থলক্ষণাক্রাস্ত, 
গোপালকে দে'থে নিশ্চয়ই মহারাণীর পছন্দ হবে ।” 

শাস্তিদেবী। . নাটোর যাবেন বলেই বুঝি, ভবানীপ্রসাদ ও রাম- 
প্রসাদের সঙ্গে আমার পিত্রালয়ে ন! গিয়ে, আপনি তাড়াতাড়ি বাড়ী 
ফিরে এসেছেন ? 

হবিদেব। ই তাই বটে! গোপাল আমার সঙ্গে থাক্লে আমি 

কমলিনী-নাহিতা-মলির, 


প্রণীত--_'মণিবেগম* ২৯. 


প্র পথেই নাটোর রওনা হ'তাম। দিন সংক্ষেপ ; তাই কালই আনায় 
রওনা! হ'তে হবে। গোপালকে নেবার জন্তই আমি বাড়ী এসেছি । 

শাস্তিদেবী। আপনি কি তবে মনে করেছেন, গোপালকে আপনি 
দত্তক পুজ দিবেন? আমার প্রাণ থাকৃতে আমি ত দিতে পার্ব না। 

হরিদেব। তুমি বুঝছ না। গোপাল র্াজ। হবে; আমরা অতুল 
সম্পত্তির অধিকারী হ'ব। একি অল্প সৌভাগ্যের কথা। ভগবান যদি 
মুখ তুলে চান, তবেই দে সৌভাগ্যের দিন আম্তে পারে। 

শান্তিদেবী। তেন সৌভাগ্য আমি চাই না! গোপালকে আমি 
কিছুতেই ছেড়ে দিতে পার্ব না। আপনি যাই বলুন, গোপালের নাটোর 
যাওয়া হবে না। রি 

হরিদেব। সে কিবল? আমিবেষাওয়ার সব বন্দোবস্ত করেছি! 
সকালে পান্ধী আম্বে ; আমি গোপালকে নিয়ে নাটোর যাব! 

শাস্তিদেব। আপনি যাবেন-যাঁন; গোৌপালকে আমি কিছুতেই: 
যেতে দেব না! 

হরিদেব রায় একটু বিরক্ত হইলেন। কিন্তু সেভাব প্রকাশ ন 


৮করিয়া স্ত্রীকে বুঝাইবার চেষ্টা পাইতে লাগিলেন | বুঝা ইলেন,__ 
নাটোরের প্রশ্বধ্যের কথ; বুঝাইলেন,--গোপাল পোষ্যপুজ্র মনোনীত 
হইলে, গোপাল সেই অতুল এ্রশ্বর্ধের অধিকারী হইবে ; বুঝাইলেন,-_. 
গোপাল এখ্বর্যের অধিকারী হইলে, তাদের দিন ফিরিয়া যাইবে । 

কিন্তু শাস্তিদেবীর মন কিছুতেই প্রবোধ মানিল ন|। ভবিশ্যতের 
কি গ্বেন অমঙ্গল-ছায়। ঘনীভূত হইয়। তাহার হৃদয় অধিকার করিয়। 
বসিল। ' তিনি বলিলেন,--*আপনি ধতই প্রবোধ দেন, আমার মন 
কিছুতেই গ্রাবোধ মান্ছে ন!” 

হরিদেব রায় পুনরূপি কহিলেন,--"গোপাঁলকে ঘে আমি সেখানে রেখে 


১১৪ নং আহিরীটোলা স্রীট, কলিকাতা! । 


৩০ শ্রীহর্গাদাস লাহিড়ী - 


'আস্তেই নিয়ে যাচ্ছি, তা তুমি মনে ক'র না। গোপালের ন্তায় শত 
শত বালক সেখানে উপস্থিত হবে । তাদের মধ্যে যে বালক মহারাণীর নজরে 
পড় বে, মহারাণী তাকেই পোষ্কপুক্ররূপে গ্রহণ কর্বেন। শত বালকের 
মধ্যে গোপালকে যে তিনি পহন্দ ক*র্বেন, সে আশা ছুরাশ ম্যত্র !” 

শাস্তিদেবী সুযোগ পাইচলন । মনে মনে বলিলেন,__“ভগবান করুন, 
সে আশা দুরাশাই হউক!” প্রকাশ্যে কহিলেন,-"তবে আঁর আপনি 
গোপালকে নিয়ে যাবার জন্ত এত আগ্রহ প্রকাশ করছেন কেন ?” 

হরিদেব। তার 'কারণ অন্তরূপ । মহারাণী ঘোষণা! করেছেন, 
ধার পূত্র মনোনীত নাও হ'বে, পুত্র সহ রাজধানীতে গমন করলে, 
তিনিও যথেষ্ট বিদ্ায়-সম্মান প্রাপ্ত হঃবেন। এমন কি, তৎস্ত্রে একটা! 
বিষয়-সম্পত্তি পর্য্যন্ত পাওয়া ধেতে পারে । তার পরু, আমাদের ভাগ্য 
ষ্দি প্রসন্ন হয়, গোপালকেই ষ্ি মহাঁরাণী পছন্দ করেন, তাহলে তো 
আর কথাই নেই ! | 

শাস্তিদেবী। তেমন ভাগ্য-প্রসন্ন হওয়ার আমার দন্ধকার নেই )-- 
তেমন বিষয়েও আমি আকাজ্জা করি-নে। 

হরিদেব। ঈশ্বরেচ্ছায় আমাদের তিনটি পুক্র-সস্তান | তার 
একটীকে দত্তক দিয়ে আমরা যদি অতুল সম্পাত্তর অধিকানী হ'তে পাৰি, 
সে কি বাঞ্চনীয় নয়? 

কথাটা শাস্তিদেবীর প্রাণের তিতর- শেল-সম বিদ্ধ হইল। তিনি 
উত্তেজিত:ক্ঠে কহিলেন,-_”না-_না !. কখনই বাঞ্ছনীয় নয়! যার ছুণ্টা 
চক্ষু আছে, সেকি একটা চক্ষু উৎপাটন ক'রে ্রিতে পারে ? যার ছুইখানি 
হাত, সে কি এক খানি হাত কেটে দিতে সম্মত হয়? আপনি আমায় এ 
কি প্রলোভন দেখাচ্ছেন ! পুভ্রের বিনিময়ে সম্পা্ত-লাঁত ! তেমন সম্পত্তিতে 
আমার কাজ নেই! ঈশ্বর না করুন, বদি তেমন দুর্দশার দিনই আসে, না 

১. কষঘজিনী-সাহিতা-যন্দিহ,।. 


প্রণীত-“মণিবেগম' ৩১ 


হয়-_স্বামী-স্ত্রীতে ছ'জনে ভিক্ষা ক'রে নিয়ে এসে সন্তান তিনটাকে পালন 
কর্ব; কিস্তু পরের হাতে কোন মতেই সমর্পণ কঃর্তে পার্ৰ না 1” 

শাস্তিদেবীর ছুই গণ্ড বহিয়া অশ্রধারা নিপতিত হইতে লাগিল। 

পত্বী অতিমাত্র বিচলিত হইয়াছেন বুঝিষ্ধা, হরিদেব রায় ধীরে কহিলেন, 
_পআচ্ছা, আমি তোমার কাছে প্রতিন্ঞ। কংর্ছি, আমি গোপালকে 
সেখানে রেখে আম্ব না। মহারাণী যদিও গোপালকে পছন্দ করেন, 
আমি তবু গোপালকে বাড়ী ফিরে নিয়ে আস্ব। বাড়ী ফিরে নিয়ে এলে, 
তার পর যদি তোমার ইচ্ছা! হয়, গোপালকে পাঠিয়ে দিও; না হয়, ন 
পাঁঠিও।৮ 

শাস্তিদেবী অশ্র-গদগদ কণ্ঠে কহিলেন,_-“তবে নিয়ে যাওয়ার কি 
প্রয়োজন?” 1. 

হরিদেব। আনি যে কথ! দিয়েছি! একবার না নিয়ে গেলে আমার 
যে কথার খেলাপ হবে! ্‌ 

শাস্তিদেবী বিবেচনা করিবার আবসর পাইলেন না। তিনি উদ্বেগ-বশে 
বলিয়! উঠিলেন,-_-“হয়-__হবে 1” 

হরিদেব। কথার খেলাঁপ হ'লে ইহলোকে ও পরলোকে কষ্ট পেতে 
হ'বে। তুমি ধর্মপরায়ণা, তুমি বুদ্ধিমতী ) সহধর্মিণী হয়ে, তুমি কি আমায় 
প্রাপ-পঙ্কে নিমজ্ছিত হ'তে পরামর্শ দেও! 

শাস্তিদেবী সন্কুচিত। হইলেন । তাহার মনে হইতে লাগিল,-তিনি 
যেন কত অপরাধই করিয়া বসিয়াছেন! তখন কত কথাই তাহার মনে 
পড়িতে লাগিল! পতির কথায় প্রতিবাদ করিকাছেন, তাছার প্রাণে ব্যথ! 
দিয়াছেন,--তজ্জন্ত কতই অন্ভীপ হইল। একে পু্রত্যাগের আশঙ্কা, 
ভাহার উপর পতির অপস্তোষ-উৎ্পাগন-জনিত অন্ুতাপ,--এতছুভগ্নে 
তাহার হৃদয় অভিভূত করিয়া! ফেলিল। 


১১৪ নং ্মার্রীটোল! ঘট, কলিকাত! । 


৩২ শ্রীভুর্গাদাস লাহিড়ী- 


কাঁদিতে কাদিতে ম্বামীর চরণপ্রান্তে নিপতিত হইয়া শাস্তিদেবী 
কহিলেন,---"আমার অপরাধ লইবেন না। আপনি যা ভাল বোঝেন, 
তাই করুন। তবে আমার একটা অন্ুরোধ--আমার গোপাঁলকে আপনি 
কোনমতেই সেখানে রেখে আস্বেন না! . 


পঞ্চম পরিচ্ছেদ । 








লোভ । 


"লোভাৎ ক্রোধঃ প্রতবতি লোভাৎ কামঃ প্রজারতে। 
লোভাম্মোহশ্চ নামশ্চ লোভঃ পাপন্য কারণম্‌ ॥+ 
| -হিতোপদেশ। 


মহারাণী ভবানী পোস্মপুত্র গ্রহণ করিবেন,-হএই সংবাদে কেবল যে 
হরিদেব রায়ের সংসার উদ্বেলিত হইয়! উঠিয়াছে, তাহা নহে; বাঙ্গালার 
আরও বহু'্গৃহ এই আন্দোলনে আন্দোলিত | 

ককষ্ণনাথ রারের দুই পুত্র । অবস্থ। তাদুশ -স্বচ্ছল নঞ্রে। স্থতরাং 
তিনি একটা পুত্রকে নাটোর-রাজধানীতে লইয়া যাইবার জন্ত বাস্ত 
হইয়াছেন। পত্বী মহামায়ার সহিত কয় দিন ধরিয়া সেই সম্বন্ধেই পরামর্শ 
চলিতেছে। | ূ 


প্রণীত--“মণিবেগম' ৩৩ 


কষনাথ বলিতেছেন,_-“অনেক লোক অনেক ছেলে-পিলে নিয়ে যাবে ; 
কত লোকের কত রকম সুপারিশ পড়বে; আমর! এমন কি অপ 
করেছি ষে, রঘুনাথের প্রতিই মহারাণীর নজর পড়বে 1» 

মহামায়া। তাইতেই তে! আমি ছ'দিন আগে নিয়ে যেতে বস্ল্ছি। 
প্রথমে যদি একবার নজরে পড়ে যায়, মহারাঈীর নিশ্চয়ই পছন্দ হবে। 
আমি বলি, ভুমি কালই নাটোর রওনা হও । 

কুষ্ণনাথ। আগে কি তিনি দ্রেখবেন? আমি শুনেছি, যত দেশ 
থেকে যত ছেলে যাঁবে, সবগুলিকে এক সঙ্গে বসিয়ে রেখে, মহারাণী 
তারই মধ্যের একজনকে পোস্যপুত্র মনোনয়ন করবেন। 

মহামায়া । আগে নিয়ে গিয়ে কোনরকমে তাকে একবার দেখাতে 
পার্বে ন ? রাজবাড়ীর মধ্যে তুমি নিজে না যেতে পার, রাজবাড়ীর 
ঝি-চাকরের সঙ্গে বন্দোবস্ত করেও তো রঘুনাথকে বাড়ীর মধ্যে পাঠিয়ে 
দিতে পার! এর জন্তে তাদের কিছু দিতে হয়, সেও ভাল। আমার 
রঘুনাথ দেখুতে যেরূপ শরন্দর, তাকে দেখলে মহারাণী কখনই অপছন্দ 
কর্ষেন না । যেমন করেই হক, তুমি রঘুনাথকে নিয়ে গিয়ে মহারানীর 
সামনে একবার উপস্থিত কর্রার ব্যবস্থা করে! । দিন থাকতে যাও; 
বন্দোবস্ত নিশ্চয়ই কর্তে পার্বে | 

কুষ্নাথ। চেষ্টার ক্রটি ক'র্ব নাঁ। রঘুনাথকে যাতে রেখে আনতে 
পারি, তাই কর্ব। ভাল কালই আমি রওন! হব। 

মহামাস্গা ভাবিতে লাগিলেন, রিঘুনাথ রাঁজ। হবে; আমাদের সকল 
দুঃখ দুরে যাবে? আমরা রাজ্যশ্বর্য্যের অধিকারী হব,-এর বাড়। 
আহনাদের কথা আর কি হ'তে পারে? প্রকাশ্টে কহিলেন,_-"ষেগন 
ক'রে হ'ক, তুমি রঘুনাথকে নজরে লাগাবার চেষ্টা ক'রে! ।” 

তাহাই স্থির হইল! পরদিন প্রত্যুষে, রঘুনাথকে সঙ্গে লইয়া, 


১১৪ বং আহিরীটোল। প্রাট, কলিকাতা! 


৩৪ শ্ীভুর্গাদাস লাহিডী- 


রুষ্চলাথ নাটোর যাত্রা করিবেন, বন্দোবস্ত হইর! গেল। পিতামাতা 
উভয়েরই মনে কত আশা, কত ভরদা--রঘুনাথকে পোম্যপুত্ররূপে প্রদান 
করিয়! আপনাদের অবস্থ। ফিরাইয়া লইবেন । 

কুষ্ণনাথ মনে মনে কহিলেন,_-এঅর্থ! তুমিই সার । অর্থে কী 
ছয়? 

মহামাযার হৃদয়েও প্রতিধবনি উঠিল, “অর্থ! অর্থই সার! অর্থে 
মকলই হইতে পাবে ।, 

পতি পত্রী উভয়েই অর্থলালসায় ব্যাকুল হইয়া প্রাণপ্রিয় পুত্র রঘুনাথকে 
বিদায় দিতে প্রস্তত হইলেন। 

খঃ ষ্ু ক 

পরদিন প্রভাতে নাটোর-যাত্রার সময় রঘুনাথ কীাদিয়া উঠিল। পিতা 
বুঝাইতেছেন,--'নাটোরে নিমন্ত্রণে যাইবে 1, মাতা বুঝাইতেছেন,--“কত 
ভাল ভাল খাবার পাবে, কত ভাল ভাল পোষাক পাবে, কত টাকাকড়ি 
পাবে ; যাও বাবাঁযাও 

কিন্ত বালক যাইতে চাহে না। কাদিয়। কাঁদিয়া বলে,_“না__মা, 
আমি যাব না। নাঁ_বাবা, আমি যাব না। আমি খাবার চাই না, 
আমি পোষাক চাই না, আমি টাকা-কড়িও চাই না।* 

কুষ্ণনাথ ও মহামায়া সে কথায়: কর্ণপাত করিলেন না। তাহার! 
একবার বা তিরস্কার-ছলে, একবার বা প্রবৌধ বাক্যে, রঘুনাথকে 
নাটোর-াত্রায় উদ্বোধিত করিতে লাগিলেন । 


প্রণীত-__মণিবেগম' ৩৫ 


ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ। 


বাঙ্গালার অবন্থ!। 


“1461 (2৫ 4০০৭ু 17881 00 26 0920. 
14078010110, 


আমরা যে সময়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করিয়াছি, বাঙ্গালার অবস্থা তখন 
বড়ই বিপ্রবময়। রাঙ্গালার রাজনৈতিক গগন তখন ঘনঘটাচ্ছন্্। 
লোকপ্রিয় নবাব আলীবদ্ধি ইন্লীল! সন্ধরণ করিয়াছেন। তাহার আদর- 
প্রাপ্ত দৌহিত্র যুবক সিরাজউদ্দৌলা বঙ্গের মসনদ অধিকার করিয়! 
বসিয়াছিলেন। বঙ্গ সিংহাসনের চতুঃপার্থে ষড়মন্ত্রজাঁল বিদ্কৃত হইয়া 
'পড়িয়াছে। সর্পপ্রক্কতি কুচক্রিগণ বিষ-জিহ্বা! বিস্তার করিয়া আছে। 

দেশ অরাজক । রাষ্ট্র-বিপ্লবের হৃচনা পদে পদে প্রতাক্ষীভৃতা। দিকে 
'দিকে অশাস্তি-অনল প্রজ্লিত। পরদার, পরস্বাপহরণ, দন্তাভীতি প্রভৃতিতে 
প্রজাবর্গ বিষম বিত্রত। দেশে হা-হতাশ হাহাকার রাজত্ব করিতেছে! 
পূর্বে দেখ, পশ্চিমে দেখ, উত্তরে দেখ, দক্ষিণে দেখে দিকে দেখিবে, 
সেই দিকেই বিপ্লবের বিষম বিভীষিকা ! 

১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে বঙ্গের উপর দিয়া কি বিষম অশাস্তি-প্রবাহই প্রবাহিত 
হইয়াছিল! এক দিকে ইংরেজ, এক দিকে ফরাসী,--এক দিকে মোগল, 
এক দিকে মহারাস্টরীয়গণ,--এক 'দ্রিকে নবাব, এক দিকে তাহার বিশ্বাপ- 
ঘাতক পারিষদবর্গ,-_আমিষলোভী মার্জারের সায় বঙ্গের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি 


১১৪ নং আহিরীটোল। ইট, কলিকাতা । 


রর রীর্গাদাস লাহিড়ী- 


নিক্ষেপ করিয়। ছিলেন। বঙ্গ-লক্ষ্মী কোন্‌ দিন কোন্‌ ভাগ্যবানের গৃহ 
পবিত্র করিবেন,_-কেহই তাহা নির্ণয় করিতে পারিতেছিলেন না 1” কেহ 
মনে করিতেছিলেন,_-”নবাবের প্রবল প্রতাপ--বিপুল বাহিনী। যিনিই 
সম্মুবীন হইবেন, শোতে তৃণকণার স্াক্ন ভাপিয়। যাইবেন।” কেহ মনে; 
করিতেছিলেন,--“বিশ্বাস-ঘাতকদিগের ড়ধন্ত্ররূপ প্রস্তর স্তুপ সম্মুখে 
পড়িলে, সে শ্োতোবেগ আপনিই মন্দীভূত হইয়া আসিবে ।” কেহ মনে 
করিতেছিলেন,_“আওরঙ্গজেব কথিত সেই “পার্বত্য মুষিক' মহারা্রগণই, 
কালে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য লাভ ধরিবে |” কেহ মনে করিতে" 
ছিলেন,--পদিন দিন অত্যুত্থীনশীল ফরাসী-জাতিই ভারত-সাম্রাজ্যের 
অধীশ্বর হইবে ।” কেহ বা মনে করিতেছিলেন,__“দাক্ষিণাত্যে ক্লাইবের 
আকুট অবরোধে সকলের সকল আশাই দূরীভূত হইয়াছে । এখন ইংরে- 
জের ললাট-লিপিতেই ভারতসাম্রাজ্য-লাভের পরিচয়-চিহ্ন পরিদৃশ্ঠমান্‌!” 
১৭৫৭ থৃষ্টাবের ২৩শে জুন পলাশী-প্রান্গণে অদৃষ্ট-পরীক্ষার শেষ দিন। 
নবাবের গৃহ পরিত্যাগ করিয়া, সৌভাগ্যলক্ষ্মী সেই দিন ইংরেজের গৃহ. 
পবিত্র করেন। ইতিহাসে সে এক ম্মরণীয় ঘটনা । 
পলাশীর আত্্কাঁননে, সামান্য কয়েক জন দৈম্ত-সহ ক্লাইবের' 
সমরায়োজন,-- অগণিত সৈম্ত লইয়াও মীরজাফর প্রমুখ প্রধান সেনাপতি- 
গণের বিশ্বাস-ঘাতকতার সিরাজের পরাজর»_- নবাবের পলায়ন ও তাহার 
নৃশংস হত্যাকাও,_-অয়োললাসে ক্লাইবের মুশিদাবাদ প্রবেশ,__মীরজা- 
ফরের মসনদপ্রীপ্তি-সকলেরই স্তবতি-পটে উজ্জল হইয়া আঁছে। 
পাঠক--সকলেই সে সমাচার অবগত আঁছেন। বাহুল্য-ভয়ে সে প্রসঙ্গ 
এখানে আর উত্থাপন করিলাম না। 
- শুনিয়াছি, এই পলাশ-যুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে নাটোর-রাজধানীতে 
মহারাণী ভবানীর -পোস্-পুভ্র-গ্রহণের উদ্ভোগ হইয়াছিল । শুনিয়াছি, 


ফমলিনী-সাহিতা-যন্দির, 


এই পলাশী-যুদ্ধের পরই মহারাণী ভবানীর পোষ্য-পুক্র-গ্রহণের উৎসব- 
সমারোহে নাটোর-রাজধানী মুখরিত হইগ্লাছিল। পলাশী-ুদ্ধের কয়েক 
দিন পূর্বেই হউক, আর আর কয়েক দিন পরেই হউক, মহারাণী 
ভবানী যখন দত্তক গ্রহণ করেন ,__বঙ্গদেশ তখন যে নানান্ধপে সঙ্কট- 
সমাকুল ছিল, তাহার প্রমাণাভাব নাই। ভাগীরীত্ব পূর্ব উপকূল 
এবং পশ্চিম উপকূল--উভয় কূলেই তখন নানা! উচ্ছঙ্খল। বিরাজমান 
ছিল,_-তথনও মান্ুষ-চুরীর আতঙ্ক তিরোহিত হয় নাই,_-তখনও 
ধর্মনাশেন্ন বিভীষিকা দূরীভূত হয় নাই,-তখনও দশ্থ্যভার সমাচার 
সর্বদাই শ্রুতি-গোঁচর হইত। মহারাণী ভবাশী আপন রাজা-মধ্ে 
শাস্তি-স্থাপনে যথাসাধ্য" চেষ্টা করিতেছিলেন বটে ; কিন্তু পারিপার্খিক 
উপদ্রবে তিনিও ।ষে সময়ে সময়ে বিব্রত হইতেছিলেন, তাহা বলাই 
বাহুল্য । যাহারা রক্ষক, সে সময়ে তাহারাই ভক্ষক হইয়া দাড়াইয়াছিল। 





সণ্ডম পরিচ্ছেদ । 


পার (7) সপ্পপ্প 


বিষম বিপদ 1. 


-সবিশ্ময়ে দেখিল! অদ্ুরে 


ভীষ্ণ-দর্শন মৃত্তি।" 
স্পষেদ্বনাথ-বধ। 


রূপ-নগরের প্রাস্তভাগে কালারদীঘি নামে একটি জলাশয় ছিল । 
কালাধীবির কাল-জলে তীরস্থিত তাল-তমাঁল তরুরাজির ছারা, 
কনীল গগনপ্রাস্তে কৃষ্-কাদদ্িনী-সম প্রকটিত হইতেছিল। বৈকালে, 


১১৪ নং আহিরীটোলা ছ্রীট, কলিকাতা! 


৩৮ জীছুর্গাদাস লাহিড়ী- 


মুল-হিল্লোলে, সেই কৃষ্ণ-হ্থচ্ছ সলিল-রাশি--নাচিতেছিল, ছুলিতেছিল, 
খেলিতেছিল । কৃচিৎ বৃক্ষশাখাবিচ্ছেদপথ-প্রবি্ট আলোক-রশ্মি--সলিল- 
বক্ষে চকিত-দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে ছিল ; কচিৎ দলবদ্ধ উডডীয়মান্‌ বিহঙ্গমের 
চঞ্চল-ছায়ায়--জলরাশির প্রশাস্ত-বক্ষে কষ্ণ-ব্রেখার সঞ্চার হইতেছিল ১ 
চিৎ দিবাবসানাশঙ্কায়, কুলায় অন্বেষণে, পক্ষিগণ কল-নিনাদে তীব্রভূমি 
ধ্বনিত করিতেছিল ) কৃিৎ অদূরাগত সন্দরীগণের কঙ্কণ-নিকণে মোহনে- 
মধুরে মিশিতেছিল। | 

দুইটা যুবতী সেই অপরাহ্ছে কালাদীঘিতে গা ধুইতে আসিয়াছেন। 
তাহাদের সৌন্দধ্যপ্রভায় কাঁলাদীঘির কাল-স্রল যেন সুন্দর করিয়া 
তুলিয়াছে। স্থনীল গগনে নক্ষত্র-পুঞ্জের শোতা-সদৃশ কিংবা সরোবর- 
প্রস্ফুটিত কমলদলের স্তায়, আবক্ষ-নিমগ্রা সেই সুন্দরীদ্বয়ের কমনীয় কান্তি 
সলিল-বক্ষে উদ্ভাসিত হুইতেছিল। যুবতীদবয়, : গাত্র-প্রক্ষালন-কালে 
কথোপকথনে গাট়-নিমগ্র। ছিলেন। তাহাদের হস্তস্থিত কলসী, তরঙ্গ- 
ভঙ্গে হেলিতে ভুলিতে নাচিতে নাচিতে ভাসিয়৷ যাইতেছিল। উন্মোচিত 
. অবগু্ঠন বাযুভরে সলিল-বক্ষে ক্রীড়। করিতেছিল। তরঙ্গ-বিচলিত জল- 
ব্রাশি, বক্ষ উল্লজ্বন করিয়া, কখনও গোলাপ-সন্নিভ স্ুকোমল গণ্ডদেশে, 
কখনও বা বেণীবদ্ধ কৃষ্ণ-কুস্তল-পাশে আসিয়া আঘাত করিতেছিল। 

বুবতীদ্ধয়ের একটার নাম--তারা ; অপরটা-শ্যামা । 

অপরাহ্ন কাসাদীঘিতে গা ধুইতে-আঁসিয়া, নিজ্জনতা পাইয়া, তাহার! 


ছুই একটা প্রাণের কথ! কহিতেছিল। কথায় কথায় তার। কহিল,-- 
*তোর দাদ| যখন গিয়েছেন, তখন নিশ্চয়ই নিয়ে আস্বেন 1” 

হামা বিশ্বাস স্থাপন করিতে পার্গিল না। .শ্যানা দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ 
করিয়া উত্তর দিল/”বউ! তেমন কপাল কি আমি করেছি? তা'হলে 


*-- *২বাধ আস্ৰে কেন ?” 
| কমলিনী-সাহিতা-নক্দির, 


প্রনীত--“মণিবেগম' “৩৯ 


তারা । আমার) কিন্ত ঠাকুরঝি! এ সংবাদে মোটেই বিশ্বাস 
হয় না। . ৃ 

শ্যামা । আমার অনৃষ্টে বউ, সব ঘটতে পারে! নইলে, শ্বশুর 
মহুশয় বি্ূপ হবেন কেন? 

তারা। তালুই মহাশয় টাকার লোভে ঢলে পড়েছেন 

শামা । তিনিই বা আস্বেন ব'লে গেলেন, আর এলেন না কেন? 

তার । হক তো কোনও ঝঞ্ধাটে পড়ে গিয়েছেন। আমার মনে 
হয়। তিনি শীপ্রই আস্বেন। আমি যতদুর জানি, ঠাকুর-জামাই সে. 
রকমের লোক নন।” 

শ্টামা। তুমি তো বউ, আমার শ্বশুরকে জান না! তিনি একরোথা 
লোক )- যা ধরবেন, তাই কণ্র্বেন ! 

তারা । ঠাকুর-জামাই তাঁর মত ফেরাতে পার্বেন ন|! 

স্তানা। সাধা কি! বাপের নিকট মুখ তুলে কথাটি কইবারও 
তার সামর্থ নেই! 

তারা । আচ্ছা, তোমায় যে নিয়ে যাবার কথ হয়েছিল, তারই বা 
কি হ'ল? | | 

শ্তামা। আর নিয়ে গিয়েছেন! এবার তিনি নৃতন-বৌ নিয়ে ঘর 
ক'র্বেন। ভাই! সে বাড়ীতে আমার আর ঠাই নাই। 

স্যাম! একটা দীর্ঘ নিশ্বাল পরিত্যাগ করিল। ৃ 

তারার হাঁসি পাইল। সে হাসি চাপিয়, তারা বলিল,__“তাই যদি 
হয়, ত1 তুই ভাবৃছিস্‌ কেন? ঠাকুর-জামাই যদি বিয়ে করে তবে আমরাও” 
আবার তোর বিয়ে দেব।” 

তামার একটু রাঁগ হুইল। শ্তামা বলিল,_-“দকল তাতেই তোর 
ঠাট্ট। 1» 

5১৪ নং আহিরীটোল। দ্রীট, কলিকাতা 1 


শা পিপাসা 


৪০ ্ীর্গাদাস লাহিড়ী- 


তারা। তুই বুঝি মনে ক'র্লি, আমি ঠা্টর! কর্ছি ! কেন, পুরুষেরই 
কি ছু'পশবার বিয়ে করতে আছে, আর মেয়েদের বেলাতেই যত দোষ! 
আমি সত্যি বল্ছি, ঠাকুর-জামাই যদি বিয়ে করে, তোর দাদাকে ব'লে, 
০তার জন্তে আমি কার্ভিকের মতন নৃতন ঠাকুর-জ্রামাই এনে দেব । কেমন 
--এথন ভাবনা দূর হল তো? 

শ্যাম । তুই কি ভাই আর ঠাট্টার সময় পেলি-নে ? তার! কুলীন ) 
কুলীনে ছু'শে। একশো! বিয়ে করে! শ্বশুর মহাশর তার ছেলের এক বিয়ে 
দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবেন কি করে ভাই ! এতদিন যে ছু'দশট। বিয়ে দেন-নি, 
তাই আমার ভাগা বলে মান্তে হয় | 

তারা। তুই রানও গাম্‌, আবার রহিমও গান্‌। তবে করুন না 
কেন ঠাকুর-জামাই--আরও দুণদশট। বিয়ে! তাঁর জন্তে তোর আর এত 
ভাবনা কেন? 

আপনি বলিলে শোভ৷ পায়; কিন্তু পরে বলিলে সহ হয় না; 
মানুষের ইহাই প্ররুতি। তারার কথায় শ্তামার হৃদগ্ধে বড়ই আঘাত 
লাগিল। শাম! উত্তর দিয়া এবার আর জিতিতে পারিল না । তাই সেই 
কাকচক্ষু-সন্নিভ কালাদীঘির কাল জলে শ্ঠাথার ছুই বিন্দু অশ্রজল 
পতিত হইল । 

শ্যামার নমনাশ্র-সম্পাতে তারার হৃদয় সঙ্থান্গভূতিতে গলিয়া গেল। 
তার! সাত্বনাবাজক স্বরে কহিল,--“ঠাকুর্-ঝি ! তুই ক্ষেএ্রেছিস্‌ নাকি ? 
ঠাকুর-জামাই যে প্রকৃতির লোক, তিনি কি স্হঞ্জে আর একটা বিয়ে 
ক”র্তে রাজি হবেন ? তুই নিশ্চয় জানিস্‌, তিনি কখনই তা! ক'র্বেন না ।” 

স্টামা। সত্য বল্তে কি বউ, সেই সাহলই আমার সাহস। তার 
সেই সবুল যুখখাঁনি মনে পঞ্ড়লে, একবারও মনে” হয় না--তিনি কখনও 
আমাদ ত]াগ ক*র্তে পারেন । 

ক্ষমলিনী-দাহিতা-মন্দিয়, 


প্রণীত -মিণিবেগম' ৪১ 


বলিতে বলিতে শ্ঠামার নয়ন-কমল পুনরায় অশ্রভারাক্রাস্ত হইয়। 
আসিল। 

শ্যামার মনের আবেগ উপলব্ধি করিয়া, তারা পুনরায় সাস্তবনা-বাক্যে 
*কহিল,--“ঠাকুর-বঝি ! কেন তুই বুথ ভাবনায় ব্যাকুল হ'স্! দাদা বখন 
গিয়েছেন, নিশ্চয়ই সে বিয়ে ভাঙ্গিয়ে আস্‌্কেন। তুই দেখিস্--ঠাকুর- 
জামাইকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শীদ্রই এখানে এসে পৌছিবেন ! তুই একটুও 
ভাবিস্‌ না” 

শ্যামা। বউ, তাই হোক--তোর মুখে ফুল-চন্দন পড়ক! যদি 
একবার তার দেখ! পাই, ভারে মিনতি ক'রে ব'ল্ব-- 

হামা আর বলিতে পারিল না। শ্টামার বক্ষ বহিয়া অন্গরাগের 
অশ্রবিন্দু পতিত হইল । তারা নানারূপে তাহাকে বুঝাইতে লাগিল। 
কিন্ত শ্থামার উদ্বেগ-আতঙ্কপুর্ণ প্রাণ প্র বোধ মানিল না। 

কথায় কথায় অনেক সময় কাটিয়। গেল। সম-বয়সী সাথী না হইলে, 
সকলের তো আর যোগ দেওয়া শোভা পায় না! সুতরাং শ্যামা ও তারার 
কথান্প, শ্যাম! ও তারাই বিভোর হইয়। রহিল। আর আর যাছার। ঘাটে 
গা! ধুইতে আদিয়াছিল, তাহারা পূর্বেই চলিয়! গিয়াছিল। 

শ্যানার আশক্ক। দূর হইল না। তার৷ বুঝাইয়! বুঝাইয়। স্যামার আতঙ্ক 
দূর করিতে পারিল না। সন্ধ্যার পদ-।বক্ষেপে পৃথিবীতে আধার-ব্যাপ্তির 
সঙ্গে সন্ধে, নব নব আশঙ্কায়, শ্ামার প্রাণ ক্রমে নৈরাগ্ের গাঢ় অন্ধকারে 
নিমগ্ন হইতে লাগেল। 

এদিকে গোধুলি অপগমে সন্ধ্যার সমাগম প্রত্যক্ষ করিয়, তার! শ্যামাকে 
কহিল,-_ “সন্ধ্যা হয়ে এল। আয় ভাই বাড়ী যাওয়া যাক ।* 

প্রকৃতি নিন্তন্ধ | কালার্দীঘি নিস্তন্ধ। তীরম্থিত তরুরাজি নিম্তন্ধ। 

ক্ষচিৎ বৃক্ষাস্তরালে ছুই একটা পাখীর কিচিমিচি শুনা যাইতেছে । কচিৎ 


১১৪ নং আহিরীটোলা! £ট, কলিকাতা! 


৪২ ্ীূর্গাদাস লাহিভী- 


ছুই একটা নিশাচর পক্ষী বৃক্ষ হইতে বৃষ্ষান্তরে উড়িয়৷ বলিতেছে। কচি 
ঝিল্লিরবে এক এক প্রান্ত মুখরিত হইয়া উঠিতেছে। 

তারার কথায় শ্তামার যেন চৈতন্যোদয় 'হইল। ইতস্তত: চাহিয়া 
দেখিয়!, উভয়েই মনে মনে ভয় পাইল। তখন আর বিলম্ব কর! সঙ্গত 
নহে বুঝিয়া, গৃহ-গমনে প্রস্তত হইল) ঘাট হইতে উঠিয়া, দীধির 
পশ্চিম-পাড়ের পথ ধরিয়া ধারে ধীরে কলসী-কক্ষে গৃহাভিমুখে অগ্রসর: 
হইল। | : 
কালাদীঘির সম্মুখে বিস্তৃত প্রান্তর । সেই প্রাস্তর-মধ্যবর্তী পথ 
অতিক্রম করিয়। কিছু দূর অগ্রসর হইলে, গ্রামের মধ্যে পৌছান যায়) 
কিস্তু ঘাট হইতে উঠিয়া পথে পদার্পণ করিতেই-_-এ কি বিদ্ব! 

দুইজন সৈনিক পুরুষ সেই পথ দিয়! অশ্বারোহণে গমন করিতেছিল ।. 
সন্ধ্যার প্রাক্কালে, প্রান্তরের মধ্যে, কালাদীঘির কাল-জলে প্রশ্দুট-কমল- 
সদৃশ ঘুবতীদ্ব়কে দেখিতে পাইয়া, তাহার! অশ্থের গতি সংযত করিল। 

সহস। সম্মুখে দুই জন অশ্বারোহী. দৈনিক-পুরুষ আসিয়! পথ অবরুদ্ধ 
করায়, যুবতীদ্বয় চমকিয়া৷ উঠিল | প্রথমে তাহার! সনথুচ্ডি হইয়া ঘাটের 
দিকে ফিরিয়। আমিবার চেষ্টা পাইল। কিন্তু যখন দেখিল, অশ্বারোহী 
নৈনিক-পুক্রযদ্য় তাহাদিগের অনুসরণ করিতেছে,_-তাহাদিগের গতিরোধে 
চেষ্টা পাইতেছে ; তখন আর তাহার্দের আতঙ্কের অবধি রহিল না, তখন 
আর তাহারা অধিক দুর অগ্রসর হইতে পারিল না তখন আর তাহাদের 
চরণ চলিতে চাহিল না। কক্ষের কলদী কক্ষত্র্ট হইয়া ভূমিতলে লুণ্ঠিত 
হইল। শরীর খর থর কাপিতে লাগিল । | 

সৈনিক-পুরুঘদ্বয় মুসলমান | দুই জনেরই বেশ-ভূষ! একবূপ | ছুই জনেই 
একই প্রকার অঙ্খে আরোহণ করিয়া ছিল ॥ তাহার। নবাবের অন্থুচর ।, 
এক জনের নাম--আলিজান 9 অন্য জনের নাঁম-_-মহম্মনীবেগ | 


(মলিনী-স্বহিত্য-ষন্মির, | 


প্রণীত--“মণিবেগম, ৪৩ 


যুবতীঘ্বয়কে সম্কৃচিত দেখিয়া, মহম্মদীবেগ বলিয়া উঠিল,-.-“ভোমাদের 
ভয় নেই! আমাদের দ্বার। ই ভিন্ন অনিষ্ট হ'বে না। 

আলিজান বলিল,-_-”তোমাদের সৌভাগা, তাই আমাদের নজরে 
পড়ে গিয়েছ ! খোদ! এবার তোমাদের দুঃখ দূর ক'র্বেন ।” 

এই বলিয়া, ৈনিক-পুরুষদ্ধয় অশ্ব হইতে অবতরণ করি। দীঘির 
পাড়ে, একটা বৃক্ষের শাখায়, অশ্বত্বয়কে বীধিয়। রাখিল। তার পর 
ছুই জনে বুবতীদ্বয়কে ধরিতে গেল । বলিল,--"এস বিবিরা-_-এস ! 
এস-_বিনা আপত্তিতে আমাদের সঙ্গে এস। নবাবের বেগম্‌ ক'রে দেব ।* 

যুবতীঘ্বয় ঘাটের দিকে আরও একটু সরিয়া গেল । অবগুঠন 
আরও 'একটু বাড়াইয়। দিল। কিন্তু সৈনিক-পুরুষত্বয় নিবৃত্ত হইল না। 
যুবতীদ্বয় যতই পশ্চাতে হঠিতে লাগিল, তাহারাও ততই অগ্রসর হইয়া 
যুবতীত্বয়কে ধরিবার চেষ্টা পাইল। তাহার। কখনও ব| ভয় প্রদর্শন 
করিতে লাগিল; কখনও বা প্রলোভনে তুলাইবার প্রয়াস পাইল। 
একবার বা বলিল,-_-“এস--আমাদের সঙ্গে এস; কত আদর পাবে? 
এমন ক+রে ঘাটে মাঠে ঘুরে বেড়াতে হবে না।” একবার বলিল,_-“যদি 
সহজে না এস, জোর কবে ধ'রে নিয়ে বাব। কেউ আটকাতে পার্বে না.” 
' আলিজান ও মহম্মদীবেগ পরস্পর পরামর্শ করিয়া স্থির করিল,-_ 
তাহার্দের এক-একজনের ঘোড়ার. উপর এক-একটি যুবতীকে উঠাইট 
লইয়া ঘোড়া! হাঁকাইয়। দিবে। 

আলিজান কহিল,-_-"ঘোড়ায় পার্বে তো ?” র 

মহন্মদীবেগ উত্তর . দিল,__”কয় কোশই বা পথ! অনাগ্গাসেই 
স্বাওয়৷ যাবে।” ্‌ | 

আলিজান সংশয় প্রশ্ন তুলিল,__“পথে বন্দি -কেউ দেখতে পায়, 
বাধা দিতে পারে” . 


১১৪ মং আহিরীটোলা! দ্ীট, কলিফাত| । 


৪৪ শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


মহ্দদীবেগ উত্তর দিল,_-"সন্ধ্যার আধার একটু পরেই ঘনীভূত হ'য়ে 
আস্বে;) পথে লৌক-চলাচল বন্ধ হবে। যদি কেউ দেখতে পায়, 
বাধ! দিতে সাহস ক'র্বে না ।” 

আলিঙান। তবে এখানে.আর বেশীক্ষণ থাক! উচিৎ নয়। এ ঘাটে 
সর্বদাই লোকজন জল নিতে আসে । হঠাৎ কেউ যদি এসে পড়ে ! 

মহম্মদীবেগ । এখন আর এখানে লোকজন আদার সম্ভাবন। নাই। 
তবে এখানে আর দেরী কম্র্তেও আমি ইচ্ছ। করি না। এখানকার 
পথ ঘাট খারাপ, টাদদের আলো! থাকৃতে থাকৃতে রওনা! হওয়াই শ্রেয়ঃ। 
আবশ্তক বুঝি, পথে কোথাও অপেক্ষ। কর! যাবে । এস, ওদের ঘোড়ায় 
'ভুলে নিয়ে, তাড়াতাড়ি ঘোড়া হাকিয়ে দিই। 

এইবার তারা ও শ্তামীকে লক্ষ্য করিয়া আলিজান কহিল,--“তবে 
কি তোমরা শুনবে না? তবে কি জোর ক'রে ধরে নিয়ে ঘোড়ায় 
চড়াতে হবে ?” 

তার! ও শ্তাম! ছুই জনেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া! পড়িয়াছিল ১ ছুই 
জনেই মনে মনে ছুর্গা-নাম জপ করিতেছিল ; দুইজনেই মনে মনে 
তগবানকে ডাকি প্রার্থনা জানাইতেছিল, --*হে কাঙ্গালের হরি, বিপদ- 
ভগ্ন, অনাথনাথ! অভাগিনীদের এ বিপদে উদ্ধার কর!” 

সহসা আলিজানের কর্কশ-স্বর কর্ণরন্ধে, প্রবিষ্ট হওয়ায়, ৪তাহার! 
কাপিয় উঠিল । 

কি কুক্ষণেই আজ তাহার! কালাদীঘিতে গ ধুইতে 'আসিয়াছিল | 
যদি আসিয়াছিল, তবে কথায় কথায় এত দেরী করিয়! ফেলিল কেন? 
তাহার! বখন গা ধুইতে আসে, তখন গ্রামের আরও কত মহিলাকে 
ঘাটে দেখিতে পাইয়াছিল। সকলেই আদিয়া, আপন-আপন কাজ 
সারিয়া, চলিয়া গিয়াছে; তাহারাই বা পশ্চাতে পড়িয়া! রহিল কেন? 


কছজিনী-নাহিতা-ষ ন্দির, 


প্রণীত-_“মণিবেগম' ৪৫ 


অন্ত অন্ত দিন প্রায়ই তো! তাহারা কোনও-নাকোনও ব্ীয়সীর সঙ্গে 
আসে, আর তাহাদের সঙ্গেই চলিয়া যায়। কিন্তু আজ তাহাদের এ 
ুর্ঘতি কেন হইল? যদি আসিয়াছিল, তবে অন্তান্ত সকলের সঙ্গে সঙ্গেই 
বা চলিয়! গেল ন! কেন ? যে সুখ-দুঃখের আলোচনায় এই বিলম্ব ঘটিল, 
সে আলোচন! বাড়ীতে বসিয়াও তে! চলিতে পারিত ! ] 
দেশের শোচনীয় অবস্থার বিষয়--দেশব্যাপী অরাজকতার কথা-_ 
কাহারও তো এখন অপরিজ্ঞাত নাই! বর্গীর বিভীষিক1--এখনও তো 
দেশ হইতে একেবারে দুর হয় নাই! *বর্গী আসিতেছে শুনিলে এখনও 
অনেক গ্রামে হাহাকার পড়িয়া যায়,--গ্রামবাসীরা গ্রাম ছাড়িয়া বনে 
জঙ্গলে পলায়ন করে! এখনও পাঠান-মোগলের ফৌজের অত্যাচার-_ 
অনেক স্থলেই পরিদৃশ্ঠমান! ফৌজ-পণ্টন আসিতেছে শুনিলে, এখনও 
অনেক গ্রামের স্বন্দরী ব্রমণীরা! .পোড়। হাড়ীতে মন্তক টাকিয়া জলের মধ্যে 
লুকাইয়৷ থাকে! ধরন্মরক্ষা ও আত্মরক্ষার জন্য, ন্থন্দরীগণকে এখনও 
শরীরের ও মুখমণ্ডলের বিকৃতি-সম্পাদন করিতে দেখ! যায়। 
দেশের এই বিষম সঙ্কট-সমস্তার সময়, তারা আর শ্যামা, কোন্‌ সাহসে, 
সন্ধার পরও গ্রাম-প্রাস্বস্থিত কালাদীঘিতে অপেক্ষ! করিতেছিল? 
মহন্মদীবেগ ও আলিজান, কখনও বা মিষ্টবাকো কখনও বা ভীতি- 
প্রদর্শনে, তার! ও শ্যামাকে বুঝাইবার চেষ্টা পাইল। কিন্তু তাহাতে 
কোনই ফল ফলিল না। তখন তাহার! দুই জনে, হাত বাড়া ইয়।, তারা 
ও শ্যামাকে ধরিতে গেল। 
“ছুয়ো না! ছুয়ো না!” 
তার ও শামা, ছুই জনেই সমঙ্থরে চীৎকার করিয়! উঠিল,--“ছুয়ে 
না1ছুয়ো না! 
সৈনিকঘয় ফতই অগ্রসর হয়, তার! ও শ্ঠামা, ততই পিছাইয় বায় ৷ 


১১৪ নং আহিরীটোল! স্ত্রী, কলিকাতা । 


৪৬ জীদুর্গাদাস লাহিড়ী 


ইচ্ছা করিলে, সৈনিকঘ্বয় £জার করিয়া এতক্ষণ তারা ও শ্তামার 
বঅঙ্গম্পর্শ করিতে পারিত। কিন্তু তাহাদের অভিপ্রায়,---কতকট!। ভন্ম 
দেখাইয়া, কতকটা প্রলোভনে গ্রলুন্ধ করিয়া, সম্মতি-সহকারে, তাহা” 
'দিগকে সঙ্গে লইয়া যাইবে । তাহারা বুবিয়াছিল,_-তাহারা যত বড় 
_ৰলশালী হউক না কেন, জোর-জবরদস্তী করিয়া, ছুই জনে ছুই জনকে 
ঘোড়ায় চড়াইয়া! লইয়া যাওয়া--বড় সহজ ব্যাপার নহে! বদি তাহার! 
ঘোড়ার উপর সহজে না উঠে, ঘোড়ায় উঠান” কত কষ্টকর! যদি 
তাহার! পথে যাইতে যাইতে চীৎকার করে, বিপদের কত সম্ভাবন! 
সুতরাং প্রথমে বল-প্রকাশে সৈনিকদ্ধয়ের মনে আপনা-আপনিই 
“ইতস্তত$১ হইতেছিল । | 

কিন্তু যখন তাহার! ঝুঝিল, সহজে কাঁধ্য সিদ্ধ হইবে না, তখন অগত্যা 
বল-প্রকাশে প্রস্তুত হইল। ] 

তৃতীয়ার চাদ এখন একটু একটু জ্যোতন্না ছড়াইতেছিলেন ; আর 
সেই জ্যোৎনালোকে ন্ুন্বরীছয়ের মুখ-জ্যোতিঃ বিকশিত হইতেছিল। 
ন্থতরাং সৈনিকদ্বর কোনক্রমেই প্রলোভন পরিত্যাগ করিতে পারিল না! 

মহন্মৰী বেগ, আলিজীনকে বলিল;--"দেখু আলি। সহজে কিছু 
হবে না! আয়, আগে স্পর্শ করি, মুখে থুথু দিই, জাত-ধর্্ম নষ্ট হ'ক 7. 
তখন আপনি বশ হয়ে আস্বে। আমি অমন অনেক দেখেছি ; অনেক. 
হি'ছ্র. মেয়ে ধরে নিয়ে এসেছি। তার! (প্রথমে কিছুতেই আস্তে চায় 
না। কিন্তু শেষে যখন ধ'রে ফেলি, মুখে থুথু দিই; জাত নষ্ট হ'ল বলি, 
তখন ন্ুর সুর ক'রে সঙ্গে আসে । হি'ছুর মেয়েদের জব্দ করার এর চেয়ে 
সহজ উপায় কিছুই নেই। আয়, ছু'জনে ছু'টোকে.আগে ধ'রে ফেলি ; 
-_আয্ম, ছু'জনে ছ'টোর মুখে আগে থুথু দিই। তা হ'লে ঠিক সোজ! 
হয়ে আসবে, সঙ্গে আস্তে আর আপত্তি থাকবে না!” 


 ফমজিনী-সাহিত্য-ন্দির, 


্রশীত_“মশিবেগম্ ্‌ ৪৭ 

আলিজান। ঠিক ব'লেছিস্‌ ভাই, ঠিক বলেছিস্‌। আর তবে 
তাই করি । 

এই বলিয়া, ছুই জনে ছুই জনের প্রতি ধাবমান হইল । 

তার! ও শ্যাম! প্রথমে মনে করিয়াছিল-_মিনতি করিয়া প্রাণভিক্ষা! 
চাহিবে; বলিবে-তোমর। আমাদের ধর্খ্-বাপ, তোমরা আমাদের 
রক্ষা কর। কিস্তুষখন তাহার্দের শেষ ,কু-অভিসন্ধির কথা শুনিল; 
গুনিল--তাহারা জোর করিয়া ধর্ম নষ্ট করিবে বলিয়া কৃতসন্কল্প হইয়াছে ঃ 
আর বুঝিল-_তাহারা কিছুতেই প্রতিনিবৃত্ত হইবে না) তখন ছুইজনে 
কাণে কাণে কি বলাবলি করিল,--ছ্ইজনের হৃদয়ে হৃদয়ে কি-ষেন-কি 
তাড়িৎ-শক্তি সঞ্চাপিত হইল,ছুই জনে সমস্বরে শাসাইয়। বলিল,-- 
“খবরদার ! আমাদের স্পর্শ করিস্‌ না।” 

শ্যামা সিংহীর ন্যায় গঞ্ভিয়। উঠিন,-“পাপমতি পিশাচ! আর অগ্রসর 
হ'স্নে! তোর নিশ্চয় জানিস, আমাদের জীবন থাকৃতে তোনা 
কিছুতেই আমাদের স্পর্শ ক+র্তে পার্বি না! তোর! আর একটু অগ্রসর 
হলেই আমরা কালাদীধির জলে ঝাপ দিয়ে প্রাণত্যাগ কর্ব !” 

আলিজান জিজ্ঞাসা করিল,-_“মহম্বদী ! এর! বলে কি?” 
_ মহম্মদী উত্তর দিল,_-”হি"দুর মেয়ের! প্রথমে এ রকমই আস্ফালন 
করে বটে! কিন্তু শেষে ধরা পড়লে আপনা-আপনিই পোধ মেনে বায়। 
আয়, আর দেরি করিস্‌-নে ! এইটেকে আমি ধরি, এঁটেকে তুই ধর ।” 

এবার উভয়ে যেমন অগ্রসর, অমনি কালাধীধির জলে বম্পপ্রদান-শব 
উত্থিত হইল । 

জল কপির উঠিল। তটভূমি কাপিয়া. উঠিল। তীরস্থিত তকুরাজি 
কীপিয়া উঠিল । বৃক্ষশাখায় আবদ্ধ ঘোটকছম কাপিয়! উঠিল। - চমকে 
উললন্ফনে তাহাদের বন্ধন ছিন্ন হইল। শব্দ শুনিয়া, জলের পানে তাক হিয়া, 


১১৪ নং আহিন্নীটোল। ঘ্রীট, ফালিকাত।। 


৪৮ শ্রীহুর্গাদাস লাহিড়ী- 


ভীতিবিহ্বল হইয়া, অশ্বদ্বয় উর্ধাশ্থাসে দৌড়িয়। পলাইল। বৃক্ষশাখে 
পক্ষিসকল 'কলরব করিয়া উঠিল। একসঙ্গে তাহাদের পক্ষ-বিধূনন-শব্ব 
উদ্থিত হইল। সেইশবে, আর বাত্যা-বিতাড়িত বৃক্ষপত্রালোড়ন-শব্দে 
মিলিত হইয়া, প্রান্তর কাপাইয়! তুলিল। 

আলিজানের ও মহন্মদীবেগের প্রাণও দুরু-ছুরু কাপিয়া উঠিল । 

ক্ষণপূর্ব্বে ষে প্রকৃতি নিস্তব্ধতা অবলম্বন করিয়াছিলেন, তিনি যেন 
'অকম্মাৎ বিক্ষোভিত হইয়া উঠিলেন। নির্বাত- নিফস্প বৃক্ষবন্তরী বিষম 
বাষু-প্রবাহে বিচালিত হইতে লাগিল । 

এদিকে, তৃতীয়ার চাদ সন্ধ্যাসনাগমে জলের উপর যে একটু কিরণচ্ছট! 
ছড়াইতেছিলেন;-_-সেটরকুও সরাইয়৷ লইলেন। 

তখন আর বুদ্‌বুদ পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হইল্র না। কালাদীঘির কাল” 
জলে আর নৈশ অন্ধকারে এক হইয়। গেল। 


অধ্টম পরিচ্ছেদ । 


8০ 





রাক়-পরিবার। 


"স্খন্যানস্তরং ছুঃখং দুংখ্যানস্তরং সুখম্‌। 
সুখং ছুঃখং মনুষ্যানাং চক্রবৎ পরিবর্তে ॥” 
.. শাধ্যাস-বাকা । 


: স্ুরশিদাবাদ হইতে হাটাপথে রাজসাহী পরগণাক়্ যাইতে হইলে” পথের 
থারে রূপনগরের রায়েদের বাড়ী দৃষ্টিগোচর হয়। রায়েরা বনিয়াদী-বংশ ; 


কমজিনী-সাহিত্য-মন্দির, 


প্রণীত--“মণিবেগম' ৪৯ 


এককালে প্র অঞ্চলে তাহার! সম্পত্তিশালী বলিয়া পরিচিত ছিলেন। কিন্তু 
চারি বৎসর পূর্বে বর্গীর হাঙ্সামায় একবার. তাহাদের ঘর-বাঁড়ী লুণ্ঠিত হয়। 
সেই হইতে অবস্থা একেবারে খারাপ হুইয়া পড়িয়াছে । সেই হইতে 
বাড়ী-ঘরের আর সে শ্রীছাদ নাই । গ্রেই হইতে পৃজা-পার্কগ বন্ধ 
হইয়াছে । সেই হইতে সংসারে শোক-তাঁপ যেন সর্বদাই লাগিয়া! 
রহিয়াছে । 

কালীনাথ রায়,--.রায়-পরিবারের ধিনি লক্ষমীমন্ত পুরুষ ছিলেন,--সেই 
হাঙ্গামায় আহত হইয়া, ইহলীলা সমন্বরণ করেন । হাঙ্গামার পর ছুই দিন 
মাত্র তিনি জীবিত ছিলেন; কিন্তু আহত্ত হওয়ার পরই তীহাঁর 
বাক্যস্কত্তির ক্ষমতা লোপ পাইয়াছিল। হাঙ্গামার বাধা দিতে গিয়া, 
তাহার পাঞ্জরার উপর তরবাত্ির আঘাত লাগে। দেই আঘাতেই তিনি 
ধরাশ।য়ী হন। তিনি ধরাশায়ী হওয়ার পর, লুগ্ঠনকারীরা তাঁহাদের 
যথাসর্কন্ব লু্ঠন করিয়া লয়। লুণঠনাবশেষে তাহার ঘরগুলিতে আগুন 
ধরাইয়া দেয়। 

_ কনিষ্ঠ কষ্ণনাথ রায় সেদিন বাড়ী ছিলেন না। পুল্র শিবনাথকে সঙ্গে 
লইয়! নিমন্ত্রণ উপলক্ষে তিনি নাটোর গিয়াছিলেন । হাঙ্গামার দুই দিন 
পরে তিনি যখন ফিরিয়া আমিলেন, দেখিলেন--জ্যেষ্ট মুমুর্ষ_-অবস্থাপন্ন। 
ঘরগুলি ভন্মসাৎ্, পরিবারবর্গ পথে বসিয়া আছে। সে দৃশ্তে কৃষ্ণনাথের 
মস্তকে যেন আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছিল। সে, অবস্থায় মানুষ পাগল 
হইয়া! যায়,-_মাহুষ আত্ম-সংবরণ করিতে পাবে না। কিন্ত পুক্র শিবনাথ 
সেবার তাহার ধৈর্্যাবলম্বনে সহায় হইয়াছিলেন। শিবনাথ পিতাঁকে 
বুধাইয়া বলিয়াছিলেন,--পবাবা ! আপনি অধৈধ্য হ'লে আমরা দাড়াব 
কোথায় ? ম! দাড়াবেন কোথায় ? জ্যেঠাই-ম! দাড়াবেন কোথায় ? শ্তাম! 
দাড়াবে কোথায় ? খোকা প্রাড়াবে কোথায় ? বা গিয়েছে, তা তে! আর: 


১১৪ নং জাহিরীটোল! গ্রীট, কষজিকাত। । 


৫০ ৃ জীদুর্গাদাস লাহিড়ী শপ 


ফিরে পাওয়া যাবে না। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে সকলকেই কি যেতে 
বলেন ?” শিবনাথের সেই প্রবোধ-বাক্যে, পুক্র-পুত্রবধূ-কন্থা! প্রভৃতির মুখ 
চাহিয়া, কুষ্চনাথ অনেক কষ্টে সেবার ধৈধ্যধারণ করিয়াছিলেন। ক্রমে 
ক্রমে ঘরবাড়ীগুলি আবার প্রস্তুত হইয়াছিল । ক্রমে ক্রমে, পোড়া-ঘরে 
'চাল উঠাইতে সমর্থ হইয়াছিলেন। তবে পোড়া ঘরের চিহ্ন যে একেবারেই 
লোপ করিতে পারিয়াছিলেন, তাহা! বলিতে পারা বায় না । কারণ, 
যে -সময়ের কথা! বলিতেছি, তখনও ঠাকুর-দালানের কোঠাটিতে 
 চুণকাম করা--তীহার সামর্থো কুলার নাই। সেকোঠার পোড়া কড়ি, 
পোড়। বরগ।--তখনও অতীত-স্থৃতি বক্ষে ধারণ করিয়া ছিল । 

কিন্ত যাউক পেকথা! সে অতীতের আলোচনায় এখন আর কি 
ফললাভ সম্ভবপর? পূর্বে যে বাড়ীতে প্রত্যহ ছু'বেলা এক শত লোকের 
পাত পড়িত, দে বাড়ীর' পোষ্য সংখ্যা ্রথন সবে মাত্র পাঁচটীতে 
দাড়াইয়াছে। সে পুরাতন ইতিহাস এখন উপ্ুকথার মধ্যে পরিগণিত 
বলিলেও অত্যক্তি হয় না। ম্ুৃতবাং সে পরিচয় পুঙ্থানুপুঙ্থ প্রদান 
করিবার প্রয়াল না পাইয়া, এখন যাহা সংসারের অবস্থা, তাহারই একটু" 
আভাস দেওয়ার চেষ্টা পাইতেছি । 

বলিয়াছি তো-_কৃষ্ণনাথ বায়ের সংসারে এগন স্ত্রী পুরুষে পাঁচটা মাত্র 
প্রাণী বিস্তমীন। ন্বর্গীয় কালীনাথ রায়ের কোনও সন্তান-সন্ততি ছিল 
না। সুতরাং তাহার পত্বী শিবানী দেব্যা এখন. কাশীবাপী হইয়াছেন। 
কষ্ণনাথের স্ত্রীর নাম_মহামায়া । তাহার সন্তান-সস্ততির মধ্যে ছুই পুত্র 
ও এক কন্তা। কনিষ্ঠ পুত্র রঘ্বুনাথকে 'মহারাণী ভবানীর নিকট পোস্ত- 
পুতর-প্রদ্দানের চেষ্টার বিষয় পুর্কেই উল্লিখিত হইয়াছে।. জোষ্ঠপুজরের নাম 
শিবনাথ। তাহার বৈবাহ হইয়াছে। তীহার স্ত্রীর নাম --তাবরানুন্বরী | 
'ক্ুঞ্চনাথের কন্তাও বিবাহিতা । তাহার নাম-শ্তামানুন্দরী | ছুই জন 


কমলিনী-সাহিত্য-মন্দির। 


প্রণীত-_-'মণিবেগম: ৫৬ 


সুমলমান-সৈনিকের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার জন্ত কালাদীঘির জলে 
সেই থে ছুইটা যুবতী বস্প প্রদান করিয়াছেন, তাহারাই রায় মহাশয্বের 
কন্তা ও পুত্রবধূ । 


নবম পরিচ্ছেদ । 





“কোথায় গেল 1” 


“17676 ৪ 0000, 10917091060. 9010$ 
(1061 ৪7৮ 00০৮ আণােট 60 008 (080 080 7” 
| -- 7০070410076, 


সন্ধ্যা উত্তীর্ হইল) কন্া ও পুত্রবধূ বাড়ী ফিরিয়া আসিল ন।। 
'অহামার] ব্যস্ত হইয়া পড়িলেন। পাঁড়া-প্রতিবাসী যাহার কালাদী ঘিতে 
গা ধুইতে গিয়াছিল, তাহাদের নিকট সন্ধান লইতে লাগিলেন । সকলেই 
ঘাট হইতে ফিরিয়! আপিয়াছে ; কিন্তু তাহার! আসিল না কেন? 

নিষ্তারিণী দেবী সন্ধ্যার প্রাক্কালে ঘাট হইতে ফিরিয়। আসিয়াছেন,। 
তিনি এবলিতেছেন,--তিনি তাহাদিগকে ঘাটে দেখেন নাই। কিন্ত 
কাদস্বিনী বলিতেছেন,--”আমি সন্ধ্যার পর তাহাদিগকে ঘাটে দেখিয়া 
আসিয়াঁছি |” ছুই জনে ছুই রূপ বলিতেছেন ! এও এক প্রহেলিকা বটে ! 
এ সংসারে অনেক সময় অনেক ঘটনা প্রইরূপ প্রহেলিকাময় হইয়! উঠে । 


১১৪ নং আহিরীটোন। দ্রীট, কলিকাত।। 


৫২ ্ীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


তারা ও শ্ামা তবে কোথায় গেল? ঘাটে গিয়া কোনদিন তাহার! 
তো! এত দেরী করে ন।! 

মহামায়৷ বাড়ী বাড়ী সন্ধান লইলেন। দেখিলেন,_ঘাট হইতে 
গ্রামের সকলেই ফিরিয়া আসিয়াছে ; কেবল তাহারাই আসে নাই! 
তবে কি তাহাদের কোনও অমঙ্গল ঘটিল! তবে কি তাহারা 
বিপাকে পড়ি! জলমগ্র হইল । 

কালাদীঘি বিস্তৃত জলাশয়। একুল হইতে ও-কুলে দৃষ্টি চলে না। 
বর্ষাকালে অনেক সময় বন্যার জলে আর কালাদীঘির জলে এক হইয়া 
যায়। তখন, সময় সময় দীধিতে হাঙ্গর-কুস্তীরেরও উপদ্রব হয়। কয়েক 
বৎসর পুর্বে এ দীঘিতে একটা গরুকে হাঙ্গরে ঘরিয়াছিল বলিক্ক। বাট 
'আছে। 

দীঘির দক্ষিণ পাড়ে যে একট প্রকাণ্ড বট-গাছ আছে, নকলের 
বিশ্বীস, সেই বট-গাছে ভূত বাস করে। তিন দিন হইল, ভূতনাথের মা 
সেই ভূতের দাত কয়েকটা দেখিতে পাইয়াছিল। হরমণির বোন-পে! 
ধে সে বৎসর নিকদেশ হইয়াছে হরমণি সে সম্বন্ধে অন্ত কথা বিশ্বাস 
করে না। সে বলে-_কালাদীঘির ভূতে তাহার বোন্পোফে উড়িয়ে, 
নিয়ে গিয়েছে ।, ৃ 

কালাদীধির সম্বন্ধে আরও কত কথাই শুনা যায়। 

এ অঞ্চলে যত বৃড়া-বুড়ী আছে, গোবর্ধনের ঠাকুর ম/ সকলের 
অপেক্ষা বয়সে বড়। এ অঞ্চলের সকল বুড়া-বুড়ীই সে কখ। এক-বাক্যে 
স্বীকার করে। সেই গোবর্ধনের পিতামহী কালাদীঘির উৎপত্তি সম্বন্ধে 
সচরাচর যে কথা প্রচার করে, তাহা শুনিলে শরীর শিহরিয়। উঠে। সে 
বলে-সে তাহার ঠাকুরদাদার কাছে_ গল্প শুনিয়াছে_এ. খানে, 
বিক্রমাদিত্য রাজার রাজধানী ছিল। এক দিন সন্ধ্যার পর দাকুণ ঝঞ্া- 


প্রণীত--'মণিবেগম। ৫৩ 


বাত উপস্থিত হয় ;--সাঝ-রাতি দুর্যোগ চলিয়াছিল। প্রাতঃকালে, 
ছুষ্যোগ থামিলে, রাজধানীতে দরবার করিতে গিয়া, গ্রামস্থ লোকে 
দেখিল, সেখানে রাজধানী নাই )--বরাজধানীর পরিবর্তে এঁ কালাদীঘির 
উৎপত্তি হইয়াছে। শুনিল,২-ডাকিনীতে রাজধানী অন্ত দেশে উড়াইয়। লইয়া 
গিয়াছে; রাজধানীর পরিবর্তে কালাদীঘিকে এধানে রাখিয়া গিয়াছে । 

যে কারণেই হউক, কালাদীঘি সম্বন্ধে লোকের মনে অনেক দিন 
হইতেই আত্ঙ্কের সশর হুইয্। আছে। 

কন্ঠ ও পুত্রবধূ এত রাত্রি পধ্যস্ত প্রত্যাবৃত্ত ন। শী মহামায়ার 
হৃদয়ে আতঙ্ক ঘনীভূত হইয়া আসিল। যতই তিনি কন্তা ও পুত্রবধূর 
ভাবনা ভাবিতে লাগিলেন, কালাদীঘির অতীত-ম্বতি ততই তাহার মন 
অধিকার করিয়া বসিল। সান্তনা কর! দুরে থাকুক, প্রতিবেশিনীগণ 
অনেকেই তাহাঁর আত্ঙ্ক-বৃদ্ধির 'পক্ষে সহায়তা করিতে লাগিল । তিনি 
_ষে তাহাদের অনুসন্ধানের জন্য দীঘির দিকে কাহাকেও প্রেরণ করিবেন, 
সে সুবিধাও দেখিতে পাইলেন না। 

পুত্র শিবনাথ গৃহে নাই। জামাতার ভ্বিতীয় দারপরিগ্রহের সংবাদ 
পাইয়া, জামাতাকে আনিবার' জন্য, ভিনি জামাতৃভবনে গমন করিয়া- 
ছেন। পতি কৃষ্ণনাথ, নিমন্ত্রিত হইব, কনিষ্ঠ পুত্র রঘুনাথকে সঙ্গে 
লইয়া নাটোর-রাজধানীতে রওনা হইয়াছেন। সেখানে মহারাণী 
ভবানী পোধ্পুত্র গ্রহণ করিবেন। যদি রঘুনাথকে মহ্ারাণীর পছন্দ 
হয় !_-অনেকটা। সেই উদ্দেস্তেই "ক্ুঞ্চনাথ নাটোর গিয়াছেন। মুতরাং 
তারার ও শ্যামার কে আর সন্ধান লইবে ? .$ | 

হরি সর্দীরকে ডাকিয়া, মহামায়া অনেক করিয়া অগ্ুরোধ করিলেন | 
তাহার সঙ্গে পর্ধ্যস্ত গমন করিয়া কন্তা ও বধূর সন্ধান করিতে প্রস্তত 
হুইলেন। 


১১৪ নং আহ্রীটোল! দ্রীট, ঠা | 


রছুরগাদাস জাহিড়ী- লাহিড়ী 


হরি সর্দার নিমরাজী হইয়াছিল । 'পাচু ঘোষকে সঙ্গে লইবার চেষ্টা 
করিতেছিল। ইতিমধ্যে জামাভ-সমভিব্যাহারে পুভ্র শিবনাথ প্রত্যাবৃত্ত 
হইলেন। ৰ 
অনেক দিন পরে জামাত আসিয়াছেন। তাহার দ্বিতীক্বার 
দারপরিগ্রহের সংবাদ শুনিয়া, মহামায়। যখন দারুণ দুশ্চিস্তাক্স বিচলিত 
হইয়া পড়িয়াছিলেন; সেই অবস্থায় জামাতাকে লইয়া শিবনাথ গৃহে 
ফিরিয়াছেন। অন্য সময় হইলে, সে আনন্দের অবধি ছিল কি? কিন্তু 
আজ হরষে বিষাদ উপস্থিত ! 

মহামায়ার জামাতা ও পুত্র গৃহে ফিরিয়া! আসিয়াছেন বটে ) কিন্তু. 
তাহার কন্তা ও পুভ্রবধূ আজ কোথায়? যেকগ্তার ভাবনায় মহামায়! 
জআহার-নিদ্রা পরিত্যাগ করিয্লাছিলেন ; জামাতার দ্বিতীয় দারপরিগ্রহের 
ংবাদে যে শ্তামার ভাবী অমঙ্গলাশঙ্কায় তাহার হৃদয় মুহমান হইয়া 
পড়িয়াছিল ;-- আজ তাহার সে শ্যাম! কোথায়? গীহার পুজ ফিরিয়া 
আসিয়াছেন? কিন্তু তাহার প্রফুল্প-কমল পুভ্রবধূই বা কোথায় গেল ! 

জামাতৃ-সহ পুত্র শিবনাথকে সম্মুখে দেখিয়া, মহামায়ার শোকাবেগ 
যেন উথলিয়া উঠিল। মহামায়া ফুকারিয়। |কাদিয়া উঠিলেন। . মহামায়ার 
ক্রন্দনে সকল দুঃসংবাদ জানাইয়া দিল। | 

শিবনাথ একে একে সকল কথা জানিতে পারিলেন। জামাতা, 
শল়্ুনাথেরও কিছুই জানিতে বাকী রহিল না। . | 

অবিলঘ্ে অনুসন্ধানের আয়েজন আরম্ভ হইল। শিবনাথ এষং 
শন্ভুনাথ উভয়ে লৌকজন সঙ্গে লইয়! কালাদীধির. দিকে রওন। হুইলেন। 
তারার ও শ্ামার অনুসন্ধানের ব্যবস্থা হইল । 

শিবনাথ ও শড়ুনাথের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামস্থ প্রান্ঘ সকলেই: কালানীঘির 
দিকে গমন করিল। কাহারও হাতে মশাল, - কাহীরও হাতে লাঠি 


কমলিনী-সাহিত্য-মন্থির, 


৫৪ 


প্রনীত-_-'মণিবেগম, ৫৫ 


কাহারও হাতে সড়ক) কেছবা জাল লইল কেহ বা ভেলার সন্ধান 
করিতে লাগিল। যাহারা অন্ত কিছু না পাইল, তাহারা গাছের ভাল 
ভাঙ্িয়। লই! পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। 

“ উদ্ভোগ-আয়োজনে রাত্রি প্রায় শেষ হইয়া গেল। কতকটা 
ষোগাড়-যন্ত্র করিতে বিলম্ব হইল; কতকটা বাঁ, কালাদীঘির পাড়ে র্াত্রিকালে 
যাওয়! অবৈধ--কাহারও মনে এবছিধ ধারণার উদয় হওয়ায়, তাহাদের 
গড়িমশিতে, সেখানে পৌছিতে বিলম্ব ঘটিল। এইরূপে সকলে গিয়! 
কালাদীঘির তীরে য্খন উপনীত হইলেন, তখন প্রভাত হইতে অতি 
অল্পক্ষণ বাকী 'ছিল'। ৫ 

অনুসন্ধান চলিতে লাগিসস। প্রভাত হইল। দ্বিপ্রহর অতীত হইয়! 
গেল। সন্ধ্যা আসিয়া দেখ! দিল। কিন্তু কৈ--তাহারা কোথায় £ 
তারা ও শ্যামার কোনও সন্ধানই তো! পাওয়া গেল না। | 

যাহার বলিল,-_"ডুবিয়াছে ; চবিবশ ঘণ্টার পর ভাসিয়া উদ্ঠিবে,শ 
তাহারাঁও ক্রমশঃ হতাশ হইল। যাহার! ভূতের আশঙ্কা করিত, তাহার! 
মনে করিয়্াছিল,_ ভূতে তাহাদিগকে গাছের উপর সুলিয়! 
লইয়াছে। কিন্তু গাছের পানে তাকাইয়া সে চিহ্ন কেহই কিছু দেখিতে 
পাইল না। 

মহামায়া ক্রন্দমনে গগন ্রতিষ্যনিত হইতে লাগিল---"হায়! তাহার! 
কোথায় গেল ?” শিবনাথ ও শতুনাথের প্রাণের ভিতরও সেই প্রতিধবনি 
উখিত হইল--*্হায় ! তাহার! কোথায় গেল ?” 


১১৪ মং আহিরীটোল! ইট, কলিকাত1। 


৫৬ শীদুর্গাদাস লাহিডী- 


দশম পরিচ্ছেদ । 
রি রি 


দৈব-ছুর্কিপাক 


$ 71119107006 77659] 001098 ৪10110.+ 


»৮7206611), 


কে বলে--হাসির পর কান্না, কান্নার পর হাসি--স্থুখ-ছঃখ চক্রবৎ 
পরিবর্তিত হইতেছে ? যদি তাহাই হইবে, তবে কোনও কোনও সংদার 
কেবলই সুখের উল্লাসে উল্ললিত থাকিবে কেন? -_আর, কোনও 
ংসারে কেবলই মর্ভেদী ক্রন্দনের রোল শুনিব কেন? যর্দি তাহাই 
হইবে, কাহারও জঙ্ত সুখের উপর সুখের স্ত.প সঙ্জিত থাকিবে কেন? 
আব, কাহারও পৃষ্ঠে কযাঘথাতের উপর কষাঘাত পড়িবে কেন? 
কুষ্ণনাথ রায় বড় আশাক্গ নাটোর গিগ্লাছিলেন । মনে করিয়াছিলেন, 
-_পুত্র রথুনাথকে দত্তক প্রদান করিয়া সংসারের সকল 'দৈন্ত-দারিদ্র্য 
দুর করিবেন,-_আবার রায়-বংশের পূর্ববগৌরব প্রতিষ্ঠিত হইবে। কিন্ত 
বিধাতার কি বিষম চক্র! তীহার রঘুনাথ অনিন্্য-রূপ-সম্পন্গ হইয়াও 
মহারাণীর, মন আকর্ষণ করিতে পারিল না! -তিনি মনে মনে যে স্থুথের 
স্বপ্নে বিভোর হইয়াছিলেন, 'হরিদেব রাফ়ের পুত্র দত্তক মনোনীত হওয়ায়, 
তাহার. সে স্বপ্ন ভাঙ্গিয়! গেল। 
বিষ-মনে শাঁটোর পরিত্যাগ করিয়া! কৃষ্ণনাথ কী রূপনগরে যাত্র! 
করিলেন, সেই দিন পথিমধ্যে হঠাৎ রঘুনাথ পীড়িত হইয়৷ পড়িল | 
| কমলিশী-সাহিত্য-মন্মির, 


নাটোর হইতে" রূপনগর দুই দিনের পথ । তাহার! রাঁতি থাকিতে 
রওন! হইপ্াছিলেন; সুতরাং ০ মধ্যেই পল্ার পরপারে উপনীত 
হইলেন। 

বৈশাখ মাস। প্রচণ্ড নৌদ্র। সম্গুখে বিস্তৃত প্রান্তর ধূ ধু করিতেছে । 
নিকটে গ্রাম-পল্লীর চিহ্ন পর্যান্ত দুষ্ট হয় না। ক্ষণে ক্ষণে ঘূর্ণিবাযু-মুখে 
পন্মার বালুকা-রাশি উজ্ডীন হইতেছে । এক-একবার বাধুপ্রবাহে 
আগুনের ঝলক বহিয়৷ যাইতেছে । সে বৌড্রে পশু-পক্ষী-কীট-পতঙ্গ 
মকলেই ছায়ার আশ্রন্ন লইবার জন্ত উনূখ হইয়াছে । কচি কোথাও 
ই একটা কৃষক লাঙ্গল সন্ধে লইয়! গৃহ-প্রত্যাবৃত্ত হইতেছে । ক্কচিৎ 
কোথাও ছুই এক টুকুরা খণ্ড-মেঘ আকাশের ক্রোড়ে ঘুরিয়া 
বেড়াইতেছে। হাহ কোথাও ছুই 'একটা বিহঙ্গম গগণ-প্রান্তে উড়িয 
যাইতেছে । 

রী সকলেই গলদ ॥ গ্রীষ্মে সকলেই শীতলতা-লাভ-প্রর়াসী $. 
এই দারুণ গ্রীষ্মের দিনে, হঠাৎ কেন রদুনাথ শীতে কাপিয়। উঠিল? 

পিতা-পুত্র উভয়ে গো-যানে অবস্থিতি করিতেছিলেন। প্রাস্তরস্থিত 
বটবৃক্ষ-মূলে গো'যান রক্ষ। করিয়া, গরু ছুটিকে খুলিয়া লইয়া শকটবান্‌ 
তাহাদিগকে জলপান করাইতেছিল । এদিকে ভূত রামদাস, আহারাধির 
আয়োজনে ব্যাপুত ছিল। বৃক্ষমূলে রৌদ্র কাটাইয়া, বিশ্রামান্তে, 
অপরাহ্ে, তীহারা বূপনগরাভিমুধে রওনা হইবেন,-এইক্ষপ স্থির 
হইয়াছিল । এমন সময় সহসা' রবুনাথ শীতে কাপিয়া উঠায়, কৃষ্ণনাথের 
প্রাণট। যেন কেমন করিয়া উঠিল। আহারের আয়োজন করিতে নিষেধ 
করিয়া, রঘুনাথের নিকটে আপিবার জন্ত .তিনি রামদাসকে আহ্বান 
করিলেন। রামদাস নিকটে আপিয়া, রঘুনাথের গায়ে হাত দিয় দেখিল, 
__রঘুনাথের গাঁ দিয়া যেন আগুন বাহির হইতেছে। দে মনে মনে 


১১৪ নং আহিরীটোলা ছাট, কলিকাত। । 


৫৮. ... আছগাাস লমহিডী- 


বড়ই ভয় পাইল। কিন্ত প্রকান্তে বলিল,--পতেমন কিছুই নয় । গাঁটা' 
একটু গরম হয়েছে-_দেখ্ছি। তা এর জন্য কোনও ভাবনা নেই। 
তোর রাত্রে একটু ঠাণ্ডা লেগেছিল, তার পরই রোদ্দর) এতে জোয়ান: 
মানুষই কাবু হয়-১--তা ছধের বালকের সহ হবে কেন?" | 

রামদাস প্রবোধ দিল বটে ? কিন্তু কষ্ণনাথের মন তাহাতে আশ্বস্ত 
হইল না। রামধ্দাসকে এবং গাড়োয়ানকে আহারাদি করিতে বলিয়া. 
তিনি রঘুনাথের পার্থে বসিয়া রহিলেন। রাম্দাস তাহাকে একটু 
 জল-যোগের জন্ত অনুরোধ করিল; কিন্তু তিনি ভাহাতে সম্মত, 
হইলেন না । 
। মার্ভগুদেব ষেন সারা দিন অগ্রি-বর্ষণ করিলেন। বট-বৃক্ষের ছায়- 
তলে অবস্থান করিয়াও, সেই প্রখর কিরণে সকলেরই দেহ বলসিয় 
যাইতে লাগিল। একে জরের যাতনা, তাহার উপর বৌদ্রের উত্তাপ !-- 
রদুনাথ সারাদিন ছট্ফট্‌ করিয়! কাটাইল। 

দৈনন্দিন কর্ম ম্পাদন করিয়া, ক্রমে মার্তগুদেব পশ্চিমগগনে আশ্রয় 
লইতে চলিলেন। রৌদ্রের তেজ মন্দীভূত হইয়া আসিল। পুত্রকে 
ক্রোড়ের মধ্যে শয়ান করাইয়া লইয়া, কৃষ্ণনাথ বায় শকটবানকে শকট-. 
চালনার জন্ত আদেশ প্রদান করিলেন গো-যান রূপনগরা ভিমুখে- 
অগ্রসর হইল। ্‌ 

কিহদ্দর অগ্রসর হইয়া, আকাশের পানে দৃষ্টিপাত করিয়া রামদাস, 
কহিল,“ াদাঠাকুর। দেবতার অবস্থাটঙ যেন কেমন কেমন বোধ 
হ'জেছে। নিকটে গ্রাম-পল্লী নেই; মাঠের মাঝখানে হর তো বৃষ্টি 
হ'তে পারে! এ 

রামদাসের কথায় গাড়োরান আকাশের দিকে চাহিয়। দেখিল ( 
দেখিয়া; সে-ও বলিল,--*হা। কর্তা ম'শায়! আমারও তাই মনে হচ্ছে 


: কমলিনী-মাহিত/-মঙ্দির, 


প্রণীত--“মণিবেগম' ৫৯ 


বটে। এই মাঠের মাঝে এখন যদি বডি আসে, বড়ই বিপদে 
পস্ড়তে হ'ৰে।” ৃ 

এইবার রুষ্ণনাথ রায় একবার আকাশের পানে রা করিলেন । 
কিন্ত কিছুই বুঝিতে পারিলেন না। তিনি দেখিলেন,--পশ্চিমাকাশে 
অর্ধচন্দ্রাকৃতি একটী সুদীর্ঘধ রজত-রেখার সম্পাত হুইয়াছে। কিন্ত 
তাহাতে মেঘের লক্ষণ কিছুই বুঝিতে পারিলেন না। স্ুুতগনাং তিনি 
কহিলেন,_-মেঘ কোথায় যে, তোমরা বৃষ্টির আশঙ্কা করিতেছ? গাড়ী 
চালাইয়৷ যাও। রাত্রি এক প্রহরের মধ্যেই আমরা এ মাঠ পার হইতে 
পারিব।” | 

রামদাম ও গাড়োয়ান আর প্রতিবাদ করিতে সাহস” করিল না। 

£ পুত্রের পীড়ায়-রাড়ী যাওয়ার জন্য কৃষ্ণনাথের আকুল আগ্রহ। তাহার! 

প্রতিবাদ করিলে, সে সময় তিনি সে প্রতিবা্ধে কর্ণপাত করিবেন কেন? 
আর প্রতিবাদ শুনিলেই বা সে মাঠে তখন আশ্রয় কোথায়--উপায় কিঃ 
কৃষ্ণনাথ ভাবিতেছেন,_কোনও প্রকারে. এখন পুত্রকে বাড়ী লইয়া 
ষাইতে পারিলেই মঙ্গল। তাই তিনি জোরে গাড়ী হাকাইবার জন্ত 
পুনঃপুনঃ জিদ করিতে লাগিলেন ; বলিলেন,_-*বর়ি বৃষ্টিও আসে, তার 
মধ্যে আমরা মাঠ পার হ'তে পার্ব ! তোদের কোনও ভাবন! নেই; 
তোমরা জোরে গাড়ী হাকিয়ে যাও!” | 8 

সে সময়ে আকাশের অবস্থা দেখিলে, কৃষ্টি হইবে কি না--বিপেষজ্ঞ 
ব্যক্তি ভিন্ন অপরের তাহ! উপলব্ধি করিবার সামর্থ্য ছিল নাঁ। তখনও 
যেঘের. চিহ্ন মাত্র নাই) তখনও নুধ্যরশ্মি অগ্িবর্ণ, করিতেছিল 
তখনও বায়ু-প্রবাহে তীক্ষ উ্ণত৷ অনুভূত ১০ সুতরাং বৃষ্টির 
আশঙ্কা কি প্রকারে সম্ভবপর ? 

কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই আকাশের কি অভাবনীয় পরিবর্তন ! পশ্চিদ- 


১১৪ ং আহরীটোলা ছ্ীট, কলিকাড| । নন 


৬৬ শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী-- 


গগনের সেই রজত-রেখাস্কি ত অংশ ক্রমশঃ গাঢ়, গাড়তর, গাঢ়তম কৃষ্কবর্ণ 
ধারণ করিল। দেখিতে দেখিতে-_ক্রমশঃ বিছবাৎ-প্রভা প্রকাশ পাইতে 
লাগিল। | | 

রামদান আবার কহিল,--"মেঘ উঠুছে; ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার খুব' 
সম্ভাবনা । এখনও কোথাও আশ্রয় নিতে পার্লে ভাল হ'ত ।” 

রুষ্ণনাথ রায় আর একবার আকাশের পানে চাহিয়া দেখিলেন । 
দেখিলেন,--পশ্চিমাকাশে কাক-ডিম্ব-সদৃশ ঘনকষ্ণ মেঘান্তরালে ঘনঘন 
বিছ্যৎ-স্ফুরণ হইতেছে । দ্েখিলেন,__সেই বিদ্যুচ্ছটার বিকাশে কখনও 
পূর্ব-পশ্চিমে কখনও বা উত্তর-দক্ষিণে দিজ্মগুল আলোকিত হইয়! 
উঠিতেছে। “কৃষ্ণনাথ রায়ের মনে হইল,-ষেন সেই অন্ধকার মেঘের 
মধ দিগন্তগ্রাসী অনলরাশি ক্ষণে ক্ষণে জবলিয়। উঠিতেছে। 

রামদাস কহিল,---“এখনই ঝড় উঠুবে |” 

গাড়োয়ান গাড়ী সামলাইবার জন্য বাস্ত হইল 1 

কষ্ণনাথ রাম্ধ অদূরস্থিত একটা বৃক্ষের প্রতি অঙ্গুলি-নির্দেশ-পূর্ববক 
কহিলেন,-_-"এখন এ গাছতলাম্ম নিয়ে £গিয়ে গাড়ীখানাকে রাখুলে 
হয় না!” পু 

গাড়োয়ান গাড়ীর মুখ ফিরাইয়া লইল। 
; বামদান ঝলিল,-_"অতদুর যাবার দেরী সইবে না। এ ঝড় 
উঠ্ল।” : 
প্রক্কৃতি নির্বাত নিষ্ষম্প নিস্তব্ধ ছিল। দেখিতে দেখিতে প্রবল 
ঝঞ্চাবাতে দিক্মগুল কীপিয়। উঠিল। আকাশ কাপাইয়!, পৃথিবী কাপাইয়া, 
তরু-গুল্স-লত। ছিন্-বিচ্ছিন্ন করিয়া, ধূলি-পত্র উড়াইয়া,  প্রবল-বেগে 
ঝাটকা প্রবাহিত হইল। মেঘের উপর মেঘ আনিকা আকাশ ছাইয়। 
ফেলিল। বাঘু-প্রবাহে শন্শন্-শবে পৃথিবী পরিপূর্ণ হইল। ঘনঘন 


প্রণীত--'মণিবেগমণ "৬১ 


বিদ্যুৎ চমকিতে লাগিল। -মুস্ন্মুছ গম্ভীর-নাদে মেঘ-গঞ্জন আরস্ত 
হইল। 

ক্রমে মুষলধারে বৃষ্টি-পতন! মধ্যে মধ্যে অশনি-সম্পাত! মধ্যে 
মধ্যে করকা-বর্ষণ ! 

সে অবস্থায় সেই প্রাস্তর-মধ্যে পড়িয়া, কৃষ্টনাথ রান কি 'মন্ত্রণা-ভোগ 
করিলেন, তাহা বর্ণনাত্তীত। তাহাদের গো-যানের আচ্ছাদন উড়িয়া 
গেল। তাহার! সকলেই অবিশ্রান্ত বারি-বর্ণে অভিষিক্ত হইলেন । 
কৃষ্ণনাথ রায় আপনার পীড- পুত্র রঘুনাঁথকে বথাসাধ্য সাবধানতার 
সহিত ক্রোড়ের মধ্যে বস্ত্রাচ্ছাদণনে ঢাকিয়। রাখিবার চেষ্টা পাইলেন । 
কিন্ত তাহাতেও তাহার শরীরে বারিপতন নিবারণ হুইল না। সঙ্গে 
বস্ত্রাদি জিনিস-পত্র যাহা ফিছু ছিল, সকলই ভিজিয়। গেল। পিতা-পুত্র 
উভয়েই সমভাবে বৃষ্টির জলে পরিন্নাত হইলেন। 

প্রায় এক ঘণ্ট। কাল মুষলধারে বারি-বর্ষণ হুইল । তাহার পর. 
বছুক্ষণ পর্য্যন্ত টিপিটিপি বৃষ্টি পড়িতে লাগিল।  ॥ 

রাত্রি এক প্রহবের পর বৃষ্টি থামিয়! যায় ;-- ক্রমশঃ মেঘ অপস্ত হয়। 
তখন, নব-পর্রিণীতা বধূর অবগুঠনোন্মচনে মৃখচ্ছবি-বিকাশবৎ ঘনাস্তরাল- 
মাঝে দুই একটা নক্ষত্র কুমুম প্রন্ফুটিত 'হইতে থাকে । তখন, বুক্ষ- 
লতিকা-গাত্রে কোথাও কোথাও ছুই চারিটী থগ্যোৎ ঝিকিমিকি জলিতে 
থাকে । তখন, কোথাও কোনও বৃক্ষান্তরালে বিহঙ্গমৈর পক্ষ-বিধূনন- 
শব শ্রুতিগোচর হইতে থাকে । 

বৃষ্টি থামিলে, গাত্রবস্ত্র নিউড়াইয়া লইন্া, কৃষ্ণনাথ রায় পুত্রের হস্ত- 
পদ-গাত্র মুছ্াইয়া দিলেন।, গাড়োয়ান পুনরায় গাড়ী চালাইতে প্রবৃত্ত 
হইল। রামদাস উৎসাহ দিয়া বলিল,_-”উ সম্মুখে মাধবপুর গ্রাম দেখা 
যাচ্ছে ; মাধবপুরে পৌছিয়াই চৌধুরী মশায়দের বাঁড়ী থেকে কাপড় 


১3৪ মং আহিয়ীটোলা উট, কলিকাতা) 


৬২ ূ শ্রীচূর্গাঁদাস লাহিডী- 


চেয়ে এনে রঘুনাথকে সুস্থ ক'র্ব। এ পথটুকু একটু কষ্ট ক'রে যেতে 
পার্লেই হয় ।” পু 

উপায় তো আর নাই । কৃষ্ণনাথ ব্রায় একইভাবে পুভ্বকে বক্ষের 
উপর ধারণ করিয়া গাড়ীর উপর বাঁসয়। হি । গাড়ী আবার 
পশ্চিমাভিমুখে রওনা হইল । 

যে গ্রমখানি লক্ষ্য করিয়! গো-ধান চলিতে লাগিল, রামদাম ভুল 
বুঝিয়াছিল, সে গ্রাম মাধবপুর নম্ব। অন্ধকারের ঘন-ঘোরে গাড়ীর 
বয়েল, একটা তেমাথা পথে পথভ্রষ্ট হইয়াছে । এক পথে ধাইতে। গাড়ী 
এখন তাই অন্য পথে আসিগ্সা পড়িয়াছে । এখন তাহার! ঘষে গ্রামে আসিফ! 
পৌছিয়াছে, সে গ্রামে চৌধুরী মহাঁশয়দিগের বাস নয়”-সে গ্রামে ফতু 
ডাকাইত বাস করে। ধে পথে যাইতেছে বলিয়। রামদাস মনে করিয়াছিল, 
এখন বুঝিল--বাত্রির অন্ধকারে তাহার বিপরীত পথে আসিয়। উপস্থিত 
হইয়াছে। 

গ্রামের মধ্যে গাড়ীখানি প্রবেশ করিবা-মাত্র গাড়ীর শব্দ শুনিয়া, ফতু 
ডাকাইতের একজন অন্ুচর আসিয়া গাড়ী আটক করিল? ০ 
"শালা লোক, কাহা বাতা হ্যাক ?” 

উত্তর দিবার পূর্ষেই পিলপিল করিয়া পঞ্চাশ বাট জন ভাকাইত 
আসিয়৷ গাড়ী ঘেরিয়া ঈাড়াইল। 

কুষ্ণনাথ রায় সকলই বুঝিতে পারিলেন। তাহারা যে পথভ্রষ্ট হইয়া 
বিপথে আসিয়াছেন, এখন আর তাহ। বুঝিতে একটু বাকী রহিল না। 

ষাহ। হউক, সেই প্রবল দস্াদলকে বাধা দেওয়াঁ-তাহাদের সাধোর 
গতীত। সুতরাং রুষ্ণনাথ বায় বিনয়-সহকাতে দস্থযদলপতিকে সম্বোধন 
করিয়া কহিবেন,”-”আমার যা কিছু আছে, সব তোমাদের । আমাদের 
প্রাণে মের না।” | 


কমলিনী-সাহিত্য.মন্দির, 


এপ্রণীত-_অশিবেগম” 0. ৬৩ 


রামদাস একটু রোখ দেখাইবার চেষ্টা পাইয়াছিল। কিন্ত কফনাথ 
রায় তাহাকে শান্ত করিবার উদ্দেগ্তে, কহিঙ্গেন,_-"রাম্ণাদ! এ কি 
ক্রোধ-প্রকাশের সময়? আমাদের কি বিপদ উপস্থিত, কিছুই বুঝিতেছ 
“না কি?” . 

 রামদাস এক পার্খে অবনত-মস্তকে দাড়াইয়। রহিল। তথাপি দন্গাদল 

তাহার প্রতি লাঠি চালাইতে ত্রুটি করিল না। সে আর গাড়োয়ান্‌, ছুই 
নে প্রথমে ছুই-একটা রূঢ় কথা বলিয়াছিল বলিয়া, উভয়েই দস্থাহস্তে 
উত্তম-মধাম প্রহার খাইল। পরিশেষে ডাকাইতের| সর্বন্থ লুটিয়া লয় 
প্রস্থান করিল । ক্ুষ্চনাথ রায় নাটোরে গিয়! যাহা কিছু দান প্রাঞ্চ 
হইয়াছিলেন, দহ্থ্য কর্তৃক সকলই লুঠিত হইল্ল। রামদামের ও 
গাড়োয়ানের তৈজসাদি| যাহা কিছু । ছিল, দশ্থ্যদল :তাহাও লুটিয়া 
লইয়া গেল। | | 

দন্যুদল চলিয় গেলে, আপনাদের ভ্রম রী পারিয়া, গাড়ী ফিরাইয়া 
লইয়া, তাহার অন্তপথে ধাত্র। করিলেন । তখন; মেঘাপপলরণে আকাশে 
জ্যোংন্ার উদয় হইয়াছিল) শ্ৃতরাং গন্তবা পথ চিনিয়। সৌর কোনই 
সংশয় ঘটিল ন!। 

সারা বাত্রি চলিয়া চলিয়া, গাড়ীখাঁনি প্রভাতে ক্বপনগরে বাড়ীর 
'নিকট উপস্থিত হইল। বঘুনাথ সার! রাত্রি কৃষ্ণনাথের ক্রোড়ের মধ্যে 
শুইয়া ছিল) আর কেবলই জননীর নিকট যাইবার জন্য ব্যাকুলত! প্রকাশ 
করিতেছিল। এখন, বাড়ী পৌছিয়া, ক্রোড় হইতে তাহাকে নামাইতে 
গিয়া, কষ্নাথ দেখিলেন,-_রখুনাথ অচৈতন্ত 1 | | 

কৃষ্ণনাথ ফুকারিয়া কাদিয়। উঠিলেন । তাহার ক্রন্দনধ্বনিতে বাড়ী 
কাপিয়। উঠিল। মহামায়াও কাদতে কীদিতে ছুটির আদিলেন । 
বঘুনাথের পীড়ার সংবাদ মহামার৷ পূর্বে কিছুই অবগত ছিলেন ন। সুতরাং 


১১৪ নং আহিরীটোলা ্ট, কলিকাতা । : 


৬৪ | শহুর্গাদাস লাহিড়ী- 


তিনি মনে করিয়াছিলেন, তারার ও শ্ঠামার নিরুদ্দেশ-সংবাদ শুনিয়াই 
বুঝি বা তীহার পতির শোকাবেগ উছলিয়া উঠিয়াছে। কিন্তু নিকটে 
'আসিয়। যাহা দেখিলেন, তাহাতে সে ভ্রম বিদুরিত হইল $__ তাহাতে 
হৃদয়ে আবার এক নূতন শেল বিদ্ধ হইল। | 

নিকটে অগ্রসর হইয়া, মহামায়া বুঝিলেন,__সর্বনাশ হইয়াছে! 
দেখিলেন,-_রঘুনাথ অচৈতন্ত) আর তাহাকে ক্রোড়ে করিয়। স্বারী 
আর্তনাদ করিতেছেন । সে দৃহা দেখিয়া, মহামায়ার হৃদক-গ্রস্থি ছিন্ন 
হইল। “রদঘুনাথ-_রঘুনাথ 1” বলিতে বলিতে মহামায়। শিরে করাঘাত 
করিতে লাগিলেন । 

এই সময় পিতা মাতা উভয়েরই মনে, দারুণ অনুতাপ উপস্থিত হইল । 
রদুনাথকে নাটোরে পাঠাইবার জন্য তাহারা যে জিদ করিয়াছিলেন, সেই 
কথাই কেবল মনোমধ্যে জাগিয়া উঠিতে লাগিল। তাহাতে, অন্থুশোচনার 
তীব্র-তাপে, প্রাণ অস্থির করিয়া তুলিল। 

জননী চীৎকার করিয়! কহিলেন,--*্বাব| !--বাঁব ! আমিই তোমার 
কালম্বরূপিণী ! এশ্বধ্যের লোভে আমিই তোমায় বিদায় দিয়াছিলাম !” 
পিতা আর্তনাদ করিতে লাগিলেন,_-“আমার কেন সে ছুর্মতি হইয়াছিল ? 
আমি কেন তোমায় নাটোরে লইয়। গিয়াছিলাম 1” 

পিতা-মাতা ছুই জনকেই আত্মহার! দেখিয়া, বামদাস বলিল,__ 
আপনার! একি ক'র্ছেন? এখনও বঘুনাথ ভীবিত। আপনার! যদি 
এমন করেন, সে যে আতঙ্কেই মারা যাবে ! ব্যারাম, এমন কঠিন নয় যে, 
শুক্রধার সার্তে পারে ন|। আপনার! অধৈর্য হ'লে, কে তাঁর শুশ্রষ। 
করবে? আনুন, রঘুনাথকে বাড়ীর মধ্যে নিয়ে যাই; চিকিৎসার 
ব্যবস্থা করি) এখনই সেরে উঠ্‌্বে! সার! রাত যে কষ্ট গিয়েছে, তাতে 
শিশুর প্রাণ কতক্ষণ সবল থাকতে পারে ?”%- 


কমজিনী-মাহিতা-যন্রির, 


প্রণীত-_-“মণিবেগম' ৬৫ 


রঘুনাথের অবস্থা! দেখিয়া, রামদাসেরও হৃদয় বিদীর্ণ হইতেছিল। কিন্ত 
সে ভাব চাপিয়] রাখিয়া, পামদাস তাহাদিগকে উৎসাহ দিতে লাগিল । 

রামদ্াসের উৎসাহ-বাঁক্যে পিতা-মাত! উভয়েই কথঞ্চিৎ ধৈর্্য-ধারণ 
করিলেন । বুঝিলেন,__ যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ।” সুতরাং জননী 
বক্ষে ধারণ করিয়া, রঘুনাথকে বাটার মধ্যে লইয়া! গেলেন | বিস্লিমতে 
রঘুনাথের মৃচ্ছণভঙ্গের ও শুশ্রযার চেষ্টা চলিতে লাগিল। 

বাড়ী পৌছিয়া এতক্ষণ পধ্যস্ত তারার ও শ্যামার সংবাদ ক্লুষ্ণনাথ 
কিছুই জানিতে পারেন নাই । এখন যখন তিনি জ্যেষ্ঠ পুত্র শিবনাথের 
সন্ধান লইতে গেলেন, তখন আর কিছুই অপ্রকাশ রহিল না। দুর্ঘটনার 
বিষয় সকলই শুনিলেন। শ্তনিলেন, __পুভ্র শিবনাথ ও জামাতা শস্তুনাথ, 
তাহার কন্। ও পুক্রবধূর সন্ধানে গিয়াছেন । এক দিকে পুত্র মুমুযু-শষ্যায়, 
অন্ত দিকে কন্তা ও পুত্রবধূর নিরুদেশে প্রাণ-মান-জাতি-নাশের আশঙ্কা, 
রুষ্ণনাথ রায়ের মস্তকে আকাশ ভাঙ্গিয়! পড়িল। কিন্তু সে চিন্তার-_সে 
ভাবনার তখন আর অবসর হইল না। তখন, রথুনাথকে লইয়াই তিনি 
ব্স্ত হইয়৷ পড়িলেন। ূ 

একে জরের প্রবল বেগ, তাহার উপর আবার মৃষলধারে বুষ্টি-পতন ! 
বালকের কোমল শরীরে সহ হইবে কেন ? অনেক চেষ্টায় অনেক যত্বে, 
রঘুনাথের মৃচ্ছ-ভঙ্গ হইল বটে; কিন্তু এখন সর্বাঙ্গে বেদন1 ; শরীর 
সান্লিপাতিকে” সমাচ্ছন্ন॥ গঙ্গার ভিতর ঘড়, ঘড়, শব হইতেছে । 
বাক্য-রোধ বৃহ পূর্বেই হইয়াছিল। 

জননী “রঘুনাথ, রদুনাথ” বলির! ডাকিতেছেন। দশ বার ডাকের 
পর, রঘুনাথ এক একবার মায়ের মুখপানে ছলছল নেত্রে চাহিয়া 
দেখিতেছে। যেন কত্ত কি বলিবে বলিবে মনে করিতেছে ; কিন্তু 
বাক্য হইতেছে না। তাহার মুখের পানে তাকাইরা ভাইর 


১১৪ নং অংহিরীটোল। ছ্ীট, করিকাত]। 


৬৬. 0... আহর্গাদাস লাভিডী- 


জননীর বঙ্ষণস্থল আগ্রুধারায় প্লাবিত হইতেছে । জননী মধ্যে মধ্যে একটু 
একটু হু ধাওয়াইবার চেষ্টা পাইতেছেন ; কিন্ত সহজে ছুধ গলাধঃকরণ 
হইতেছে না। তবে নিতান্ত যখন সুখ শুষ্াইয়া আদিতেছে, একটু 
একটু গরম ছুধ আগ্গুলে করিয়! লইয়। মহামায়। পুত্রের মুখে প্রদান 
করিতেছেন রঘুনাথ তাহাও গিলিতে পারিতেছে না) ছুই দিকের দুই 
কশ বাহিয়। সে ছুধ গড়াইয়! যাইতেছে । 

গ্রামে এক ঘরু বৈছ্যের বাস ছিল । টস্বের নাম--গ্রীকান্ত কবিরতু । 
তিনি সুঠিকিৎসক বটেন ; কিন্তু তিনি প্রায়ই সহরে বসবাস 
করেন। তাহার পুত্র শ্রীমান গোবদ্ধন আপনা-আপনিই “কবি- 
চন্দ্রমণি উপাধি গ্রহণ করিয়া, গ্রামখানিকে এখন আয়ত্তাধীনে 
রাখিয়াছেন। 

রামদাঁস তাহাকে ডাকিতে গেল। রোগীর অবস্থার বিষয় বলিল। 
কবিচন্ত্রমণি কিন্ত যাত্রার সময় ঠিক করিতে পারিলেন ন।। অনেকক্ষণ 
ধরিয়া পুঁথিপত্র নাড়াচাড়া করিয়া, তিনি রামদাসকে বলিয়া দ্িলেন,__ 
“এ বেলা শুভ মুহূর্ত নাই । জানই তো, আমি লগ্র ন! দেখিয়া কখনও 
কোনও রোগীর চিকিৎসায় ব্রতী হই না। তিন প্রহরের পর, পাঁচ 
দণ্ডের মধো, শুভ লগ্ন আছে। এখন আমি কোনও কথাই কহিতে 
পারিব না” | | 

রামপাস কতই বুঝাইল। একবার তীহাকে. লইয়া যাইবার জন্য, 
কতই কাকুতি-মিনতি করিল। কিন্তু “কবিচন্্রমণি” কিছুতেই সম্মত 
“হইলেন ম।। অধিকন্ত, রামদাসকে বিদায় দরিয়া তিনি বলরাম-বাটা 
গ্রামে চথ্িয়া গেলেন। সেই গ্রাম হইতে একটা কোগীর 4 
জন্য তাহাকে ডাকিতে আসির়াছিল |. 

রাম্দাস বিষপ্রমনে ফিরিয়া! আসিল। কৃষ্ণনীখ. তির 


ফষলিনী- সাহিত্য-মন্দির, 


প্রণীত-_-মণিবেগম' ৬৭ 


অনৃষ্টের ফের! তিনি দীর্ঘনিশ্বীস পরিত্যাগ, করিয়া কহিলেন,-_প্রামদাস! 
গোবর্ধীনের প্রতি আমার তেমন আস্থাও ছিল না। উহার পিতা কবিরত্ণ 
মহাশয় ষদ্দি বাড়ী থাকিতেন, আমি গিয়া, যেমন করিয়া হউক, তাহাকে 
লইয়া আসিতাম। তা? যাক! তোমরা বঘুনাথকে নিয়ে থাক । আমি 
এখনই সহরে রওন! হইতেছি । যেমন করিয়। পারি, বৈকালে কবিরত্ত 
'অহাশয়কে লইয়া আসিব ।* | 

কুষ্ণনাথ রায় উঠিয়। দাড়াইলেন। সেই দণ্ডে মুশিদাবাদ রওনা 
হইবার জন্ত প্রস্তৃত হইলেন। রামদ্াস বাধ! দিয়া বলিতে গেল,-- 
*কাল সারাদিন অনাহারে আছেন). আপনি না গিয়ে, আমি গেলে 
হ'ত না?” 

কষ্ণনাথ উত্তর দিলেন,--“না রামন্দাস! তুমি বোঝ না! আমি লা 
গেলে, তিনিও ওজোর কারে না আস্তে পারেন !” 

রামদাস বলিল,__ “যাবেনই যদি, তবে হাতে-মুখে একটু জল 
দিয়ে যান!” 

কৃষ্ণনাথ। হাতে মুখে জল দেবার সময় ক আর আছে, রামদাস ! 
বদি কখনও দিন পাই, আমার রুনাথকে বাচাতে পারি, আবার হাতে- 
মুখে জল দেব। নচেত্, নাওয়া-খাওয়। আমার এ এই পর্যন্ত!” 

কৃষ্ণনাথ কাহারও আপতি শুনি্লন না,__-কোনও বাধাই মানিলেন 
.না। সেই অবস্থায়, সেই ভাবেই তান মুশশিদাবাদে রওনা হইলেন। 
বৈশাখেন প্রচণ্ড রৌদ্র তাহার মন্তকষের উপর আগ্রি-বর্ষণ করিতে লাগিল। 
কিন্তু সেদিকে জক্ষেপ না করিয়া, তিনি ক্রুতপদ্ধে গৃহুত্যাগ করিলেন | 
তবে যাইবার সময় রামদাসকে আর একবার বলিয়া গেলেন,--প্রামধাস ! 
ভুমি রইলে ! আমি ষতক্ষণ ন ফিরি, হম একমও রঘুনাথের কাছ-ছাড়া 
হয়ো না” 


১১৪ নং টার কিকাকা ॥ 


৬৮ জ্ীহুর্গাদাস লাহিড়ী- 


রুষ্ণনাথ চলিয়া গেলেন। এদিকে বৌদ্রের উত্তাপ ষতই বাড়িতে 
লাগিল, রঘুনাথের শরীরের উত্তাপও আবার বৃদ্ধি পাইল। রুনাথ, 
যন্ত্রণার ছটফট করিতে লাগিল। 


একাদশ পরিচ্ছেদ | 





€0 ৮০৮০ 


ফুরাইল। 


“5106 009 08860 0110. 68080)10)6% ৪0৫৫6101", 
[016 11006 1077062৮ ৪০৪] টিতে জা? 


77677717179, 


দিবা তৃতীয় প্র্থর উত্তীর্ণ-প্রান়্ । কৃষ্ণনাথ রায় মুর্শিদাবাদে শ্রীকান্ত 
ক্ষবিরাজের বাড়ীতে উপনীত হইলেন । সর্ধাঙ্গ ধূলি-ধূসরিত ;₹ অবিরল 
স্থেদ-নির্গমে শরীর অভিষিক্ত । হাপাইতে হাপাইতে তিনি যখন শ্রীকান্ত 
কবিরত্ব মহাশয়ের টৈঠকথানায় উপস্থিত, কবিরাজ মহাশয় তখন 
আহারাস্তে তাকিয়ায় দেহ বিস্তম্ত করিয়! ধূমপান করিতেভিলেন। 'সেই 
রৌদ্রে, সেই অবস্থায়, রায় মহাঁশয়কে সহসা সম্মুখে দেখিয়া, শ্রীকান্ত 
কবিরত্ব আশ্চ্য্যা্থিত হইলেন ? সন্ত্রমে উঠিয়া দীড়াইয়া, পদধূলি-গ্রহণপূর্ববক 
কহিলেন,-প্রায় মহাশয়!  আন্ুন--আন্ুন! আপনার শুভীগমন- 
'গরমন সময় কোথ। থেকে হ'ল। | 


ফকসলিনী-নাহিত্য-মনির, 


প্রণীত-মণিবেগম' ৬৯ 


কৃষ্ণনাথ টির কহিলেন," বড় বিপদ! 1 আপনাকে ০ 
আমার সঙ্গে ষেতে হবে ।» ্ 

কবিরাজ মহাশয় বুঝিলেন,--ব্রাঙ্গণের তখনও ন্নানাহার হয় নাই। 
বুদ্ধিলেন,-_নিতাস্ত বিপদ্গ্রস্ত হইয়াই: ব্রাহ্মণ অনাহারে বাড়ী হইতে চলিয়। 
আনিয়াছেন । মনে মনে ভাবিলেন,--কৌশলে ক্সানাহার করাইয়। অগ্্রে 
বাহ্মণের শ্রান্তিদূর করা বিধেয় । তাই প্রকাশ্রে কহিলেন,--”তা বেশ-- 
আপনার কোনও চিন্তা নাই--আমি এখনই আপনার সঙ্গে যাচ্ছি। 
আপনি যত শীঘ্র পারেন, গঙ্গ1 থেকে শ্বান ক'রে আন্মন। সামান্ত একটু 
জলযোগের পরই রওনা হওয়া ধাবে এখন |” 

কুষ্ণনাথ কহিলেন,__পআমার স্ানাহারের আবশ্যক নাই। আপনি 
অনুগ্রহ ক'রে এখনই রওন| হ'ন-_-এই আমার ইচ্ছা । আমার রদুনাথকে 
আমি যে অবস্থায় রেখে এসেছি, আমার এক দণ্ড আর বিলম্ব সইছে না ।” 

কবিরাজ মহাশয় কহিলেন, “আনি বিলম্ব ক'র্তে ঝ্ল্ছি না। এখনই 
আমর! প্লওনা হ'ব) সেজন্য আপনার কোনও ভাবন। নাই। তবেকিন! 
এত বেল পরাস্ত আপনি জলগ্রহণ করেন নাই? তাই আপনাকে সামান্ত 
একটু জল খাইয়ে নিয়ে, এখনি আমি আপনার সঙ্গে রওনা হুচ্ছি।” 

কষঝনাথ। আপনি মাপ ক'র্বেন--আমি আর ম্নানাহার কণর্ব না। 
যদি আপনার যাওয়া হয়, আমার সঙ্গে এখনি আমন । আমার প্রাণ ব্‌ড় 
ব্যাকুল হয়েছে ! 

রঘুনাথের পীড়া বিষয় কবিরাজ মহাঁশয় সকলই বুঝিতে পারিলেন। 
রুষ্ণনাথ রায় রোগের অবস্থা কিছু কিছু বিবৃত করিলেন। তাহার সঙ্গে 
রূপনগরে জওন! হওয়ার বিষয়ে, কবিরাজ মহাশয়ের মনে আদৌ কোনও 

ংশয়-প্রশ্ন উঠিল না| । অধিকস্ত রায় মহাশয়ের কাকুতি-মিনতি দেখিয়া, 

লজ্জিত হইয়া, কবিরাজ মহাশয় কহিলেন, “আপনি ও-সব কথা কি 


১১৪ নং জাহিরীটোলা দ্ীট, কলিকাত। | 


বল্ছেন ? আপনাদের খেয়েই আমর! মানুষ । আপনার পিতামহ 
হরশক্কর রায় আমার পিতাকে যে অবস্থায় রূপনগরে এনে বাস করিয়ে- 
ছিলেন, সে কথা আমি কখনও ভুলতে পার্ব না। আমিও তে। 
আপনাদের খেয়েই মানুষ হয়েছি । আপনাদের আনীর্বাদে কয় বৎসঞু' 
হ'ল আমার অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে । তা-না-হ'লে, হয়' তে। এখনও 
আমায় আপনাদেরই গলগ্রহ হ'য়ে থাকৃতে হত । আপনি নিজে এসেছেন, 
এর উপর আর কি কোনও কথা আছে? যদি পথের লোকের কাছেও 
আপনার পুজ্রের পীড়ার সংবাদ পেতাম, আমি আপনা-আপনিই তদ্দণ্ডে 
রূপনগরে যাত্রা ক'র্তাম। ন্নান করতে বা একটু জল খেয়ে নিতে, 
আপনার যে বেশী দেবী হবে, আপনি ত। ভাববেন না। আমি ছু"খান। 
পান্থীর বন্দোবপ্ত ক'র্ছি। ছু'জনে সা সা ক'রে,গিয়ে পৌছাব--এখনি 1. 
ওউষধ-পত্র গুছিয়ে নিতেও তো! একটু দেরী হবে।” 

এই বলিল কবিরাজ মহাশয় আপনার গদাই-মাধাই ছুই ভৃত্কে 
আহ্বান করিলেন। গদ্দাই-মাধাই নিকটে উপস্থিত হইল। রায়, 
মহাশয়কে নান করাইয়া আনিবার জন্ত তিনি গ্াইকে আদেশ করিলেন, 
মাধাই পান্ধী-বেহারার বন্দোবন্তের জন্ত আদি হইল । 

ক্বষ্ণনাথ ত্রায়। কবিরাজ মহাশয়ের কথার যৌক্তিকতা উপলব্ধি 

করিলেন। কবিরাজ মহাশয়ও ছাড়িবার পাত্র নহেন। সুতরাং অনিচ্ছা 
সন্বেও বায় মহাশয়কে ল্লান করিতে যাইতে হইল। ব্রাক মহাশয় একবার: 
বলিতে গেলেন, পছ'খান| পার দরকার নেই--আমি অনায়াপে হেটে 
তে পার্ব।” কিন্তু কবিরাজ মহাশয় তাহাতে উত্তর দিলেন, “আপনি। 
দেকি কথা বলেন? আপনি সেঁটে বাবেন, আর আমি পান্ধীতে যাব?- 
শ্রীকান্ত কবিরাজ কি এতই মনুস্ত্ব-চীন ?” রঃ 

ক্ণনাথ রাক্স সে কথার উত্তর দিতে পাঁরিলেন ন1। তাহার নয়ন- 


_ ফষজিনীনদাহিত্য-অন্দিয, 


প্রণীত--'মণিবেগম' ৭ 


প্রান্তে জলধারার সঞ্চার হইল। ভিনি মনে মনে ভাবিতে 'লাগিলেন,- 
“হায়! এই মহান্থভবের পুত্রই কি সেই গোবর্ধন? এমন মান্যেরও- 
(তেমন পুত্র হয়!” 

* দণ্খেকের মধ্যেই সকল বন্দোবস্ত স্থির হইয়া গেল। দণ্ডেকের 
মধ্যেই কবিরাজ মহাশয় জলযোগের বিপুল আয়োজন করিগ্| দিলেন। 
দণ্ডেকের মধ্যেই কৃষ্ণনাথ বায় গঙ্গাল্লান করিয়া নিত্য- নৈমিত্তিক 
আহ্কিকাদি সারিয়া আলিলেন। 

কবিরাজ মহাশয়ের নির্বন্ধাতিশষ্যে, নিতাস্ত অনিচ্ছা-সন্তবেও, কৃষ্ণনাথ 
রায়কে কিছু কিছু ফল-মূল খাইতে হইল। জলযোগের পর, ছুই 
জনে ছুই খানি পান্কীতে চড়িয়! রূপনগর অভিমুখে রওন! হইলেন । সন্ধ্যার 
পূর্ব তাহারা বূপনগরে পৌছিতে পারিবেন,--বেহারারাও জোর কৰি! 
বলিল। | 

ঞ ক 

ক্রমে বেল! অবসান হইল। স্ূর্য্ের উত্তাপ কমিয়! আসিল ন্িগ্ধমমীর- 
সঞ্চারে রঘুনাথের গ্রীত্রের উত্তাপ কমিয়া আসিবে বলিয়৷ আশার সঞ্চার 
'হইল। এদিকে ,কষ্ণনাথের প্রত্যাবর্তনের সময়ও নিকটবর্তী হই 
আদিল। তাই মহামায়া, এক একবার পথ-পানে চাহিয়।, রামদামকে 
জিজ্ঞাসা করিতে জাগিলেন,--পকৈ রামদাস। তিনি তো কৈ এখনও 
এলেন না! এখনও কি তার আস্বার সময় হয়-লি 1” 

মহ।মায়ার ব্যাকুলতা-দর্শনে রামদাল, সাত্বন।-বাক্যে কহিল,_-"এখনই 
তিনি এলেন বলে! দারুণ রোদ্দর) তাই বোধ হয় আসতে একট 
দেরী হচ্ছে” 

এই বলিয়া, রঘুনাথের গার হস্ত প্রদান করিয়া, বামদাস কহিল, 
"এই তো! গা একটু একটু ঠাণ্ডা হয়ে আস্ছে। একটু একটু ঘামও, 


১১৪ নং আহ্িরীটোলা হ্রীট, কলিকাতা। 


৭২. শীহুর্গাদাস লাহিড়া- 


হ,চ্ছে। এইবার ঘাম দিয়ে জরটা ছেড়ে যাবে । আপনি ব্যাস্ত হবেন 
না । জরটা ছাড়লেই বঘুনাথ সুস্থ হবে।” | 

কিন্ক মায়ের প্রাণ--প্রবোধ মানিল না! মহামায়। বলিলেন, 
প্রামদাস ! তুমি একটু এগিয়ে দেখ-না কেন ?* " 

রঘুনাথের গাত্রে হস্ত প্রধান করিয়া, রামদাস মনে মনে বুঝিয়াছিল--. 
তখন আর অন্তত্র গমন কর্তব্য নয়।' তাই সে প্রথমে একটু ইতস্ততঃ 
করিতেছিল। কিন্তু সে একবার বাহিরে যাইলে, মহামায়ার প্রাণ 
 আশ্বন্ত হয়”-তাই দে বাটীর বাহিরে একটু থুরিয়া ফিরিয়া দেখিতে গেল। 
বাহিরে গমন করিতেই সহসা আকাশের পানে তাহার দৃষ্টি সধালিত 
হইল। রামদ্রাস দেখিল,ঠিক পূর্র্ব-দিনের স্তায় পশ্চিম-গগনে এক 
খণ্ড মেঘের উদগন হইয়াছে । দেখিয়া বুঝিল,--গত কল্যকার স্তায় 
আজিও ঝড়বঞ্ধা-বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা; একটু পরেই ঝড় উঠিবে, একটু 
পরেই বৃষ্টি আসিবে । তাই সে বাড়ীর দিকে আবার ফিরিয়া আসিল । 
ফিরিয়া আসিয়া, মহামায়াকে আশ্বাস দিয়া কহিল,--“চিন্তার কোনও 
কারণ নাই । তারা এলেন ব'লে!” 

রদুনাথের গাত্র হইতে এই সময় .অবিরাম ধর্শ-নিঃসরণ হইতেছিল। 
রামপ্াস তাই আর এক বার রঘুনাথের গাত্রে হস্ত-প্রদান করিয়! দেখিল। 
কিন্তু দেখিয়া ষাহা বুঝিল, তাহাতে তাহার আশঙ্কা বড়ই বৃদ্ধি পাইল। 
সে দেখিল,--এক দিকে গা দিয়া গল্গল্‌ করিয়। ঘাম বাহির হইতেছে, 
অন্ত দিকে রঘুনাথের ভাত-পা শীতল হইয়া আলিতেছে। মহামায়া 
নিকট যদিও সে কোনরূপ আশঙ্কার ভাব প্রকাশ করিল না, কিন্তু মনে 
মনে বড়ই শঙ্কা-বৌধ করিল। এক বার তাহার মনে হইল,-_'রঘুনাথের 
হাতে-পায়ে সেক দিতে আরস্ত করি । পরক্ষণেই আবার মনে হইল,_. 
“পাড়ার কোনও প্রবীণ ব্যক্তিকে ডাকিয়া! আনি? এই মনে করিয়া, 


-ষলৈবী-সাহিতা-যঙ্গির, 


প্রণীত- _“মপিবেগম” | ৭৩ 


রামদাস কহিল,--"আমি আর এক বার এগিয়ে দেখি,ভারা কত দুরে 
'আম্ছেন !” মহামায়ারও ইচ্ছা, রামদাস আর একবার পথে গিয়া দেখিয়! 
আসে-_তাহারা কত দূরে আসিতেছেন । 

এই সময় মেঘ একটু ঘনীভূত হইয়া আসিয়াছিল। মেঘের অবস্থা 
দেখিয়া, পাড়ার ছুই একটা স্ত্রীলোক-_যাহারা রঘুনাথকে দেখিতে 
আপিয়াছিল _প্রান্মই বাড়ী চলিন্ন! গিয়াছিল। কেবল নিম্তারের মা, 
রামদাসের অনুরোধে এতক্ষণ উঠিয়। বাইতে পারে নাই। কিন্তু এইবার, 
বামদাস বাহিরে যাওয়ায়, সে-ও উঠিয়। দ্াড়াইল। বলিল,--"কেমন 
মেঘ মেঘ ক'র্ছে। ঘুঁটেগুলো বাইরে পড়ে আছে; সেগুলোকে 
সামলে রেখে, একটু পরে আমি আস্ছি।” মহামায়। অনিমেষ-নয়নে 
একা গ্র-চিত্তে পুত্র রঘুনাথের মুখপানে চাহিয়াছিলেন। নিস্তারের মাঃ 
“কি বলিল বা-না বলিল, সেদিকে তাহার মন আকৃষ্ট হইল লা! । নিস্তারের 
মা ধীরে ধীরে চলিয়া! থেল। | 

ব্রামদাসও বাহিরে গিয়াছে । পিস্তারের মাও চলিয়া! গেল। মহামায়! 
একইভাবে পুত্রের মুখপানে চাহিয়। বসির! রহিলেন। 
সহসা বিষম ঝটিকা! উত্থিত হইল । প্রবল বেগে যেধসমূহ সঞ্চালিত ' 
হইতে লাগিল। ঘনঘন বিদ্যুচ্চমকে অশনিসম্পাতে ধরণী কাঁপিয়! উঠিল। 

"কড় কড় কড়!”-_বিছ্যচ্চমকের সঙ্গে সঙ্গে। কর্ণপটহ বিদীর্ঘ করিয়া 
বজধবনি ধ্বনিত হুইল । বিহ্যুৎ-শিখায় চক্ষু ঝল্সিয়! গেল। বজধ্যনিতে 
গৃহ কীপিষ্া। উঠিল। শধ্যা কাপিল। বৎুনাথ কাপিল। মহামায়। 
কাপিলেন। 

দারুণ ত্রাসে বিকট স্বরে “মা” বলিক্। রদুনাথ চীৎকার করিয়! উঠিল । 

"ভয় কি--্ভয় কি বাবা! একই যে আমি !”--এই বলিয়! মহামায়ঃ 
করা বক্ষমধ্যে টানি লইলেন। 


১১% ০ কলিকাত1। 


৭৪ জীদুর্গাদাস লাহিড়ী" 


কিন্তু হায়! সেই শেষ ! সেই “মা+-বুলিই রতুনাথের শেষ-বুলি ! 

“মা” বলিয়াই রঘুনাথ উঠিয়া বসিল। জননী শশব্যস্তে হস্তগ্রসারণ 
করিলেন। রৃঘুনাথ ছিন্নমূল বৃক্ষের ন্যায় জননীর ক্রোড়ে ঢলিয়! পড়িল। 
আর বাকাম্ডৃর্তি হইল না। আর চক্ষের পলক পড়িল না । নির্বাণোনুখ' 
দীপ-শিখার অত্তিম-দীপ্তির মায়, একবার উঠিম্--.একবার ম। বলিয়। 
ডাকিয়াই, রঘুনাথ চৈতন্যহার। হইল। 

ফুরাইল--সকলই ফুরাইল--জনমের মত সব ক্ষ হইল ! 

জননী চাহিয়া! দেখিলেন, _রঘুনাথের আর সাড়া-শব্দ নাই। দেখিলেন, 
- চক্ষু কপালে উঠিয়াছে। দেখিলেন,_মুখ বিবর্ণ হইয়াছে । দেখিলেন,__ 
অক্গপ্রতঙ্গ শীতল হুইয়৷ গিয়াছে । কিন্ত মার প্রাপ বুঝিল ন! |! মহামায়া রঘু" 
নাথ-_-রঘুনাথ”,বাবা-_বাবা? বলিয়। চীৎকার করিয়। ডাকিতে লাগিলেন । 

কোথায় রঘুনাথ 1-_কে উত্তর দিবে? এ যে কেবল পিঞ্জর পড়ি! 
' ঝুহিয়াছে। প্রাণপাধী পিগুর পরিত্যাগ করিয়া উড়িয়। পলাইয়াছে ! 





দ্বাদশ পরিচ্ছেদ। 
শপ 
অশ্র-জল । 


রী 

$শুশ।8:0 15 & 69৮ 102 91) 1188 016, 

£৯ 23000620৮9৮ 0009 10002001698819,৮ 
*৮-7777'02 


অনেকক্ষণ পর্য্যন্ত মৃযল-ধারে বৃষ্টি-পতন হইল। অনেকক্ষণ পর্য্য্ত 
আকাশ ধন-ঘটাচ্ছন্ন রহিল। অনেকক্ষণ পরাস্ত কেহই ঘরের বাহির 
হইতে পারিল ন।। | 


প্রণীত--.মশিবে গম, ৭৫ 


সেই দুর্যোগে, সেই বৃষ্টিতে ভিজিতে ভিজিতে, রামদাস মহেশ- 
মণ্ডুলকে ডাকিয়া আনিল। মহেশ-মগুল হাত দেখিতে জানে,-তাহার 
নাড়ীজ্ঞান চমৎকার ! সেই বিশ্বাস-বশে রামদাস তাহাকে বৃষ্টিতে ভিজাইয়া 
ততিজাইর়াও লইয়া! আদিল। বৃষ্টি বলিয়া মহেশও অবশ কোনও আপত্তি 
করিল ন|। 

কিন্তু ফিরিয়া আসিয়াই রামদাম দেখিল--সর্বনাশ হইগ্লাছে 1. 
রামদাস যে আশঙ্ক! করিয়াছিল, তাহাই ঘটিক্লাছ! রামদাস দেখিল,-. 
মুত-পুত্র ক্রোড়ে লইয়া মহামায়া! আকুলি-ব্যাকুলি ক্রনদন করিতেছেন। 
সে দৃশ্ঠ দেখিয়া, রামদাসও অশ্র-সংবরণ করিতে পারিল না। মহামার়। 
কাদিতে লাগিলেন। রামদাস কাদিতে লাগিল । 'মহেশ-মগুলের চক্ষেও 
অশ্রধার! বিনির্গত হইল । 

অনেকক্ষণ কাটিয়। গেল। ক্রন্দনের রোলে গ্রাম প্রতিত্নিত হইল । 
দেখিতে দেখিতে পাড়া-প্রতিবাসী সকলেই আসিয়া কৃষ্ণনাথ রায়ের বাড়ীতে 
উপস্থিত হইলেন। কেহ বা কন্নার কান্র। মিশাইলেন। কেহ ব! 
অহামায়াকে সান্তনা! দ্বিবার চে! পাইলেন। কেহ বা শিরে করাধাত 
করিতে লাগিলেন। কেহ বা কৃষ্ণনাথ রায়ের প্রত্যাগমন-প্রতীক্ষায় 
পথপানে চাহিয়া! রহিলেন। 

ঝড়বৃষ্টি-ছুর্য্যোগে কৃষ্ণনাথ রায় বথাসময়ে কবিরাজ মহাশয়কে লইয়! 
গ্রামে গৌছিতে পারিলেন না। সন্ধ্যার পূর্বেই তাহাদের গ্রামে পৌছিবার, 
সম্ভাবনা! ছিল। কিন্তু রাত্রি এক প্রহরের মধ্যেও তাহাদের আসা ঘটিয়া 
উঠিল না। ছূর্যোগের সময় বাহকগণ গ্ী বহন করিতে ন! পারায়, বৃষ্টি 
না থাম! পথ্যস্ত, তাহাদিগকে পথে অবস্থান করিতে হইল। পথে বতই 
বিলম্ব হইতে লাগিল, কৃষ্ণনাথের প্রাণ ততই ব্যাকুল হইয়। উঠিল । কত 
দুশ্চিস্তা আনিয়া তাহার হ্বদপ্স অধিকার করিয়া বলিল। কিন্ত কি 


১১৪ নং আহ্রীটোলা। ছ্রীট, কলিকাতা? 


৭৬ ৰ | | জীদুর্গাঁদাস লাহিড়ী- 


করিবেন ?--উপায় নাই !--বিধাতা বাম! তাহার দেহ পাকীর মধ্যে 
পড়িয়া রহিল বটে ) কিন্তু মন রূপনগরে রঘুনাথের নিকট চঙ্গিয়া গেল। 

তুর্য্যোগ থামিলে, কবিরাজ মহাশয়কে সাঙ্গে লইর়।, কৃষ্নাথ রায় যখন 
গ্রামে পৌছিলেন, দূর হইতে ক্রন্মন-ধবনি তাহার কর্ণে প্রবেশ করিল। 
সেই ক্রন্দনধবনি কর্ণে প্রবিষ্ট হইবামাত্র, তীহার প্রাণটা কাপিয়! উঠিল। 
কিস্ত তখনও একেবারে হতাশ হইতে পারিলেন না । কখনও মনে হইল, 
--উহ! ক্রন্দনের স্বর নহে। কখনও মনে হইল,--ও স্বর অন্ত কোথ। 
হইতে আসিতেছে 1 

কবিরাজ-সহ কৃষ্ণনাথ রায় বাড়ী পৌছিলেন! কৃষ্ণনাথের প্রাণভর। 
'আশ!-শ্রীকান্ত কবিরত্বকে একবার দ্েখাইতে পাঁরিলেই তাহার বঘুনাথ 
সারিয়া উঠিবে। কিন্তু হায়! এখন কোথায় রঘুনাথ ?--কবিরাজ 
মহাশয় কাহার চিকিৎসা করিবেন ? বাড়ীতে প্রবেশ করিবার পূর্বের 
কৃষ্ণনাথের কিছুই আর বুঝিতে বাঁকী রহিল ন1। মহামায়ার ক্রন্দনের 
স্বর কর্ররন্ধে, বজধবনিবহ প্রবিষ্ট হইল। পাড়া-প্রতিবাদীর হাহাকারে 
প্রাণ বিচলিত করিয়। তুলিল। পাকী হইতে নামিয়, “রঘুনাথ-__রঘুনাথ 
বলিয়। কাদিতে কাদিতে কৃষ্ণনাথ বায় অন্দরে প্রবেশ করিলেন। কবিরাজ 
মহাশয় বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করার আর আবশ্তকত। বুবিলেন না। 
বাহিরে দ্রাড়াইয়াই প্রতিবাসীদিগের নিকট টির বিষয় সকলই 
জানিতে পারিলেন। 

কৃষ্ণনাথ রায় অন্দরে প্রবেশ করিবা-মা্র, তাহাকে (থিয়া, নহামায়ার 
শোকসমূদ্র আরও উথলিয়! উদ্বিল। মহামায়া চীৎকার করিয়। কাদিতে 
_ ফাদিতে বলিয়া উঠিলেন,_“এসেছ ! এসেছ! তুচ্ছ এহ্বর্য্যের লোভে 
আমার সোণার ষাঁণিককে বিসর্জন দিয়ে এসেছ !” কৃষ্ণনাঁথ রায় কাদিতে 
কাদিতে কহিলেন,--পকৈ--কৈ বব্বলাথ 1 মহামায়। উদ্মাদিনীর তান 


প্রণীত__“মণিবেগম' . শঞ্থ 


উত্তর দিল,--“এতক্ষণ আস্তে পার্লে না! 'ঝঘুনাথ যে চলে গেল! 
রঘুনাথ-_রঘুনাথ !” | 

পতি-পত্বী ছুইন্ধনে রঘুনাথকে জড়াইয়া ধরিয়া 'রঘুনাথ-_ রঘুনাথ” 
বলিয়া, ক্রন্দনে গগন কীপাইয়! ভুলিলেন। কৃষ্ণনাথ কাদিতে কাদিতে 
বলিতে জাগিলেন,__প্রঘুনাথ! রঘুনাথ! ওঠ বাবা-একবার ওঠ! 
তোমার জন্য আমি যে মুর্শিদাবাদ থেকে কবিরাজ নিয়ে এসেছি!” 


(রাতে গে তি তিরতমেরট 


'ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ । 


অসি [0 বত 


 ভবানী-পুজা। 


বড় আনন্দ উদয়। 
শঙ্ঘ-ধণ্টা-রব মহ]1-মহে!ৎলব, 
ত্রিভুবনে জয় জয় ॥ 
--ভারতচন্ত্র। 


একদিকে অন্ধকার, অন্তদিকে আলোক-মাল!। একদিকে হাহাকার, 
অন্ত দিকে আনন্দের লহন্ী-লীলা । বিধির কি বিচিত্র বিধান! 
একদিকে বিটপীর শুফ-পত্র ঝরিয়া' পড়িতেছে, অন্যদিকে বিটপী 


নবকিশলয়ে পুষ্প-পরাগে 'প্রছুল্লিত হইতেছে । এক দ্দিকে প্রাবুটাপগষে: 
নদী শীর্ণভোয়া বালু-কম্কর সার হইয়া! পড়িতেছে ; অগ্ঠদ্দিকে ভাত্রের ভর! 
যৌবনে উচ্ছৃদিত উল্লসিত তরঙ্-ভঙ্গে সে অভিনব মূর্তি পরিগ্রহ করিতেছে । 


১১৪ নং আঙ্িরীটোল। ছাট, কলিকাত।। 


৮ জরীহগাদাস লাহিড়ী- 


কিবা প্রকুতি-পটে, কিবা সংসার-নাট্যমঞ্চে উভয়ন্র এই দৃশ্ত পরিদৃশ্তমান ! 
একদিকে রূপ-নগরে আকাশ ব্যাপিয়া হাহাকার-ধবনি সমুখিত; অন্ঠ 
দিকে পোব্য-পুত্র গ্রহণ-উপলক্ষে নাটোর-রাজধানীতে জনসাধারণ মন্থা- 
মহোৎসবে উন্মস্ত। কেবল নাটোর-রাজধানীতে নহে ১--সেই মহোতসবে 
আজি ভবানী-মন্দিরেও অপূর্ব সমারোহ-ব্যাপার উপস্থিত । 
নাটোর রাজধানী হইতে প্রায় আঠার ক্রোশ উত্তর-পূর্ব 094 
ভবানী-মন্দির অবস্থিত। 
ভবানীপুর পীঠস্থান। উত্তরবঙ্গে করতোয়া নদীর তীরে-_ যেখানে 
সতীর গুল্ফ পতিত হইয়াছিল, সেই স্থানই এখন ভবানীপুর । ভবানীপুরের 
পীঠস্থানে ভবানী-মন্দিরে দেবীর অধিষ্ঠান। 
ভবানীপুরে ভবানী-মন্দিরে মহারাণী ভবানী ভবানীর পৃজ দিতে 
আদিয়াছেন। তাহার পোষ্যপুত্র-গ্রহণ-ক্রিয়া সম্পন্ন হইক্কাছে; সেই 
উপলক্ষেই এই পুজার আয়োজন । আজি পোষ্যপুত্রসহ মহারাণী 
ভবানীপুরে উপস্থিত। রাজপরিবারভূক্ত প্রায় সকলেই আসিয়া এই 
উৎসবে যোগদান করিয়াছেন। দেশ-দেশান্তর হইতে ব্রাহ্গণ-পণ্ডিতগণ 
আমন্ত্রিত হইয়া আসিয়াছেন। 
পরিখা পরিবেষ্টিত পুরীর মধ্যে দক্ষিণদ্বারী মন্দির । বিবিধকারুকাধ্য- 
সমন্বিত সেই মন্দির-মধ্যে জগন্মাতা। অধিষ্ঠিতা । মন্দিরের পার্ে, পুর্বে ও 
পশ্চিমে, ভবানীশ্বর, হরেশ্বর প্রভৃতি মহাদেবের অ্ধিষ্ঠান। মন্দিরের 
ত, উত্তরের দিকে, ভোগের দালান ; তাঁহীরই পুর্বভাগে রাজ- 
প্রাসাদ । মায়ের পুজ। দিতে আপিয়া, মহারাণী সেই প্রাসাদে অবস্থিতি 
করিতেছেন। 
_ মহামায়ার এই মন্দিরের পূর্বভাগে বিহ্ব-বৃক্ষমূলে "এবং পশ্চিমভাগে 
বট-বৃক্ষমূলে সাধকদিগের সাধনার স্থান । সেখানে সর্বদা সাধু-সন্যাসীদিগের 


প্রধীত--“মণিবেগম' ৭৯৯ 


সমাগম হয়। সেখানে সর্ব! হোমকুণ্ড জলিতেছে। সেখানে সর্বদা! 
তত্ব-কথার আলোচনা চলিয়াছে । সেখানে সন্গাসিগণ, কেহ বা চক্ষু 
সুদিয়া ধ্যান-মগ্ন রহিয়াছেন, কেহ বা হোমাঘ়িতে আহছতি দিতেছেন, 
কেহ বা উর্ধবাছ হইয়া! ইষ্টনাম জপ করিতেছেন, কেহ বা শান্ত্র-কথা 
শুনাইতেছেন। মহামায়ার পীঠস্থান বলিয়। এখানে দূর-দুরাস্তর হইতে 
সাধকগণের সমাগম হয়। ্‌ 

পোস্যুপুত্র-গ্রহণ উপলক্ষে ভবানী-মন্দিরে মহারাণী পূজা দিতে 
আসিয়াছেন বলিয়া, ভবানীপুরে বহু লোকের সমাগম হইয়াছে । কেছ 
পুজা দিতে আসিয়াছে । কেহ পৃজা দেখিতে আসিঙ্সছে। কেহ ভিক্ষা" 
প্রাথী হইয়া আপিয়াছে। কেহ রউতামাস! দেখিতে আসিয়াছে। 
কেহ দোকান-পাট সাজাইক়। বসিয়াছে। কেহ কেনা-বেচা করিতে 
আসিয়াছে । ূ 

ভবানীপুরে ধেন একটা মেলা বলিয়া গিয়াছে। ভবানীপুর নূতন 
গ্রী ধারণ করিয়াছে । 

প্রভাতে বাল্যভোগের বাগ্ত বাজিয়া উঠিল। দেখিতে দেখিতে 
অন্দির-প্রাঙ্গণ সহ পহম্র নর-নারীতে পরিপূর্ণ হইল। 

সে এক অপরূপ দৃশ্য ! এক সঙ্গে সহত্র সহত্্র কণ্ঠে “জয় ম! ভবানী, 
ধ্বনি উিত হইল; এক সঙ্গে অগণিত শঙ্ঘ-ঘন্টা বাঙতিয়! উঠিল) এক 
সঙ্গে শত শত ঢক্কা-নিনাদে ভবানীপুরী প্রকম্পিত করিয়া তুলিল। মন্তকে 
জটাভারসমন্থিত আবক্ষশ্েতশ্মশ্রবিলদ্িত পট্টবস্তপরিহিত তপ্তবাঞ্চনপ্রভ 
সেই রাজপুরোহিত বখন আরতিআরভ্ভ করিলেন, সঙ্গে সঙ্গে বাস্ঘ-নিনাদে 
পুরী মুখরিত হইয়া উঠিল। সহশ্র সহম্র নরনারী বনদ্ধাঞ্জলি-সহকারে 
তক্তি-প্লুত-প্রাণে নিশিমেষ-নয়নে মহামায়ার মুখপানে চাহিয়া রহিল, 
(সে এরু অপরূপ দৃষ্ত,! তখন মনে হইতে লাগিল, যেন মহাযোগী মহেখর 


১১৪ সং আূহরীটোজ। ছ্রুট, কলিকাতা | 


৮০ জীহুর্গাদাস লাহিড়ী- 


স্বয়ং পুরৌহিত-বেশে আবিভূতি হইয়া 'লোঁকসমক্ষে মহামায়ার রা ূ 
মাহাত্মা গ্রচার করিতেছেন । 
আরতি শেষ হইল। বাগ্যধ্বনি থামিরা গেলণ সমবেত টিক: 
সকলেই সাষ্টাজে মায়ের উদ্দেশে প্রণাম করিল। অবশেষে আবার 
সকলে সমস্বরে "জয় মা ভবানী রবে পুরী প্রতিধ্বনিত করিয়। মন্দির" 
প্রাঙ্গণ পরিত্যাগ করিয়া গেল। 

মায়ের বাল্য-ভোগ--নিরামিষ ; চিড়!, দই, গুড়, সুড়কি, ক্ষীর, সন্দেশ। 
কলা, পান, শুপারি ইত্যাদি । এই বাল্য-ভোগ দর্শন করিলে মনে হয়- 
যু যেন পরম। বৈষ্বী | 

কিন্তু মধ্যাহ্নে এ আবার কি দেখি ! মায়ের স্নানের পর যখন মধ্যাহ্- 
পুজা আরম্ভ হইল, তখনও সেই&বাঘ্ধ, সেই লোকসমাগম, সেই জন- 
কোলাহল ! অন্তান্ত আয়োজন সকলই প্রাতঃকালের ন্যায় ; কিন্ত পুজার 
এ কি বিপরীত আয়োজন! এখন সারি-সারি যৃপ-কাষ্ঠ ; আর তাহার, 
পার্খে শত শত ছাগ, মেষ, মহিষ--বলির জন্য প্রস্তুত | সেগুলিকে সবে 
মাত্র স্নান করান হইয়াছে; তাহারা কাপিতে কাপিতে চীৎকার 
করিতেছে। 

এই মধ্যাহু-পুজার পুরোহিত স্বতন্ত্র, পৃজোপকরণ শ্বতন্ত্রর ভোগের 
আয়োজন স্বতন্ত্র! পুরোহিতের পরিধানে রক্তান্বর, ললাটে রক্ত-চন্দনের 
ত্রিপুণ্ক, বাছুদ্বয়ে রক্ত-চন্দনের অন্থলেপন। সিন্দুর-বিলেপিত উৎদর্গাকৃত 
খড়াদহ. মন্দিরের বাহিরে আসিয়া তিনি বলি” উৎসর্গ করিলেন । 
নতপৃত খড়ণ ছেদকের হস্তে অর্পিত হইল। 

_ বলিদানের বাস্ত বাজিয়া উঠিল। আবার চকা-নিনাদে শঙ্-ঘণ্টা-- 

ধবনিতে পুরী প্রকম্পিত হইতে লাগিল । বলিদানের ছাগ, মেষ, মহিষ-_ 
যথাক্রমে যৃপকান্ঠে সং ংবন্ধ হইল। তাহাদের মর্স্ভেদী, আর্তনাদে গগন 


প্রেণীত---“মণিবেগম, | ৮১ 


বিদীর্ণ হইতে লাগিল! তখন, সেই মন্ত্রপূতঃ খড়গ গ্রহণ করিয়া, ছেদক 
একে একে বলি-কাধধ্য সম্পন্ন করিল। বলিদানের রক্তত্রোতে ভবানীর 
প্রাণ প্লাবিত হইল। বলিদানান্তে অনেকে সেই রক্ত মাখিয়। ত্য 
করিতে লাগিল । মায়ের মধ্যাহন- পূজা সমাপন হইল | 

প্রভাতে বাল্য ভোগে ধাহাকে পরম! বৈষ্ণবী বলিয়া মনে হইতেছিল,. 
মধ্যাহ্ছে মায়ের সে ভাব সম্পূর্ণ পরিবন্তিত। ভাবুক ভক্ত ! ভাব দেখি,_- 
মা কোন্‌ ভাবে কখন অবস্থিতি করেন ? 

মহামায়ার পুজার সময়, পোস্য-পুত্রকে পার্খে বসাইয়। মহারাণী ভবানী 
গললগ্পীকৃতবাসে মার নিকট মঙল-প্রার্থন। করিতেছিলেন । এত গণ্ডগোল, 
এত বাদাধবনি, এত ' কোলাহল,__কিছুই যেন তাহার কর্ণে প্রবেশ 
করিতেছিল না। তিনি যেন তন্ময় হইয়া মার প্রাণে প্রাণ মিশাইয়! 
প্রার্থনা জানাইতে ছিলেন, এমা মঙ্গলময়ি! জগতের মঙল-বিধান 
করমা !” | রি 
 পোষ্ু-পুত্রশ্তকুমার রামকৃষ্ণ তিনি মাতার পার্খেই বসিয়াছিলেন 
বটে; মাতার স্ঠায় একাগ্রচিত্তে মহামায়ার নিকট প্রার্থনা জানাইতে- 
ছিলেন বটে; কিন্তু সময়ে সময়ে তাহার প্রাণ”বিচলিত হইতেছিজ । 
বলিদানের সময় যখন তিনি দেখিলেন,_বলিদানের ছাগাদি পঞ্তগণ 
প্রাণভেদী আর্তনাদ করিতেছে, আর তাহাদের সেই আর্ভনাদে কেহই 
কর্ণপাত করিতেছে না, পরুন্ত মায়ের সম্মুখে তাহাদের সুগুচ্ছেদ হইতেছে ? 
তখন আর তিনি কোনক্রমে স্থির থাকিতে পারিলেন না। তিনি 
আবেগভরে চীৎকার করিয়া! মাত! ভবানীকে ডাকিয়। কছিলেন,-_প্মা 
এ কি নৃশংস ব্যাপার! মার পুঁজায় কেন এত প্রাণীর প্রাণনাশ হয় ?” 

তন্বক়-চিত্ত ভবানীর কর্ণে কুমারের সেই উচ্চ চীৎকার বুঝি প্রবেশ 
করিল না মহারাণী কোনও উদ্ভর দিবার পূর্বেই কুমারকে সম্বোধন 


১১৪ নং আহিরীটেলা সীট, কলিকাতা! 


৮৯ শরীতুর্গাদদাস ল লাহিড়ী- 


করিষ্া পুরোহিত কহিলেন,__ “কুমার ! এ বলিদানের নৃশংসত। কোথায় 
দেখিলেন ? বলিদানে পশ্ুগণের জীবন সার্থক হইল । বলিদানে-- 
বন্ধন-মোচন !” 

বন্ধন-মোচন ৮_-কুমার শিহরিয়। উঠিলেন। কত অতীতশ্বতি 
তাঁহার মানল-পটে জাগিয়। উঠিল। মনে পড়িল, সন্ন্যাসীর কথ! ! মনে 
,পড়িল--পাথীর বন্ধন-মোচনের কথা ! মনে পড়িল--বন্ধন-মোচনে 
“আপনার প্রতিজ্ঞার কথা! | 


চতুর্দশ পরিচ্ছেদ । 
(পপ 
সংশয়-প্রন্ন | 


“এতল্সে সংশগ্ং কুষঃ ছেত্ব,মহভ্যিশেষতঃ। 
ত্বদন্যঃ সংশয়ন্তান্ত ছেত্তা ন হাপপদ্যাতে ॥% 


--প্রীমতূখব্দগীত। |. 

হরিদেব রায়ের পুত্র গোপাল মহারাণী ভবানীর পোষ্যপুত্র মনোনীত 
হইয়াছেন। তিনিই এখন _কুমার রামকুষ্চ। 

নাটোর-বাত্রার সময় হরিদেব বায় শাস্তিদেবীর নিকট প্রতিজ্ঞ। করিয়া 
আসিয়াছিলেন, স্তাহার গোপালকে ফিরাইয়। লইয়া! যাইবেন। কিস্তু সে 
প্রতিজ্ঞ রক্ষা হয় নাই। ভ্র্যধিক শতসংখ্যক বালকের মধো গোপাল 
মহারাণীর পোষ্যপুত্র মনোনীত হয়। তখন, অর্থের লৌভে, উচ্চ আকাজ্ষার 
মোহে, পত্বীর নিকট প্রতিজ্ঞার কথা ছবিদেব রান একেবারে বিস্াত 
হইয়া যান। গোপরকে দত্তক দিয়! মারাণীর নিকট আটগ্রাম পুরস্কার 
পাইয়া, সেই আনন্দেই তিনি গৃহে প্রত্যাবৃত্ব হন। শাস্তিদেবীকে থে কি 
বলিয়া! প্রবোধ দিবেন, সে ভাবন! তখন আদৌ তাহার মনে উদয় হয় 


কমজিনী-সাহিতা-সন্মির, 





প্রণীত-_“মণিবেগম' ৮৩ 


না। আজি প্রায় এক মাস অতীত হইল, তিনি গোপালকে নাটোরে 
রাখিয়া গিয়াছেন। সেই হইতে গোপাল, আর গোপাল নাইঃ গোপাৰ 
, -রামকষ্ণ-রূপে পরিবস্তিত হইয়াছে। 

ভবানী-মন্দিরে ঘলিদান-প্রসঙ্গে পুবোহিতের উত্তর শুনিয়া, কুমার 
রামকৃষ্ণ কেমন ষেন অন্যমনা হইয়াছেন । ব্রাজধানীতে আসিয়া অবধি এ 
পধ্যস্ত তিনি আদরের, সোহাগের, আনন্দের নৃতন নুতন লহরে ভামমান 
হইয়াছিলেন। কিন্তু সেই দিন হইতে তাহার সকল ভাব পরিবর্তিত 
হয়। এখন তিনি কেবলই নিঞ্জন স্থান অনুসন্ধান করেন নির্জনে 
বসিয়! নির্জন-চি্তায় কালাতিপাতে তাহার আনন্দ অনুভব হয়। 

কুমার.কি ভাবেন ?--কি চিস্তা করেন? সুখৈশ্বর্য-পালিত 'দশম- 
বর্ষীয় বালকের চিস্তার:কারণ.আবার কি থাকিতে পারে? 

কুমারের এইরূপ ভাব-বৈলক্ষণ্যের প্রতি অল্প দিনের মধ্যেই মহারাণী 
ভবানীর দৃষ্টি আকৃষ্ট হইল। এক দিন নিভৃতে বসিয়া পাগলের স্থায় কুমার 
আপন মনে.কি বলিতেছেন ; কুমারকে তদবস্থ দেখিয়া, অন্তরালে দ্লাড়াইয়া, 
কুমার কি বলে--তাহা শুনিবার জন্ত, মহারাণী চেষ্টা পাইলেন। কিন্তু 
কিছুই বুঝিতে পারিলেন না। সুতরাং নিকটস্থ হইয়! স্সেহ-সম্ভাষে 
কুমারকে জিজ্ঞাসা করিলেন,--তুমি একলা বসে বসে কি তাবৃছ বাবা? 
এখানে এসে তোমার কি কোন কষ্ট হয়েছে ?” 

কুমার বিনীত-ম্বরে উত্তর দিলেন,_পনা--ম। ! আমার তো কোনও 
কষ্ট হয়-নি !” 

ভবানী । তবে তুমি সর্বদাই অমন ক'রে বসে থাক কেন বাবা | 
€তোমার কিসের অভাব আছে যে, তুমি বিষর-মনে বসে থাক ? বদি 
তোমার কোনও কষ্ট হয়ে থাকে, আমায় স্পষ্ট করে হল--আমি তোমার 
সে কষ্ট দুর কর্বার,চেষ্টা ক+র্ব। 


১১৪ নং জংহিরীটোল! ছ্রীট, কলিকাতা । 


মণিবেগম 


কুমার। আমার তো কোনও কষ্টই নেই মা! 

ভবানী । তবে তুমি কি ভাব 1--কি চিন্তা কর? আমার মনে হয়, 
তোমার চিত্ত ষেন দারুণ দুশ্চি্তা-ভারে ভারাক্রান্ত ! 

কুমার এতদিন ভাবিতেছিলেন---“কাহাকে জিজ্ঞাসা করিব? কে 
আমার প্রশ্নের উত্তর দিবে? এই সমস্তাহইি তাহার হৃদয়কে দুশ্চিন্তা-ভারে 
ভারাক্রান্ত করিয়া! রাখিয়াছিল। স্থতরাং' মহারাণীর প্রশ্নে কুমারের 
হৃদয়-ভার কথঞ্চিৎ লাঘব হইল | কহিলেন,--পম! আপনি সত্যই 
বলিয়াছেন। আমার হৃদয় সত্যই দারুণ দুশ্চন্তা-ভারে ভারাক্রান্ত 1” 

ভবানী । বাবা, কি সেছুশ্চিস্তা? .. 

কুার, জীবনের .সেই ছুইটা স্মরণীয় ঘটনার কথ! উল্লেখ করিলেন। 
সন্নাসী বলিয়াছিলেন,--'পিঞরাবদ্ধ বিহঙ্গমের মুক্তিদানে তাচার বন্ধন- 
মোচন হয়।” আবার ভবানী-মন্দিরের রাজপুরোহিত বলিয়াছেন,-- 
'বলিদানে পশুর বন্ধন-মোচন হয় ।” সেই ছই ঘটনার বিষয় উল্লেখ 
করিয়া, কুমার জননীকে জিজ্ঞাস করিলেন,--”ম1! আমি কিছুই বুঝিতে 
পারিতেছি না । বলিদানে বন্ধন-মোচন ? না--মুক্তিদানে বন্ধন-মোচন ?* 

মহারাণী বিশ্মিত হইয়া কুমারের মুখপানে চাহিয়। রহিলেন। 

বালকের মুখে এ কি প্রশ্ন! মহারাণী বুঝিলেন--প্রশ্ন গুরুতর । 
কিন্তু এবংবিধ প্রশ্থ্ে বালকের নিশ্ল-চিত্ব কখনই উদ্বেলিত হওয়া কর্তব্য 
নহে। তিনি স্থির করিলেন,--সমক্নাস্তরে কুমারকে বুঝাইয়৷ এতাদৃশ 
চিতায় বিরত করিবেন। এক্ষণে কুমারকে সাম্বন! দিয়া কহিলেন, 
“এই প্রশ্ন? আচ্ছা. আমি তোমার এ প্রশ্নের মীমাংসা! ক'রে দেব! 
এ কথ ভুমি এত দিন বল-নি কেন?” এই বলিয়া, কুমারের হাত ধরিয়া, 
মহারাদী কুমারকে প্রকোষ্ঠাস্তরে লইয়া গেলেন। 





ইতি প্রথম থণ্ড।. 


শ্বনশিশ্েঞহ্য £ 


এ অন 


দ্বিতীয় খণ্ড । 


পধ্যায়তে! বিষয়ান্‌ পুংসঃ সঙ্গস্তেষ পারতে 

সঙ্গাৎ সংঙ্গায়তে কামঃ কফামৎ ক্রোধোইভিজার়তে ॥ 

ক্রোধান্তবতি সন্মোহঃ সম্মোহাৎ শ্মৃতিবিভ্রম | 

স্থৃতিত্রংশাদ্‌ বৃদ্ধিনাশে! বুদ্ধিনাশাৎ প্রীণশ্যতি ॥” 
-ইমন্তগবদগীত। | 


বিষয়-চিন্তারত ব্যক্তির বিষয়ে আসক্তি জন্মে। আসক্তি হইতে কামনা, 
কামন! হইতে- ক্রোধ, ক্রোধ হইতে সদদৎ বিবেকের নাশ, তাহা হইতে 
স্থৃতি-বিত্রম, তাহ হইতে বুদ্ধিনাশ এবং বুদ্ধিনাশ হইতে মৃত্থয অবশ্থস্তাৰী।” 


০ 


৮৬ শ্ীহুর্গাদাস লাহিড়ী- 


প্রথম পরিচ্ছেদ । 








হৃত্রপাত। 


“5156 01511015000 81)0%৪ ঠ9 7790 
48 100010118 81)0ঘ15 61১8 085.) 
৮1161 0022 


হরিদেব রায় "আটগ্রামে ফিরিয়া আসিয়াছেন ; কিন্তু গোপাল ফিরিয়া" 
আসে নাই। গোঁপালের কথা জিজ্ঞাস করিলে শান্তিদেবীকে প্রায়ই 
তিনি প্রবোধ দেন,--পগাপালকে শরীস্রই তাহারা! রাখিয়া ধাইবে 1” কিন্ত 
দিনের পর দিন কাটিয়া গেল; কৈ, গোপাল তো ফিরিয়! আসিল না! 

প্রথম প্রথম হরিদেব রাজ বুঝাইয়াছিলেন,--"গোপাল রাজা হুইবে' 
কি না1--তাই অভিষেক শেষ হইলে গোপাল ফিরিয়া আমিবে !” 
গোপাল ফিরিল না, অথচ তিনি ফিরিলেন কেন--এবছিধ প্রশ্ন উত্থাপিত 
হইলে, হরিদেব "বায় বলিতেন,--"অভিষেকের সময় আমায় থাঁকিতে 
নাই । তাই আমি চলিয়া আসিয়াছি !” শ্াস্তিদেবী প্রথম প্রথম সেই" 
কথাই বিশ্বীস করিতেন; গোপাল আজি আসিবে, কালি আমিবে বলিয়া, 
অনকে প্রবোধ দ্িতেন। কিন্তু মায়ের প্রাণ কত তিন সে প্রবৌধ মানিতে. 
পাবে? 

ভবানীপ্রসাদ ও রামপ্রসাদদ এখনও মাতুলালয়ে অবস্থতি করিতেছে ।' 
তাহার! নিকটে থাকিলে, শাস্তিদেবীর প্রা অনেকটা আশ্বস্ত থাকিত॥ 


কষমজিবী-সাহিতয-ম্ির, . 


প্রণীত--'মপিবেশ্ | | ৮৭ 


কিন্তু তাহারাও তো এখন কাছে নাই! বিষয়-কর্খে ব্যাপুত থাকা, . 
অনবসর-প্রধুক্ত, হরিদেব রার এ পর্যন্ত পে ছুই পুত্রকেও আনিয়া দিতে 
পারেন নাঁই । তিনি এখন আটগ্রামের নূতন জমিদার হইয়াছেন । 
জমিদা ীর জু্চ্ছা-বন্দোবন্ডে তাহার,সময় কাটিয়া যায় । পুত্রদ্বয়কে 
আটগ্রামে আনয়ন-সম্বন্ধে' কখন আর তিনি বন্দোবস্ত করিবেন? এক 
জন লোক পাঠাইলেও অবস্তা এতদিন তাহাদের আসার সম্তাবন! ছিল। . 
কিন্ত নুতন জমিদারী পাইয়। বিষয়-কর্ম্নে তিনি এতই নিবিষ্ট-চিত্ত হইয়া 
আছেন ৫, সে চিন্তা তাহার মনে স্থান পায় নাই। ক্চিৎ কহ পে 
বিষয় স্মরণ করাইয়া দিলেও অল্পক্ষণ মধ্যে সে চিন্তা স্বতিপথ হইতে অপস্যত 
হয়া যায় । রিষয়াসক্ত মানুষের চিত্ত--এইরূপ ভাবেই অন্ত চিন্তা 
পরিহার করিয়া থাকে । শান্তিদেবী দিন দিন যে মলিন হইয়! 
পড়িতেছেন, হরিদেব রায়ের সেদিকে এখন দৃষ্টি করিবার অবসর, 
নাই। বিষয়-বিষয়_-বিষয়! বিষয় লইরা তিনি এখন উন্মত্ত হইয়। 
উঠিয়াছেন। 

শাস্তিদেবী আহার-নিদ্রা পরিতাগ করিয়াছেন। তাহার সে রূপ-__. 
সে কান্তি দিন দিন মলিন হইয়। আসিতেছে । শয়নে, স্বপনে, জাঁগরণে 
তাহার মনে কেবলই এখন গোপালের চিস্তা। গোপাল গোপাল 
বলিয়! তিনি পাগল হইয়। উঠিয়াছেন। সংসারের কাজকর্মে মন নাই; 
'কবাহারও সহিত বাক্যালাপে প্রবৃত্তি নাই; কেবল গোপালের চিন্তাই 
তাহাকে বিভোর করিয়া রাখিয্বাছ। পতি বলিকাছেন,--গোপালকে 
শীপ্রই তাহার রাখিয়। যাইবে । তাই তিনি সদাই'পথপানে চাহিয়া 
থাকেন। পথে কাহাকেও চলিতে দেখিলে আগ্রহান্বিত হইয়। জিজ্ঞাসা 
করেন,---হা গো! তোমরা, আমার গোপাঙলকে. আম্তে দেখুলে ?* 
নিবিষ্টচিত্তে বসিয়। আছেন ) কাহারও পদ-শফ শ্রুতিগোচর হইল )- 


১১৪ নং আনিরীটোল। সীট, কজিকাতা। 


অমনি মনে করিলেন, বুঝি গোপাল আসিতেছে ! রাত্রে ৮ 
আছেন) নিশাচর পণুপক্ষীর গমনাগমন-শব্দ কর্ণকুহুরে প্রবিষ্ট হইল $. 
অমনি শশবাস্তে উঠিয়া বসিয়া আপনা-আপনই বলিয়া উঠিলেন.. 
ণগোপাল! এলি বাবা 1” 

শাস্তিদেবীর ভাববিকৃতি দেখিয়া, কুমুদিনি দেব্যা বড়ই চিস্তিত 
পড়িয়াছেন। সংসার কিরূপে রক্ষ। হইবে,_-সেই চিন্তাই তাহার ও 
চিন্ত/। কনিষ্ঠ হরিদেব রায় সংসারের দিকে চাহিষ়! দেখেন নাও ঢি 
বিষয়-কর্থে উন্মত্ত হইক্জা আছেন । শাস্তিদেবীর এই অবস্থা টনি 
গোপালের জন্য পাগলিনী-প্রায়। সংসার কেমন করিয়া রক্ষা হয়? 
হরিদেব রায়ের সাক্ষাৎ পাইলে কুমুদ্দিনী দেব্যা সংসারের কথা প্রা্ই 
উত্থাপন করেন, বুঝাইয়। বলেন,__-ণআমি একুল। আর. কত পেরে উঠ? 
বউয়ের অবস্থ। তো! এই হ'ল! এখন যাক একটা বান্দোবস্ত 
কর্তে হয়।” 

হরিদেব রায় প্রায়ই কোন উত্তর দেন নাঁ। যদিও কখনও উ 
দেন, বলেন,/--“বিষয়-সম্পত্তিটা আগে কায়েমি ক'রে নিই। তার 
বন্দোবস্ত ঠিক হয়ে যাবে ।” হরিদেব রাগের মন্তিফে, এখন কেবল বিষর- 
সম্পত্তিই স্থান পাইয়াছে। তিনি এখন হই চিস্তাতেই মজ্গুল হয়া 
আছেন। আহারে বসিয়াছেন ; তখনও তীহার মস্তিষ্ক সেই চিংায় 
আলোড়িত হইতেছে । সান করিতে যাইভেছেন, তখনও সেই চিন্তাই 
তাহাকে ঘেরিয়া আছে। তিনি কখনও ভাবিতেছেন,--প্উত্তর মাঠের 
জমগিটা হীরু ঘোধকে ন1 দিয়ে, পাঁচু সর্দারকে দিতে হসক্ষে! সে বেশী 
টাকা দিতে পারে” কখনও ভাবিতেছেন,-_*বিলের ধারের জমিট। 
খাসেই রাখ্ব। লোক রেখে আবাদ -ক্র্তে পারলে, ও জমিটায় 
ষল্তে পারে ৯. আবার কখনও বা ভাবিতেছেন,--"আমার দরকাঃ 


 কষষলিনী-সাহিতা-মল্দির, 


প্রণীত-_-“মণিবেগম' ৮০৪৯: 


মত ঝাঞ্চাটে যাওয়ায়? যা পেয়েছি, বুঝে চল্তে পার্লে, তাতে পায়ের 
ঃপর পা দিয়ে কাল কেটে যেতে পারে!” | | 
কুমুদিনী দেব্যা সংসারের বিষয়ে কত সময় কত ৮ কথাই বলিবেন 
লিমা মনে করেন। কিন্ত একমাত্র আহারের সময়টা ভিন্ন কনিষ্ঠেক় 
ক্ষাৎকার-লাভ ঘটিয়! উঠে না" বর্দি কখনও অন্দরে ডাকিয়া পাঠান, 
।কটা-না-একটা কাজের অজুহাতে হরিদেব রায় আসিতে পারেন ন1। 
"ভরাং আহারের সময় ভিন্ন অন্য সময় কোনও কথ] কহ ঘটিয়। উঠে না ! 
গকন্ত তাহাতে ষে উত্তর পান--চমতৎকার ! কুমুদিনী দেবা! যদি জিজ্ঞাস! 
করেন--“বউয়ের চিকিৎস1-বিষয়ে কি বাবস্থা ক'র্বে ?” “বিষয়ের 
কথাটাই তখন কেবল হুরিদেব রায়ের কর্ণে প্রবেশ করে । তিনি উতর 
»দন,_-পকাস্তরামের বিষয়ট। এখনও হাত ক'র্তে পারি-নি ।” 
ছুই জনের মন ছুই ভাবের চিন্তায় বিভোর হইয়া আছে। হরিদেব 
রায় কেবলই দেখেন-_বিষয়-সম্পত্তির কি হইতেছে। “*শাস্তিদেবী কেবলই 
দদখেন-_ বুঝি গোপাল আমিতেছে ! 
রাখাল গোপালের খেলার সাথী ছিল । রাখালকে দেখিলে, শান্তি- 
দেবীর প্রাণ কতকটা শান্ত হইতে পারে ।--এই মনে করিয়া, কুমুদিনী 
দেবা মাঝে মাঝে রাখালকে শান্তিদেবীর কাছে আদিতে বলিতেন। 
স্থযোগ পাইলে, রাখালও তাই মাঝে মাঝে “কাকি-মা” বলিয়া! শাস্তিদেবীর 
নিকটে আসিয়া উপস্থিত হইত। শাস্তিদেবী তাহাকে কতই আদর-যত্ব 
করিতেন, আদর করিয়! কত সময় কত কি খাইতে দিতেন। সময় সময় 
পয়সা-কড়ি দিতেও ক্রটি করিতেন না। রাখালও' সুযোগ বুঝিয়া শান্তি- 
দেবীর নিকট কত-কি আব্দার করিত। কথনও বলিত,---“এঁ পুভুলটা 
আমি নেব।” কখনও বলিত,--প্তী গহনাখান! আমায় দিতে হবে |!” 
ঈ্ষখনও সে শাস্তিদেবীর হাতের মুড়কি-মাছুলি-ছড়। লইয়া! টানাটানি 


১১৪ নং জাহ্রীটোলা ইট, কলিকাতা । 
৬... 


৯০ শ্রীদর্গাদাস লাহিড়ী 


ক্করিত, কখনও ব। সে তাহার নাকের নথটা চাহিয়া বসিত। শাস্তি 
দেবীও বথাসস্তব তাহার আব্দার রক্ষার পক্ষে ক্রুটী করিতেন না। সমক্ক 
সময় আপনার] হাতের অলঙ্কারগুপি তিনি ব্রাখালের হাতে পরাইয়! 
দিতেন ; আর সেই অরঙ্কারগুলি পরিয়া ব্বাখাল বাড়ী পলাইয়া যাইত । 
রাখালের মা কখনও কখনও সেই সকল গহনা ফিরাইয়। দিয়া যাইতেন: 
বটে; কিন্তু রাখালের পিতা হলধর মৈত্র তাহাতে বড়ই বিরক্ত ইইতেন । 
একদিন তাই তিনি রাখালকে নিজ্জনে ডাকিয়া শিখাইক়া। দ্রিলেন,--"এখন' 
থেকে যা তুই আন্বি, চুপি চুপি আমার কাছে এনে দিস!” 
একদিন তাহাই ঘটিল। হুরিদেব রায়ের বাড়ীতে রাখালের এখন 
অবাধ গতি। এর-্ঘর, ও-ঘর, ঘুরিতে ঘুরিতে রাখাল এক দিন শাস্তিদেবীর 
গহনার বাক্সটি লইয়। পলায়ন করিল। কেহ দেখিতে পাইল না, কেহ 
জানিতে পারিল না»--এমনভাবে সে কার্য সম্পন্ন 'হইল। শাস্তিদেবী 
গোপালের চিন্তায় পস্তমনা ছিলেন; কুমুদিনী দেব্যা ঘাটে কাপড় কাচিতে 
গিয়্াছিলেন? পরিচারিকা পল্মমণি বোন্খপোর সঙ্গে দেখ৷ করিতে গক্লাছিল 
সেদিন এই অবসরে হরিদেব রায়ের গৃহে প্রবেশ করিয়া শাস্তিদেবীর 
গহনার.বাকসটা লইয়। রাখাল পলাইয়! যায় ;--সেদিন আর জননীর নিকট" 
উপস্থিত ন। হইয়া, একেবারে পিতার নিকট গিয়। বাক্সটি প্রদান করে। 
যেদিন এই ব্যাপার সংঘটিত হয়ঃ সেদিন গহনার কোনই সন্ধান হয় 
না। গহনার বাক্স আছে কি নাই, সে দিন সে বিষয়ে কাহারও 
লক্ষ্য হয় নাই! পরদিন হরিদেব রায় দলিল বাহির করিতে গিয়া 
দেখিতে পান, দলিবেের সিন্দুকের উপর শান্তিদেবীর গহনার বাঝ্সটা নাই । 
সিন্দুক খুলিতে গরিয়। গহনার বাক্সের কথ! তাহার মনে পড়ে। তিনি 
তখনই কুমুদিনী দেব্যাকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করেন, ছবি! গহনার: 
বাক্সট। কোথায় গেল?” 


কমলিনী-সাহিত্য মন্দির, | 


প্রণীত_“মণিবেগম' | ৯১ 


কুমুদিনী দেব্যা কোনই উত্তর দিতে পারিলেন না। শাস্তিদেবীও 
কোনও উত্তর দিতে সমর্থ হইলেন না। গহনার বাক্স তবে ক্কোথায় গেল ? 
হরিদেব রায় আতিপাতি সন্ধান করিয়। দেখিলেন,__:কোথাও গহনার 
ব্লক্সি খুজিয়া পাইলেন না। চারিদিকে খৌজ-খোজ পড়িয় গেল! 
সোর-গোল শুনিয়া, পাড়ার অনেকেই সেখানে আসিয়া উপস্থিত হইল । 

কুমুদিনী দেব্য! শাস্তিদেবীকে জিজ্ঞাসা করিলেন--প্তবে কি বউ, 
রাখালকে সে বাকাট! দিয়েছে ?" ূ 
. শাস্তিদেবী , কহিলেন,__*কৈ-_না আমি তো কিছুই জানি না। 
রাখালকে তো আমি গহনার বাক্স দেই নাই।” কিন্তু সে উত্তরে 
কুমুদিনী দেব্যার সংশয় দূর হইল না1। হরিদেব রায়ের মনেও একট! 
খটুক বাধিল। তখন রাখালকে ডাঁকিয়। আনিয়। সেই কথা জিজ্ঞাসা 
করিবার জন্য সকলেরই আগ্রহ হইল । 

অন্ত দিন রায়েদের বাড়ী কোনরূপ গণ্ডগোল হইল্লে্ রাখাল আপনিই 
ছুটিয়। আমে । আজ কিন্তু তাহার কোনও সাড়া-শব নাই। তবে কি 
রাখাল আজ অন্ধত্র গিয়াছে? তাহাও তে| নহে ! একটু সন্ধান করিতেই 
রাখালকে তাহাদের বাড়ীর মধ্যেই খু'জিয়া পাওয়া গেল। কিন্তুসে 
আদিতে চাহিল না । রায়ের! ভাকিতেছে শুনিয়া, ভাহার জননী তাহাকে 
জোর করিয়। ধরিয়। আনিলেন। শান্তিদেবী রাখালকে যে কত আদর, 
করেন, রাখালের জননীর তাহ! অবিদিত ছিব না। সুতরাং তিনি 
রাখালকে সঙ্গে করিয়! লইঙ্কা আুঁদিলেন। কিস্তুগণ্ডগোল দেখিয়া! তিনি 
সকলের সম্মুখীন হইতে পারিলেন না। কুমুদিনী দেবা। তাহার নিকট 
হইতে রাখালকে সকলে সম্মুথে আনিয়া হাজির করিলেন । 

হরিদেব রায় জিজ্ঞানা) করিলেন,রাখাল! বাবা! . গঞ্জনার 
বাক্সট! কোথায় রেখেছ?” | 


১১৪ নং আহিরীটোল! স্ত্রী”, কলিকতি। | ্ 


৯২ | : প্ীতূর্গাদাস লাহিড়ী- 


প্রশ্ন শুনিয়া রাখাল যেন আকাশ হইতে পড়িল। বলিল,--"গয়নাঁর 
বাক্স কি--কাকামণশায় !” 

'হরিদেব। সবাই ব'ল্ছে, তুমিই তো! নিয়ে গিয়েছ ! ৰ 

রাখাল। কোন্‌ বেটা বলে--আমি নিয়েছি? : তার বাপের মুখে 
কুকুরে পেচ্ছাব ফরুক ! | 

রাখালের মুখে তুব্ড়ি ছুটিতে লাগিল । যাহ! “মুখে আদিল, তাই 
বলিয়। গালাগালি দিন্টে দিতে, রাখাল সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া! গেল। 
বিশেষ কোনও প্রমাণ নাই দেখিয়া, হরিদেব রায়ও তাহাক্ষে আর “ততটা! 
পীড়াপীড়ি করিতে পারিলেন ন।। বিশেষতঃ, রাখালের জননী যখন 
বলিলেন,-তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না, রাখাল কোনও কিছু 
লইয়! গেলে তিনি নিশ্চয় তাহা কিরাইরা দিয়া যাইতেন; তখন আর 
রাখালকে পীড়াপীড়ি করিতে রায়-পরিবারের কাহারও প্রবৃত্তি হইল ন1। 

পল্মমণি কিন্তু ডখনও জোর করিয়া বলিল,--পরাথাল ছাড়া এ কাজ 
আর কারও দ্বারা হয়-নি। ওটা যেদিন থেকে বাড়ী ঢুকৃতে আর্ত 
করেছে, আমি সেইদিন থেকেই টিকৃটিক ক'র্ছি) ব'ল্ছি,-'সাবধান ! 
রাখালটাকে ঘরে ঢুকৃতে দিও না--বউ মা! কিন্তু আনার কথ। তোমরা 
শুনবে কেন? আমি দাসী-বাদী বৈ তো নয়!” 
. রাখালের ঠাকুর-মা গণ্ডগোল শুনিয়া রায়েদের বাড়ীতে শুভাগমন 
করিয়াছেন। রাখালের সম্বন্ধে পল্মমণিত এবদ্িধ উক্তি শ্রবণ করিয়। 
তিনি তেলে-বেগুনে জলিতে লাগিলেন $ হাত-মুখ নাড়িয়। বলিয়া! উঠিলেন 
_-“কি-লা! এত বড় আসম্পর্থ৷ ! যত বড় সুখ নয়, তত বড় কথ!!' 
জমিদার আছে--তোর মনিবই আছে। তাই বলে তুই ধযাকে তাকে 
যাতা ঝ্ল্বি? এখনই হুড়ে৷ জেলে মৃখ পুড়িয়ে দেব ।” 

পদ্মমণিই বা হটিবে কেন? সে সনে করে, দে তে। কাহারও 


কমজিনী-সাহিত্য-মনদির, 


প্রণীত---“মণিবেগম' 1 ৯৩. 


আটচালার চাল বাধে নাই! সুতরাং পদ্মমণিও লক্ষ-বাম্প প্রদান করিয়া, 
রাখালের ঠাকুর-মার মুখের উপর হাত ঘুরাইয়! ঘুরাইয়। :বলিতে লাগিল, 
সপ্জানি-নে আর কি? তোদের ঘরের কথ। কি আর ন! জানি ? 
দশে-ধ্র্ন জানে--দেশে-বিদেশে জানে । তোর গোড়ার মৃখ--তাই 
আবার দেখাতে এসেছিন্‌। আমি নিশ্চয় ঝ'ল্ছি রাখাল ছাড়া এ কাজ, 
আর কারও দ্বার! হয়-নি !” 

রাখালের ঠাকুর-ম1! এবার আরও চটিকা উঠিলেন। পল্মমণিকে লক্ষ্য 
করিয়। “নভূত-নভবিষ্যৎ গালাগালি পাড়িতে লাগিলেন,_-প্হারামজাদী ! 
_ নচ্ছার !-_পাজী !- আমার রাখাল চোর! ফের বল্বি তো ঝাট! 
পেট! ক*র্ব--তা৷ জানিস্‌ ?” 

পদ্মমণির আর সহ, হইল না। রাখালের ঠাকুর-মা যাহ! মুখে 
বলিলেন, পল্মমণি এখন তাহা“ কাজে দেখাইতে প্রবৃত্ত হল । গালাগালি 
শুনিয়া, লক্ফ-বম্প দিয়া, গোয়াল-ঘর হইতে বাণটা-গাছট। লইয়া! আদিল ১ 
আর সেই ঝট! লইয়া রাখালের ঠাকুর-মার প্রতি ধাবমান হইল; 
বলিতে লাগিল, "তবে রে শতেক-খোয়ারী | দেখি, তোর কোন্‌ বাব 
তোকে রক্ষা করে !” | 

হরিদেব রায় পদ্মমণিকে বাধা দিলেন; বকিতে লাগিলেন । এদিকে, 

পল্পমণির বিক্রম দেখিয়া, রাখালের ঠাকুর-ম! ছুটিতে টা আপনার 

বাড়ীর দিকে প্রস্থান করিলেন। 

হরিদেব ব্রায় পদ্মমণিকে বাধ। প্রদান করায়, পল্মনণির অভিমান-সাগর 
উলিয়য উঠিল। নাকি-ন্থুরে কাদিতে কাদিতে পদ্মমণি বলিতে লাগিল 
--আমি আর তোমাদের বাড়ীতে থাকৃব না। আমায় যে-সে এসে 
তোমাদের সাম্নে যাতা৷ বলে বাবে, তোমরা কেউ কিছু ঝ্ল্বেনা। 
আমি এই চ'ল্লাম 1” 


১১৪ নং আছিরীটোলা হট, কলিফাত। । 


৯৪ ীহূ্গাদাস লাহিড়ী- 

সকল সময় কি সকল আবদার শোভা পায়? একে গলার বাক্স 
অপহৃত হওয়ায়, হরিদেব রায়ের অস্তরা্থা গুকাইয়া গিয়াছে । তাহার 
উপর আবার পদ্মমণি, মৈত্র মহাশয়ের জননীকে অপমান করিয়াছে ।। 
এ অবস্থায় কি আর পদ্মমপির আবদার সহা হয়? ৃ 

পদ্মমণি বলিডে-না-বলিতেই হরিদেব রায় বলিলেন,--প্দুর-হ বেটা 1 
তুই আমার বাড়ী থেকে এখনই দুর-হ”! কি বল্ব-তুই স্ত্রীলোক ! 
নইলে এ ঝণাটাপেটা ক'রে আমি তোকে এখনই বাড়ী থেকে দূর ক+রে 
দিতাম !” 

পঞ্মামণথি কাদিতে কাদিতে কী ডের খিড়কীর দিকে চলিয়। 
গেল। হর্রিদেব রায় বাড়ীর সকলের উদ্দেশে গালিবর্ষণ করিতে 
লাগিলেন। ্ 

এক দিকে হরিটদব রায়ের বাড়ীতে এই ব্যাপার ; অন্ত দিকে রাখালের 
ঠাকুর-ম! হাপাইতে হাপাইতে বাড়ী ফিরিয়। গিয়া, আপনার পুভ্রের নিট 
কান্না আরম্ভ করিয়া দিলেন,--ণতোরা সব জল-জ্যান্ত বেচে থাকতে, 
আমায় কিনা হরিদেব রায় একটা চাকরাণী দিয়ে এই রকম অপমান 
করালে! .এর প্রতিকার যদি আজই তোর! না করিস্, আমি এখনই 
আত্মহত্যা ক'র্ব1” এই বলিয়৷ ভলধর-জননী, মাটিতে মাথা হা কয়া, 
উচ্চ-ীৎকারে বাড়ী প্রকম্পিত করিয়া তুপিলেন। 

পাড়ার ছুই একটী মহিলা আসিয়াও তাহাতে -পসান দিতে লাগিল 
হলধর মৈত্র ক্রোধান্ধ' হইয় প্রতিজ্ঞ! করিলেন,--."একবার দেখব-_ বেট 
কেমন জমিদার হয়েছে ! | 


_কষলিনী”সাহিভা-মন্দির, 


প্রনীত---মিপিবেগম? ৯৫ 


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ । 





রাখালের কথা। 


500050106 8%186 10195 00180006275 10685502৮18 88100. 
৮81 7102. 


সেই দিন হইতে মুখ-দেখা-দেখি বন্ধ হইল 7 সেই দিন হইতে 
'ার়-পরিবারের সত মৈত্র-পরিবারের সভ্ভাব টুটিয়া গেল। সেই দিন 
হইতে হরিদেব রানের শক্রতা-সাঁধনে হলধর মৈত্র বন্ধপুর্লিকর হইলেন । 

এখন প্রায় প্রতিদিনই হলধর মৈত্রের বাড়ীতে হরিদেব রায়ের 
অনিষ্ট-সাধন-বিষয়ে গুপ্ত পরামর্শ হয় । কখনও হারদেব রারকে সমাজ- 
চ্যুত করিবার কথা উঠে) কখনও হরিদেব রায়ের প্রঙ্গাকে গোপনে 
'ভডাকাইয়৷ আনিয়া! খাজানা দিতে নিষেধ কর! হয়। 

আঙ্গিও হণধর মৈত্রের বাড়ীতে সেইরূপ একটী চক্রান্তের পরামর্শ 
ডলিয়্াছে। গহর আলি সার্দার--হরিদেব রায়ের একজন মাতব্বর 
প্রজা । লোকট! বড়ই দুর্দান্ত । দে যখন নাটোর-রাজের প্রজা ছিল, 
তখনই সময় সময় তহনীলদারদিগকে হাকাইয়। দিত। এখন হরিদেব 
রায় তাহার জমিদার হওয়ায় দেখেন আরও স্বযোগ পাইয়! বসিয়াছে। 
হলধর মৈত্র সে সন্ধান পুর্বেই অবগত ছিলেন। সুতরাং অনলে স্বতাতি 
প্রদানের অভি প্রায়ে তিনি আজ গহর আলি নেখকে ডাকাইয়। আনিয়া- 
ছেন) উৎসাহ দিয় বলিতেছেন,_“দেখ গহর আলি! আমি জানি, 


৯১৪ নং.ক্দাহিরীটোলা, গ্রীট কলিকাতা 4 








৯৩ রঙ লাহিড়ী 


এ অঞ্চলে তুমিই একজন তেজন্বী লোক । নূতন জমিদার হয়ে হরিদেব 
রায় ধরাখানাকে যেন সরার মত দেখছে! তুমিবদি এর প্রতিকার 
ক'র্তে পার, লোকে ছ'হাত তুলে তোমায় আশীর্বাদ ক'র্বে।” 

গহর আলি মন বুঝিবার জন্য কহিল,-কি জানেন মৈত্র মশায়” 
হাজার হক্‌, তিনি তে। মনিব বটেন ! এ পর্যন্ত তিনি তে। আমার কোনও 
অনিষ্ট করেন-নি ! আমি কি ক'রে তীর বিক্ষুদ্ধাচরণ ক'র্ৰ ?” 

হুলধর । তুমি কিন! বড় শক্ত লোক, তাই তোমার কাছে ঘেঁস্তে 
পারে না। নইলে, তুমি একবার গীয়ের মধ্যে তত্ব নিয়ে দেখ, হুরিদেব 
রায়ের অত্যাচারে লোক দেশ ছেড়ে পালাতে আরম্ভ করেছে । সে দিন 
আবছুল মিঞার ঘন্বখান। টিবি ধুধু করে জলে গেল, তার নিগুট 
তত্বকিছুজানকি? 

গহর আলি। না! কৈ, তা তে! আমি কিছু ুমিনি। আমি তো 
শুনেছি, আবছুল মিগ্ার বড় বেটা ছামছু তামাক খেয়ে ক'ল্কেটাকে 
বেড়ার কাছে রেখেছিল ? হাওয়! পেয়ে মেই আগুন জলে উঠে ঘরখানারর 
লেগে গিয়েছিল. 'সৈ কথ! কি তবে ঠিক নয় ? | 

হলধর। বল্ব আর কি কঃরে--সদ্দীরের বেট।! ৰ ্ল্তে এখন 
বড়ই শঙ্কা! হয়! হরিদেব রায় এখন আটগ্রামের জমিদ্দার! ফি কথা? 
বল্‌তে কি ঘ'টে যাবে,--তাই মনে ভয় হয়! তবে তুমি অতি সঙ্জন 
লোক, তাই তোমাকে ছুটো প্রাণের কথা বল্তে সাহস হয়! নইলে, 
আর কাউকে এ সকল কথা বলতে পারিকি? -- 

গহর আলি। তবে আবছুল মিঞার বাড়ী জালার মধ্যে কোনও 
রহস্য আছে নাকি”? . ৃ 

হলধর। রহস্ত?-_রহস্ত যোল আনাই ! তুমি সাদাসিদে মানুষ ? 
প্যাচ ফের কিছু বোঝ না। তাই তুমি ষাশুন্ছে, তাই বিশ্বাস করেছ! 


কমলিনী-নঃহিতা-মন্দিয় 


প্রণীভ-_“মণিবেগম' | ,্ী ৮ 


কিন্ত আমার স্বচক্ষে দেখা! "মামি কি ক'রে অন্ত কথ বিশ্বাস” 
কমর্তে পারি? 

গন্র আলি। বলেন কি? আপনি স্বচক্ষে দেখেছেন ! 

গহর আলি সর্দার বিশ্মিত হইয়। টৈত্র মহাশয়ের মুখপানে চাহিয়া 
রহিল । | ৰ 

হলধর মৈত্র বুঝিলেন,--ওষধ একটু ধরিয়াছে। তিনি আরও একটু 
জেরের সহিত বলিলেন,__-”আমি স্বচক্ষে ন দেখলে কি আর এমন ক'রে 
ব'ল্তে সাহস পাই! জানই তে| হরিদেব রায় আমার কত আম্বীয্স ! তবু 
ধে আমি তার বিরুদ্ধে এমন কথাটা ঝ+ল্ছি, বিশেষ কোনও কারণ না 
থাকলে কি আর মিথ্যা ক'রে ঝ্ল্তে পারি ? ব'ল্তে কি গহর, আবছুল 
মিএার ঘর-জালানর পর থেকেই হরিদেব রায়ের প্রতি আমার দাক্ষণ 
দ্বণা হয়েছে । পয়সার লোভে কি এমন ক”রে একজনকে উদ্বাস্ত কর! 
উচিত ? হরিদেব রায় যে রকম আরম্ভ করেছে, কোন্‌ 'দিন বা তোমার- 
আমারও কি সর্বনাশ ক'রে বঝস্বে! গহর 1-_তুমি বাদ এর কোনও 
প্রতিকার কণ্র্তে পার, ভাল, আমি এ গ্রামে থাকি । নয় তে। এ টপত্রিক 
ভিটে ত্যাগ ক'রে আমায় অন্ত দেশে পালাতে হয় !” 

গহর আলি আর অবিশ্বাস করিতে পারিল না। আবছুল গাহার 
আত্মীয় লোক । হরিদেব তলায় সেই আবছুলের বাড়ী পুড়াইয় “দিয়াছে, 
আর হলধর মৈত্র স্বচক্ষে তাহ! দেখিক্সাছেন ;--উহাতে গহরের প্রাণের 
ভিতর রোষ-বহ্ধি জলিয়া উঠিল। গহর বলিল,--."এ যদ্দি হয়, তা হলে 
তে! আর এদেশে বাস করাই চলে ন! !” 

সুরে স্থরে মিশাইয়া হলধর মৈত্র বলিয়া! উঠিলেন,-_-পআহমিও তে 
তাই ঝ»লছিলাম ! তোমার মত লোক দেশে থাকতে, এ অত্যাচারের যদি 
প্রতিকার ন! হয়, তবে জার কোন্‌ সাহসে দেশে থাক্‌ব ?” 


১১৪ নং জাহিরীটোলা হ্বীট, কলিকাত ॥ 


৯৮ | মি ্রীহূর্গাদাস লাহিড়ী" 


গহর আলি উত্তেজিত কঠে কিল,--"সত্যই বলেছেন আপনি 1 এর 
প্রতিকার ক"র্তেই হবে !*. 

গহর আলি এই পর্যান্ত বলিয়াছে, এমন সময় উর্ধশ্বাসে দৌড়িতে 
দৌড়িতে রাখাল বাড়ীর মধ্যে প্রবেশ করিল। তাহার শিছু পিছু চারি পাচ 
জন গ্রী-পুরুষ হ্াপাইতে হাপাইতে বহির্বাটীতে আপিয়। উপস্থিত হইল। 

হলধর মৈএ বুঝিলেন--ব্যাপার গুরুতর । বুঝিলেন,-_ রাখাল 
নিশ্চয় কাহারও কিছু অনিষ্ট করিয়া আসিয়াছে । কিন্তু সে কথ পাছে 
গহর আলি বুঝিতে পারে, তাই তিনি, কাহাকেও কিছু না কহিয়া, পুর্ববেই 
গহর আলিকে সঙ্বোধন করিয়! কহিলেন,--“দেখ্লে গহর !-ব্যাপারখানা 
একবার দেখলে? এই দেখ; চোখের উপর দেখ! একট] ছেলে 
আমার 7 তার উপর কি অত্যাচার ! একবার দেখে যাও তুমি! এতে কি 
আর এ গ্রামে বান্ত কর চলে ? তুমি নিশ্চয়ই জেন,--এ সব সেই হবিদেব 
বায়ের চক্রান্ত !” 

গহর বলিল,--"আমি সব বুঝেছি । আমায় আর কিছু ব্ল্তে হ'বে 
না। আজ আমি এখন আসি। পরশু সন্ধ্যার পর, এ বিষয়ে একট? 
হেন্ত-নেস্ত করা যাবে!” | 

গহন আলি চলিয়! গেল। রাঁখলের অনুসরণকারিগণ হলধর মৈত্রের 
সম্মুখে আসিয়া চীৎকার করিতে লাগিল। সকলে সমস্বরে বলিয়া উঠিল, 
তোমরা কি আর আমাদের গায়ে থাকতে দেবেনা £” 

হলধর নৈত্রৈ সাস্বনা-দানচ্ছলে কহিলেন,__“কেন-কি হয়েছে? 
বলই না শুনি।” | 

তারিণীর মা সকলের আগবাড়। হইয়া! কহিতে লাগিল,--”আমার 
ছুখীকে কি মারটা মেরে এয়েছে, একবার দেখবে এস। ছু *ড়িটের নাক 
'দিয়ে গল্গল্‌ ক'রে রক্ত পড়ছে । এমন মারও কি মানুষে মারে?” 


ক্মলিনী-সাহিত্য-মন্বির, 


প্রদীত-'মপিবেগম- | ্‌ ৯৯ 


হলধর মৈহ ষেন হি ক্ছুই রিও পারিনি না। তিনি জিজ্ঞাসা 
'করিঙেন, -কে মেরেছে, ' কেন মেরেছে ?" 

*তারিণীর মা । আর কে মার্বে,-তোমার ওঁ গুণধর ছেলে! | অমন 
ছেলে বেঁধে রাখ তে পার না? 

সঙ্গে সঙ্গে হরমণি হাত-মুখ নাড়া দিয়া বলিয়া উঠিল,-ঞ্যেন “কিছু 
জ্তানেন না! স্তাকা আর কি! ছুঁড়িটাকে বেদম মেরেছে । মেরে 
আবার তার হাতের পৈচে ছড়1 কেড়ে নিয়ে এল গ! ?” | 

তারিণীর ম। ও হুরিমণি ক্রমশঃ অনেক রূঢ় কথা, কছিতে আরম্ভ 
করিল। আর আর যাহার! সঙ্গে ছিল, তাহারাও আস্ফালন করিতে 
লাগিল। গগুগোপ শুনিয়া, নিমাই মণ্ডল সেইখানে আসিয়া উপস্থিত 
হইল 1০ ৃ | 

নিমাই মণল ' আসিকা প্রথমে গণ্ডগোল থামাইখারু চেষ্টা পাইল। 
ভারিণীর মা ও হরিমণিকে লক্ষ্য করিয়া কহিল,_“তোর! ,একটু আস্তে 
কথা কইতে পারিস্নে ॥ কার সঙ্গে কি ভাবে কথা কইতে হয়, সে 
জ্ঞানটা তোদের নেই ! তোরা একটু থাম বাপু? কর্তী মশায়কে কথাট। 
একবার শুনতে দে।” 

নিমাই মণ্ডল বলিতেছে। সুতরাং হরিমণি ও তারিণীর মা শাস্ত 
'ভুইল | : নিমাই মণ্ডল গ্রামস্থ নিয়শ্রেণীর হিন্দুদিগের মধ্যে একজন 
আতব্বর ব্যক্তি । হলধর মৈত্রও তাহাকে বিশেষ খাতির করেন। 

নিমাই মণ্ডল কহিল,--প্ঠাকুর মশায়! ভ্ভাপনার ছেলের জন্য 
আমাদের গ্রামে টেকা দায় হয়েছে । সেদিন আবছুল মিঞার ঘরখানায় 
আপনার ছেলেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। আপনাকে আমর! মান্ত 
করি বলে, জান্তে পেরেও 'সৈ কথ! প্রকাশ করি-নি। আজ আবার 
কৈ করে এপ, শুনতেই তে। পাচ্ছেন। আপনাদের ছেলে-পিলেকে 


১১৬ নং আহিরীটোলা উট, কলিকাতা । 


৩৩ | শরীুর্গাদাস লাহিড়ী. 
আমরা তো! কিছু বল্তে পারিনে ! কিন্ত সকল লোক তে সমান নয়! 
কোন্‌ দিন কে রাগের মাথায় কি ক'রে ব'স্বে, তখন আপনি আমাদের' 
দোষ দিতে পার্বেন না। রোজ রোজ এমন অত্যাচার ক'রূলে কে, 
সইতে পারে ? . 

গগন দাস যুবাপুরুষ ; সম্পর্কে ছুখীর খুড়! হয়) রাগে গরগর' 
করিতেছিল। নিমাই মণ্ডলের কথা শেষ হুইতে না হইতে বলিয়া উঠিল, 
--"আমি যদি আজ রাথালেটাকে ধ'র্তে পার্তাম, টুকৃরে! টুকরে। করে 
ফেল্তাম !” 

নিমাই মণ্ডল একটু রুত্মস্বরে তাহাকে নিরস্ত করিবার জন্য কহিল, 
খাম! আর বকিস্নে 1” ্. 

গগন দাস নিরন্ত হইল। নিমাই মণ্ডলের নভ্রভাব দেখিয়া! হলধর- 
জিজ্ঞাসা করিলেন,_-“কেন, কি হয়েছে নিমাই ! খুলেই ব'ল ন! কন ?* 

নিমাই মগুল'একে একে সকল কথ! বিবৃত করিল । ছুথীকে বিষম 
প্রহার, তাহার হাত হইতে পৈছ! ছিনাইয়৷ লওয়া, তাহাকে ফেলিয়া 
দয়া পৈছ। লইয়! ছুটিয়া পলায়ন করা,--একে একে রাখালের সকল: 
কীত্তিপ্কাহিনী নিমাই মণ্ডল বর্ণনা করিয়া গেল। কেবল একদিনের: 
কথা নহে; কোন্‌ দিন রাখাল কি করিয়াছে,-_কোন্‌ দিন সে সনাতন 
দাসের আম গাছ হইতে আম পাড়িয়া আনিয়াছিল,কোন্‌ দিন সে 
মুখিষ্টির ঘোষের ছুধের কলসীতে মুত্রত্যাগ করিয্নাছিল,2-কোন্দিন সে 
অজ্ছুন পরামাণিকের ঘরে ঢুকিয়৷ চাল-দাল ছড়াইয়/ দিয়াছিল,_-একে 
একে সকল বিষয়ই উল্লেধ করিল। শেষ বঙ্গিল,“এখন আসক্ককে রং 
বিষ্নটা আপনি বিচার করুন। ছুঘীর পৈছে ছড়ট1 আনিয়ে দেন।” 

নিমাই মণ্ডল আসিয়াছে"; তাহাকে অসন্তুষ্ট করিলে, ভবিষ্যতে নান! 
অমঙ্গলের সম্ভাবনা! আছে ।-_এইরূপ সাত-পীচ ভাবিয়া, হলধর মৈত্র 


ফষলি নী-সাহিতা-মন্দির, 


প্রশীত--মশিবেগম' ১৬১ 


একটু রোবভরে পুত্র রাখালকে ডাকিতে লাগিলেন। বলিলেন,_*পাঁজি 
ছেলে, নচ্ছার ছেলে! আজ হাড় একঠাই, আর মাস এক ঠাই করব 1” 

আগস্তকগণ বুঝিল,--মৈত্র যহাশয় আজ সত্য-সতাই চটিয়াছেন। 
তাহাদের মনে হইল,_-আজ সত্য-সতাই কোনও প্রতিকার হইবে । 
সুতরাং তাদের উত্তেজন1 একটু কমিয়া আসিল । 

পুনঃপুনঃ মৈত্র মহাশয় রাখালকে ডাঁকিতে লাগিগেন রাখাল কোনই . 
উত্তর দিল না; সে কেবল ঠাকুর-মার অঞ্চলকোণে লুকাইবার চেষ্টা 
পাইতে লাগিল। রাখালের ঠাকুর-ম| সকলই বুঝিয়াছিলেন। হ্তরাং 
তাহার মনে হইল, এ সময় হলধ্র বেরূপ ক্লাগান্বিত হইয়াছে, তাহাতে 
তাহার সহায়ত। ভিন্ন রাখালের আজ আর নিন্তার নাই। তাই তিনি 
আপনিই রাখালকে সঙ্গে লইয়া, বহির্ধাটাতে আগমন করিলেন। 

রাখালকে দেখিয়া হলধর মৈত্র আম্ফালন করিয়া তাহাকে গালাগালি 
দিয়া উঠিলেন |. 

রাখালের ঠাকুরমা! পুল্র হলধরকে জিজ্ঞাসা করিলেন,_-”কেন! 
রাখাল কি করেছে ষে, তুই অমন ক'রছিস্‌?* . 

হলধর মৈত্র কতই রাগভাব প্রকাশ করিলেন । কহিলেন,--*জান। 
না? এ শোন-নিমাই মগডলের মুখে শোন 1” এই বলিয়া, নিমাই 
'মগুলের নিকট তিনি যাহা শুনিয়াছিলেন, একে একে সকল কথা কহিয়! 
গেলেন। | 

রাখালের বিশ্বাস ছিল,--”সে বতক্ষণ ঠাঁকুর-মার নিকট আছে, 
ততক্ষণ তাহার গায়ে কেছ আঁচড়টি পর্যন্ত দিতে পাঁরিবে না। সেই 
সাহসই--তাহার প্রধান সাহম। সেই সাহসে ভর করিয়া, রাখাল ঠাকুর- 
মাকে বলিল, “না ঠাকুর-মা, কৈ আমি তো কিছুই করি-নি।” 

রাখালের ঠাকুর-মাও সেই সরে সুর মিলাইয়! বলিয়া উঠিলেন, “সা, 


১১৪ নং আহিরীটোল। ছুট, কলিকাতা 
ভিওএ 


১০২ | শ্রীতগাঁদাস লাহিড়ী- 


তাই তো! রাখাল তো৷ আজ বাড়ীর বাইরেই যায়নি) ও তো! আজ 
বাড়ীতে বসেই খেল। কর্ছে 1”. 
রাখালের ঠাকুর-মার এই উত্তরে, তারিণীর মা ক্রোধ সম্বরণ করিতে 
পারিল না। সে বলিতে গেল,_-৭এই তো রাখালেটা ছুটতে ছুটতে বাড়ী, 
ঢুকলো ! চোখের মাথা কি সব খেয়ে বসেছ ?” ৃ 
নিমাই মণ্ডল তারিণীর মাকে গালি দিয়া উঠিল ; সাবধান করিবার 
উদ্দেস্ত্ে কহিল,_-“কার সঙ্গে কি রকম কথাবার্তী কইতে হয়--ত1 যখন: 
জানিস্নে, তখন কথা কইতে যাস কেন?” এই বলিয়া, মৈত্র-মহাশয়কে 
লক্ষ্য করিয়া, নিমাই মণ্ডল কহিল,---“মা-ঠকরুণ কাজ-কর্মে বাস্ত ছিলেন) 
তাই হয়-তে! দেখতে পান-নি। নৈলে বাখাল ষে ছুবীকে ফেলে দিয়ে 
তার গৈছ। ছড়। নিয়ে এয়েছে, ত কে না দেখেছে ?” 
রাখাল আবার বলিল-_“আমি নিই-নি |” রাখালের ঠাকুর-মাও, 
হলধর মৈহ মনে মনে সকলই বুবিয়াছিলেন। কিন্তু রাখালও পৈছার 
কথ! অস্বীকার করিতেছে; আর জননীও রাখালের পক্ষ অবলম্বন 
“করিয়া তাহাব্র কথাই সনর্থন'করিতেছেন। সুতরাং এ সুযোগ তিনি 
কি পরিত্যাগ করিতে পারেন ? তথাপি নিমাই মওলের মন রক্ষার জন্ত 
বলিলেন,--“দেখ নিমাই ! রাখালও ' অস্বীকার ক"র্ছে ; মাও বল্ছেন, 
--বাখাল পৈছ। আনে-নি। এ অবস্থায় কি করুতে পারা যায়? তা'়াই, 
হোক, আমি তল্লাস ক'রে দেখুব-তুমি এখন সকলকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে 
বাড়ী নিয়ে যাও। “যদি পৈছা আমার বাড়ীতে এদে থাকে, তুমি নিশ্চয় 
জেন, আনি তোমার কাছে তা পৌছে দেব। ' তবে যদি বাড়ীতে ন! 
খসে থাকে, তা হ'লে আর--” | | | 
হলধর মৈত্র আম্ত! আমৃতা করিতে লাগিলেন । 
এ. কষযলিনী-লাহিতা-মন্দির, | 


প্রণীত---“মণিবেগম' ১০৩ 


নিমাই মণ্ডল কহিল,--“আপনার বাড়ীতেই পৈছ। এয়েছে। তাতে আর' 
কোনও সন্দেহ নেই |. যেমন ক'রে হোক,সে পৈহা-ছড়। খুঁজে দিতে হবে 1, 

“আচ্ছা তা--ভা--ত1 তোমরা! এখন যাও।. আমারই অগেষ্টে* দণ্ 
আছে দেখছি 1” 

হলধর মৈত্র এইরূপ ভাবের কথা-বাত্! কহিয়া, নিমাই মণ্ডল 
গ্রভৃতিকে বিদায় দিবার চেষ্টা পাইলেন। * 

তারিণীর ম। কিন্তু সে কথা শুনিতে চাহিল না। সে বজিল,-_ 
“খোজাখুজির ধার ধারিনে। পৈছে এখনই দিতে হবে। ঙ্ই মাত 
নিদ্বে এল ; তার আবার খোঁজাখুঁজি কি ?” 

কিন্তু মৈত্র মহাশয় এননই মিষ্ট ভাষায় নিখাই মগ্ডলকে তুষ্ট করিলেন 
যে, নিমাই মণ্ডল আর দ্বিরুক্তি করিতে পারিল ন।। অন্তান্ত সকলে সে কথ 
শুনিতে ন৷ চাহিলেও, হলধর মৈত্রের অনুরোধ, নিমাই মণ্ডপ স্র্জকে 


বুঝাইয়! লইয়! গৃহে প্রত্যাবৃত্ত হইল। 





তৃতীয় পরিচ্ছেদ । 





পরান (১ 


বিষ-বীজ | 
ইন্দ্িয়নাং হি চরতাং যল্মনোতনববিষীয়তে । 


তদস্ত হরতি প্রজ্ঞাং বারুর্নাবমিবাস্তসি ॥. 
-শইঈমন্তগবদ্গীতা। 


পরার প্রতিদিনই পুত্রর জন্ত পিতামাতাকে লোকের লাঞ্জনা-গঞ্না 
সহ করিতে হয়। সহিদ সহিয়া অসহা হওয়ায়, হলধর মৈত্র এবদিন 


১১৪ নং জাহিরীটোলা ভ্রীট, কল্লিক'ত | 


১০৪ শ্রহূর্গাদাস লাহিড়ী- 


পুত্রকে একটু তিরস্কার করিলেন ; কহিলেন,--"গোপাল আর তুই-- 
এক সঙ্গের খেলার সাথী ছিলি। সে রাজা! হইতে 'চলিল) আর তুই 
লোকের তিরস্কার-গঞ্জনার পাত্র হইলি| নিজের অবস্থার উ্নতি-সাধনে 
তোর একটুও চেষ্টা নাই ?” 

গোপাল রাজা হইয়াছে, আর রাখাল লোকের নিকট পদে পদে 
অপমানিত ও লাঞ্ছিত হইতেছে;--ভর্খলনা করিয়া হলধর মৈত্র যেদিন 
এই কথ কহিলেন ; রাখালের মন একটু চঞ্চল হইল। পিত! আর 
আর যাহা কিছু বলিলেন, সে সকল কথ! রাখালের কর্ণে স্থান পাইল ন1। 
রাখাল সকল কথাই শুনিল বটে; কিন্তু এই কথাটি তাহার হাদয়ের 
অন্তস্তলে গিয়৷ আঘাত করিল। এই দিন হইতে রাখাল সদাই ভাবি 
লাগিল,-কি করিয়। গোপন ন্যায় রাজোম্ব্য্যের অধিকারী হইতে:পারি 1 

যতই দিনের, পর দিন কাটিতে লাগিল, বৎসরের পর বৎসর চলিয়। 
গেল, রাখালের প্রাণের ভিতর সেই চিস্তা সেই আকাঙ্ষ। পল্লবিত মুকুলিত 
হইতে লাগিল। 

ইতিমধ্যে নাটোর রাজধানী হইতে এক নিমন্ত্রণপত্র আমিল। 
মহারাণী ভবানী সেই নিমন্ত্র-পত্রে ব্রাঙ্গণগণকে রাজধানীতে পদধূলি 
প্রদানের জন্ত আহ্বান করিয়াছেন । রাখাল মনে মনে স্থির করিল,-- 
“এই এক অবসর বটে ! গোপাল আমার খেলার সাথী: ছিল। একটা 
ফল খেতে পেলে, সে তাহার অর্জেক আমাকে না দ্িয়া-খেত না) এক 
মুঠে। মুড়ি খেতে গেলে, অদ্ধেক মে আমার জন্ত রেখে দিত। সে এখন 
অতুল সম্পত্তির অধীশ্বর-সে সম্পত্তির কিছু অংশ আমার দিতে 
পারে নাকি ?” 

এই ভাবিয়া, নিমন্ত্রণ উপলক্ষে বিটি নীরব গিয়া রাখাল 
একবার গোপালের সহিত সাক্ষাৎ করিতে কৃতসঙ্কল্প হইল । মনে মলে 


 ফষমলিনী-সাহিতা-মন্দির, 


প্রণীত-'মণিবেগম' ১০৫ 


কহিল--“আমি স্পট করিয়া সকল কথ! গোপালকে খুলিরা বলিব। 
শৈশবের সকল কথা'তাহাকে শ্মরণ করাইরা দিব। তাহ! হইলে, নিশ্চন্ন 
সে তাহার রাজত্বের কতক অংশ আমায় প্রদ্দান করিবে ।” 

এইবপ ভাবনায় বিভোর হইয়া, রাখাল বখন এশ্বধ্যের সুখশ্থপ্র 
দেখিতে লাগিল, আশার আলোকে কখনও তাহার হৃদয় উদ্ভানিত হইয়! 
উঠিল, কখনও ব! নৈরান্ঠের মেধ আসির! তাহার হৃদয়কে আচ্ছন্ন করিয়া 
তুলিল। একবার তাছার মনে হইল,__“গোপাল আমার আশ! পূর্ণ 
করিবে ; সে কখনই আমার প্রার্থনায় উপেক্ষ। করিতে পারিবে ন11” 
পরক্ষণেই আবার তাহার মনে হইল,--প্যি গোপাল আমার প্রার্থনা 
পুরণ না করে, এশ্বরধ্য-মদে মত্ত হইয়া সে হদি আমার প্রতি উপেক্ষা 
করে।” রাখাল আপনা-অপনিই সে প্রসশ্্রের মীমাংস! করিল,--”উপেক্ষা 
করে, বাজা না ছ্বেয়, অন্ত পথ. আছে। আমার সন্কল্প,যেমন করি! 
ভউক, গোপালের সম্পত্তি__গোঁপালের পরশ্বধ্যের কতক অংশ আমায় 
হস্তগত করিতে হইবে।” 

ঈর্ধ্যানলে রাখালের হৃদয় অলিয়া উঠিল । রাখাল, যনে হনে কহিতে 
লাগিল,--*গোপাল অতুল ্শ্বধ্যের অধীশ্বর, জার আমি পথের ভিখারী ! 
ইহা কখনই সহ হইবে না। ছলে বলে কৌশলে যেমন কিয়! এ 
খবস্থার পরিবর্তন করিতেই হইবে 7 


১১৪ নং আহিস্থীটোজ। ছি, কমিক । 


১০৬ শ্হ্গাদাস, লাহিড়ী- 
. চতুর্থ পরিচ্ছেদ । 
ক্রাঙ্গণ | 


“কোটি ব্রক্ষাগ্ডমধোষু স্তি উর্খানি বানি বৈ। 
তীর্থানি তানি সর্ধাণি বসন্তি ছিজপাদয়োঃ 
_-পদ্মপুরাণ | " 


পোস্ পুত্র-গ্রহণ-উৎসবের সমারোহ ব্যাপার শেষ হইতে না হইতেই 
নাটোর রাজধানী আবার এক উৎসব-নমারোহে মুখরিত হইয়া উঠিল। 

প্রতিদিন সুধ্যোদয় হইতে সু্যান্ত পর্যযস্ত দেশ-দেক্কাত্তর হইতে 
ব্রাঙ্মণগণ আলিয়া! নাটোর-রাজধানীতে সমবেত হইতেছেন। ব্রাহ্মণগণ 
বলিতে--কেবল যে নৈয়ারিক, বৈদাস্তিক বা স্মার্ত পণ্ডিতগণ আসিয়া, 
উপস্থিত হইত্েছেন, তাহা নহে। ব্রাক্ষণগণ বলিতে--কেবল যে রাজ. 
বাটার সংশ্রব-যুক্ত ব্রাহ্মণগণ আলিতেছেন, তাহা নহে। ব্রা্ষণগণ 
 খআসিতেছেন,--গ্রাম-গ্রামান্তর হইতে-দেশ-দেশাস্তর -হইতে। বুধ 
আসিতেছেন, যুব! আসিতেছেন, প্রৌঢ় আসিতেছেন, বালক আসিতেছেন, 
_ উপনীত উপবীতধারী ত্রাহ্মণ-মাত্রেরই নাটোর-রাজরধনীতে এ উৎসকে 
সমাদরের অবধি নাই। মহারাণীর দেওয়ান দয়ারাম রায় ও মহারাণীর 
মাতুলপুত্র চন্্রনারারণ ঠাকুর, সকল রাজকর্মচারিগণকে, সঙ্গে লইয়া, 
প্রাণপণযত্বে দিবা-রাত্রি ব্রাহ্মণগণের পরিচর্ষাক্-নিযুক্ত আছেন । নাটোর-. 
রাজধানীতে এতাধিক জঙ্গণের সমাগম আর কখনও হয় নাই) এব, 


যে মর , 
না রর বেযাল্রি 
* ্ বি 





প্রধীত-_“মণিবেগম, ১০৭ 


সমাগত, সকল ব্রাহ্মণের সমভাবে এন্ধপ পরিচধ্যার ব্যবস্থাও আর 

 কখনও,হয় নাই। 
এতাধিক ব্রাহ্মণের সমাগম, আর সকল ব্রাহ্মণের সমভাবে পরিচর্যার 

ব্যবস্থা,---এ আবার কি নূতন উৎসব! মহারাণী ভবানী মনস্থ করিয়াছেন 
__লক্ষ ব্রাহ্মণের পদধুণ্ল গ্রহণ করিবেন। লক্ষ ব্রাহ্মণের পদীধৃলি- 
সংগ্রহে যে কি পুণ্া, মহারাণী অনেক দিন পূর্বে আপন গুকুদেবের মুখে 
তাহ। গুনিয়াছিলেনঞ লক্ষ ব্রাঙ্গণের পদধূলি সংগ্রহ বজীতে পারিলে, 
সর্ব্বাভীষ্ট সিদ্ধ হয়, বিজয় লাভ হইয়। থাকে । সে পদধূলি অঙ্গে 
ধারণ করিলে) দেহ সর্বরোগ হইতে মুক্তিলাভ করে। সেই ধূলি ধিনি 
সংগ্রহ করিয়া দিতে পারেন; অশেষ পুণ্যভাগী হইয়া তিনি অক্ষয় স্বর্গ 
লাভ করেন। গুরুদেবের নিকট সেই কথা শুনিয়া! অবধি-লক্ষ-ব্রাঙ্গণের 
পদধুলি-সংগ্রহে মহারাণী সন্তল্প করিয়াছিলেন । অনেক, দিন হইতে সে 
সঙ্কল্প তাহার মনে জাগক্ুক ছিল। আজ মহারাণী সেই সঙ্কল্প সিদ্ধ 
করিবেন | তাই আজ দেখ-দেশান্তর হইতে ব্রাঙ্ষণগণকে নিমন্ত্রণ করিয়! 

আনয়ন কৰ্রিম্নাছেন,-তাই আজ াঙ্মণ-মাত্রেরই বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা! 
রা | 

নি্দি্ট তিথি-লগ্নে লক্ষ ব্রাহ্ণকে এক স্থানে ভি ভিন্ন আপনে 

বসাইয়াঃ তাহাদের পদধূলি গ্রহণ করিতে হয়। লক্ষ ব্রাহ্মণের বসিবার, 
জন্ত তাই লক্ষাধিক কাষ্ঠাসন নির্মিত হইগ্লাছিল ;--লক্ষ ব্রাঙ্গণের 'অব- 
স্থানের জন্য তাই বহুবিস্তৃত মণ্ডপসমূছে সহরের শোভা -সম্বর্ধন করিয়াছিল। 
:পৰধূলি-গ্রহণ-উপলক্ষে মহারাদী প্রত্যেক ব্রাঙ্গণকে বখাযোগ্য পাথেয় 
প্রধানের ব্যবস্থা করিয়াছিলেন ) এবং এই পদধূলিদান-উপলক্ষে ব্রাহ্মণগণ 
সকলেই -উপযুক্ত-রূপ বিদায়-সম্মানে সম্মানিত হইয়াছিলেন। 

গত বৈশাখের রামনবমী তিথিতে এই পধধূলি-গ্রহণোত্সব আরস্ত 


১১৪ নং খাহিরীটোগা কীট, কলিকাতা । 






১০৮  শ্রীতুর্গাদাস লাহিড়ী- 


হয়। তাহার পূর্বেই লক্ষাধিক ব্রাহ্মণ নাটোরে আসিয়া উপনীত 
হইয়াছিলেন। পদধুলি-গ্রহণোৎ্সব থে কি অপূর্ব দৃশ্ত,--বর্ণনার ॥ 
তাহা বুঝাইবার নহে। অর্ধ-বজেশ্বরী মহারাণী ভবানী, কুমার 
রামকষ্ণকে সে লইয়া, দীন। ভিথ্যরিনীর স্তার ত্রাঙ্গণগণের পদতলে 
বিলুষ্টিত হইতেছেন ) আৰ ব্রাহ্মণগণ--বালক, বৃদ্ধ, যুবা, প্রৌড-_দকলেই 
চরণ-ধুলি দানে তাহাদিগকে গুভাশীর্কাদদ করিতেছেন ।-_-সে এক অপুর্ব 
দৃশ্বা! মহারষ্ভ্ প্রত্যেক ব্রাহ্গণের আপন-সমীপে উপনীত হইয়া! প্রণতি- 
পূর্বক ক্রাহাদ্দের চরণরেণু গ্রহণ করিতেছেন; আর কুমার রামু, 
তাছার পশ্চাৎ পশ্চাৎ গমন করিয়া, একখানি স্র্থপাত্রে সেই চরণ-রেণু- 
সমূহ সংগ্রহ করিতেছেন । , এইরূপে এক এক মণ্ডপের ব্রাহ্মগণগণের 
পদধুলি-গ্রহণ-কাধ্য সম্পন্ন হইতেছে, আর তীছার। অন্ত মণ্ডপে প্রবেশ 
করিতেছেন। রামনবমী হইতে আরম্ভ করিয়া! প্রায় তিন মাসে মহারাণ। 
লক্ষ-তরাঙ্মণের পদধূলি সংগ্রহে সমর্থ হইয়াছিলেন। . 

সেই তিন মাস কাল নাটোর-রাজধানীতে 'মহামহোৎসব চলিয়াছিল। 
সেই তিন মাস কাল যে ব্রাহ্মণ যে প্রার্থনা জানাইয়াছিলেন, যে ব্রাঙ্ছণ 
যেরূপ ভক্ষা-ভোজোর আকাঙ্ষা প্রকাশ করিয়াছিলেন,২-রাজ-সংসার 
হইতে তাহাকে তাহাই প্রদান কর! হুইয়াছিল। সে কয়েক মান কত 
ত্রাঙ্গণের কত আব্দারই যে মহারাণীকে রক্ষা) করিতে হইয়াছিল, তাহার 
ইয়ত্ত। হয় না। রামনবমী তিথিতে--বে দিন ক্রাঙ্মণগণের পদধূলি-গ্রহণ 
আরম্ভ হয়, সেই দিন আহারে বসিয়া, দক্ষি-দেশীয় কয়েক জন ব্রাঙ্মণ 
সন্ভঃ-চাক-ভাঙ্গা মধু খাইতে চাহেন। সন্ভ:-চাক-ভাঙ্গ। মধু-হঠাৎ তখন 
ফি প্রকারে সংগ্রহ হওয়া সম্ভবপর ! সে সময়ে এক তো! মধুচক্র সংগ্রহ 
হওয়াই দুর; তাহার উপক্ঝ আবায় আহারে বসির ত্রাক্ষণগণের' মধু- 
পানেচ্ছা ! কি করিম! সে ইচ্ছ। পূর্ণ হইতে পারে? হই এক দিন পূর্বের 


প্রণীত---“মণিবেগম' | ১০৯ 


ংবাদ পাইলে, রাজ-ভৃত্যগণ কোন-না-কোনও স্থান হইতে মধুচক্র সংগ্রহ 
করিয়া আনিতে পান্রিত | কিন্তু মুহূর্তমধ্যে ধুচক্র এখন কোথায় মিলিবে ? 
 "চন্রনারায়ণ ঠাকুর বখন ব্রাহ্ণগণের মধুপানাকাজ্ফার সমাচার 
 মহারাণীর নিকট ভ্তাপন করিলেন, মহারাণী তখন বড়ই চিস্তাতিত। 
হইলেন। সে অসময়ে সন্তং-চাক-ভাঙ্গা মধু কোথায় পাওয়া যাইবে? 
মহারাণীর বই ভয় হইল,__"তবে কি ব্রক্ষণগণের তৃতপ্তিসাধন করিতে না 
পারিয়! 'প্রত্যবায়ভাগী হইব ? তবে কি আমার সকল কশ্ম পণ্ড হইবে ?” 
মহ্ছারাণী এ বি্ষিয়ে দয়ারাম রায়ের সহিত চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুরকে পরামর্শ 
করিতে কহিলেন; বলিলেন,--প্যদি কোনও উপায় থাকে, আপনি 
তাহার বাবস্থা করুন। এ ঘ্অবস্থায় ধাঁদ কেহ এ্রন্বপ মধু সংগ্রহ করিতে 
পারেন, আমি তীহাকে বথোচিত পুরস্কার দিব। আপনি সে পুরস্কারের 
বিষর় এখনই ঘোষণ! করিয়া দেন ।” 

চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুরকে প্রকান্তটে এই কথা বলিয়া, মহারাণী ভবানী 
মনে মনে জগজ্জননীকে ডাকিলেন-_-“হে মা ভবানী! যেন আমার কর্ম 


পণ্ড না! হয়|” 
এই সময় দয়ারাম রায় আলিয়া কহিলেন,- “মা! কোনও ভাবন! 


নাই। আপনার অভীষ্ট-পিদ্ধির পক্ষে কোনও বিশ্ব ঘটিবে ন7া। আমি. 
ভাগ্ডারে সন্ধান করিতে গিয়। শুনিলাম, মধুর অভাব হইবে না। তাই 
তাড়াতাড়ি সংবাদ দিতে আনিয়াছি।” 

চন্দ্রনারাঁয়ণ ঠাকুর ডিজ্ঞালা করিলেন,-__প্কিরূপে কোথা হইতে মধু 
গ্রহ হইল ?” | 

দয়ারাম। নবদীপাধিপতি মহারাজ কষ্ণচন্ত্র একখানি নৌক! 
কঠিয়া অনেকগুলি মধুর চাক পাঠাইয়। দিয়াছেন। সেগুলি নৌকার 
মধ্যে ঝুলান আছে। মক্ষিকাগণ এখনও সে মধুচক্র পরিত্যাগ করে 


১১৪ নং আহ্রীটোল! টি, কলিকাতা! । 


১১৩ 1. শ্রীর্গাদাস লাহিডী- 


নাই। নৌকা হইতে সেই মধু আনয়নের জন্ত বাঁমরূপকে পাঠাইয়াছি। 
এখনই মধু আসিয়া পৌছিবে।” 
মহারাণীর আনন্দের আর অবধি রহিল না। . তিনি মনে মনে মা- 

ভবানীর নিকট কৃতজ্ঞত। জানাইলেন। এই মধু-সংগ্রহ উপলক্ষে দয়ারাম 
রায়ের উপর মহারাণী এতই সন্ত হইয়াছিলেন যে, এই সুত্রে তিনি দয়ারাম 
রায়কে লক্ষাধিক টাক! মূল্যের ভূসম্পত্তি দান করিগাছিলেন। সে সম্পত্তি 
আজি পথ্যস্ত দয়ারাঁম রায়ের বংশধরগণ ভোগ করিয়া আসিতেছেন। 

- অনতিবিলঘ্ধে মধুচক্র লইয়। রামরূপ প্রত্যাবৃত্ত হইল। চন্ত্রনারারণ 
ঠাকুর উপস্থিত থাকিয়৷ ব্রাহ্মণগণকে পরিতোফপূর্ববক আহার করাইলেন। 
সেই সগ্ত-চাক-ভাঙ্গ। মধু প্রাপ্ত হইয়া ব্রাহ্মণগণের আনন্দের পরিসীম! রহিল 
না। মহারাণী ভবানীর জয়-নিনাদে দিগন্ত প্রতিধ্বনিত হইল। 


আপাতত 


পঞ্চম পরিচ্ছেদ । 


(00 ০৮ 





অঙ্করোদগম । 
কাম এব ক্রোধ এব রঙ্গোগুণসমুদ্ভবঃ | 
মচাশনে। মহাপাপমা বিদ্ধ্যেনমিহ বৈরিণম্‌ ॥ 
ৃষেনাত্রিয়্তে বহিরথ।দর্শে! মলেন চ। : 
য্‌থাহবেমাবৃতে। গর্ভপ্ত থা তেনেদমাধৃতম্‌ ॥ 
| ... -্িমন্তগবদগীত | 


'লক্ষ ব্রাহ্মণের পদধূলি-গ্রইণ-উৎসব শেষ হইলে, ব্রাঙ্গণগণ একে একে 
বিদান-গ্রহণ করিতে লাঙ্গিলেন । বিদায়ের ভার ভিন্ন ভিন্ব বিভাগের 


প্রদীচ--“মপিবেগষ। ১১৬ 


কর্খ্চারিগণের উপর ন্তম্ত ছিল।. সুতরাং বিদায়-দান-ক্রিগা অল দিন 
মধ্যেই সমাধা হইল & কোনও ব্রাহ্ম? কোনও বিষয়ে মহারাণী ভবানীর 
ব্যবস্থা-বন্দোবস্তের কোনরূপ ক্রুট-বিচাতি দেখিতে পাইলেন না। 

পদধূপি-গ্রহণোংদৰ উপলক্ষে নাটোর রাজধানীতে গমন করিয়া, 
রুমার বামকষ্ের সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্ত, রাধাল প্রতিনিয়ত অবসর 
প্রতীক্ষা করিতেছিল। 

কুমার রামকৃষ্ণ প্রতাহ ব্রাহ্মণগণের পরিচধ্যার জন্য তাহাদের নিকট 
পটমগুপে আগমন করিতেন। কিন্তু সে সময় তাহার অগ্র-পশ্চাতে, 

(বিষণ উপস্থিত থাকিত | পারিষদগণের সে বিষম বাহ ভেদ করিয। 

কুনারের সহিত সাক্ষাৎ কর! বা কুমারকে কোনও কথা বলা-_কাহারও 
পক্ষে সম্ভবপর ছিল ন|। বাহার! এশ্বর্ষোর অধীশ্বর, তাহাদিগকে সন্মুখে 
পাইপেই থে দকল কথ। বলিতে পার! যায় এবং তীহাব্াও সকল কথায় 
কর্ণপাত করেন, তাহা নহে । সুতরাং ছই তিন বার রামের সাক্ষাৎ 
গ্রাইলেও, রাখাল আপন মনোভাব জ্ঞাপন করিবার অবসর পাইল ন! )-- 
তাহার সমস্ত চেষ্টাই বার্থ হইপ। কুমার রামরুষচ বধন শেষদিন 
পটমণ্ডপ পরিদর্শন করিতে গমন করিলেন, সেদিনও রাখাল তাহাকে 
কোনও কথ বলিবার সুযোগ পাইল ন1। 

একবার রাখাল কি-যেন-কি বলিবার 'জন্ত উঠিন্বাছিল। কিন 
কুমারের পার্শ্ব সরগণ তঙংক্ষণাৎ তাহাকে হাত ধরিয়া বসাইয়া দেন। লক্ষ 
বাঙ্গণের মধ্যে-_মদংখ্য বালক, যুবক, প্রৌচের মধ্যে- কুমার রামরুফের 
দ্ট রাখালের প্রতি আরু্ট হওয়! অপগন্ভব বলিলেঞ অস্ুক্তি হর ন1। 
তথাপি একবার তিনি যেন রাখালকে দেখিয়া তাহার সহিত কথ! কহিবার 
"ইচ্ছা প্রকাশ করিক্বাছিলেন.। কিন্ত তাহার পার্থচরগণ তৎক্ষণাৎ তাহাকে 
সে স্থান হইতে সরাইয়া লইয়া বান। 


১১৪ নং আহিরীটোল! স্লুট, কলিকাতা। 


১১২ জীতুর্গাদাস লাহিড়ী- 


পটমণ্ডপে কুমারের গমনাগমন-কালে তাহার সহিত সাক্ষাৎকারের 
চেষ্টা খন কোনক্রমেই ফলবতী হইল না) তখন রাখাল লোকত্বারা 
কুমারের নিকট সংবাদ প্রেরণের চেষ্ট। পাইল। কিন্তু কুমারের নিকট 
কে সে সংবাদ বহুন করিয়া লইয়া যাইবে? সাহসে ভর করিয়া রাখাল 
একবার ঠাকুর মহাশক়দের একজনের নিকট আপনার মনোভাব ব্যক্ত 
করিল ;--একবার কুমার রামককফের সহিত সাক্ষাতের প্রার্থনা জানাইল। 
কিন্তু সেই ঠাকুর মহাশয় স্বয়ং রামকৃষের নিকট সে প্রস্তাব উত্থাপন 
/করিতে পারিলেন না। তিনি অপর একজন উচ্চপদস্থ কর্মচারীকে 
তদ্ধিষয় জ্ঞাপন করিলেন । এইরূপে পূর-পর কর্মচারীদের নিকট সে 
ংবাদ ঘুরিয়! বেড়াইতে লাগিল। সে সংবাদ কেহ শুনলেন, কেহ ব! 
সুনিলেন না । পরিশেষে ন্ধ্যার সময় উত্তর আসিল, “কুমার 
বড়ই ব্যস্ত আছেন ;: কাহারও সহিত সাক্ষাৎ করিবার তাহার অবসর 
নাই।” | 

রাখাল এত করিয়াও কুমার রামকৃষ্কের সাক্ষাৎ পাইল না। সে 
আপনাকে বড়ই. অপমানিত মনে করিল । মনে মনে কহিল,--. 
'এত অহঙ্কার | দেখিতে পাইয়াও কথ! কহিল না। আঙি 
এত করিয়া বলিকবা পাঠাইলাম, সে এত বড় হইল যে, একবার 
সাক্ষাৎ করিতে পারিল না! সে শরশ্বধ্মদে এতই উন্ুত্ত হইয়া 
পড়িয়াছে !" 

রাখাল অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণে প্রতিজ্ঞাবন্ধ হইল। মনে মনে: 
কহিল,--*আচ্ছ, খাক রামকৃষ্ণ ! তুমিই বা কেমন, আর আমিই 
বা কেমন, দেখা ঘাবে এক দিন | তোমার রাজ্য বদি, ছারে-থারে দিতে 
পারি, তোমার এই এই্বরয-গর্ধর যি চূর্ণ. করিতে সমর্থ হই, তবেই 
আমার জীবন সার্থক বলিয়৷ মনে.করিব।* 


প্রণীত---'মশিবেগম ১১৩ 


রাখাল সেই দিনই নাটোর রাজধানী পরিত্যাগ করিল। একাস্ত- 
মনে রামরুষ্ের অনিষ্ট-সাধচন, তাহার ধনৈশ্বধ্য অপহরণে, চেষ্টা পাইতে 
লাগিল। | : 


ষ্ঠ পরিচ্ছেদ । 





পান-গ্াহণ | 


! 
“ভ্িবিধং নযকগ্তেদং দ্বারং নাশনমায্নঃ | 
কাম ক্রোধস্তথ! লোভগ্ুশ্মাদেতজযং তাজেৎ।' 
-ক্রীমন্তগবগঙ্গীত। | 


সকল ব্রাহ্ধণ €দিবায়” লইয়া আশীর্ধাদ করিতে করিতে চলিয়! 
গেলেন । কিস্তু একটা ব্রাহ্মণ “বিদায়? গ্রহণ করিতে চাহিলেন ন1। 
চত্্রনারায়ণ ঠাকুর স্বয়ং তাহাকে “বিদায়ের অর্থ প্রদ্দান করিতে 
ধাইলে, ব্রাঙ্গণ আপত্তি করিক্জা কহিলেন, "আমি বিদায় জইব 
কেন?” 

চক্দ্রনারায়ণ ঠাকুর ধীরভাবে উত্তর দিলেল,--প্রাজপরিবারের 
কল]াণের জন্য ।” 
' ব্রাঙ্মণ.। রাজপরিবারের কল্যাণ-কামন! আমি কার়মনোবাক্কে 
করিতেছি। কিন্তু তাহার জন্ত আমি অর্থ গ্রহণ করিব কেন ?” 


৯১৪ নং আহির়ীটোলা দ্ট, ফজিকাতা। 


১১৪ | জ্ীতুর্গাদাস লাহিভী- 


চন্ত্রনারায়ণ | ' দক্ষিণ! ভিন্ন সঙ্কল্প পিদ্ধ হয় না। তাই আপনাকে 
-হ্সন্ুরোধ করিতেছি | 

ব্রাহ্মণ । আপনি যেরূপ রি ইহার চেষ্টা পান, আমি 
'দ্রান-গ্রহণ করিব না। 

চন্দ্রনারাকণ ঠাকুর ।- ব্রাহ্মণের গতি ত্রাঙ্গণ। ব্রাহ্মণের দান-গ্রহণে 
ব্রাহ্মণের কি আপত্তি থাকিতে পারে? লক্ষাধিক ব্রাঙ্গণের কেহই 
আপত্তি করিলেন না; সকলেই হাপিহাপি-মুখে বিধ্ধায়-গ্রহণ করিলেন; 
আপনিই বা কেন আপত্তি করিতেছেন? বদি এ দান:আপনারর মনংপৃত 
না হয়, বলুন--আমি ম্হারানীকে সে বিষয় বরং জানাইতেছি । 

ব্রাঙ্গণ অট্টহাসি ছানিলেন। হাদিতে হাসিতে কহিলেন,--“আগনি 
কি মনে করিতেছেন, আমি কিছু অধিক অর্থের প্রার্থী হইলগাছি? এ 
আপনার বড়ই ভ্রম দেখিতেছি । স্পষ্ট কথা গুনিবেন কি ?--আশীর্ব্বাদ 
বিক্রয় কর! আর্মার ব্যবসায় নয় ।” | 

চন্ত্রনারায়ণ ঠাকুর স্তম্ভিত হইলেন | তাহার মুখের উপর এমন 
কথ! বলিতে পারে,--বাঙ্গালার় কি তেমন ব্রাঙ্গণ কেহ আছে? 
চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুর, ক্ণকাল নিরুত্বর থাকিয়া, ব্রাঙ্মণকে কছিলেন,-" 
"জাপনার কথার উত্তর দেওয়া আমার সাধ্যাতীত | তবে মহারাণীর 
অভিপ্রার--যদি কোনও বিষয়ে কোনরূপ বিদ্ব ঘটে, মহারানীকে তাহা 
আানাইতে হইবে । তাই আমার প্রার্থন,--আপনি আমার সঙ্গে একবার 
আনুন, মহারাণীর সহিত সাক্ষাৎ করিবেন। 

. জ্রান্গণ প্রথমে অস্বীকার করিলেন। বলিলেন,--“মহাঁরাশীর লহিত 
সাক্ষাতের আমার কি প্রয়োঙ্জন? আমি তে! মহারাশীর নিকট কোনরূপ 
অন্ুগ্রহ-প্রার্থী নই । তবে আমি কি জন্ত তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে, 

যাইব 1” 


প্রণীত---“মনিবেগম' ২১৫ 


চন্ত্রনারায়ণ ঠাকুর । যে সদিচ্ছার বশবর্থী হইয়া আপনি তীস্থাকে 
পদ্ধূলি দান করিত আসিয়াছেন, সেই সদিচ্ছা-প্রণোদিত হইয়াই 
আপনি তাহাকে আশীর্ব্বাদ করিবেন,--এই "আমার প্রার্থনা । আপনি 
“দক্ষিণ! না লউন, একবার মহারাণীর সমক্ষে আপনাকে উপস্থিত করিতে 
-পারিলেই আমার কার্যা সমাধা হয় । ্‌ 

্রাঙ্ষণ কহিলেন,_-"আপনার যখন এতই আগ্রহ, চলুন, আফি 
'মহারাণীকে ও কুমার বাহাদুরকে আশীর্বাদ করিয়া! আলি । কিন্তু 
আমার প্রার্থনা,-আপনি আমায় দান-গ্রহণের জন্ত কোনরূপ অন্থরোধ 
করিবেন না ।” 

মহারাণী পুজার দালানে অবস্থিতি করিতেছিলেন | ব্রাঙ্গণগণের 
বিদায়-গ্রহপ্ণে কোনরূপ বিদ্ন না ঘটে, সেখানে বসিয়া তাহারই তত্ব 
লইতেছিলেন। কুমার রামকফ, তাহার পার্খে বলিয়া, আগন্ত কগ্গণের 
অভিবাদন করিতেছিলেন। 

্রাঙ্মণকে সঙ্গে লইয়া চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুর দেখানে উপনীত হইলে, 


মহারাণী স-সন্ত্রমে উঠিয়! ত্রাঙ্গণকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করিলেন । কুমার 
'বামকৃষ্ণও ব্রাহ্মণের চরণে প্রণত হইলেন। ম্হারণীর সম্মুখে ব্রাহ্মণের 
জন্য বসিবার আসন প্রদত্ত হইল। চক্ত্রনারায়ণ ঠাকুর সেই আসনে 
ত্রাঙ্মণকে উপবেশন করিতে অনুরোধ করিলেন । | 
ব্রাহ্মণ কহিলেন,_-"না--আমি বপিব না। আশীর্বাদ কমতে 
আসিক্লাছি; আশীর্বাদ করিয়! চলিয়া! যাইব ।” | 
ব্রাঙ্গণ ফিরিয়া যাইবার জন্ত আগ্রহ প্রকাশ 'করিলেন। মহাঁরাণী 
সবিশ্বয়ে ব্রহ্গণের দিকে চাহিয়া দেখিলেন--ত্রাঙ্ষণের শরীর হইতে কি 
ধন এক দিব্য-জ্যোতিঃ বিনির্গত হইতেছে। 
্রাহ্মণ সত্যই তেন্রঃপুঞ্জকলেবর ( বরঃক্রম সপ্চতি বর্ষ তত 


১১৪ নং জহিয়ীটোল! প্রীট, কলিকাতা । 


১১৬ ূ আহ্গগাদাস লাহিড়ী- 


হইয়াছে) কিন্তু তিনি এখনও যুবজনোচিত বল-সম্পন্ন। মন্তকের 
কেশরাশি শ্বেতবর্ণ ধারণ করিয়াছে; কিন্ত তাহাতে দেহের শোভা 
যেন অধিকতর বৃদ্ধি পাইয়াছে। বয়সে শরীরের লাবণা যেন নৃতনভাবে 
বিকশিত হইয়াছে । তাহার আকর্ণবিস্তৃত নয়নযুগলের জ্যোতি; একটুও" 
পরিশ্নান হইয়াছে বলিয়া মনে হয় না। দীর্ঘদেহ, উন্নত ললাট, 
আজাম্ুলম্বিত বাহু--সকল শুভলক্ষণই ব্রাহ্মণের দেহে বিদ্ধমান। তাহার 
গৌর-দেছে শুজ্র উপবীতগুচ্ছ কি এক অপূর্ব শ্রী সম্পাদন করিয়াছে ! 
স্তা্থার গাত্রাবরণ উত্তরীয় ভেদ করিয়া, তাঁহার দেহজ্যোতি: বিনির্গত 


হুইতেছে। এ 
আশীর্ব্বাদ করিয়াই ব্রাহ্মণ চলিয়া! যাইতেছেন, চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুরের 


অনুরোধে কর্ণপাত করিতেছেন না) তদ্দৃষ্টে মহারাণী যুক্তকরে ব্রাহ্মণকে 
সম্বোধন করিয়া কহিলেন,_-“ঠাকুর! যখন অনুগ্রহ করিয়। পদধূলি 
প্রদান করিয়াছেন, তখন দক্ষিণা-গ্রহণে কেন আপত্তি করিতেছেন ?” 

্রাঙ্মণ বিনীত-ন্বর়ে উত্তর দ্রিলেন,_-*য়। ! আমি যে দান গ্রহণ করিব 
না বলিয়। সঙ্কল্প করিয়াছি! আমার গুরুদেবের উপদেশ, - ব্রাহ্মণের 
কোনও বিষয়ে লোভ করিতে নাই । দ্রান-গ্রহণে লোভের উৎপত্তি। 
আমি কিরূপে গুরুর উপদেশ অমান্ত করিব ?” | 

মহ্বারাণী। তবে কি আমার শুভকার্যয পণ্ড হইবে? আমি আপনার 
শরণাপন্ন । | 

্রাঙ্মণ। মা! আপনি অমন কথা বলিতেছেন ক্ষেন? আমি তো! 
প্রাণ খুলিয়। আশীর্বাদ করিয়াছি । আপনার কাজ কেন পণ্ড হইবে! 

চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুর শান্ত্-বাক্য উদ্ধার করিয়া, ত্রাহ্গণকে বুঝাইবার 
চেষ্টা পাইলেন,_ক্রাঙ্গণের দান-গ্রহণে ব্রাহ্মণের আপত্তির কোনও 
কারণ থাকিতে পারে না . ্‌ 


প্রণীত---“মণিবেগম' ১১৭ 


ব্রাহ্মণ উত্তর দিলেন,--“আ'পনি বাহাঁ বলিতেছেন, আমি সমস্তই 
বুঝিয়াছি । কিন্তু*আমি তৈ৷ পূর্বেই বলিয়াছি,-আণীর্বাদ বিক্রয় 
করা আমার বাবসায় নয় । নিম্পৃহ নির্লোভ হওয়াই ব্রাঙ্গণের ধর্ম । 
একথা কি আধনি অস্বীকার করেন ?” 
_ চন্দ্রনারার়ণ ঠাকুর পুনরায় শান্ত্রবাক্য আবৃত্তি করিলেন ) পুনরায় 
ব্রাহ্মণকে বুবাইবার চেষ্টা পাইলেন। . ্রাহ্মণও উত্তর দিতে হ্ুটা 
করিলেন না। ব্রাঙ্গণ কহিলেন,__*লোভই নাশের কারণ । শানত্রবাক্য- 
উদ্ধারে দেখাইলেন--“স তু নাশ কারণং | যথ1-- 


লোভ-প্রমাদ-বিশ্বাসৈ: পুরুষে নশ্যতি ভ্রিতিঃ| 
তল্মালোভো। ন কর্তব্য; প্রমাদে! নো ন বিশ্বসে ॥” 


আর বাদানুবাদ অনাবগ্যক | জুতরাং চন্ত্রনারায়ণ ঠাকুর কহিলেন, 
--পআপনি যাছা। বলিতেছেন, আমি কদাচ তাহা অস্বীকার করিনা। 
'নিম্পৃহ নির্লোভ হওয়াই যে ব্রাঙ্মণের কর্তব্য, তাহাতে কি আর কোনও 
ংশয় আছে? তবে মহারাণীর কাধ্য যাহাতে পণ্ড না হয়, তাহাও তে 
আপনাকে দেখিতে হইবে ।” 
মহারাণী৪ বিনীত-্বরে কহিলেন,_“আমার ব্রত যাহাতে উদ্যাপন 
হয়, আপনিই তাহারি ব্যবস্থা করুন। আমার এইমাত্র প্রার্থনা ।” 
মহারাণীর বাক্যে বিচলিত হুইয়!, বাম্পাবরুদ্ধকণ্ঠে ত্রাঙ্গণ কহিতে 
'লাগিলেন,--মা ! সংসারের সহিত দারুণ সংগ্রাম করিয়াও সংসার-বন্ধন 
ছিন্ন করিতে পারিতেছি না। আবার কেন আমায় নূতন বন্ধনে আবদ্ধ 
করিতে চান! দান-গ্রহণ যে বিষম বন্ধন মা! পূর্বজন্মের সহত্র বন্ধনের 
নালায় জলিয়া মরিতেছি ) আবার ইহজন্মের নূতন বন্ধন সাথ 
করিয়। গলায় পরিব ক্ষেন--আ 1 


১১৪ নং আহিীটোল। দঃ, কলিকাতা। 


১১৮  শরীছ্্গাদাস লাহিড়ী- 


“তবে উপায় কি হবে--বাক1 !” এই বলিয়া মহারাণী ত্রাঙ্মণের পদ- 
বুগল ধারণ করিলেন। 

ব্রাহ্মণ একটু বিচলিত হইলেন; উত্তেজিত কণ্ঠে কহিলেন,_-“মা! 
তুই আন আমার প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করালি ! তোর দান আমি গ্রহণ করিলাম 1 
কিন্ত একটা কথা-_” 

ব্রাহ্গণদ আবার কি কথ! বলিবেন !--সকলেই উতৎকন্টিত হই 
ব্রাহ্মণের মুখপানে চাহিয়। রহিলেন। মহারাণী ভবানী চাহিয়া! বহিলেন ১. 
কুমার বীমরুষ্ণ চাহিয়া রহিলেন ; চত্্রনারায়ণ ঠাকুর চাহিয়া রহিলেন। 

্রাঙ্মণ বলিতে লাগিলেন,_-”একটী কথা--এই দান-প্রদত্ত সামগ্রী 
আমি কিছুই সঙ্গে লইব না। এ সমস্তই তোর জিম্মায় রহিল। এ 
দেখ মা1--দেশব্যাপী ঘোর অশান্তির অনল প্রজ্বলিত-প্রায়। সে 
অনলে পশু-পক্ষী-কীট-পতঙ্গ-তৃণ-গুল্স-লত৷ পর্যান্ত ভগ্মীভূত হইবে; আব. 
তুই মা, তখন অন্নপুর্ণা-প্ূপে অন্্-বিতরণ কর্বি। সেই সঙ্গে মা, আমার 
এই দ্ান-প্রাপ্ধ অর্থে ষ্দি একজনেরও-_একটী প্রাণীরও প্রাণ বাচাতে, 
পারিস্‌, সেই চেষ্টা করিস্। গেই উদ্দেশ্তেই আমার এই অর্থ আমি 
তোর কাছে গচ্ছিত রেখে গেলাম |” 

ব্রাহ্মণ এই বলিয়া দানদত্ত সামগ্রী স্পর্শ করিয়া মহারাণীর পার্খে তাহঃ। 
রাখিয়। দিলেন। | 

মহারানী কিংকর্তবাবিমুড় হইলেন। একবার বিনীত-ম্বরে কহিলেন, 
-পআপনি যে বন্ধনের আশঙ্কায় আকুল হইয়াছেন, আমায় কি তৰে' 
সেই বন্ধনে আবদ্ধ করিয়া যাইতে চাহেন ?» 

সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুরও কহিলেন,-_“দান-দন্ত বিস্ত আপনার $ 

পরবিত্ব-ঝক্ষাও কি বন্ধন নছে ?”  . টি 
মহাবাণীও সেই কথার প্রতিধ্বনি করিয়া কহিজেন,-_“পরবিস্ত রক্ষাও 


কমালিবী-দাহিতা-ষশির, 


প্রণীত--“মণিবেগম' ১১৯ 
একপ্রকার বন্ধন। আপনি কেন আমায় সেই বন্ধনে আবদ্ধ' 
করিতেছেন?” ৩ 

ব্রাহ্মণ সে কথার কোনই উত্তর দিলেন ন| ) বলিলেন,--"ম]! তোর: 
ভাবন! কি? তোর বন্ধন আপনিই মোচন হইবে" |” এই বলিয়৷ আশীর্বাদ 
করিতে করিতে ত্রাহ্মণ প্রস্থান করিলেন । 

কুমার রামকৃষ্ণের চিত্ত আবার এক নূতন ভাবনা-আ্রোতে ভাসমান 
হইল। তিনি ঙক্স্যাপীর নিকট শুনিয়াছিলেন__"মুক্তিদানই বন্ধন- 
মোচন।” ভবানী-মন্দিরের রাজপুরোহিতের নিকট শুনিয়াছিলেন,_ 
“বলিদানে বন্ধন-মোচন |” আজ ব্রাঙ্গণের নিকট শুনিলেন,--প্দান- 
গ্রহণ না করাই বন্ধন-মোচন !” জননী আবার কহিলেন,--*পরবিত্ত* 
রক্ষায় বন্ধন; . 

রামকৃষ্ণ ভাবিয়। কিছুই মীমাংসা! করিতে পারিলেন না। 





সপ্তম পরিচ্ছেদ । 


শপ () সপশপসক 


সমস্যা-নিরসনে ! 


“8 01000, 1১101), 10167067008 06 01657118116 


79155 01 রঃ ৪588১ 870 10325 ০৫ 10089451816 


চু 721] 261100৮6. | এ ূ ৰ 
৮৫ 01402, 
রি-বিন্দুর আশার চাতক নাকাশের পানে চাহিয়া আছে £ 
*যটিক-জল,--“ফটিক'জল? করিয়া, পাবী পাগল হইয়। গেল । 


১১৪ নং আহিয়ীটোলা ছ্রীট, কলিকাতা ! 


কা 


৩ শ্রীভুগাদাস লাহিডী- 


সন্মুখে শ্বচ্ছ সরোবর পড়িয়া আছে; পদপ্রান্তে নিশ্ম বাহিপী তটিনী 
কুলুকুলু ব্িতেছে ; অদুরে অতল জলনিধি বিশাল বক্ষ বিস্তার করিয়া 
আছেন; ক্ষুদ্র পাথীর, এত জলেও তৃষ্ণা নিবারণ হয় না? 

মানুষ! তোমারও সেই দশা ! তুমি তো সংসার সাগরে পড়িয়া! নিয়ত 
হাবুডুবু খাইতেছ ! তোমারই বা তৃষ্ণা মিটিল কৈ ? বিকারের রোগী !-_ 
যতই জলপান করিতেছ, তৃষ্ণ! ততই বৃদ্ধি পাইতেছে নাকি? আজি 
ধনভষগ, কালি যশোলিগ্পা--তোমার পিপাসা কৰে মিটিবে ? 

একবার চাতক হইয়! চাহিতে পার ? বাৰি-বিন্দুর আশায় একবার 
আকাশের পানে চাহিক্কা ডাকিতে পার? পঞ্চমবর্ষীয় শিশু, আকাশের 
পানে চাহিয়! ডাকিয়াছিল--কোথ1 ভগবান করুণানিধান।” তার তো! 
পিপাসা মিটিপ্লাছিল! আহা! বারিবিন্দু নয়-সে যে অমৃতবিন্দব! 
বিকারের রোগীর তাহাই উপযোগী । রোগের ষাতনায়, দারুণ পিপাসায় 
নিশিদ্িন ছট্ফট্‌ করিতেছ ! প্রাণ !--একবার চাতক হইতে পারিবে না! 

কুমার রামকৃষ্ণ তো চাতক হইতে পারিলেন না! তবে তাহার 
পিপাসার কি প্রকারে নিবৃত্তি হইবে? তাহার চিত--শত-চিন্তার শত- 
সংশয়-প্রবাহে আন্দোলিত ! কি ককিয়! তিনি নিশ্চিন্ত হইতে পারিবেন ? 

দাকুণ সংশয় ! এ সংশয় কে দূর করিবে? রামকুষ্চ কখনও মনে 
করেন,--"সুথ ক? সুখ কোথা পাই ? এশ্বর্যাই কি সুখের নিদান ? 
যদি তাহাই হয়, তবে ব্রান্ধণ কেন এরশ্বর্য্য পরিত্যাগ করিয়া গেলেন? 
মা কেন এ্রশ্বর্যে বন্ধন-ভয় পাইলেন? তবে কি রষ্ব্য পরিত্যাগই 
সের নিদান ?” * 

পরক্ষণেই আবার তাহার মনে হয়,-"না-ন! 1 তাহাই বা কেমন 
করিয়া! হইতে পায়ে ! আমার পিতা এখধারূপ সুখের জন্ত আমাকে রাজ- 
পরিবারে রাখিরা গিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন,--'এ এশ্ব্্য-লাভে 


ফমলিনী-সাহিত্য-মন্থির, 


প্রণীত--“মণিবেগম, | ৫ ১২১ 


ভাহারও স্ুুখ-শান্তির সম্ভাবনা, আমারও সুখ-শাস্তির সভভাবনা ৷ আমার 
পিতৃদদেব কখনও ছসঙ্গত' কথা কহিতে পারেন না। বিশেষতঃ যখন 
দেখিতে পাই,_-যাহাদের ধশ্বধ্য নাই তাহারা সুখী নহে, 'এশ্ব্যোর জন্ত 
সহত্র সহম্্র ব্যক্তি নিত্য নিত্য আমাদের ছুয়ারে ভিক্ষাপ্রার্থী হইয়া 
“আসিতেছে ; তখন কেমন করিয়! বলিতে পারি,--প্রশ্বযো সুখ নাই! 
লক্ষ ব্রাহ্মণের মধ্যে এক জন ব্রাহ্মণ অর্থের প্রতি উপেক্ষ। প্রদর্শন করিলেন 
বটে; কিন্তু আর তে। কৈ কেহ পারিলেন ন1? তবে কি করিয়া বলিব, 
_ইশ্বর্ধ্য সুখের মুলীভূতত নহে! কেমন করিয়াই বা ন। বলিব,--এশব্যই 
স্থুথের মূলীভূত !» 

ঘখন সেই সন্াপীর কথা মনে হয়, রামকৃঞ্$ তখন ভাবেন---ন্সন্রযাসীই 
বা তবে কি বলিলেন! দি বন্ধন-মোচনই নুখ হয়, আমি কি রাজভবনের 
গণ্তী অতিক্রম করিয়া অন্যত্র যাইতে পারিলেই সুখী হইব? কিন্তু 
'তাহাও তো। আমার মনে হয় না! এমন বদন-ভূষণ, এমন আহার-বিহার 
_ আমি কোথায় পাইৰ? এখানে আমার যে সম্মান, আমার পিত্রালক্ে 
তো পে সম্মান কখনও দেখি নাই! এই রাজৈশ্বধ্য পরিত্যাগ করিয়! 
ভিথারীর বেশে পথে বাহির হইলেই যে আমি সুখী হইতে পারিব, ভ্রমেও " 
.তো। আমার মনে হয় না! তবে সম্গ্যাসী আমায় সে কি বুঝাইলেন ?” 

পরক্ষণেই আবার মনে হয়,-প্তবে কি রাজপুরোহিতের কথাই 
সত্য! বলিদানে পণ্তর মুক্তিলাভ হইল কি না,_ধদিও তাহা বলিতে 
প্রারি নাঃ কিন্তু বলি-প্রদত্ত প্রসাদ-ভক্ষণে আমাদের রসনার পরিতৃপ্তি 
নিশ্চয়ই হইয়া থাকে । সে সুখী হইল কি না--সে সন্ধানে আমার 
প্রয়োজন,কি? আমি তো শ্বখী হই। তবে কি রাজপুয়োহিতের কথাই 
সতভা.! তবে কি পরপীড়ন--পরপ্রাণ-হরণই সুখের নিদান ?* বরামরুক 
স্থির করিলেন,--পরপীড়নই স্থখের আকর। 
১১৪ ন আহিয়ীটোলা ইট, কলিকাতা । 


১২২ ৬ 8 শ্ীদর্গাদা স লাহিড়ী” 


পরক্ষণেই পুনরান্্ চিন্তার গতি পরিবর্তিত হইল। প্পরপীড়নে স্ুথ ? 
তাই বা কি করিয়া বলিতে পাবি! বলিতেছি বটে”_বলি-প্রদত্ত ছাগ- 
মাংসে পরিতৃপ্রি-স্থ পাইয়াছি। কিন্তু সে সুখ কত অল্প--কত ক্ষণস্থায়ী : 
মায়ের মন্দিরে দীড়াইয়া যখন সেই বলির ছাগশিশুগণের আর্তনাদ 
শুনিয়াছিলাম, তথন প্রীণট। কেমন কীদিয়া উঠিয়াছিল! এখনও সে স্মৃতি 
মনোমধো উদয় হইলে, প্রাণ বিদীর্ণ হয়। তবে কেমন করিয়া বলি,__ 
পরগীড়নই মুক্তি--পরপীড়নই সুখের আকর ! বলিদান--পরপীড়ন ভিন্ন 
আর কি হইতে পারে !” 

রামকৃষ্ণের চিন্তার গতি সহত্র ধারায় প্রবাহিত। সহস্রমুখী চিন্তার 
প্রবাহে কুমার রানকুষ্ণ সহশ্রব্ূপে বিচালিত হইতেছেন 

প্রাসাদের চতুষ্পার্থে বিস্তৃত পরিখা! । সে পরিখা রি মনে হয়--- 
একটা শ্রোতস্থিনী যেন রাজপুরী পরিবেষ্টন করিয়া রহিয়াছে । সেই 
পরিখার তীরে, একটা আত্মবৃক্ষমূলে উপবেশন করিয়া, কুমার রামকুচ 
ভাবনায় বিভোর হইয়া পড়িয়াছেন। অপরাহে--কত বেল। থাকি তৈ,₹- 
কুমার সেই বৃক্ষমূলে আসিয়া বসিয়াছেন। এখন সন্ধা সমাগতপ্রায় ; 
তথাপি তিনি সে স্থান পরিত্যাগ করেন নাই। এখন, সান্ধ্য-সমীর- 
প্রবাহে পরিখার জলরাশি ঘেমন বিচঞ্চল হইতেছিল, বীচি-বিক্ষোভিত ও 
পরিকম্পিত হইতেছিল, চিন্তার প্রবাহে কুমারের চিত্তও সেইরূপ বিচঞ্চল 
ও বিক্ষোভিত করিয়! তুলিয়াছিল। 

কোনদিকে দৃক্পাত নাই। পরিখার জলরাশি 3 রর হিল্লোলে কিরূপ 
নৃত্য করিতেছে, অথথ! স্ুনিশ্বল সান্ধা-গগন-প্রান্তে সু্যদেব কিরূপভাবে 
লুক্কাগিত হইতেছেন,--প্রকৃতির সে সৌন্দর্যের প্রতি কুমার রামকুষঃ 
একবারও দৃক্পাত করিতেছিলেন না । ভাবনার প্রবাহে ভাসমান তইমাঃ 
তিনি আপনাতেই আপনি বিভোর হইক়্াছলেন। মুখে শ্রায়ই বাক্যস্্ডি 


ক জিনী-সাহিত্য-যন্দির, 


প্রণীত মণিবেগম' ১২৩ 


হইতেছিল না। তবে মাঝে মাঝে এক একবার আপন মনে আপনি 
বলিতেছিলেন,_"্দারুণ সংশয়! আনার এ সংশয়ের £ক সীমাংস। 
হইবে ন1 1” 

মহারাণী তধানা, অনেকক্ষণ পর্ধ্স্ত কুমারকে না দেখিয়া প্রাসাদের 
চতুর্দিকে তাহার সন্ধান করিতেছিলেন। সন্ধান করিতে করিতে ছাদের 
উপর উঠিয়া মহারাণী হঠাৎ. দেখিতে পাইলেন,_-অন্দর-সমগীপস্থ পরিখার 
পার্খে আত্রবুঙ্গ-মূলে কুমাবু বসিয়া আছেন । দেখিয়া, ছাদ হইতে নামিয়, 
ম্হারাণী আপনিই সু ডাকিয়। 'আনিবার জন্য গমন করিলেন । 





মহারাণী ধীরে ধীরে কুমারের নিকট উপস্থিত হইালন !। কুমার 
তখন তন্ময় হইর! বসিয়া আছেন। তিনি একমনে একই ভাবনায় 


বিভোর । ন্ুতরাং মহারাণীর আগণনের বিষয় কিছুই জানিতে পারিলেন 
না। মভারাণা 9, কুমারের পারে দাড়াইয়া, অনেকক্গণ এক-দুঃ কুমারের 
প্রতি চাহি রহিলেন,--কুমাদের কাব্যকলাপ লক্ষ্য করিতে লাগিলেন । 

ভাবিয়া ভাবিয্বা কুমার কোনই মীমাংসার উপনীত ভইতে পাবিলেন 
না। যখন কোনও মীমাংপা হইল না, কুমার আবেগভরে চীৎকার 
করিয়। উঠিলেন,_প্তিবে কি মীমাংসা হইবে না!” 

সঙ্গে সঙ্গে পার্খ হইতে প্রতিধ্বনি উঠিল,-_-“মীমাংস! অবশ্যই হইবে । 
তুমি এস_-আঘমার সঙ্গে এস |” 

স্বর শুনিয়া কুমারের মনে হইল,_তিনি যেন দৈববানী গুনিলেন। 
কুমার চাহিয়! দেখিলেন, সম্মথে মহারাণী ভবানী দর্ডারমানা | দেখিয়াই 
“মা” বলিয়া! কুমার সসন্ত্রমে উঠিয়া দাঁড়াইলেন। মহারাঁণী কহিলেন, 
বৃথ। ভাবনায় আবগ্তক নাই । এ সংশক্ষের মীমাংদা শীঘ্রই হইবে ।” এই 
বলিয়া, কুমারের হস্তধারণ-পূর্বৃক, মহারাণী প্রাসাদ-মধ্যে প্রবেশ করিলেন। 


গুজরাত 


১১৪ নং আঁহ্রীটোলা প্রীট, কলিকাতা । . 


১২৪ শ্ীদুর্গাদাস লাহিডী- 


অস্টম পরিচ্ছেদ । 








বন্ধন-চেষ্টা | 


“বাধাব চুলের রাশ, পঁরাব চিকণ হাঁস, 
খোপায় দেলোব তোর ফুল। 

কপালে দি থির ধার, কীকলেতে চশ্খহার, 
কাণে তোর দিব ধোড়া ছুল॥ 

কুহাম চন্দন চুয়া, বাট। ভবে পান গুয়!, 
রাঙ্গা মুখ রাঙ্গা হবে রাগে। 

সৌণার পুতলি ছেলে, কোলে তোর দিব ফেলে, 
দেখি তাঁল লাগে কি না লাগে ॥” 

শাকপালকুগুল।। 


সারের বিচিত্র গতি! সংসারে কেহ বন্ধন-মুঞ্ত হইতে চায়; কেহ 
তাহাকে বাধিয়! রাখিবার চেষ্টা করে । 

কুমার রামকৃষ্ণ যতই সংসার হইতে দুরে থাফিবার চেষ্টা পাইতে 
লাগিলেন ; সংসার ততই তাঁহাকে আবন্ধ করিবার অস্ত ব্যগ্র হইল। 

ভবানী-মন্দিরে উৎসব-সমারোহের পর, মহারামী ভবানী যেদিন 
কুমারকে অন্যমনা "দেখিক্বাছিলেন,__কুমারের মুখে সংসার-বন্ধন-মোচন- 
সম্বন্ধে প্রশ্ন-পরম্পরা শুনিয়াছিলেন ; সেই দিন হইতেই কুমারের ষতি- 
পরিবর্থনের প্রতি তাহার লক্ষ্য হইয়াছিল আজ আবার বখন 'তিনি 
পরিখার পারে বসিয়। কুমারকে চিস্ত/-বিভোর  দেখিলেন, আজ আবার 


কমজিনী-লাহিত্য-মন্দির, 


প্রণীত---“মণিবেগম' ১২৫ 


যখন কুমারের মুখে সেই একই প্রসঙ্গ শ্রবণ করিলেন; তখন মহারাঁলী 
অধিকতর চিন্তান্বিতা* হইলেন । মহারাণী মনে করিয়াছিলেন,---পোস্য- 
পুত্র গ্রহণ করিয়া, তাহার হস্তে রাজ্যভার সমর্পণপূর্বক, আপন 
সংসার বন্ধন ছিন্,করিবেন। কিন্তু এ আবার কি ঘটিল। আশ-তরু 
মুঞ্জরিত মুকুলিত হুইবার পূর্বেই কেন পে তরুমূলে কীট প্রবেশ 
করিল ! ্‌ 

মহারাঁণী ভাবিতে লাগিলেন,-_”কি করিলে কুমার সংসারী হয়? 
কুমার যদি সংসারে অনাসক্ত সংসার-বিরাগী হয়, এ বিপুল রাজা কিরূপে 
রক্ষ! হইতে পারে? আমার যে অবস্থা তাহাতে আমার এখন সংসার- 
চিন্ত। হইতে অবসর গ্রহণ করাষ্ট শ্রেয়ঃ। এখনও এ সকল, ভাবন! 
ভাবিতে গেলে, ইষ্টচিন্তা কবে করিব 1৮... 

ভাবিয়! ভাবিয়া মহারাণীর মনে হইল,__“অধিক কালবিলম্ব করিলে 
হয় তো! কুমারকে প্রত্যাবৃত্ত করা কঠিন হইবে ।” হতরাংস্থির করিলেন, 
“একবার দয়ারাম রায়কে এবং চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুরকে ডাকাইয়া পন্চামর্শ 
করা বিধেয়। 

পরদিনই সেই সম্বন্ধে পরামশ হইল। দয়ারাম রায়, এবং চন্জনারায়ণ 
ঠাকুর উপস্থিত হইলে চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুরের নিকট মহারাণী সকল কথ। 
খুলিয়া বলিলেন । দয়ারাম রায় ও চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুর তদ্ধিষয়ে পরামশ 
করিতে লাগিলেন । 

 চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুর কহিলেন,-_-”শান্ত্রজ্ঞানানভিজ্ঞ চঞ্চলচিত্তই এবন্িধ 

প্রশ্নে উদ্বেলিত হইয়া! থাকে । গুরুর নিকট বথারীততি শান্ত্রতত অবগত 
হইলে সংশয় দুর হইতে পারে ।” 

ঈয়ারাম রায় । একথা সত্য বলিয়াছেন । উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে 
মানুষ জীবনগতি নির্ণয় করিতে সমর্থ হয় না। তবে এ বয়সে সেরূপ 


১১৪ নং অংহিরীটোলা! ছুট, কলিকাত। | 


১২৬ | প্রীনুর্গাদাস লাহিভী- 


শিক্ষা উপযোগী হইবে কিনা, তাহাঁও বিবেচনার বিষয় । মস্তিফ পরিপক্ক 
না হইলে, শান্ত্র-তত্ব অনুধাবন সম্ভবপর কি? ট 

চক্্রনারায়ণ। সদ্গুরুর উপদেশে মন অনেকট। স্থ্ধ্য অবলম্বন 
করিতে পারে। আমার মনে হয়, কুমার যদি এখন দীক্ষা গ্রহণ করেন, 
এবং গুরুর নিকট যথোপযুক্ত শান্ত্রোপদেশ প্রাপ্ত হন, কুমারের মতি পরি- | 
বন্তিত হওয়া সম্ভবপত্র। 

দয়ারাম রায় । সেও এক সছুপায় বটে । তবে সঙ্গে সঙ্গে সংনারের প্রতি 
কুমারের মন যাহাতে আকৃষ্ট হয়, তৎপক্ষেও যত্ব কর! কর্তব্য । গুরূপদেশে 
চিত্ত সাধারণতঃ ভগবচ্চিন্তায় প্রধাবত হয়। তাহাতে সংসারাসক্তি নাও 
'মাসিতে পারে। 

চন্দ্রনারায়ণ। আপনি তাহ! হইলে কিরূপ যুক্তি স্থির করেন ? 

দয়ারাম রায়। কুমার দীক্ষিত হইয়া গুরুর নিকট শান্ত্রতত্ শিক্ষা 
করুন,--সে পক্ষে আমার সম্পূর্ণ মত আছে। তবে কুমারকে সংসার- 
বন্ধনে আবন্ক করিতে হইলে, আমার মনে হয়, আর একটা ব্যবস্থা 
প্রয়োজন । আমি বিবেচনা করি,--বিবাহবন্ধনে কুমারকে এই সময়ে 
আবদ্ধ করিতে পারিলে, আমাদের সকল উদ্দেশ্ত সিদ্ধ হইতে পারে। 
কুমার একদিকে যেমন গুরুর নিকট স্তুশিক্ষা লাভ করিবেন, অন্তদিকে 
তেমনি বিবাহ-বঙ্গনে আবদ্ধ হইয়। সংসারের প্রতি আকৃষ্ট হইবেন। এ 
ব্যবস্থায় ই দিকই রক্ষা হইবে । কেমন--এ বিষয়ে _আপনি কি মনে 
করেন?  ঃ | 

চন্দ্রনারায়ণ। আপনার এ পরামশ সমীচীন বটে। কুমারের বিবাহ 
দেওয়া আমারও মত। বিবাহ হইলে, কুমারের চিত্ত নিশ্চয় সংসারের 
প্রতি আকৃষ্ট হইবে । দীক্ষিত হইলেও গুরূপদেশে কুমারের মনের মালিস্ত 


দুরীভূত হইবে । 
কমলিনী-দাহিত্য-মন্দির, 


প্রণীত-_“'মণিবেগমঃ ১২৭ 


দয়ারাম রাঁয়। গুরুপ্রহণ-সম্বন্ধেও আমার একটু বক্তব্য আছে। 
দাপনারা তে। এ *সংসারের গুরুপদে অধিষ্ঠিত আছেনই ; অধিকস্ত 
আমার ইচ্ছা-_কুমার মহারাণীর নিকট হইতে ইষ্টমন্ত্র গ্রহণ করেন। 
ভাহাতে মহারণীর প্রতি কুমারের ভক্তি রি পাইবে এবং মহারাণীর 
আদেশানুব্তী হইয়। চলিতে কুমার অবশ্যই চেষ্টা পাইবেন। আপনারা 
এরুর-গুরুরূপে কুমারকে উপদেশ দিবেন; কুমার ভক্তিসহকারে 
আপনাদের উপদেশ গ্রহণ করিয়া অনায়াসে গন্তব্য পথ স্থির করিয়| 
লইতে পারিবেন । 

চন্দ্রনারায়ণ ঠাকুর আহ্লাদ প্রকাশ করিয়া কছিলেন,--“আপনি 
হথার্থ কথাই কহিয়াছেন ; আমারও সেই ইচ্ছা । এবপ হইলে, কুমারের 
্লাতৃভক্তি বৃদ্ধি পাইবে ; কুমার মাতার আদেশ অনুসারে কাধ্য করিবে । 
এ প্রস্তাব আমি সম্পূর্ণরূপে অনুমোদন করি ।” 

মহারাণী ভবানী একটু দ্বিধ। ভাব প্রকাশ করিলেন ।* কিন্তু চন্ত্রনারায়ণ 
গ্রাকুর তাহাকে বুঝাইয়া বলিলেন,+-”"এ সম্বন্ধে অন্তমত করিবার 
কোনই প্রয়োজন নাই । মাতৃদ্দেবীর নিকট মন্ধগ্রহণ করিলে ঠাকুরবংশীয় 
আমরা একটুগ হ্ষুপ্জ হইব না। রাট্জশ্বধা যাহাতে রক্ষ। হয়, তাহাব 
স্বাবস্থ। করাই আমাদের অভিপ্রায় । কুমার বদি মহারাণীর নিকট মন্ত্র 

গ্রহণ করেন, মহারাণীর আদেশানুবর্তী হইয়া চলেন, আমার বিশ্বাস 

সকল দিকেই সুশৃঙ্খল রক্ষিত হইবে ।” ণ 

চন্ত্রনারায়ণ ঠাকুর মহাব্াণী ভবানীকে এ প্রস্তাবে সম্মত হইতে 
একান্তভাবে অনুরোধ করিলেন । মহারাণী চন্ত্রপ্রারায়প ঠাকুরের বাক্য 
লঙ্ঘন করিতে পারিলেন না। 

পরামর্শে ধাধ্য হইল,-_“শীদ্রই কুমার রামকুষ্কের বিবাহের বন্দোবস্ক 
স্থির হইবে । পরামর্শে ধার্য হইল,-_-“মহারাণী ভবানীর নিকট কুমার 


১১৪ নং আহিরীটৌল ভ্রীট, কলিকাত। । 


১২৮ মণিবেগম 





রামকুষণ দীক্ষা গ্রহণ করিবেন |, পরামর্শে স্থির হইল,-_-“গুরুর-গুরুরূপে 
চন্্রনারায়। ঠাকুর এবং তীহার পুত্র রুদ্রনারায়। ঠাকুর কুমারের 
নুশিক্ষার সুব্যবস্থা করিবেন।' পরামর্শে স্থির হইল,--“কুমীর যাহাতে 
আর নিজ্জন-চিন্তার় কালাতিপাঁত করিতে ন| পারেন, সর্বদা তিনি 
যাহাতে ।উপযুক্ত সহচরগণে পরিবৃত থাকেন,--তাহারও ব্যবস্থা কর! 
আবশ্বক।” পরামর্শে স্থির হইল,-_“তাহা হইলেই কুমারের সকল দুশ্চস্ত! 
দুর হইবে,--কুমার সংসারী হইবেন, যেরূপ পরামশ হইল, তদ্রুপ 
অনুষ্ঠান-আয়োজনেরও ক্রুটি রহিল না । 


ইতি দ্বিতীয় খণ্ড 


হবনলিন্বেলঙ্ম £ 


"শাসিত 


তৃতীয় খণ্ড। 


প্যস্থিক্জিয়াশি মনস! নিয়ম রতেহজ্ছু ন। 
কর্মেক্িয়ৈ: কশ্দখ্রযোগমশক্তঃ স বিশিষাতে 7”? 
--প্রী মন্ভুগবসগগীতা ॥ 


হে অঞ্জন! ষে পুরুষ মনের বলে ইন্দ্রিয়নিচয়ুক বশীভূত করিয়! 
আসক্তি পরিত্যাগ-পুর্বক নিফ্কামভাবে কক্দেন্দ্ির-সমূহের দ্বারা কর্মরূপ 
হোগাহুষ্ঠান করেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ। 


জাতিতে য়ন 


-১৩০ শ্রীদগগাদাস লাহিডী- 


প্রথম পরিচ্ছেদ । 





অনুশোচনা । 


'']7187171)1006 1 11007 1020016-11897৮69 ঠি00 


৮৮১1064170৫ 7445, 


“নৃশংস 1--নরপিশাচ 1 বিশ্বাসঘাতক 1” 

এই বলিয়৷ নারজাফর শষ্যার উপর উঠিয়! বপিলেন। তাহার চক্ষু 
বিদীর্ণ করিয়া যেন অগ্রিশ্ফুলিঙ্গ নিগত হইতে লাগিল। তিনি উত্তেজিত 
কঠে কহিলেন,__প্মহারাজ । এখনও আপনার ভ্রান্তি দূর হইল না!” 

গলাশী-ুদ্ধের পর সাত বংসর অতীত-প্রায়। বক্সারের সমর-ক্ষেত্রে 
মীরকাশেমের ক্ষীণ আশার রশ্মিটকু বিলুপ্ধ হওয়ায়, নবাব মীরজাফর 
পুনরায় বাঙ্গালার ,. মসনদে সমাসীন। কিন্তু ইষ্ট-ইণ্ডিয়া-কোম্পানীর 
কর্মচারীরা টাকার জন্ত এবারও তাহাকে বিব্রত করিয়! তুলিয়াছে । 
সুতরাং বাঙ্গালার নবাবী তাহার পক্ষে এখন কণ্টক-স্বরূপ | ছুর্ভাবনায়-- 
দুশ্চিন্তায়-_-অন্ুশোচনার ভীব্রতীপে-তিনি এখন _ কঠিন » পীড়া 
শযা'শায়ী । ্ 

১৭৪৫ খৃষ্টাবের' জানুয়ারী মাসে, মীরজাফর যখন সঙ্কট পীড়ায় 
কাতর ;--আপনার দক্ষিণহস্ত্র-স্থানীয় মহারাজ নন্দকুমারকে নিকটে 
ডাকিয়া, বিষয়কম্ম-সম্পর্কে পরামশ করিতেছেন। যতই পুরাতন কাহিনী 
স্থতি-পথে উদ্দিত হইতেছে, ততই তিনি উত্তেজিত হয়! উঠিতেছেন। 


কমজিনী-সাহিত্য-মন্দির, 


প্রণীত-__“মণিবেগম | ১৩১ 


সেই উত্তেজনা-বশেই, শধার উপর উঠিয়া বসিয়া, মীরজাফর চীৎকার 
করিয়া উঠিলেন,-৮"নৃশংস 1--নরপিশাচ !- বিশ্বাসঘাতক 1” 

মহারাজ নন্দকুমার ধীরে ধীরে উত্তর দিলেন,-"আপনি বুথা 
" অনুশোচনা ,করিতেছেন। গতাম্থশোচনায় এ সময় চঞ্চলচিত্ত হওয়া 
কখনই বিধেয় নহে । আমতা আপন আপন কন্খমকল ভোগ করিতেছি 
আত্র। অপরের প্রতি দোষারোপ করিয়া কি ফললাভ হইবে? দোষ 
আমাদের অনৃষ্টের 1” 

মীরজাফর দীর্ঘনিশ্বান পরিত্যাগ করিয়া কহিলেন,--"আমি যে 
তাহাকে বড়ই বিশ্বাস করিয়াছিলাম! সে যে এতদূর বিশ্বাসঘাতকতা 
করিবে, আমি স্বপ্নেও তাত ভাবি নাই ! একপন্ঘটিবে বুঝিলে, আমি কি 
কখনও পিরাজ-উদ্দৌলার সর্বনাশ-সাধনে অঠাসর হইতাম ?” 

নন্দকুণার আবার কহিলেন,__“সে সকল পুরাতন কথা এখন আর 
কেন মনে করেন? যা হইবার, হইয়! গিয়াছে এখন ছুশ্চিস্তা 
পরিত্যাগ করুন । শরীর যাহাতে সুস্থ হয়, ততৎপক্ষে মনোযোগী হউন |” 

মীরজাফর বাঁম্পাবরুদ্ধকঠে কহিলেন,_-“মহারাজ ! বড় কষ্ট---বড় 
ব্রণ | আমার আর এক দও বাচিবার সাধ নাই! দিবা যখন আমার ' 
চরণতলে উষ্ণীষ রাখিয়া আত্মসমপণ করিল, আমি যখন তাহাকে 
আভয় দিয়া বলিলাম,--"সিরাজ ! তোমার কোনও ভাবনা নাই"; 
পরিশেষে আবার যখন কোরাণ স্পর্শ করিয়া, ধর্ম সাক্ষী করিয়া, পরস্পর 
মিত্রতা-বন্ধনে আবদ্ধ হইবার জন্ প্রতিজ্ঞা করিলাম; তখনকার কথ! 
শ্ররণ হইলে, প্রাণ বিদীর্ণ হয়! আহা !--সিরাজ জামার প্রতি সম্পূর্ণ রূপ 
বিশ্বাস স্থাপন করিয়াছিল ! কিন্ত সে বিশ্বাসের আমি কি প্রতিদান 
কিরিলাম 1” - | 

মীরজাফরের অনেক ক্ষণ বাক্যস্ফৃর্তি হইল নাঁ। চক্ষু বাহিয়া কয়েক 

১১৪ নং আহিরীটৌলা ছাট, কলিকাতা! । 


বিন্দু অশ্রু নিপতিত হুইল। নন্দকুমার সাত্বনা-বাক্যে কহিলেন, 
“যে উদ্দেশে আপনি সিরাজের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিলেন, তাহাতে আমি 
কোনও দোষ দেখিতে পাই না। সিরাজ অত্যাচারী-_সিরাজ্জ নৃশংস-_ 


মিরাজ সিংহাসনে বসিবার সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। মেরূপ প্রকুতির লোক বাঙ্গালার 


সিংহাসনে অধিষ্ঠিত থাকিলে, বাঙ্গাল! এতদিন ছারে-থারে যাইত 1” 

মীরজাফর । বাঙ্গাল। ছারে-খারে যাইতে কি আর বাকী আছে 
মহারাজ ! সিরাজ সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত থাকিলে, হয় তে বাঙ্গালার আজ 
এ ছুর্দশা হত না! এখন ইট্ট-ইঙ্ডিয়া-কোম্পানীর কয়েক জন বন্ধচারী 
বাঙ্গালার প্রতি কি অত্যাচার করিতেছে, আপনার কি তাহা! অবিদিত 
আছে? তবে আপনি ওকথ! কেন বলিতেছেন ?” 

নন্দকুমার । বর্তমানে কয়েক জন কন্মচারী ঘোর অত্যাচারী 
হইয়াছেন সত্য ; কিন্তু এ অত্যাচার শীঘ্রই নিবৃত্ত হইবে। আপনার, 
দেহ অনুস্থ; এ সময় আপনি ষদি এরূপ ছুশ্চি্তাগ্রস্ত হন, শরীর কয় দিন 
টিকিবে? আপনার শরীর সুস্থ হউক) আপনার প্রতাপ যাহাতে 
অপ্রতিহত থাকে, তৎপক্ষে বিশেষ চেষ্টা কর! যাইবে । - 


মীরজাফর । আর সে চেষ্টা! দিন যে ফুরাইয়া আসিল !-_আর সে চেষ্টা ! 


দে চেষ্টা আগে করিলে হইত বটে; কিন্ত এখন আর সময় নাই ! 


ক্লাইবের বাক্যমোছে বদি মুগ্ধ ন। হইতাম, প্রতিজ্ঞ-তঙ্গ-বূপ মহা-পাপে' 


যদি লিড না হইতাম, পলা সী-প্রাঙ্গণে সিরাজে সহিত বদি বিশ্বাসঘাতকত! 
না করিতাম, হয় তেফল ফলিতে পারিত ! তাহা হইলে, এখন আমি 


নবাবীর যে লাঞ্ছনা ভোগ করিতেছি, সে লাঞ্ছন! হয় তে আমায় কখনও. 
ভোগ করিতে হইত না। তাহ! হইলে, সিরাজ নামে মাত্র নবাব 


থাকিলেও, আমিই বাঙ্গালার নবাবী-ক্ষমত। পরিচালনা করিতে পারিতাম । 
কিন্তু হার !-.আমি তখন লোভে পড়িয়া কি ভুলই করিয়াছিলাম 1” 


কমলিনী-সাহিতা-মন্দির, 


১ 


প্রণীত-_“মণিবেগম' ১৩৩ 


মীরজাফর পুনরায় দীর্ঘনিশ্বাদ পরিত্যাগ করিলেন। কত কথাই 
'্াহার মনে পড়িতে লাগিল। মনে পড়িতে লাগিল ।--নবাবীর 
মোহমায়া! মনে পড়িতে লাগিল--প্রলোভনের মায়া-মরীচিক।। মনে 
পড়িতে লাগিল - আকাশের টাদ হাতে পাওয়ার আশা! মনে পড়িতে 
লাগিল,-কোরাণ্পর্শে প্রতিজ্ঞা করিয়! সেই, প্রতিজ্ঞা-ভঙ্গের কথ]! 
আর মনে পড়িতে লাগিল--ইহজীবনেই পাপের ফল-ভোগ । মনে 
পড়িতে পড়িতেই মীরজাফর আবেগভরে বলিয়া উঠিলেন,--“সেই আমার 
সর্বনাশের মূল! তাহারই লুৰ্ধ আশ্বাসে মুগ্ধ হইয়া আমি সব বিশ্ব 
হইলাম! সিরাজের মুখ চাছিলাম না! দেশের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলাম 
না! স্বজাতির প্রতি চাহিয়া দেখিলাম 1! প্রতিজ্ঞা-ভঙ্গে কুষ্টিত হইলাম 
না! ব্যাধের বংশীধবনিতে মুগ্ধ হইয়া মুগ যেমন জালবন্ধ হয়, ক্লাইবের 
ছলনা জালে আমিও তদ্রপ আবন্ধ হইলাম । তখন শ্বপ্নেও যদি একবার 
মনে হইত--আমার এই পরিণাম সংঘটিত হইবে !” 

মহারাজ নন্দকুমাম ক্লাইবের প্রতি পূর্ব হইতেই অন্ুরক্ত ছিলেন। 
শুতরাং মারজাফর কর্তৃক পুনংপুনঃ ক্লাইবের উদ্দেস্টে গালিবর্ণে তিনি 
একটু বিচলিত হইলেন । তিনি মীরজাফরের কথার প্রতিবাদ করিক়! 
কহিলেন,__-“আপনি পুনংপুনঃ বলিতেছেন বটে ; কিস্তু প্রকৃতপক্ষে আমি 
ক্লাইবের কোনও দোষ দেখিতে পাই না! আপনার সম্বন্ধে ক্লাইব ধাহা 
বলিয়াছিলেন, সে কথা কি তিনি রক্ষ! করেন নাই ? তিনি বলিয়াছিলেন--- 
সিরাজের হস্ত হইতে সিংহাসন গ্রহণ করিয়া সে লিংহাসন তিনি আপনাকেই 
সমপ্ণ করিবেন। সে সত্য তিনি পালন করেন নাই কি? তবে 
ক্লাইবের কি দোষ?” 
মীরজাফর গজ্জিয়া উঠিলেন,-ক্লাইবের কি দোষ! আপন্নি কি 
জানেন না-ক্রাইবের কি দোষ! নিরীহ উমীটাদ ক্রাইবের প্ররোচনায় 


১১৪ ঈং আহরীটোল। রুট, কলিকাত1। 


১৩৪ শ্রীহুর্গাদাস লাহিড়ী” 


কি অসম-সাহসিক কাজই না করিয়াছিল! কিন্তু তাহার শেষ পরিণাম 
কি হইল? ক্লাইব জাল দলিল উপস্থিত করিয়। তাহাকে প্রবঞ্চিত 
করিলেন! আর সেই প্রবঞ্চনার ফলে উমীটাদ পাগল হইয়া ইহলীলা, 
সংবরণ করিল ।” | 

নন্দকুমার। উনীটাদের পক্ষাবলম্বন আপানার শোভা পায় না । 
উমীটাদ ষে কাধ্য করিয়াছিল, তাহার পরিণাম ্ররূপ হওয়াই বিধেয়। 
আমি যখন হুগলীর ফৌজদার, উমীটাদই আমায় নবাবের বিক্রুদ্ধাচরণে 
প্রলুব্ধ করিয়াছিল। আমি যে ইংবাজগণকে বিতাড়িত করিবার জন্য 
ওজন্দাজদিগের সহিত সমরক্ষেত্রে মিলিত হউ নাই, সে কেবল উনীটাদেরই 
প্ররোচনায় ॥ উনীটাদ স্বদেশদ্রোহী। তাহার স্বদেশদ্রোহিতার পরিণাম” 
ফল ঠিকই হইয়াছে ।” 

মীরন্জাফর মন মনে হাদিলেন ; মনে মনে বলিলেন,২প্যদি তাই হয় 
নন্দকুমার, তোমার আমার অদৃষ্টে কি ফল লিখিত আছে, কখনও ভাবিদ্া 
দেখিয়াছ কি?” প্রকাশ্যে কহিলেন,__প্যতই যাহ বলুন, ইঠ্ট-ইত্ডিয়া- 
কোম্পানীর কম্মচাব্রিগণ অনেকেই ঘোর স্বার্থপর) তাহাদের চাই,_- 
কেবল টাকা-_কেবল টাকা 1” | | 

নন্দকুমার । তাহাই স্বাভাবিক । ইষ্ট-ইগডিয়া-কোম্পানী একশ 
কিছু দান-খয়রাৎ-স্দাব্রত করিতে আসেন নাই । তাহার বা!ণজা- 
ব্যবসায়ী । সাত-সমুদ্র তের-নদী পার হইয়া অর্থের. জনই তাহার। এই 
দুরদেশে আগমন ঝ্জরয়াছেন। স্থতরাং অর্থসংগ্রহ-পক্ষে তাহাদের ফে 
চেষ্টা, আমি তাহাতে দোষ দেখিতে পাই না। তাহাই স্বাভাবিক 1”: 

নীরজাফর আশ্চর্যযান্বিত হইলেন ; কহিলেন,_-“আপনি যে এখনও, 
ইষ্ট-ইপ্ডিয়া-কোম্পারীর কন্ম্চারীদিগের প্রতি এতাদুশ বিশ্বাসবান্‌, ইহা) 
বড়ই আশ্চয্যের বিষয়! আপনি কি জানেন না,-ইষ্ট-ইওিয়া-কোম্পানীর 


_কুমলিনী-সাহিতা-মন্দি রঃ 


প্রণীত-_-“মণিবেগম ১৩৫ 





অধাক্ষ ভান্সিটাট আপনার প্রতি কিরূপ বিরূপ হইয়া আছেন? আরে 
কত করিয়া আপনাত্কে সহকারী নবাবের পদে অধিষ্ঠিত রাঁধিয়াছি, তাহ! 
আমিই জানি, আর অস্তরধ্যামীই জানেন। ভান্সিটাটের একটুও ইচ্ছা 
নয় ষে, নবাব-সংসারের সহিত আপনার কোনরূপ সন্বম্ব থাকে । আমি 
ষে আজ আপনাকে ডাকিয়। আনিয়াছি, অনেক পরামশের জন্য । আমি 
বেশ বুঝিয়াছি, আমার আঘুঃকাল পুর্ণ হইয়া আসিয়াছে । বাঙ্গালার মসনদ- 
সম্পর্কে আপনার সহিত আমি একটা পরামর্শ করিতে ইচ্ছা করি; 
পরামর্শ আর কিছু নয়; পরামর্শ__আমার মৃত্যুর পর আমার কনিষ্ঠ পুত্র 
মোবারককে সিংহাসনে বসাইতে হইবে। কিন্তু ভান্সিটাট তখনও যে 
আপনাকে এ সংসারে কর্তৃত্ব করিতে দিবেন, তাহ! আমার মনে ভয় না।” 

নন্দকুমার আশ্বাস- বাক্যে কছিলেন,_-পসে সম্বন্ধে আপনি নিশ্চিন্ত 
হউন। আমি নিগুঢ সন্ধান পাইয়াছি, ভান্লিটার্ট ঈস্রই, দেশে ফিরিয়া 
বাইতেছেন ;, আর ক্লাইব পুনরায় ইই্-ইপ্ডিয়া-কোম্পানার অধান-পদ 
গ্রহণ করিতে আমিতেছেন। ক্লাইব আসিলে, আপনি নিশ্চয় জানিবেন, 
আমার ক্ষমতা কেহই লোৌপ করিতে পারিবে না । নবাব-সংসারের 
সংশ্রব ছিন্ন হইলে, তিনিই আমাকে প্রথম আশ্রয় দিয়াছিলেন | তাহার 
মুন্দী ও দেওয়ান পদ লাভ করিয়া, তীহারই অন্গ্রক্কে, ক্রমশঃ আমি হুগলী 
ও হিজ্গী প্রভৃতির দেওয়ানী পদ পাই। তার পর, কিরূপে €ই সহকাগা 
নবাবের পদে উন্নীত হইয়াছি, তাহা আপনার অবিদিত নাই। ক্লাইৰ 
যখন আগিতেছেন, আমার উদ্দেশ্য অবশ্য লিদ্ধ হইবে ।” | 

নীরজাফর। আবার ক্লাইব! দে একবার আনিয়া বাঙ্গালার 
সিংহাসন ওলেটি-পালোট করিয়া গিয়াছে । এবার আনিয়া, না-জানি 
আবার কি নুতন অনর্থ-সাধন করিয়া বাইবে ! সে আবার আসিতে 
শুনিলে, আমি মরণেও শাস্তি পাইব না | 


১১৪ নং আব্িরীটোল। দ্্রীট, কলিকাতা । 


১৩৬ প্রীদুগাদাস লাহিডী- 


নন্দকুমার। আপনি ক্লাইবের উপরই সকল দোষ চাপাইতেছেন। 
কিন্ত আপনার হাত হইতে নবাবী কাঁড়িয়! লইয়। মীরকাশেমকে নবাবা 
দেওয়ার সময়, ক্লাইব কোথায় ছিলেন? পলাশী যুদ্ধের পর আপনাকে 
মস্নদে বলাইয়। ১৭১০ থ্ষ্টান্দের ফেব্রুয়ারি মাসে, 'ক্রাইব বিলাত 
চলিয়া যান। ১৭৬১ খষ্টাবে মাপনার পিংহাসন-চুতি ঘটে । কিন্তু 
তখন তো সর্বেপর্ব।--ভান্সিনার্ট। ভান্সিটার্টই আপনার হাত হইতে 
নবাবী কাড়িয়া লন; তিনিই আবার, কয়েক মান হইল, আপনাকে 
নবাবীতে অধিষ্ঠিত করাইয়াছেন। আপনার এই সিংহাসনচ্যুতি ও 
সিংহ্গাপন-প্রাপ্ধি বিষয়ে ক্লাইবের কি হাত ছিল? 

মীরজাফর । এক ভক্ম, আর ছার । যাঁক্‌--ও সকল কথার আর 
কাজ নাই। এখন কি ব্যবস্থ। করিলে ভাল হয়, তাহাই বিচার করিয়! 
দেখুন। আমার কম্মফল আমি মন্মে মন্ঘ্ে ভোগ করিতেছি ! 

পুনরায় অন্ুশোচনায় মীরজাফরের চক্ষু ছলছল হইয়! আসিল। 
মীরজাফর আত্মগ্লানি ব্যগ্রক শ্বরে কহিলেন,_-“আমার সিংহাসন চাতি ও 
সিংহাসন-প্রাপ্তির কথাই বাকি বলিতেছেন! আমি ষে আজি এই মহা- 
ব্যাধিগ্রন্ত, আমার পাপর ফলই তাহার কারণ নহে কি? মহারাজ ! 
-_কুষ্ঠটব্যাধি কি অল্প পাপে হয়? বিশ্বাসঘাতকতা মহাপাপ। আমি 
মহাপাপী, তাই এই মহারোগগ্রস্ত 1” 

নন্দকুমার বাধা দিক্লা কছিলেন,_আপনি ও-সকল- অন্ুশোচনার কথা 
কেন কহিতিছেন 1 আপনার বয়ংক্রম চুয়াত্বর বৎসর অতীত-প্রায়। এ 
বয়সে ব্যায়রাম-পীড়া হ্বাভাবিক । তার জন্ত অনুতপ্ত হইতেছেন কেন ?” 

বীরজাফর। মহারাজ! জিজ্ঞাসা করিতেছেন--অনতপ্ হইতেছি 
কেন? আমার প্রিযপুত্র নীরণ বজ্জাঘাতে নিহত হইল ; সে কি পাঁপের ফল 
নহে? আপনি কি বুঝিতে পারিতেছেন না-_-আঁমি দিবানিশি কি বন্ত্রণা 


! 
| 


] 
1 


ূ 


প্রণীত-“মণিবেগম, ১৩৭ 


ভোগ করিতেছি! আমি জ্বলিয়! পুড়িয়। সারা হইলাম। এখন মরণই 
আমার মঙ্গল । তধে মরণের পর কিসে শান্তি পাই, দেই ভাবনায় বড়ই 
চঞ্চল হুইয়। পড়িয়াছি। আপনি বলিতে পারেন--মরণের পর আমার 
শাস্তির উপান্জ কিছু আছে কি? ] 
নন্দকুমার অন্ত কথার অবভারণ| করিলেন ! বলিলেন,--"আপনার 
গুতুব পর আপনার পুত্র মোবারক-উদ্দৌলা যাহাতে পিংহাদন লাভ 
করিতে পাবেন, সে বাবস্থা এখন হইতে করিয়! রাখাই শ্রেক্ঃ 1” 
মীরজাফর। সে বিষয়ে যাহা ঘটিবে, আমি দিবাচক্ষে দেখিতে 
পাইতেছি। মোবারক হয় তো নামে বাঙ্গালার নবাবী লাভ করিবে) 
£কন্থ জানিবেন--নবাবীর এই শেষ । কেবল নবাবীর কথাই বা বলি 
কেন, হয় তে! ভারতে মোগলপাআাজ্যেরও এই শেষ। পূর্ব্বেই বলিয়াছি, 
আমার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আপনার প্রতিষ্ঠার দিনও ফুরাইয়। আলিবে । 
আমার অন্তরাক্ম। পুনঃপুনঃ আপনাকে সেই কথ! বপিবার জন্য আমাকে 
উত্তেজিত করিতেছে । আমার ন্যায় আপনিও এমন অনেক বিষয়ে লিপ্ত 


আছেন, পরিণামে যাহার জন্য আপনাকেও আমার সকার অনুতপ্ত হইতে 


ভইবে। | 

মীরক্গাফরের বাকোর গতি আবার পরিবন্তিত হইল। হীরজাফর 
রোগের ঘন্ত্রণায় অস্থির ইইয়া পুনরায় নন্দকূমারকে কহিলেন, “মহারাজ ! 
এ যন্ত্রণ। আর সহ হয় না। আমার শান্তিলাভের উপায় কিছু বলিতে 
পারেন কি? আমি শুনিঘ্াছি, আপনাদের দেব-দেবী অনেকেই জাগ্রৎ 
আছেন! আমার এই কষ্ট দূর করিবার জন্য কোনও দেব-দেবীর অনুগ্রহ 
লাঁভ করিতে পার! যায় না কি ?” 
. নন্দকুমার | হিন্দুর দেব-দেবীর প্রতি আপনার বিশ্বাম আছে কি? 


আমাদের দেবত| সত্যই জাগ্রৎ দেবতা । আপনি মুসলমান হইয়াও যদি 


১১৪ নং আহিরীটোল। ইট, কলিকাভ| |. 


১৩৮ শ্রাদুর্গাদাদ লাহিড়ী. 


৪ 


ভক্তিনহকারে সে দেবতায় বিশ্বাস স্থাপন করিতে পারেন, আমি নিশ্চয়, 
বলিতেছি, আপনার রোগের শাস্তি হয় । 

মীর্্লটীফর । আপনি যাহ! বলিবেনঃ আমি তাহাতেই প্রস্তুত আচ্চি 

নন্দকুমীর । আপনি ভক্তিসহকারে, দেবী কিরীটেখসরীর চরণামৃত 
পান করিতে পাবেন ? মা আমার সাক্ষাৎ শাস্তিরূপিণী । 

নন্দকুধারের বাক্যে মীরজাফরের ব্যাকুলত। অধিকতর বুদ্ধি পাইল । 
মীরজাফর ব্যগ্রভাবে কহিজেন,--*তবে আপনি কি আমায় দেবীর চরণ।- 
মৃত আনিয়া দিতে পারিবেন? আমি নিশ্চয় জানিয়াছি--আর বেশী 
দিন বাচিব না। যত সত্বর পার্ধেন, আপনি মায়ের চরণামৃত আনি 
দেন। 

নন্দকুমার | আপনার যখন বিশ্বাস হুইয়াছে, আগামী কল্য দেবীর 
পূজার পর তাহার চরণামৃত আনিয়। আপনাকে প্রদান করিব। দেই 
চরণামূত পান করিবেন, ম্তকে রাখিবেন, সর্বসস্তাপ দুরীভূত হইবে ।” 

দুই পরামশ হ স্থির হইল। মোবারক উদ্দৌলাকে সিংহাসনে বদাইবান 
পন্দে চেষ্টা হইবে ; মীবুজাফরের অনুতপ্ত প্রাণে শাস্তিঘানের জন্ত মহারাজ 
তাহাকে চরণামূত আনিয়া দিবেন । 


ফমলিনী-সাহ্তা-মন্ির, 


প্রণীতস্-“মণিবেগম। ১৩৯ 
৮ . 


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ । 








শান্তি কোথায় ? 


16৮৮8 (00 00৮ 10101866700 81150 14059) 
1১100101012 6150 1270171070৮ 107৮৭1 ম00 2 

16 0710 0106 স)166ত) (9010)105 01 (116 1)7801), 
4870, 1100 59010 35586 00175101005 9011106ত, 
€1587)৭8 07৬ (100 ১০৯০) 0107৮৮1৮190 সি, 
৮1101) 0108 ৪০৮ 1100 1164৮71 


-৮০১110/85)12071 


মীরজাফরের লহিত কথাবার্ত। কহিয়া নন্দকুমার বাঠিবে আপিয়াছেন । 
নিয়ামত খ। সম্মুখে দণ্ডায়মান হইলেন) সসম্মানে অতিবাদন-পূর্ব্বক নন্দ- 
কুনারকে কহিলেন,_-*আপনার সন্ধানে আমি আপনার বাড়ী পর্যাস্ত 
গিয়াছিলাম। আপনি বলিয়াছিলেন,মাজ নাটোরের বিবাদটা মিটাইয়া 
দিবেন। খাজুরা গ্রাম হইতে রঘুনন্দন লাহিড়ীর আত্মী়গণ আনিয়াছেন । 
তাহার সঙ্গে আটগ্রামের হলধর মৈত্র প্রভৃতিও* আসিয়া উপস্থিত 
হইয়াছেন।” 

*নন্দকুমার দেখিলেন--উয় সঞ্কট 1) এক দিকে নিয়ামত খ। অনুরোধ 
করিতে অংলিয়াছেন ; অন্ত দিকে নবাবের মন চঞ্চল হইয়া আছে । এ 


১১৪ নং আহিরীটোলা ছ্রাট, কলিকাত। । 


১৪, শরীদুর্গাদাস লাহিডী- 


সময় নবাবকে বিষয়-কম্ম-সম্পর্কে কোনও কথ! বলিতে যাওয়াও বিধেয় 
নহে ) অথচ, না যাইলেও, চলিতেছে না । অনেক দ্দিন হইতে প্র বিষয় 
লইয়া নানারূপ দরবার চলিয়াছে ; কিন্তু কোনই মীমাংসা হয় নাই । 

নিয়ামৎ খা! বলিলেন,__“নবাবকে আমি বলিয়৷ রাখিয়াছি। তিন্জি 
আজ এ বিষয় শুনিবেন বলিয়াছেন। সমক্স-মত আপনাকেও পাওয়া 
গিয়াছে । সুতরাং আজ আর এ স্থযোগ পরিত্যাগ করা কোনমতে 
উচিত নহে ।” 

নিয়ামৎ খা-সম্পর্কে নবাব মীরজাফরের ভগ্রপতি | নবাব-দংসারে 
স্কাহার প্রনৃতব-প্রতিপত্তিও যথেষ্ট । তিনি আসিরা যখন অনুরোধ 
করিতেছেন, নন্দকুমার দ্বিরুক্তি করিতে পারেন কি? তথাপি নন্দকুমার 
বলিলেন,_-"আমি এই মাত্র নবাবের নিকট হইতে. আদিতেছি। তাহার 
মনের অবস্থা বড়ই খারাপ । আমার মানসিক অবস্থাও ভাল নহে। 
আজিকার দির্নে এ দরবার স্থগিত রাখিলে ভাল হইত ন। ?” 

নিয়ামত খ।| স্থগিত রাখার কি প্রয়োজন ? নবাবের মনের অবস্থ। 
এখন আর ভাল হওয়ার আশ। দেখি না। আমার ইচ্ছ1, যা হয় আজি 
একটা শেষ হইয়া যাউক। | 

নন্দকুমারকে ন্বাব-সমিধানে উপস্থিত হইবার জন্ত নিয়ামৎ এ। বিশেষ 
করিয়া অনুরোধ করিতে লাগিলেন ; বলিলেন,_-“আপনার সিদ্ধান্তই 
সিন্ধান্ত। আপনি যাহা ঠিক করিয়! দিবেন, কে তাহার অন্তথা করে %” 

নন্দকুমীর। নবাবের মেজাজ আজ ভাল নহে 1" 

নিয়ামত খ| হীহা। করিয়া হাসিক্সা উঠিলেন 1 বলিলেন,_-“নবাৰ ! 
নবাব আবার কে ? "আপনিই তে। সব। একবার চনুন দেখি ! _নবাব 
কেমন আপনার কথার অন্যথা করেন”. 0 

অগত্যা নন্দকুমার যাইতে সম্মত হইলেন। মনে মনে কহিলেন,-- 


ফমলিনী-সাহিত্য-সন্দির, 


প্রণীত---“মণিবেগম? ৃঁ ১৪১ 


খা সাহেব যাহা বলিতেছেন, তাহা তো আর মিথ্যা নয়! আমি যাহা 
বলিব, সে কথায় কে আপত্তি করে? 
নিয়ামত খ। ও নন্দকুমার উভরেই নবাবের সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্য 
ংবাদ পাঠাইলেন । 
নন্বকুমারকে বিদায় দিয়া, একাকী শধার উপর বসিয়া, নবাব 

ভূত-ভবিষ্যৎ কত-কি চিন্ত। করিতেছিলেন। এক একবার উর্ধে দৃষ্টিপাত 
করিয়া! ভগবানকে ডাকিতেছিলেন; এক একবার আত্মগ্রানির আবেশে 
মনে মনে বলিতেছিলেন,- হায়! কি করিতে গিয়া আমি কি কল লাভ 
করিলাম! কেন আমার সে ছুষ্মতি হইয়াছিল? কেন আমি তাহাকে 
বিশ্বাস করিয়াছিলাম ? কেন আমি আমার স্বদেশের শ্বজাতির বক্ষে তীক্ষ 
ছুরিক বিদ্ধা করিয়াছিলাম ? ভাবিতেছেন, আর এক একবার 
ডাকিতেছেন,_-৭ভগবান !, আমার পাপের কি কোনও প্রায়শ্চিত্ত নাই ৮” 

এই সময় সহস! নন্দকুমার ও নিয়ামত খার আগমন-বার্তী লইয়। সংবাদ- 
বাহী ভূত্য নিকটে উপস্থিত হইল। কুর্ণিশ করিয়া, সন্মুধে দাড়াইয়া, 
নিবেদন করিল,__প্জীহাপনার সহিত সাক্ষাৎ করিবার জন্য নহাঁরাজ্জ 
নন্দকুমার ও খ। সাহেব অপেক্ষা করিতেছেন 1” | 

মীরজাফর মনে মনে কহিলেন)--আবার কেন? একটু শান্তিলাছের 
চেষ্টা পাইতেছি ; আবার এ কি বিদ্! নিষ্লামৎ খাই বা 
কেন আসিতেছেন ? যাহা হউক, তীহাদিগকে ভাকিয়। আনিতে 
কহিলেন। ৃ 

ননকুমার ও নিয়ামত খ। প্রকোষ্টে প্রবেশ করিলে, নবাৰ মীরজাফর 
শধায় বপিয়াই তাহাদিগকে অভিবাদন করিলেন ? মিষ্টবাঁকো , আহ্বান 
করিয়া কহিলেন, "আস্থন মহারাজ! আমন খা সাহেব! আবু কি 
কোনও নৃতন কথা আছে ?” 

১১৪ নং আহিরীক্টোলা ভ্রাট, কলিকাত। । 


গা 


১৪২ . তীতর্গাদাস লাহিডী- 


নন্দকুমার সসম্মীনে উত্তর দিলেন,-পছুজুর! তাহা না থাকিলে, এ 
সময় আবার আপনাকে উত্তান্ত করিতে আমিব কেন?” 

মীরজাফর । সেকি বলেন মহারাজ ! আপনার আসেন--সে তে! 
আমার সৌভাগোর বিবয়। এ ব্যাত্বরাঘের লময় আপনাধিগকে যতক্ষণ 
সম্মুথে পাই, ততক্ষণ অনেক যন্বণর লাঘব হয়। 

নন্দকুমার। আপশি আমার্দিগকে নিতান্ত ভালবাসেন ; আমরাও 
তাই আব্দার করিতে আপি । বদি অন্তুমতি করেন, খা সাহেব ও 
আমি এবার যে জন্য আসিয়াছি, তাহ! ব্যক্ত করি। 

মীরজাফর | আমার নিকট কোন কথা কহিতে আপনারা এত 
সঙ্কোচ-ভাব প্রকাশ করিতেছেন কেন ? যাহা বলিবার জন্ত আসিয়াছেন, 
নিঃসঙ্কোচে বলিতে পাবেন । 

নন্দকুমার । আপলার স্তায় উদ্দার মহাঁন্‌ বাক্তির নিকট কোনও 
বিষয় জানাইতে কখনই সঙ্কোট-বোধ করি নাই। তবে আজ আপনার 
শরীব নিতান্ত কাতর, তাই-- 

মীরজাফর বাধা দিরা কহিলেন--“সক্কোচের কোনই কারণ নাই । 
আবার ফিরিয়া আসিতে হইল, এমন কি প্রয়োজন পড়িয়াছে--মহারাজ ।” 

যে কারণেই হউক, নন্দকুমার, সকল কথ! বুঝাইয়৷ বলিবার জন্য 
থা সাহেবকে অনুরোধ করিলেন । নিয়ামৎ খ। বলিতে গেলেন; কিন্তু 
বলিতে বলিতে কথা আট্কাইয়া যাইতে লাগিল । তিন্দি বলিতে গেলেন 
-প্মহারাণী ভবানীর বিষদ্ব-সম্পত্তি সমস্তই তিনি তীহার . ভামাত! 
রথুনন্দনকে দান কপ্রিরাছিলেন। কিন্তু জামাতা রঘুনন্দনের উত্তরাধি- 
কারিগণ সে বিষয়-সম্পত্তি কিছুই এখন অধিকার করিতে পারিতেছেন 
না। তীহার। তাই আপনার নিকট বিচার-প্রার্থী হইয়া! আসিয়াছেন 1” 
নিয়মাৎ খা যত কথা বলিতে পারিলেন যা না পারিলেন, মহারাজ 


. ফমজিনী-সাহিতা-হন্দির, 


প্রণীত--__মণিবেগম? ১৪৩ 


নন্দকুমার সকল কথাই সাম্লাইবা লইলেন । পরিশেষে মহারাজ নিজেই 
বুঝাইয়। বলিলেন,-*"আজ প্রায় পাঁচ ৰৎসর হইতে এই সম্বন্ধে নবাব- 
সরকারে দরবার চলিয়াঙ্ছে। কিন্তু এ পধাস্ত কোনও বিচার-মীমাংস1 
গয়লাই। সংগ্রতি থাজুরা-গ্রাম হইতে ব্রঘুনন্দনের আত্মীয়গণ নবাব- 
দরবারে উপস্থিত হইগাছেন। আটগ্রাষের এক জন গণা-মান্য ব্যক্তি এ 
দশ্বন্ধে সাক্ষা-প্রদানে প্রস্থত হ্উয়া আসিয়াছেন! হু্গুর যি হুকুম 
করেন, তাহাদিগকে হাজির করিতে পারি 1” 

নবাব ধারে ধীরে উত্তর দিলেন,_-“আজ এ দরবার স্থগিত রাখিলে 
হয় না 2” 

ননাকুমার। আমারও তাই ইচ্ছা । বে খ| সাহেব বডই ছটেপটে 
ধর্ষিয়াছেন। খ। সাহেব বলেন পাচ বৎসর হইতে এ সম্বন্ধে দরবার 
১লিয়াছেঃ এবার ৪ আবেদনকারিগণ ছয় মাস কাল মুর্শিদাবাদে বসিয়া 
আছেন । একটা বিচার-মীমাংস! শেষ করিয়া দিলেই ৫গাল চুকিয়া যায়। 
তঙজুরের মুবের কথা বৈ ত নয়? ন্যাষ্য বিষয়, হ্যায়সগগত দ্রাবী। মহারাণী 
ভবানীকে জিজ্ঞ:সা করিয়া পাঠাইলে, এ দ্রাবীর বিষয় তিনিও অস্বীকার 
করিতে পারিবেন না। 

মীরজাকর। সকলই সত্য বটে ! সকল কথাই সঙ্গত বলিতেছেন 
বটে; কিন্তু বলিতে পারেন কি--মহারাণীর কন্তা এখন কোথাক্প ? 
আাজ সাত. বংদর অতীত: হইল, রদুনন্দনের মৃত্যু হইয়াছে । আমি 
স্উনিয়াছি, লেই হইতেই মহারাণীর কনা তারাহন্দরী ম্হারাণীর সঙ্গেই 
বসবাদ করিতেছেন । এ অবস্থায়, আপনারা কাহার সম্পর্তি কাহাকে 
পধিতে অনুরোধ করিতেছেন ? 

নন্বকুমার। অনুরোধ আমাদের কিছুই নাই। অনুরোধ এই»-- 
গুছুর দেখুন, মহারাণী আপন সম্পত্তি জামাতা রথুনন্দনকে দান করিতে 


১১৪ নং আহিরাটোলা, ছ্ীট কলিকাতা । 


১৪৪ জীদ্রর্গাদাস লাহিডী- 


অঙ্গীকার করিয়াছিলেন কি না? তিনি যদি অঙ্গীকার কক্রিয়। থাকেন, 
তাহা হইলে সে সম্পত্তিতে আবেদনকারিগণের স্বত্ব রর্তিয়াছে কি না? 

মীরজাফর । সত্য হউক, মিথ্য। হউক, আপনারা যখন বলিতেছেন, 
আমি সকলই মানিয়া লইতেছি। তবে আমি জানি, মহারাণী ভবানী 
অসামান্তা ধন্মান্থরাগিনী । তিনি যে কখনও অধশ্্াচরণে প্রবৃত্ত হইবেন, 
তিনি ষে কখনও পরম্ম অপহরণ করিবেন, অথব। তিনি ষে কাহারও 
কোনরূপ অনিঃসাধনে চেষ্টা পাইবেন, এ বিশ্বাস আমার একটুও নাই । 

নন্দকুমার। সে বিশ্বাস আমারও নাই । তবে ঘটনা! যাহা ঘটিয়াছে, 
তাহাই হুজুরে জানান যাইতেছে । বিশেষতঃ খা-সাহেব এ সম্বন্ধে প্রমাথ- 
পরম্পরা দেখাইতে প্রস্তুত আছেন। তাহার অন্থুরোধেই আমি আপনা 
নিকট এ দরবার উপস্থিত করিয়াছি । 


নিয়ামৎ খা। হাহা, প্রমাণ আছে বৈকি! 

মীরজাফর ।* ভাল। খা সাহেব, আপনি একটু স্থির হউন । আমি 
মহারাজকে একটী কথা জিজ্ঞাসা করি। মহারাজ যদি সহুত্তর দিতে 
পারেন, আমি এখনই বিচার শেষ করিয়া দিব। 

এই বলিয়া মহারাজ নন্দকুমারের প্রতি তীব্র-দৃষ্টি সঞ্চালন করির! 
মীরজাফর গম্ভীর-ভাবে জ্জ্ঞাসা করিলেন, “মহারাজ । আচ্ছা, 
আপনিই বলুন দেখি,--এ বিষয়ে আপনার অস্তরাত্মা কি বলে ? আপনার 
মনকে জিজ্ঞাসা করিয়। দেখুন, আর তার পর উত্তর দেন! আমার প্রশ্ন--- 
অহারাণী ভবানী এ বিষয়ে দোষী কি নির্দোষ? বলুন, _ আপনার 
ব্ন্তরাত্মা কি উত্তর দেয় ?” 

মহারাজ নন্দকুমার আর উত্তর দিতে পারিলেন না.। তিনি কি 
উত্তর দ্রিবেন? তিনি একবার ভাবিলেন--“বলি, মহারাণী নির্দোষ!” 
আবার ভাবিলেন_-বিলি, আমি কি জানি? যাহ! শুনিয়াছি, তাহাই 


-  ফমলিনী-সাহিত্য-মন্দির 


প্রণীত---“মণিবেগম' ৩৪৫ 


বলিতে আসিয়াছি।” কিন্তু বগিতে কিছুই পারিলেন না। মীরজাফরের- 
প্রশ্ন শুনিয়া, তিনি লীরবে নতমুখে দাড়াইয়া রহিলেন। 

নন্দকুমারকে নীরবে নতমুখে দীড়াইয়। থাকিতে দেখিয়া, নবাব 
মীরজাফর উত্ভেজিত কে কহিলেন,--“কি মহারাজ ! নীরব কেন? 
বলুন, আপনি যাহ1 বলিবেন, আমি তাহাই শুনিব।” 


নন্দকুমার কোনও উত্তর দিতে পারিলেন না। মীরজাফর পুনরপি 
কহিলেন,--প্মহারাজ ! এ জীবনে আমি অনেক অপকর্ম করিরাছি ; 
কিন্ত আর না! যাহা করিয়াছি, তাঙারই যন্ণায় প্রাণ অস্থির হুইয়' 
পড়িয়াছে। তাহার উপর আবার যদি আমি সেই পুণাময়ী মহারাণী 
ভবানীর প্রতি কোনরূপ অত্যাচার করিতে প্রবৃত্ত হই, নরকেও যে 
আমার স্থান হইবে না! আমি যাহা শুনিয়াছি, আমি যাহ! সন্ধান পাইয়াছি, 
তাহাতে মহারাণী ভবানীকে, স্বর্গের দেবী বলিয়া আমার বিশ্বাস হইয়াছে । 
মহারানী-_-অতুল এশ্বধ্যের অধিকারিণী হইয়াও ত্রক্মচারিণী ; মহারাণী _ 
রাজবাজেশ্বরী হইয়াও পরসেবাব্রতধারিণী ! মহাব্রাণী ভবানীর তুলনা কি 
আর এ সংসারে আছে ? মহারাজ !--পরসেবাই বাহার শান্তি, পরহিত- 
সাধনই ধাহার একমাত্র বৃত্তি, তিনিকি মানবী? কখনই না । আমি 
মুসলমান হইয়াও তীহার চরণে তাই কোটী কোটা প্রণাম করিতেছি ।” 

নন্দকুমার অস্বীকার করিতে পারিলেন না । মীরজাফর আবার 
বলিতে লাগিলেন,--প্মহারাণী নির্দোষ ত বটেই) অধিকজ্ত তিনি 
অশেষ-গুণ-সম্পন্না । তিনি যেমন উচ্চমনা, তেমনই তীক্ষবুদ্ধিশালিনী | 
এক দিকে দয়াধশ্মে পরসেবাব্রতে তার প্রতিষ্ঠা, 'অনা দিকে বুদ্ধিমন্তায় 
তিনি অদ্ধিতীয়া। মহারাজ 1-্-মনে আছে কি, শেঠ-ভবনে আমর 
যৌদিন নিরাজের বিরুদ্ধে ফড়যন্ত্র করি, মহারাণী সেদিন কি বলিয়াছিলেন ?" 
মহারাণী স্ত্রীলোক হইয়াও যেরূপ তীক্ষ-দৃষ্টিতে ভবিষ্যদ্দর্শন করিয়াছিলেন, 


১১৪ নংত্আহি রীটোলা উট, কঙজিকাতা । 


১০৬ 7? শ্রীদুর্গাদাস লাহিডী- 


আমরা শত পুক্রবপুঙ্গবে পরামর্শ করিয়াও তাহা স্থির করিতে পারি নাই। 
কেমন-মহারাণী তখন যাহ! বলিয়াছিিলেন, তাহাই*্এখন ঘটিতেছে কি 
না? সে বুদ্ধির কণামাত্রও যদি আমর! পাইতাম 1” 
মীরজাকরের মুখে যতই বাক্যের লহরী ছুটিতে লাগিল, অতীত- 

শ্বতির বৃশ্চিক-দংশনে নন্দকুমারের হৃদয়কে ততই অধীর করিফ়া হুলিল। 

ইতিপূর্বে ছুই একবার তিনিও ষে মহারাণী ভবানীর প্রতি দুর্ব্যবহার 

করিয়াছিলেন, এখন সে সকল কথা এক একবার মনে পড়িতে লাগিল। 
নধাব আলীবদ্রীর দরবারে মহারাণী ভবানীর স্বামী মারাজ রামকান্তের 
রাজাচাতির চক্রান্ত ব্যাপারে তিনিও ষে লিপ্ত ছিলেন, তজ্জন্ত অনুতাপ 
উপস্থিত হইল। তার পর, ১৭৬০ খুষ্টান্বে,”আর একবার তিনি মহারাণী 
ভবানীকে রাজ্য করিবার চেষ্টা পাইয়াছিলেন; দে জন্যও অনুশোচন। 
আসতে লাগিল। রানকান্তের প্রতিঘন্দী দেবীপ্রসাদের পুত্র গৌরী প্রসাদ 
পেবার পৈতৃক রাজ্য পুনরুদ্ধার জন্ত উদ্তোগী হইয়াছিলেন ; আর মহারাজ, 
নন্দকুমার তদ্ধিষরে তাহাকে উত্সাহ দিয়াছিলেন। পরিশেষে এবার 
আবার নন্দকুমার, মহারাণীর স্বর্গগত জামাতা রঘুনন্দনের আত্মীয়-স্বজনের 
পক্ষাবঙ্ছনে মহারাণীর বিরুদ্ধে দরবার কৰিতে আসিয়াছেন। বার বার 
তিনবার! নন্দকুমারের লঙ্জাবোধ হইল । | 

শেঠ-ভবনে যড়মন্ত্র-সভার বিষয় শ্মরণ করিস! নন্দকুমার কহিলেন,-_- 

“আপনি যাহা বলিতিছেন, তাহার একটী কথাও. অতিরঞ্জিত নহে । 
সতাই মহারাণী যাহা ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন, এখন বর্ণে বর্ণে তাহা 
সংঘটত হইতেছে । হায় 1--আমরা যদ্দি তখন মহারাণীর পরামর্শে 
কর্ণপাত করিতাম!” | 

- মীরজাফরের বাঁকো নন্বকুমারের চৈতক্কটোধয হহল । নন্দকুমার মনে মনে 
বড়ই কষ্ট অন্ুভব কহে লাগিলেন | তবে সে ক্ট--সে অনুশোচনা 


 ষমলিনী-সাহিতয-মশ্বির, 


প্রনীত-_'মণিবেগম? ঠা ১৪৭ 


কতক্ষণ যে স্থায়ী হইয়াছিল, তাহ! বপিতে পার! যায় না । মানুষ যখন 
'উচ্চ-পদবীতে আরূঢ় থাকে, মানুষ বখন বশ্বর্য-মদে প্রমত্ত রে, 
,গতাপকর্মের' জন্য অন্্শোচনা উপস্থিত হইলেও, দে অনুশোচনা তাহার 
মনে অধিকক্ষণ স্থারী হয় না । জানি-না,_ক্ষণপরেই নন্দকুমারের 
মতি-পরিবর্ভন ঘটিয়াছিল কি না! জানি-না,_ সেই . হইতেই 
তিনি অন্ুশোচনার অন্তর্দাহে অনুক্ষণ জঙ্জরীভূত হইতেছিলেন 
কিনা! 

যাচা হউক, যে কারণেই হউক, নবাবের কথার নন্দকুমার আর 
কোনরূপ প্রতিবাদ কব্রিলেন না) পরস্ত নবাবের বিচারই সুবিচার 
বলিয়৷ মানিয়া লইলেন) মুক্তকণ্ঠে প্রকাশ করিলেন,_-"আপনি যাহা 
মীনাংদা করিয়া দিলেন, তাহাই ঠিক। আপনার কথাবার্তা শুনিয়া, 
আমারও এখন মত-পর্রিবন্তন ঘটিয়াছে। আমারও এখন মনে হইতেছে, 
মছারাণীর কোনই দোষ নাই ।” 

নিয়ামত খার মে সম্বন্ধে আর কোনও কথা কহিবার সাহস হইল না। 
তিনি যে তরুকে আশ্রয় করিয়াছিলেন, সেই আশ্রয়-তরুই যখন বাতাহত 
 কদলীর স্তায় ভগ্নকাণ্ড হইয়! তূতলশার়ী হইল, তখন আর তিনি কি 
করিতে পাবেন? 

মীরজাফর বিচার শেষ করিয়। দিলেন । বিচারে রঘুনন্দনের আত্মীয় 
গণের পরাজয় হইল । পে সম্বন্ধে হহারাণী ভবানীর কোনও ক্রটি নাই-_ 
তাহাই সিদ্ধান্ত হইন্্া গেল। নিয়ামৎ খা যে আশায় নন্দকুমারের আশ্রয়- 
গ্রহণ করিয়াছিলেন, সে আশ! সম্পূর্ণরূপ বিফল হইল । 

পরিশেষে, নন্দকুমার ও নিয়ামত খ! বিদায়-গ্রহণে প্রস্তুত হইলে, 
মীরঞ্জাফর ইঙ্গিতে নন্দকুমাররকে একটু অপেক্ষা করিতে বলিলেন । 
'নিয়ামৎ খা সেদিকে টিক! কিবা অবদর পাইলেন না। মীরজাকবের 


জারী, ফলিকাত1। 





১৪৮ ভীতর্গাদাস লাছিড়ী- 


বিচারে, অপিচ নন্দকুমারের মত-পরিবর্তনে, কতকট! অভিমানে, কতকটা 
রোধ-বশে, নিয়ায়ৎ খাঁ ক্ষুপ্রমনে বিদায় গ্রহণ করিলেন। 

নিয়ামত খ। চলিয়। গেলে, নন্দকুমার বিদায় লইবার জন্য গাত্রোথান, 
করিলে, মীরজাফর আর একবার তীহাকে.-কিরীটেশ্বরীর চ্ণামৃতের কথা 
স্মরণ করাইয়! দিবেন; বলিলেন,--প্মহারাজ ! দেবী কিরীটেশ্বরীর 
চরণামৃতের অপেক্ষায় আমি পথপানে চাহিয়। রহিলাম। আপনি নিশ্চয়, 
জানিবেন, আপনি .যতক্ষণ চরণামৃত না পাঠাইবেন, আমি ততক্ষণ 
পর্যাস্ত জলগ্রহণ করিব নাঁ।” ূ 

নন্দকুমার। কাল দ্বিপ্রহরে মায়ের পুজার পর আমি চরণামৃত 
লইয়া আসিব। আপনার অন্সস্থ দেহ; তত বেলা পধ্যস্ত জলগ্রহণ ন' 
করিলে বড়ই ক্ট হইবে। 

মীরজাফর ।॥ কষ্ট কি মহারাজ ! যে যন্ত্র অহরহ ভোগ করিতেছি”. 
কিছুক্ষণ জলগ্রহণ না করিলে তাহার অপেক্ষা অধিক কষ্ট কখনই 
সম্ভবপর নছে। কল্যকার কথ। কি বলিতেছেন? আমি আজ হইতে 
প্রতীক্ষা করিয়া রহিলাম; আজিও আর জলগ্রহণ করিব না,--কালিও: 
না,--যতক্ষণ না চরণামৃত পান করিব, ততক্ষণ ন1।” 

নন্দকুমার ছুই একবার বুঝাইবার চেষ্টা পাইলেন॥ কিন্তু মীরজাফর 
কিছুতেই তাহা শুনিলেন না। তিনি পুনঃপুনঃ বলিলেন,--প্মহারাজ !. 
এ জীবনের শেষ হইতে আর অধিক বিলম্ব নাই । এখনও যদি মায়ের 
চরণে শরণ লইতে পারি, হয় তে! তিনি পাপী বলিয়া! :উপেক্ষা না করিয়! 
একবার কপাকটাক্ষে চাহিতে পরেন । সেই আমার শেষ ভরসা ৷” 

ননকুমার হারি মানিলেন। “তাই হইবে ! মায়ের পুজার পর,» ষত 
সত্বর সম্ভব, আমি চরণাম্ৃত লইয়া আসিব। সেজন্ত চিন্তা নাই।” এই 
| বলিয়া, নন্দকুমার রিদার নই চলিয়া গেরোন। চলিয়া যাইবার ১৪৮ 


»কযলিবী- সাহিতা-অন্দির, 


প্রণীভ---“মণিবেগম' ১৪৯ 


কিন্তু কেবলই তাহার মনে হইতে লাগিল,_“মূস্রাধান হইয়াও দেবীর 
প্রতি নবাবের এতববিশ্বাস_-এত ভক্তি! হিন্দু হইয়াঁও আমর! এ বিশ্বাস- 
এ ভক্তি দেখাইতে পারি কৈ !* “ 
নন্দকুমার এই ভাবিতে ভাবিতে চলিয়া গেলেন । বীরজাফর মনে 
সনে কহিলেন,_-পম! কিরীটেশ্বরী কি আমার প্রার্থনা পূর্ণ করিবেন ন! !” 
তাহার মনই সে কথার উত্তর দিল। তিনি আপনা-আপনিই বলিয়। 
উঠিলেন,_“্মা-আমার অবশ্তই এ যন্ত্রণার অবসান করিয়া দিবেন। মার 
চরণামৃত পান করিলে আমার সকল যন্ত্রণার অবসান হইবে ।* 
কিন্ত এ জন্ময়-ভাব কতক্ষণ থাকিবে! মীরজাফরের চতুর্দিকে 
শণপ-পুকষ মোহজাল বিস্তার করিয়। আছেন। দেবীর প্রতি মীরজাফরের 
'ভক্তি-ভাব দেখিয়া, তিনি ঈষৎ হাত্য করিলেন )'মনে মনে কহিলেন,-- 
“মঢ় 1 এ তন্সয়-ভাঁব তোমার কতক্ষণ থাকিবে ।” 





_ তৃতীয় পরিচ্ছেদ । 





(0 "পান 


মোহজাল। 


“যে দিকে যখন চায়, কুল বরষিয়া যায়, 
মোহ করে প্রেম-মধু ঢালিয়া রে |” 
_ভারতচন্্র 


নন্দকুমার চলিয়৷ গেলে, মীরজাফরের প্রকোঠাভ্যন্তরে সহসা ফেন 
বৈদ্যুতিক আলোক বিকাশ পাইল । | 


১১৪ নং আহিনীটোলা টি, কগিক?ত1) 


৯৫ শ্ীহুর্গাদাস লাহিডী-. 


একি! এ তো চপলার চকিত চমক নহে! এ যে অচঞ্চল স্থির- 
সৌদামিনী! ঁ 

মীরজাফর ইস্ট-চিন্তা বিস্বৃত হইলেন। ব্যগ্রভাবে ব্যস্ত-সনন্তে চাহিয়! 
দেখিলেন--তাহার গৃহমধ্যে কি যেন এক দিব্য জ্যোতিঃ প্রকটিস্ হইল।* 
মীরজাফর দেখিতে লাগিলেন,--ষেন উজ্ভ্বলতামস কক্ষ আলোকিত হয় 
উঠিয়াছে, গৃহ-শোভ। দর্পণে দর্পণে সে উজ্ভ্বলতা। প্রতিফলিত হইতেছে, 
বন্তিকাধার বেলোয়াৰি ঝাড়গুলিতে এবং দেওয়ালগিরিসমূহে সে উজ্জ্বলত! 
ছড়াইয়! পড়িয়াছে, সুধাধবলিত কক্ষ-প্রাচীরে উজ্জ্বলতার চারু-চিত 
প্রতিবিদ্থিত হইয়াছে ! মীরজাফরের খট্াঙ্গোপরি শল্মা-খচিত ভেলভেট- 
মণ্ডত শয্য। ও উপাধান ছিল,--উজ্জলতায় তাহা চাকচিক্যসম্পন্ন হইয়ং 
উঠিল। মন্তর-নিন্মিত গৃহ-প্রাণ, মর্্বর-নিম্ষিত মেজ ও কেদারাগুলি,__. 
সকলই যেন উজ্জ্লতায় উদ্ভাসিত বলিয়া! বোধ হইতে লাগিল। 

মীরজাফরের'অনেকক্ষণ বাক্যন্মৃত্তি হইল ন1। ক্ষণেক পরে চমক, 
ভাঙ্গিলে, মীরজাফর. একদৃষ্টে এক' জ্যোতিশ্ময়ী মূর্তির প্রতি চাহিয়! 
রছিলেন। সেই মৃত্তি ধীরে ধীরে মীরজাঁফরের শব্যার নিকট উপস্থিত 
হইয়া, বীণা-বিনিন্দী-কণ্ঠে প্রার্থনা জানাইল,--"্জনাব। জনাব! অন্ুগ্রহ্‌ 
- ক্ষরিয়। এই সরবত্টুকু পান করুন। শরীর এখনই শীতল হইবে ।” 

মীরজাফর এ কি ্বপ্র দেখিতেছেন ? নানা 1-এ তো ম্বপ্র নয়), 
শ্রীরজাফর আকুল-কঠে কহিলেন, ক | আমায় কি ০ 
দেখা দিতে নাই ?” রঃ 

মণির বদনমণ্ডলে* ঈষৎ হাসত-রেখা প্রকটিত হইল। কিন্তু কৌশল- 
জালে সে হান্ত-রেখ আবৃত রাখিয়া, মণি বীণার বাঙ্কারে উত্তর দিল,__ 
“নাথ! আপনার চরণ-সেবার জন্য এ দাসী সর্বদাই প্রস্থত হইয়া 
খ্সাছে। কিন্ত আপনি সংসারের শত কাধ্যে নিয়ত বিব্রত ;--আপনাকর, 


স্ষঘলিনী- সাহিত্য.মন্থির, : 


প্রণীত--“মণিবেগম, ১৫১ 


চরণ-সেবার সময় পাই কৈ?” যেন ম্ুধা-কঠে সুধাধারা! মণির স্বর 
শুনিয়াই মীরজাফরের হৃদয় গলিয়া গেল। মীরজাফর আর কোনও. 
ংশর-প্রশ্ন তুলিতে পারিলেন না । 

এমন ঘটনা, প্রায়ই ঘটিত। মণির অদর্শনে মীরজাফর কত সময় 
মণির সঙ্থন্ধে কত অপ্রিয্-চিন্তা পোষণ করিতেন কিন্ধু মণি সম্মুখে 
আয় উপস্থিত হইলে সকল কথা--সকল চিন্তা ভুলিয়া যাইতেন। 
আজও তাহাই ঘটিল। আজ প্রায় আট দশদিন মণি তাহার নিকটে 
আলে নাই। মীরজাফর মনে মনে মণির প্রতি বড়ই বিরক্ত হইয়াছিলেন। 
অভমানবশে এ কয় দিন তিনি একবারও মণিকে ডাকিয়। পাঠান নাই ) 
পরস্ত, মণি নিকটে আসিলে, মিষ্ট মিষ্ট দুই চারি কথ! শুনাইয়া দিবেন . 
মনস্থ করিয়াছিলেন। কিন্তু মণির মুখমগ্ডলে না-জানি কি মোহিনী 
মায়। আছে ! মণির মুখ দেখিয়াই মীরজাফরের মাথা! ঘুরিরা গেল, 
অভিমান কোথায় উড়িয়! পলাইল। 

মণির কটাক্ষ-বাণে অতি-বড় বলবান্‌ ব্যক্তিই 'মুহামান,-মৃত্যু- 
শষ্যাশাযী বৃদ্ধ মীরজাফর সে কটাক্ষের নিকট কতক্ষণ সজীব থাকিতে 
পারেন ? মণির কূপ, মণির বয়স, মণির বেশ-বিন্যাস,কত জনকেই 
পাগল করিয়া রাখিয়াছিল। মীরজাফর তে] কোন্‌ ছার। মণির শত 
দোষ দেখিতে পাইলেও মণিকে তাই মীরজাফর কখনওঞ্কোনও কথ! 
কঠিতে সাহসী হইতেন না। আজিও তাই আর কোনও কথা কহিতে 
পারিলেন না! পারিবার সাধ্য কোথায়? | 

মণি পূর্ণযৌবনা ৷ ভাত্র-মাসের ভরা নদী। সর্ধাঙ্গে রুপের তরঙ্গ 
ছুটিয়াছে। গুণ্ডে গোলাপ-কাস্তি প্রস্ফুটিত । নয়নে নয়নে বিজলী 
খোঁলতেছে। ভ্রমরুষ্ণ ভ্র-যুগল-_-বিজলীর পাশে পাশে ঘন-মেঘের ন্যাক্ন 
শোভা পাইতেছে। অপর্মপ কারুকার্ধ্যসমন্থিত মস্লিনের মন্যণ বসনে' 


নট - ১৪ নংআহিরীটো ক! ট্রট, কলিকাত]। 


১৫২ শ্রীহর্গাদাস লাহিড়ী- 


অণির দেহ আবৃত ছিল। সেই সুচিক্কগ বসনাঞ্চল ভেদ করিয়া, "্ছন্দরীর 
রূপের ফোয়ার! ছুটিয়৷ বাহির হইতেছিল+ মণির মন্তকের অবগঠন-_ 
অদ্দোখিত অর্ধস্থালিত; সেই অবগুঠনাস্তরালে বেণীবদ্ধ কেশরাশি-- 
বিলম্বমান রুষ্ণ-সর্পের গায় তাহার পদপ্রাস্ত 'ম্পর্শ করিয়া আছে 1 
সুন্দরীর পরিধানে রেশমের সাটিঃ গাত্রে বিবিধ-চিচিত্র কারুখচিভ 
অঙ্গরাখ|। "তাহার চম্পকবিনিন্দী অঙ্গুলি কল্পেকটাতে হীরকাঙ্গুরীয় 
ঝক্‌ ঝক্‌ জলিতেছে। এক ছড়। মুক্তার মালা মণিক্ন গলায় সর্বদা 
দোদুল্যমান থাকিত। নিতম্বে সোণার চন্দ্রহার ; হস্তে হারকবলর ; 
মস্তকে বিচিত্র মুকুট ; মণির যখন যাহা সাধ হইত, মণি তখনই সেই 
বেশে সুসজ্জিত হইত। হিন্দু, মুললমান ও থৃষ্টান_ব্রিবিধ' জাতীয় 
মহ্িলাদ্দিগের পোষাক-পরিচ্ছদে র মধ্ো যেটুকু পছন্দসই, মণি সখ করিয়া, 
তাহারই অনুকরণে আপনার পোষাক প্ররস্তত করাই লইয়াছিল। 
কাহারও মনোরঞ্জনের আবশ্তক হইলে, মণির বেশ-ভূষার বাহার কতই 
বাড়িয়। উঠিত। শীরজাফরের নিকট মণি যখন উপস্থিত হইত, মণির কতই 
বেশ-বিষ্তাস গ্রকাশ পাইত। 

যেমন বয়স, তেমনই রূপ, তেমনই বেশ-ভূষা। পরস্ত মণি তীক্ষ- 
ুদ্ধিশালিনী। এবছিধ নান! কারণে, নবাব সংদারে মণির প্রতাপ, 
তুলনীয় । কণি প্রথম যেদিন নবাব মীরজাফরের দৃষ্টিপথে পতিত হয়, 
সেই দিন হইতেই মুর্শিদাবাদে মণির প্রতুত্ব-প্রৃতিপত্তি, সেই দিন হইতেই 
লোকে ধীরে ধীরে মণির পূর্ব-বৃত্তান্ত বস্থৃত হইতে বাধ্য হইয়াছে; 
পূর্বে মণি যে নর্ভকীর বাবসায় করিত, পূর্ব মণি. যে দেশে-বিদেশে মজুর! 
করিয়া ফিরিত, মণির প্রতাপে, সে কথা এখন জার কেহ উচ্চারণ 
করিতেও সমর্থ নহে । রর 

মণি এখন_-মশি বেগম । ধান বেগম মীরজাফরের প্রাণি 


| ক্ষন: সাহিতানন্ির, 


প্রণীত--'মণিবেগম' ১৫৩ 


প্রধানা মহিমী। সেকেন্্রার নিকট বালকুগ-গ্রামে মশির জন্ম হয়। 
'দবিলীতে মণি নর্তকীর ব্যবপায়ে জীবিকাঞ্জন কামিত ৷ পেই সুত্রে মন্তুরা 
লইয়া মণি একবার মুর্শিদাবাদদে আসে । মুনা বাদ আসিয়া, মীরজাফরের 
লজরে পড়িয়া যায়। দে আজ প্রান ষোল বংসরের কথা । নবাধ 
আলিবদ্র তখন জীবিত। মীরজাফরের প্রথমা পত্বী--নবাধ আলিবদ্দার 
ভগিনী সা-খান্থম তখন জীবিত। স্থতরাং গোপনে গোপানে মণি 
বেগমের ও মীরজাফরের মধ্যে প্পরেম-প্রবাহ প্রবাহিত হয়। পরিশেষে 
মীরজাফর যখন বাঙ্গালার মসনদ অধিকার করিয়া বসেন, তাহার অল্প দিন 
পরেই মণি বেগম পাট-মহিষীর আলন প্রাপ্ত হন। ববব, বেগম নাষে 
মীরজাফর়ের আর এক যে পত্রী ছিলেন, তিনি তখন দ্বিতীয়া বেগমের 
স্থান লাভ করেন! যাহ! হউক, এই হইতেই নর্তকী মণি “মণি বেগম” 
নামে পরিচিত! ;১--এই হইতেই তাহার প্রভাবে নবাব-পুরী, প্রকম্পিত! ॥ 
মণিবেগমের এখন ছুই পুত্তর+ তাহার এক পুজ্রের নাম,-শ্নাজম-উদ্দৌল। ) 
দ্বিতীয় পু্- নৈয়ফ-উদ্দৌলা। ববব, বেগমেরও একটা পুত্র; তাহার 
নাম--মোবারক-উদ্দৌল! । মহারাজ নন্দকুমারের সহিত নবাব মীরজাফর 
রাঙ্গালার ন্বাবী-পন্বন্ধে সেদিন যে পরামর্শ করিতেছিলেন, সে পরামর্শ --- 
বব, বেগমের পুত্র মোবারক-উদ্দৌলাকে পিংহালন-দান-বিষয়ে | -নাজম- 
'উদ্দৌলা, দৈয়ফ-উদ্দৌলা এবং মোবারক-উদ্দৌলা,--মীরজাফরের এই তিন 
পুজ্রের মধ্যে নাজম-উদ্দৌলাই জ্যেষ্ঠ । আমরা থে সমঘ্নের কথ! বলিতেছি, 
তখন নাজম-উদ্দৌলার বয়স অন্ত্রমান অষ্টাদশ বৎসর, লৈয়ফ-উদ্দৌল। 
পঞ্চদশ -বর্ষীয়, মোবারক-উদ্দৌল! সপ্তম-বধীয়। 

কিন্ত যাউক সে কথ! । মণিবেগম যখন হেলিয়! হেলিয়া। ছুলিয়া৷ ছুলিয়া 
চুল চাহনীতে সম্মুথে আসিয়া মৃহ্মন্দস্থরে কহিলেন,--"জনাব ! অনুগ্রহ 
করিয়া এই সরবংটুকু পান করুন ;১--দেহ শীতল হইবে,” মীরজাফর 


১১৪ নং আহিরীটোলা! দ্রাট, কলিকাতা । 


১৫৪ ্‌ শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


ফেন স্বর্গ হাতে পাইলেন। তীহার প্রাণের-প্রাণ মণিবেগম আসিয়া এমন 
করিয়। অনুরোধ করিজেছেন) ; সব্ব্-পানে শত অনিচ্ছা থাকিলেও, 
মীরজাফর আপত্তি কন্ধিতে পারিলেন না। মণিবেগম, মীরজাফরের 
মুখের নিকট সরব ধরিলেন মীরজাফর আগ্রহ-প্রকাশে সে সরব 
পান.করিলেন। / 

“এ কি! সরবৎ পাঁন করিতেই আবার এ দেহ জলির! উঠিল কেন? 
দেবীর চরণাসৃত পানের পুর্ধে আবু কিছু পানাহার করিব না মনে 
করিসাছিলাম, তাই কি শরীর এমন জ্বলিয়া উঠিল 1” 

কিন্তু মর্ণি' পাছে মনে কষ্ট পায়-মীরজাফর সেই জন্ত আপনার 
য্ত্রণার কথা চাঁপিয়। বাখিবার চেষ্টা পাইলেন । বুদ্ধিমতী মণিবেগম ভাই 
বুঝিতে পারিজ্নে। বুঝিতে পারিয়া, ধীরে ধীরে মীরজাফরকে বাজল 
করিতে লাগিলেন । মণিবেগম স্বয়ং মীরজাফরকে ব্যজন করিবেন, 
মীরজাফরের মনে স্বপ্রেও কখন সে আশার উদয় হয় নাই। স্ুৃতরাং- 
সে যন্ত্রণার মধ্যেও শীরজাফর মনে মনে অভিনব আনন্দ অনুভব করিদ্ন। 
তিনি এক একবার বাধা দিয়া ধলিতে লাগিলেন,_্মণি! তুমি কেন 
বাতীস কর ? হাতে বেদন। হবে যে!” রি 

মণিবেগম মুছত্ববরে উত্তর দিলেন,“আপনাকে বাজন করিব,--ইহা তত 
আমার সৌভাগ্য । ইহাতে কি কখনও বেদনা অনুভব হয়? আপা 
মা: সুস্থ হউন) ভাহ! হই লেই আমার সকল পরিশ্রম সার্থক হইবে।” 

মীরজাফর বন মণি. আঘি বেশ একটু শাস্তি অনুভব 
করিতেছিলাম। কিন্ত আবার মেন শরীরট। কেমন কেমন করিতেছে। 
মণি ! বড় আাল1।” . 

মধিবেগম । আপনার কি যন্ত্রণা বোধ হচ্চে? দাসী কি কোন" 
প্রকারে সে যন্ত্রণার ৪ করিতে পারে না? 


. কাননী-সাহিতা-মন্দি, 


প্রণীত--“মণিবেগম” ১৫৫ 


মীরজাফর । দে যন্ত্রণা তুমি কি দু করিবে-_মণি ? যতই পুর্ব-স্ৃতি 
মনোমধ্যে জাগিয়া১ উঠিতেছে, ততই আত্মগ্নানি-অনলে জলিয়। পুড়িকা 
মরিতেছি । জানিনা--কোন্‌ প্রাস্মশ্চিতে এ জ্বালা নিবারণ হইতে পারে ? 

মৃণি বেগম । আপনি তে। কোনও অপকর্ম করেন নাই! অপকণ্ম 
বলিয়। মনে হইলে, আপনি তে! কোনও কাযোরই প্রশ্রয় দেন নাই! 
আমি তে। সর্বদ। আপনার সুবিচারের বিষয়ই শুনিতেছি। 

মীরজাফর। সারাজীবন আমি কেবল অবিচার ও অধর্মের প্রশ্রক্ 
দিঃ! আসিয়াছি। কখন কোনও বিষয়ে স্থবিচার করিয়াছি বলিয়! 
আমার মনে হয় ন1। ূ 

মণি বেগম ।--”কেন--গতকল্যও তো আপনার স্ুবিচান্রের পরিচগ় 
পাওয়া গিয়াছে । 

মীরজাফর । কাল |, স্থবিচার ! 

মীরজাফরের স্মরণ হইল না। মণি বেগম স্মরণ কথাইয়। দিলেন,-_ 
“মহারানী ভবানীর বিরুদ্ধে বে ষড়যন্ত্র ভইয়াছিল, দে সঙ্বন্ধে আপনি 
বড় সুবিচার করিয়াছেন। আপনার সুবিচার সকলেই মুক্ত-কঠে ঘোষণ! 
করিতেছে |” 

মীরজাফরের বদনে আনন্দ-রেখার বিকাঁশ পাইল । শীরন্গাফর 
আনন্দবাঞক ন্বরে কহিলেন_-“এ--এ 1 তুমি এ সংবাদ কোথায় 
পাইলে ?% 

মণি বেগম । দাসী আপনার সকল কাধ্যের সমাচার সর্বদাই 
রাখিয়া থাকে | পাছে কোনও বিষয়ে আপনাক্ ভূল-ভ্রাস্তি হয়, আর 
পাছে সেই ভুল-ক্রান্তি-বশে আপনি মনঃকষ্ট পান, তাই আপনাকে স্মরণ 
করাইবার জন্য আমি সকল সংবাদ রাখিয়। থাকি। 

মীরজাফর। মণি! ভুমি, বথার্থই আমান হিতাভিলাধিবী। বল 


১১৪ নং জাহিয়ীর্টোল। ছ্রীট, কলিকাত।। 


১৫৬ জরীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


তে! মণি! আমার কোনও তুঙল-ত্রাস্তির কথা তোমার মনে 
পড়ে কি? নি 

মণি বেগম । আপনার ভূল! কৈ, কিছুই তো আমার মনে 
পড়ে না! 

মণি বেগম ষেন একটু চিস্তা করিতে লাগিলেন । ক্ষণকাল পরে 
কহিলেন,--পন।কৈ? তেমন তো কিছুই মনে হয় না! তবে--* 

“তবে' বলিয়াই মণি বেগম নীরব রছিলেন। মীরজাফরের কৌতুহল 
বাড়িয়। গেল। মীরজাফর আগ্রহসহকারে কহিলেন,_-“মণি ! কি 
বলিতেছিলে--বল ! আমার নিকট সঙ্কোচ কেন? বদি কোনও 
ভুল-ত্রাস্তিই হইয়া থাকে, আমি তাহ! সংশোধন করিয়া লইব।” 

মণি বেগম । নাঃ তেমন কথা কিছু নয়। সে একট| পুরাতন 
কথ! । তা এখন থাক্‌; আপনি স্থ হউন) সময়াস্তরে সে কথার 
'আলোচনা- করা ষাইবে। 

মীরজাফর । সময় আর কবে হইবে--মণি । যাহা বলিবার আছে, 
এখনই আঁমায় বল। এখনও যদি সময় থাঁকে, কর্তব্-পালনে আমি 
_ পরাম্মুখ হইব না।« 

মীরজাফর একান্ত আগ্রহ প্রকাশ করিতে লাগিলেন । ষণিবেগম ও 
সেই আগ্রহ-বশেই কথাটা যেন না বলিয়া থাকিতে পারিলেন না! 

মণিবেগম কহিলেন,--”কথাট তেমন:কিছু নয় । সে কথা পালন ন। 
করিলেও যে বিশেষ কোনও দোষ আছে, তাহাও আমার মনে হয় না। 
. ভবে নিষলক্ক চন্দ্রের স্তায়ু আপনার বশঃজ্যোতিঃ সর্বত্র বিকীর্ণ হয়,_--ইছাই 
আমার আকাজ্স।) আর সেই জন্যই আপনাকে সেই কথা বলিতে সাহসী 
হইতেছি। আপনার স্মরণ হয় কি--আপনি ক্লাইবকে “ুরচাজম+ 
উপহার দিবার প্রতিজ। করিয়াছিলেন? তুজ্জন্ত আপনি একখানি দানপত্রও 


গ্রণীত- -“মণিবেগম' ১৫৭ 


লিখিয়। রাখিয়াছেন । কিন্তু সেই দান-পত্রে আজিও আঁপনার স্বাক্ষর 
হয় নাই। সেই দীন-পত্রে স্বাক্ষর করিতে আপনার কি কোনও আপত্তি 
, আছে?” 

মীরজাফর শিহরিয়। উঠিলেন | 

আবার সেই ক্ল/ইবের নাম। ক্লাইব আমাকে যাছু করিয়াছিল । লে 
কি মণিবেগমকেও যাছু করিয়া গিয়াছে! তাহাকে এই বিপুল অর্থ প্রদান 
করিবার জন্য মণিবেগমের এত আগ্রহ কেন? ক্লাইবের সহিত 
ক্েষ্টিংসের সহিত--মণিবেগমকে মিশিতে দিয়া আমি তো! তবে ভাল কাজ 
করি নাই! আমার' কার্য্যোদ্ধারের পক্ষে, মণিবেগমের দ্বারা তাহাদের 
সভায়ত। পাইপ্লাছিলাঘ সতা  কিন্ধ তার পর, তাহারা যে ব্যবহার করিয়াছে 
মণি তাহ! সকলই তো: অবগত আছে! তথাপি, মণি কেন আমান 
ক্লাইবের নামে দান-পত্র স্বাক্ষর করিতে বলে! রহস্য , কিছুই বুঝিলাম 
না! কিন্তু কি করি?” 

মীরজাফর ভাবিতেছেন,--কি করি । মণিবেগমের এ প্রস্তাবে 
কি উত্তর দিই !, ও 

মীরজাফরকে নীরব দেখিয়া, বনে কহিলেন,_-প্ধন্্প্রতিজ্ঞায 
আবদ্ধ আছেন । পাছে ধর্মভ্র্ট হন, তাই আপনাকে সে কথ! স্মরণ করাইয়া 
দিতেছি। ক্লাইব আমার কেহই নয় ক্লাইবকে এ অর্থ প্রদান ন! করিলে, 
অর্থ আমাদেরই ঘরে মজুত থাকিবে 3 নবাবী পাইলে, আপনার পুত্রই এ 
অর্থের অর্ধিকারী হইবে । তবে যে আমি আপনাকে এ বিষয় স্মরণ 
করাইতেছি, দে ফেবল আপনারই পারলৌকিক হিতসাধনের জন্ত। 
ইচ্ছা হয়, আপনি ক্লাইবের নামে দানি-পত্র লিখিয়া দিতে পারেন) ইচ্ছ 
না হয়, তাহাতেও হানি নাই !” 

শীরজাফর মনে মনে কহিলেন,--“সত্যই তো! এ ব্যাপারে 


১১৪ নং আনিরীটোলা ছাট কলিকাতা । 


১৫৮ শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


আণিবেগমের স্বার্থ আদৌ নাই। মণিবেগম যাহ! বলিতেছে, আমারই 
হিত-কামনাজ । মণি নিঃস্বার্থ ।* 

মীরজাফর প্রকান্যে কহিলেন,--“মণি ! তুমি সত্যই বলিয়াছ !* 
ক্লাইব আমার যাহাই করুক, আমি তো প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ আছি 1” এই 
বলিয়া, মীরক্গাফর সেই দাঁন-পত্র দেখিতে চাহিলেন-১ কহিলেন,-_৭কৈ, 
সেদান-পত্র কোথায় আছে? আমায় আনিয়। দাও; আমি স্বাক্ষর 
করিতেছি |” 

মল্বেগম দান-পত্র সেই প্রকোষ্টেই আনিয়া বাখিয়াভিলেন। এখন 
কৌশলে তাহা বাহির করিয়া লইয়া মীরজাফরের সম্মথে ধারণ করিলেন । 
আর দ্বিরুক্তি হইল না। মীরজাফর দান-পত্রে শ্বাক্ষর করিলেন । সেই 
দান-পত্র এবং দান-প্রদত্ত অর্থসম্পৎ নণিবেগমের জিন্মায় ওুহিল। ক্লাইব 
কলিকাতায় প্রতমবৃত্ত হইলে, মণিবেগম ক্লাইবকে তাহা প্রদান করিবেন, 
স্থির তইল। 

এই দ্ান-পত্রোল্লিখিত সম্পত্তির নায় *নুব্রচাজম্” অর্থাৎ পনয়নের 
আলোক”। মীরজাফর একটা তহবিলকে প্নর়নের আলোক” বলিয়৷ মনে 
করিতেন। সেই তহবিলে পাচ লক্ষ টাকা নগদ মজুদ ছিল) তানিন, 
বনুসংখ্যক মোহর, এবং বনুমূলা জহরতে, মীরজাফর সে তহবিল পূর্ণ 


'রাখিয়াছিলেন। পরবর্তি-কালে মণিবেগম কর্তৃক এ তহবিল ক্লাইবের হস্তে 


সমর্পিত হয় । এই তহবিল প্রাপ্ত হইয়া, ১৭৭০ থুষ্টাব্বের *ই এপ্রেল, 
ক্লাইব একটা 'ট্াষ্ট ভাণ্ডার প্রতিষ্ঠা করেন। যে সকল ইউরোপীয় 
কর্মচারী ও দৈনিক-পুরুষ ভারতবর্ষে আপিয়া ইংরেজের রাজ্া-প্রতিষ্টা- 
কাধ্যে দেহপাত করিবেন বা তন্দরুণ অকর্্ণা হইয়া পড়িবেন, তাহাদিগের 
সাহায্ের জন্য এই ভাণ্ডার স্থাপিত হন্ব। মৃত বাক্তির বিধবা পত্বীবা 
নাবালক পুত্রগণ সেই ভাগার হইতে সাহায্য পাইবার অধিকারী হন। 


প্রণীত-_“মণিবেগম' ১৫৯ 


রাজ-কার্ধযে নিযুক্ত থাকিয়া অকর্দণা হইয়া পড়িলে তাহাদিগকেও এ 
ভাগুার হইতে সাহীবা-দানের ব্যবস্থ! হয়। ক্লাইব যখন এই ভাগ্ার 
স্থাপন করিয়াছিলেন, তখন এই *ভাগারের আয় হইয়াছিল, বাৎসরিক 
চল্লিশ হাজার গ্বাউ-_-এখনকার হিসাবে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা 

ক্লাইবের নামের দান-পত্র স্বাক্ষর করাইয়। লইয়া, মণিবেগম কছিলেন, 
__“্জীহাপনা ! আপনার অন্তঃকরণ যে কত উচ্চ--কত উদার, এই 
্ান-পরে জগৎ তাহা প্রত্যক্ষ করুক। শিত্রের প্রতি উদ্দার বাবহার--- 
অনেকেই করিতে পারে! কিন্তু শত্রর প্রতি এমন উদারত।--জগতে কে 
দেখাইতে পারিয়াছে ?” ও 

মীরজাফর মনে মনে ভাবিলেন,-একবার বলি-_মণি, এ উদারতা 
ক আমি ক্লাইবের প্রতি দেখাইলাম ?1--তোমার এ সুধামাখ! যুখ-ধানি 
দেখিয়াই আমি যে ক্লাঈবের সব শত্রুতার কথা ভুলিয়! গেলাম!” কিন্তু 
এীরজাফর সে কথ! মুখ কুটির বলিতে পারিলেন না। তিনি কোনক্ষপ 
উত্তন্ন দিবার পূর্বেই মণিবেগম তাভার জয়ধ্বনি করিয়া কহিলেন, 
“প্রাণেশ্বর !-এই এক দান-বাপারেই আপনার যশঃজ্োতি পুিবীবাাপী . 
হইল ।* এই বলিয়াই মণিবেগম মীরজাকফরের ললাটে আপন কমপ-হন্ত 
ন্যস্ত করিলেন )--প্রঘ-ব্হব্গার ন্যায় অপাঞ্গে চাহি! কহিতে লাগিলেন, 
_পপ্রাণেথর! আপনি ঘত উদ্দার--এত মভান্, দাসী এতদিন ভাহা 
বুঝিত্তে পারে, নাই । পর্দে পদে তাই কত অপরাধই করিব! বলিয়াছে। 
আমি অবলা, আপনি আমায় ক্ষনা করুন |” | 

মীরজাফর চমকিয়া উঠিলেন। আজ যেন লকলই প্রহেলিকা। বলিয়া 
মনে হইতে লাগিল ! মণিবেগমের কাতরতার় বিচলিত হুইপ, মীব্রজাফর 
জিজ্ঞাসা করিলেন,--“মণি ! আমি তো! কৈ ভ্রমেও কখনও তোমায় কোনও 
জুঢ় কথা ধলি নাই! তবে কেন তুমি আমায় অমন কথ। কহিতেছ ?” 


১১৪ নং আহিরউ্টালা! ছুট, কলিকাত!। 


৬৩ | ভ্ীদুর্গাদাস লাহিডী- 


মণিবেগম বাম্প-গদগদ-কণে উত্তর দিলেন,-“প্রাণেশ্বর ! আমি 
মন্দভাগিনী, তাই সদ্দাই শঙ্কা! হয়,-শেষ জীবনে আমার অনৃষ্টে নাঁজানি 
কি কষ্টই লিখিত আছে! আরম ষে আপনার বড় সোহাগের-_ বড় 
আদরের মণিবেগম ছিলাম 1 

মণিবেগম বন্ত্রাঞ্চলে মুখ ঢাকিলেন । মীরজাফরের মনে হইল,-_ 
তাহার লোকান্তরের আশঙ্কা করিয়াই মণি ভবিষ্মৎচিস্তায় আকুল 
হইয়াছে । মীরজাফর সাস্তনা-ব্যঞগ্কক-স্বরে উত্তর দিলেন,_“মণি ! তুমি 
কেন ছুঃখ করিতেছ! আমি ব্যবস্থা। করিয়। যাইব,--আমার লোকান্তরের 
পরও তোমার গৌরব অক্ষ থাঁকিবে। তুমি অণুমাত্রও চিন্তিত হইও না 1” 

মীরজাফর আপনার হস্ত-প্রসারণে মণির মুখের বসন সরাইয়! দিলেন 
মণিবেগম ক্রন্দনের স্বরে কহিলেন,---"আমার আর কি আশ! !--কি 
ভরস।! আমি আপনার প্রাণপ্রিয় বেগম ছিলাম ; আপনার লোকান্তরে' 
-_ ঈশ্বর না করুন-__আমায় হয়, তে বা কাহারও বাঁদী-বৃত্তি গ্রহণ 
করিতে হইবে।” | 

মীরজাফর চমকিত হইয়া কহিলেন,--"সে কি !- সেকি! সেকি: 
কথ। বল?” 

মশিবেগম দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়। উত্তর দিলেন,--"আমি কি 
মিথ্যা বজিতেছি? আমার নাজম---আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্র হইলেও-_-সে 
তো সিংহাসনের অধিকারী নহে! আনার নবাবী আমলে আপনার 
যে পুত্র জন্মগ্রহণ করিয়াছে, সেই তে নবাব হইবার অধিকারী। সে 
ষদি নবাব হয়, হাজার আমি তাহাকে পুন্রাধিক স্সেহ করি, সে কি 
আমায় বিমাত। বলিয়! উপেক্ষা কবিবে ন। ?” পর বি 

মীরজাফর। মণি! তুমি ষে কিজিজ্ঞালা করিতেছ, আমি কিছুই 
বুঝিতে পারিতেছি ন1।. আমার কনিষ্ঠ পুত্র মোবারক--সাত বৎসরের 


রি কমলিবী-সাহিতা-মক্ষির ৪ 


প্রনীত-_“মপিবেগম ১৬১ 


বালক মাত্র। তাহার গর্ভধারিণী ববব, বেগম--সম্পূর্ণরূপ সংসারজ্ঞানান- 
ভিজ্ঞ।। মোবারক যদিও সিংহাসন লাভ করে, তোমাকেই তাহার 
, অভিভাবিকার পদ গ্রহণ করিতে হইবে । তবে তুমি ক্ষন অন্য চিন্তায় 
আকুল হইয়াই?” 
মণিবেগম | নানা, আমি আকুল হইব কেন? নাক্তম. ও সৈয়ফ 
আমার যেমন ছুই পুত্র; মোবারককেও আমি আমার সেইরূপ বলিয়া মনে 
করি।. অভিন্ন ভাবি বলিয়াই তো! আমার যত-কিছু ছুর্ভাবনা। 
মীরজাফর । তাহাতে আবার ছুর্ভাবনা! কি? ভিন জনের ফেই 
হউক, একজন নবাব হইলেই হইল! 
মণিবেগম। তাহাই তো! বলিতেছি! কিন্তু আপনার মনে সে 
কভিন্ন-ভাব কৈ? 
বীরজাফর। এমন কঠিন কথ কেন কহিতেছ--মণি' আমি কি 
আমার তিনটা পুত্রকেই সমান স্পেহের চক্ষে দর্শন করি না? 
মণিবেগম। জাঁহাপনা ! দাসী প্রগল্ভা । অপরাধ লইবেন নাঁ। 
য্দি অভয় দেন, তবে বলিতে পারি,--তিন পুত্রের প্রতি আপনার সমান 
স্নেহ নাই। 
মীরজাফর ।. ফেন--কেন? কেন এমন কথা বলিতেছ £ 
মণিবেগম। প্রাণেশ্বর ! যদি তিন পুত্রের প্রতিই আপনার সমান 
স্েহ থাকিবে, তবে আপনি জোষ্ঠ বিগ্কমানে কনিষ্ঠকে সিংহাসনে বসাইবার 
গন্য ব্যাকুলতা প্রকাশ করিবেন কেন? 
মীরজাফরের ফেন চৈতন্যোদ্য় হইল। মীরজাফর যেন তুল 
শবুঝিয়াছিলেন। সুঁতক্কীং লজ্জিত হইয়া! উত্তর দিলেন,_“মণি ! তুমি ঠিক 
বলিয়াছ। নাজাম আমার জোষ্ঠ পুত্র; শ্ুতকাং সর্বাগ্রে াহাকেই 
লিংহাসন-দান কর্তব্য কর্ম ।” ্‌ 


১১৪ নং আহিরীটোলা ছুট, কলিকাতা । 


১৬২ শ্রীদুগাদাস লাহিডী- 


মণি বেগম | তাই তো আমি স্মরণ করাইয়া দিতেছি । নচেৎ, 
উষ্ভাতে আমার কি স্বার্থ আছে? ক্লাইবের নামের দান-পত্রে আমার 
যে স্বার্থ, এ ব্যাপারেও আমার তাহার অধিক স্বার্থ নাই । উভয় ব্যাপারেই , 
আমি আপনার ভারবাহী দালী মাত্র । 

মণি বেগমের কথাগুলি মীরজাফরের হৃদয়ের অন্তস্তলে প্রবেশ করিল । 
ক্লাইবের বাপারে মণি বেগমের রা ভাবের ষে ছায়।-চিত্র তাহার 
হৃদয়ে অঙ্কিত হইয়াছিল, তাহাতে সেই চিত্রই উজ্জ্বল হইয়! উিল। 
মীরজাফর কভিলেন,--আমার টি সিংহাসনে বসাইতে হইবে। 
তোমার উপর সকল কর্ঠুহ্ভার স্থাস্ত রহিল ।” | 

মণি বেগম আপনি বলিতেছেন বটে; কিন্তু নাজমের বিরুদ্ধে 
চারিদিকে ঘোর বড়ধন্ত্রজাল বিকৃত হইয়া আছে! কি করিয়া সে জাল 
ছিন্ন করিতে পাৰিব? আমি অবলা,_-অর্থ-সম্পদৃ-হীন 1 আপনার আদেশ- 
পালন আনার পক্ষে কি প্রকারে সম্ভবপর হইবে? 

মীরজাফর । মণি! কোনও ভাবন নাই! আমার ধন-সম্পত্তি যাহ! 
কিছু আছে, আজি হইতে সকলই তোমার অধিকারে আদিল । আমার 
লোকান্থরের পর, আমার প্রাণ-প্রিয় পুত্র নাজমকে বাঙ্গালার পিংহাসনে 
বসাইতে হইবে। তোমার . উপর আমি সেই ভার অর্পণ করিয়া 
ধাইতেছি। সময় আদিলে, ষেমন করিয্না হউক,; তুমি সে কাধ্য 
সাধন করিবে । এ বিষয়ে আমি এখনই আদেশ-প্ত্র স্বাক্ষর করিয়। 
দিতেছি। আর আর যাহা তোমার আবশ্যক হ তাহারও ব্যবস্থা! 
করিব । 

মণি বেগম । মহারাজ নন্দকুমার আপত্তি ক্রেন 'নাকি ? ূ 

মীরজ্ফর। আমি তাহারে বিশেষ করিয়া বলিয়া ধিব। তিনি 
কখনই তোমার কথ৷ জান করিবেন না। অর্থ-বল-_লোক-বল, কোনও 


প্রণীত-__“মণিবেগমণ ১৬৩ 


ছি 


“বলেরই তোমার অভাব হইবে না! আদেশ-পত্রও যেমন ভাবে লিখিতে 
হয়ঃ তেমন করিয়াই লিখিয়! দিব । ূ 

মণি বেগম । আপনার ন্যায়পরত্তা ও করুণার শেষ নাই। আপনার 
এ প্রস্তাঁব উত্থাপন করিবার পূর্বেই আমার ধারণ। ভিল,-ন্যায়-সঙ্গত 
প্রস্তাব আপনার নিকট কখনই উপেক্ষিত হইবে না। এ সম্বন্ধে আপনার 
আদেশ-পত্রের তাই একটা মুশাবিদাও করাইয়া! রাখিয়াছি। সেইটা 
একবার পড়িয়। দেখিবেন কি? 

মীরজাফর। তুঁণি মুশাবিদা করিয়াছ, তার আর দেখিব কি? 
দেও--কাগজখান! দেও--আমি সহি-মোহর করিয়া! দিতেছি । 

মণি বেগম কাঁগজখানা ধরিয়া রহিলেন। মীরজাফর সহি-মোহর 
শেষ করিয়া দিলেন । 

সহি-মোহর শেষ হইলে, মণি বেগম পুনঃপুন: *নবাব-সাহেবের 
নায়পরভার প্রশংসা-শীত্ধন করিতে লাগিলেন । 

মুখে প্রশংসা করিতে লাগিলেন বটে ঃ কিন্ত মনে মনে কহিলেন,-- 
“বড় সহজেই কাজ ভাদিল হইয়াছে! আজ যদি সহি না হইত, বড়ই 
সঙ্কটে পড়িতাষ ! এখন সময় পাইব,সাবধান হইতে পারিব ! এখন 
দেটখ--কে আমার প্রতিদ্বন্ছী হয় !” 

এই সময় মীরজাফরের একবার মনে হইল,_-্ববব, বেগমের সহিত 
একট! পরামর্শ কর! হইল ন11” মারজাফর তাই ঞ্িজ্ঞাসা করিলেন,-- 
পছেট বেগম এখন কোথায় ?” ৃ 

ত্ীক্ষবুদ্ধি মণি বেগম মীরজাফবের মনের ভাব বুবিতে পারিলেন; 
আপনা হইতেই উত্তর দিলেন,_-“তাহার নিকটই আমি একবার যাইব 
বলিয়া! মনে করিতেছি । সে জমার ছোট বোন্টার মত ৮ তাকে আমি 
ষড় ভালবামি। এমন একটা গুরুতর ব্যাপারে তার সঙ্গে পরামর্শ 


১১৪ নং আহিরীটোগা ছাট কত্িকাতা ।... 


পপ উনি প্লট পাক লাবাাপিকখ 


১৬৪ : শ্রীদুর্গাদাস লাহিড়ী- 


একান্ত আবশ্যক | সে যদি ক্ষুপ্ন হয়-তেমন ব্যবস্থায় আমি কখনই 
সম্মত নহি । যাই--তা”কে. একবার আমি এই আদেশ-পত্রধান! দেখাইয়! 
আসি। সে কি বলে না বলে,_-আপনার নিকট এখনই তাহাকে লইঙ্ক] 
আসিয় শুনাইতেছি।” 

এই বলিয়৷ মণি বেগম গৃহ-নিজ্রাত্ত হইলেন। যাইবার সময় মনে 
মনে বলিতে লাগিলেন,_-"ছোট বেগম !--ববব, বেগম ! মৃঢড় নবাব !-- 
আর কি তাকে তোমার কাছে থেঁস্তে দেব ?” 

প্রকোষ্ঠে প্রবেশ-সময়ে মণি বেগম বিছাতের ন্যায় বিকাশ পাইয়া- 
ছিলেন। বহির্গমন-কালে তাহাতে বজ্জ-গ্রকৃতির পরিচয় পাওয়া গেল। 
বিজলীর হাসি-রাশির-ঘস্তরালে বজ কি এইরূপভাবেই লুক্কায়িত থাকে ? 





চতুর্দশ পরিচ্ছেদ । 


২০৮০০৮স() অক 
পরিবর্তন । 


+$৮৮]. 900. 17650100605 20 ও 
[06 [00106 ০ ৮০-৫৪5, ৃ 

৯৬০6) সা) 1১10৯ 5060 1008 00195 
[0-000100ঘঘ 26108 82? 


উহ 


নিট সময, পরদিন অপরাহে দছাঁরাজ নন্দকুমার নবাব-ভবঙগে 
উপস্থিত হইলেন। সঙ্গে কিরীটেশবরীর পুরোহিত । দেবীর চরণামৃতেক্ষ 


ভুঙ্বলিনী “দাহিত্যা-মন্দির 


প্রণীত-_“মনিবেগম' ১৬৫ 


পাত্র মন্তকে ধারণ করিয়া মহারাজের পশ্চাৎ পশ্চাৎ পুরোহিত 
প্রকোষ্ঠাভ্যন্তরে প্রবেশ করিলেন । নবাব মীরজাফর, নন্দকুমারের 
বআগর্মশ- প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। কতক্ষণে চরণামৃত লইয়া নন্দকুমার 
গমাসিবেন -তজ্জন্ পুনঃপুনঃ পথপানে চাহিয়া দেখিতেছিলেন। যন্ত্রণায় 
দেহ কাতর ভষইয়। পড়িয়াছিল ; তথাপি, সকল যন্ত্রণা বিশ্ব হইরা, এক 
একবার শর্ধযার উপর উঠিয়া বসিতেছিলেন, আর এক একবার 
বহিঃপ্রকোষ্ঠে আসিয়। দণ্ডায়মান হইতেছিলেন । দেবীর চরণামূত পান 
(করিলেই সকল যন্ত্রণার অবসান হইবে,-মীরজাফরের চিত্ত তখন দেই 
'চিন্তাতেই, আকুল হইয়! ছিল। 

 নন্দকুমার আসিয়া উপস্থিত হইলে, মীরঞ্জাফরের আনন্দের আর 
অবধি রহিল না । পুরোহিতের মন্তকে কিরীটেস্বরীর চরণামৃত দেখিয়া, 
মীরজাফর অনুপম আনন্দ অনুভব করিলেন । আনন্দ-গদগদ-কণ্ে তিনি 
নন্গকুমারকে কহিলেন,_'্মহারাজ ! আপনি সত্যই বলিয়াছিলেন। 
মায়ের চরণামুত দর্শন-মাত্র যন আমার যন্ত্রণার এত লাঘব হইল; এ 
চরণামৃত পান করিলে না-জানি আমি কি অনুপম শাস্তিই লাভ করিব! 
আমি দিবানিশি সেই চিস্তার বিভোর হইয়া আছি। দেন--আমাক় 
5রণামূত দেন! মায়ের চরণামূত পান করিয়া এই সন্তপ্ত প্রাগ শান্তিলাভ 
করুক 1” 

চরপামৃত-পানে নবাব একাস্ত আগ্রহ. প্রকাশ করিতে লাগিলেন । 

তখন, নন্দকুমারের ইজি ত-ক্রমে পুরোহিত ব্রাহ্মণ, নবাবকে সেই চরণামত 
পান করাইলেন। ভক্তি-গদগ্-চিত্তে মায়ের চরণামূত পান করিয়।, 
মীরজাফরের পরিতৃপ্তির অবধি রুহিল না। 

* “আহা--কি আরাম! চরণামৃত পান করিবাষাত্র আমার সকল 
খস্থণার অবসান হইল যে 1” মীরজাফর দেবীর উদ্দেশ্ে পুনঃপুনঃ প্রণাঙ্ 


১১৪ হং আহ্রীটে(ল। ঘ্রীট, কলিকাতা । 


১৬৬ শ্রীহুর্গাদাস লাহিড়ী- 


করিলেন । তাহার ক হইতে আপনাআপনিই ষেন “জয় মা 
কিরীটেশ্বরী” ধ্বনি বিনির্গত হইল । “জয় মা কিরীটেস্বরী” রবে প্রকোষ্ঠ 
প্রতিধ্বনিত হইয়া, উঠিল। | 

চরণামূত-পানে অভাবনীয় শাস্তি লাভ করিয়া, মীরজাফর বলিজে 
লাগিলেন__“মহারাজ ! আমি এ জীবনে কখনও এমন শাস্তি লাভ করি, 
নাই। মায়ের চরণামৃত এত শাস্তিপ্রদ! আমি সারাজীবন অস্তদ্দাহে' 
অস্থির হইয়া! আছি; এমন শাস্তিপ্রদ ওবধ জান! থাকিতে, আপনি এত 
দিন আমায় সে সন্ধান দেন নাই কেন? মহারাজ 1--আকঙ্জি আপনাকে" 
যেকি বলিয়া ধন্তবাদ দিব, ভাষায় তেমন শব খুঁজিয়া পাইতেছি না। 
আমার মরণের দিনে আমি যে শান্তিতে মরিতে পাঁইব,_ আমি স্বপ্রেগ, 
এ বিশ্বাস করিতে পারি নাই। আমার শেষজীবনে মা কিরীটেশ্বরী ষে 
আমার প্রতি দয়! প্রকাশ করিবেন, মা যে এমন ঘোর নারকী পাষগ্ুকে- 
চরণে স্থান দিঘেন,--আমি ভ্রমেও কথন মনে করি নাই। মহারাজ? 
- আজ আমি প্রত্যক্ষ গ্রমাণ পাইলাম-_দয়াময়ী সত্যই অধমতাৰিণী 1” 

দয়াময়ী সত্যই অধমতারিণী! তিনি যাঁদ অধমতারিণী না হইবেন, 
পাপীর পরিত্রাণ কোথায় আছে? মা যদি দরামক্সী স্নেহময়ী না হইবেন, 
সারা-জীবন পাপপস্কে নিমগ্র থাকিয়া, চৈতন্তোদয়ে একবার মাত্র তাহাকে 
ডাকিয়া, পাপী পরিত্রাণ লাভ করিবে কেন? মানুষ মোহবশে বুকিতে 
পারে না; তাই সময়ে সময়ে মায়ের করুণার কথা ভুলিয়া যায়। মে 
সাক্ষাৎ করুণা-বূপিণী? তাহা না হইলে, তাহার চরণামূত-পানে মহাপাপী 
মীরজাফরের তাপ-তগ্ত-প্রাণ স্নিগ্ধ হইল কি. প্রকারে? মোহাদ্ধ মন! 
তবু তুমি বুকিতে পার না--ম। কি, মা কেমন ! 

মায়ের অনুপম করুণার কথা শ্মরণ করিয়া, নীরজাফর অধীর হইয়! 
উঠিলেন) “আমি মুপলমান হুইয়াঁও দেবীর অনুগ্রহ লাঁভ করিলাম? 


কষপ্সিনী"লাহিত্য-মন্দির, 


প্রণীত---৫মণিবেগম' ১৬৭. 


দেবীর চরণামৃত পান-মান্র সকল যন্ত্রণার অবসান হইল ; মায়ের করুণার 
দৃষ্টান্ত ইহার অগ্রিক আর কি” হইতে পারে ?” মীরঙাফর পুনঃপুনত 
উচ্চকঠে বলিতে লাগিলেন,_-“দয়াময়ী সত্যই অধমতারিণী 1” 
». মীরজাফরের উক্ভি" প্রত্যুক্তি শ্রবণ করিণা, মহারাঞ্জ নন্দকুমার বড়ই 
"আনন্দিত হইলেন। তিনিও মীরজাফরের সহিত সমস্বরে কহছিলেন,-- 
প্দয়াময়ী সত্যই অধমতাবিণী 1” মহারাজ নন্দকুঘার আরও বলিলেন,- 
“এত করুণ। না হইলে মার-আমার করণাময্জী নাম হইবে কেন? 
আপনি এতদিন যদি এ চবণামৃত পান করতেন, আমার বিশ্বাস, এই 
রোগের যন্ত্রণা আপনাকে কখনই ভুগিতে হইত না। যাহা বউক, বেল! 
অপরাহ্ন হইয়াছে ; আপনি অনাছারে আছেন; এক্ষণে আহারাদির ব্যবস্থ। 
করুন। আমর! এখন আসি ।” 

নন্দকূমার বিদায়-গ্রছণের জন্য গ্রস্তত ₹ইলেন। মীরজাফর বাধা, 
দিয়া বলিলেন,--"আর আহার! মহারাক্জ !--আর আমার আহারে 
প্রবৃত্তি নাই। যে সুধা পান করিয়াছি, তাহাতেই আমার সঙ্কল ক্ষুধা 
ভূঙ্চ দূর হুইয়াছ্ছে। তবে এখন একটা কথা আপনাকে বলিবার' 
আছে । আমার মনে হইতেছেঃ-আজই আমার জীবনের শেষ দিন । 
বিষয়-কম্ম সম্পর্কে ষে সকল পরামর্শ করিবার ছিল, পুব্বেই আপনাকে 
তাহ। জানাইক্লাছি। সে বিষন্ষে আমার আর অন্য কিছুই বক্তব্য নাই 
তবে নাজন যাহাতে বাঙ্গালার মস্নদে 'অধিঠিত হয়, তৎপক্ষে আপনি 
একটু লক্ষ্য রাখিবেন।” 

নন্দকুমার আশ্চর্য্যান্বিত হইলেন । ইতিপুর্কেে নবাবের মছিত পরামর্শ 
হইয়াছিল,__নবাবের কনিষ্ঠ পুত্র মোবারককে সিংহাপনে বসাইতে হইবে। 
কিন্তু আজি আবার নবাব একি কথ! বলেন? নন্দকুমার ভাবিলেন, 
_ বোধ হয়, নবাব ভুল করিতেছেন । সুতরাং তাহাকে স্মরণ 


স 
১১$নং জংহিরীটোল। ছ্ীট, কলিকাত।। 


১৬৮ ্ীহ্গাদাস: লাহিডা- 
করাইবার উদেস্তে কহিলেন,--পআপনার পূর্ব পূর্ব আদেশ অনুপাকে 
.মোবারককে পিংহাসনে বসাইবার বন্দোবস্ত স্থির কর! হইয়াছে । আজ 
আবার কেন অন্ত মত করিতেছেন? এখন আবার নাজমকে সিংহালনে 
বসাইবার চেষ্টা পাইলে, বিশেষ গোল বাধিবার সম্ভাবনা |” 

মীরলাফর। সে বিষয়ে আমি পাকাপাকি হুকুমনাম! লিখিয়া যাইব । 
'নস্ক্যার প্রাক্কালে আপনি যদি আজ একবার আসিতে পারেন, বড় 
ভাল হয়।” | 

সহসা কেন নবাবের এইরূপ মতি-পরিবর্তন ঘটিল,--মহারাজ 
নন্দকুমার কিছুই বুঝিতে পারিলেন ন11 তিনি পুনঃপুনঃ মোবারকের 
পক্ষ-সমর্থন করিতে লাগিলেন। কিন্তু মীরজাফর সে কথায় আর কর্ণপাত 
করিলেন না। নন্দকুমার বুঝিলেন,--'এখন আর আপত্তি কর! 
নিংআয়োজন।' ভাবিলেন,_-ষাহী হইবার, হইবে; এখন আর সে কথায় 
প্রয়োজন নাই৷” তবে সন্ধার সমক্স পুনরাদ তাহাকে আসিতে অম্রোধ 
করায় তিনি কহিলেন--“কেন 1--আর বিশেষ কিছু কারণ আছে কি?” 

নবাব । তাহা না থাকিলে আর এত করিয়! বলিতেছি ? 

নন্দকুমার। কখন আসিত বলেন ?--অবস্তই আিব। 

, নবাব! আর কখন ?--আমাব অস্তিম-সমন্জে |” 

নন্দকুমার। আপনি কেন ওরূপ অমঙ্গলের কখ। কহিতেছেন? 
আপনার শরীর সুস্থ হইয়াছে । আপনি শীত্রহ সারিয়া। উঠিবেন। আপনার 
কোনও চিত্তা নাই। 

নবাব। মহারাজ! সত্যই আমার শরীর সুস্থ হইয়াছে। সতাই 
আমার আর কোনও চিন্তার কারণ নাই। সত্যই আমি এখন স্ুথে 
মৃত্যুকে আপিঙ্গন করিতে পারিব। সত্যই দেবী কিরীটেশ্বরী আজি 
আমার প্রতি করুণা প্রকাশ করিয়াছেন । | | 


কমলিনী-সহিতা-মন্দির, 


প্রণীত--“মণিবেগম' | | ১৬৯ 


মীরজাকর আকাশের পানে উর্ধদৃষ্টি করিয়া কহিলেন,-_“সত্যই 
মহারাজ, এ দেখুন,-ম! আমায় ডাকিতেছেন ! সত্যই মহারাজ, এ 
দেখুন--ম1 আমার'যন্ত্রণার অবসান করিতে চাহিতেছেন ! মহারাজ 1-- 
সারাজীবন শুধুই আমি আত্মন্থ অনুসন্ধান করিয়! ফিরিয়াছি। মহারাজ ! 
_-পারাজীবন* শুধুই আমি পরের অনিষ্ট-সাধনে চেষ্টা পাইয়াছি। 
মহারাজ !-_-সারাধীবন শুধুই আমি জলিয়া পুড়িয়! মরিয়াছি কিন্তু এক 
দিনও মনে এমন স্থথ পাই নাই | মীরজাফরের চক্ষু বাহিয়। জলধার। 
বিনির্গত হইতে লাগিল। নন্দকুমার সাত্বন/-বাক্যে কছিলেন,-_-"এ সময় 
কেন অতীত-চিস্তায় মনকে বাধিত করেন ?” মীরজাফর আবেগ-ভরে 
উত্তর দিলেন, “মহারাজ! আর তো মন ব্যথিত নয়! আর তো! আমি 
চোরের ন্তার় আত্ম-অভিসন্ধি গোপন করিয়া আত্মগ্লানি-বিষে জঙ্জরীভূত 
নহি! কাল প্রভাতে সিনহার যখন ডাকিয়া পাঠাইয়াছিলাম, তাহার 
অল্প পূর্বেই আমার ভ্ঞানসঞ্ধার হয়। কাছার প্ররোচনায় কোন্‌ অপকর্ধ 
করিয়া, কিরূপ ফলভাগী হইয়াছি, 'পেই সময় সকলই আমি প্রত্যক্ষ দর্শন 
করি।” নন্দকুমার কৌতুলহাক্রান্ত হইলেন। মীরজাফর কি সুত্রে কি কথা 
কছিতেছেন--কিছুই বুঝিতে ন! পারায়, তাহ। জানিবার জন্য নাকুমারের 
ক্আগ্রহ হইল। কিন্তু সেসময় সে ভাব প্রকাশ কর! যুক্তিযুক্ত নচ্চে 
বুঝিয়া, নবাবকে সাস্বন/দান-ছলে কহিলেন,--“আপনি এখন একটু 
বিশ্রাধ করুন। সারাদিন উপবাশী আছেন ; এখন ক্াপনাকে কষ্ট হ্ 
ইচ্ছা! হইতেছে না।” 

মীরজাফর অধীর-কঠে উত্তর দিলেন,_“মহারাজ !--ক& আবার 
“কি ? আমার সকল কষ্টই দূর হইয়াছে । তবে কি 'করিক়। আমার কট 
দূর হল, তাহাই একটু বলিতেছি। বলিতে আর অয মাত্র বাকী 
'ছে। একটু স্থির হউন ।” 

নন্দকুমার। আপনি যতক্ষণ থাকিতে বলেন, আমি ততক্ষণই 


১১৪ নং আহিরীটোলা &ট, কিকাঁতা। 


১৭৩ | শ্রীছুর্গাদাস লাহিড়ী- 


থাকিবার জন্য প্রস্তত আছি। আপনার কই না হইলেই হইল। ভাল, 
কি বলিতেছেন,--বলুন ! 

শীরজাফর বলিতে লাগিলেন,--পগত কল্য প্রতাষে শ্যাতাগের 
অব্যবহিত পূর্বে তন্ত্রাঘোরে আমি এক অলৌকিক স্বপ্ন দেখিয়াছিলাম। 
রোগের যন্ত্রণায়, কত কি বিভীষিকাক্র, সাবারাত্রি আমার নিপ্রা হয় নাই । 
জাগিয়া জাগিয়া, কীদিয়া কীদিয়া, খবশেষে আমি ভগবানকে স্মরণ 
করিতেছিলাম | মহারাজ ! বলিতে কি, জীবনে আমি আর কখনও 
তেমন আন্তবিকচার সহিত ভগবানকে স্মরণ করি নাই । জীবনে মেই 
আমার প্রথম আকুল আহ্বান । ভগবানকে ডাকিতে ডাকিতে, শেষ 
রাত্রে আমার একটু তন্দ্রা আসে। সেই তন্দ্রাঘোরে আমি নানারূপ 
বিভীষিকা দেখিতে পাই। প্রথমে এক মহিষারূঢ বিকটাকার 
রুষ্বর্ণ পুরুষ দণ্ড-হস্তে সম্মুখে দণ্ডায়মান হইয়া আমাকে কহিলেন,-_ 
“পাপিষ্ট ! অনেক দিন তোর পাপের ভরা পূর্ণ হইম্াছে। কিন্ত নরকেও 
'তোর স্থান নাই; তাই এত পিন তোকে লইতে পারি নাই। তোর জন্য 
এখন নৃতন নরক প্রস্তত। এইবার তোকে সেখানে যাইতে হইবে । 
' আমি তাহার চরণপ্রান্তে নিপতিত হইয়া, বিনয়-লআর-বচনে রুপাপ্রার্থী 
হইলাম। কিন্তু তিনি রোষকষায়িতলোচনে আমার প্রতি তীব্রদৃষ্টি 
সঞ্চালন করিয়! কহিলেন,--'পাঁপমতি পিশাচ ! তুই তোর আপন প্রভুর 
সহিত যে বিশ্বাসঘাতকতা করিয়াছিস্, অনন্ত কোটা বৎসরেও তোর সে 
পাপের শাস্তির শেষ নাই” আমি বলিতে গেলাম,-*আমি কি করিব! 
দোষ ক্লাইবের। প্ৃাপিষ্ঠ ক্লাইবই আমান্স এই প্রভুজোহিতাক্র-শ্বদেশ- 
দ্রেহিতায় প্রলুব্ধ করিয়াছিল 1 দগুধর সে কথান্ কর্ণপাত করিলেন, 
না। বলিলেন,_“তুই না শ্বীকার পাইলে, ক্লাইব তোর কি করিতে 
পারিত? দোষ তোরই ) স্ৃতরাং ক্লাইবের পাপের দণ্ডও তোকেই ভোগ 

করিতে হইবে ।” আমি ক্লাইবের উদ্দেশে গ্গালি-বর্ষশ করিতে লাগিলাম। 


কমলিনী-পাহিভান্ছিন্দির, 


তখন, সেই দণ্ডধর পুরুষ, দণ্ড উত্তোলন পূর্বক, আমার মন্তকের উপর 
নির্দয়-ভাবে প্রহার করিতে লাগিলেন। যন্ত্রণায় অস্থির হইয়া আমি 
কাদিতে লাগিলাম। কীদিতে কীদিতে, খোদা- খোদা খোদ! ! তুমি 
আমায় রক্ষ। কর--আমি আর তোমার অবাধা হইব ন!+-এই বলিয়া 
ভীৎকার করিয়া উঠিলাম। চীৎকারের সঙ্গে সঙ্গে আমার তক্দ্রাভঙ্গ 
হইল। আমার গুতিহারীর। জাগিয়। উঠিল। স্বপ্ন বলিয়। আমি সকল 
কথাই উড়াইয়! দিলাম ।” | 

মহারাজ নন্দকুমার অধিকতর আগ্রহ-দহকারে জিজ্ঞাসা করিলেন, 
“তার পর ফি ছইল ?* 

মীরজাফর । তারপর ভগবানের নাম ম্মরণ করিয়া, আমি পুনরাকর 
নিদ্রার জন্ঠ চেষ্টা পাইতে লাগিলাম। অল্পক্ষণ পরেই আবার আমার 
তন্ত্রা আদিল। আবার আমি কায়মনোবাকো ভগবানের শরণাপন 
হইলাম। কাদিতে কাঁদিতে ডাকিলাম--“ভগবন্। আর যে যন্ত্রণা সহা 
করিতে পারি না। একবার আমায় চরণে স্থান দাও। আমি আর 
তোমার অবাধ্য হটব না। সেই সমর, আমি দেখিতে পাইলাম না, কিন্তু 
কে ষেন আসিয়া চীৎকার করিয়া বলিয়া গেল,--'মীরজাফর ! তোমার 
আমুংকাল ফুরাইয়া আৰসিয়াছে। তুমি যাইবার জন্য প্রস্তত হও ।/ 
আমি আবার আর্তনাদ করিয়া! কাদিয়া বলিলাম,--'আমি প্রস্তুত আছি। 
আপনি ঘেই হউন, আমায় চরণ-প্রান্তে স্থান দান করুন অনৃষ্ট-কণের 
বাণী উত্তর দিল,--'তোমার অনুত1প-আর্তনার শুনিয়া, জগজ্জননী 
তোমার প্রতি প্রসন্ন হইয়াছেন । মীরজা:র ! তুমি দেবীর শরণাপন্ধ 
হও) আমি কাতর-কে কহিলাম,-'আপনি কে, আপনি কি 
বলিতেছেন, আমি কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না? বদি দয়া করিয়! 
বলিয়াছেন, আমায় পথ প্রদর্শন করুন ।' সঙ্গে সঙ্গেই উত্তর পাইলাম, 
“মহারাজ নন্দকুমারের নিকট তোমার শাস্তির উপায় জিজ্ঞাসা করিও । 


১১৪ নং আহিরীটোল। সীট, কলিকাত। । ' 


১৭২ শ্রীতর্গাদাস লাহিড়ী" 


তিনিই তোমার শাস্তির পথ দেখাইয়া দিবেন।” সে যেন দৈববাদী! 
দৈববাণী আরও বলিল।--আর তিন দিন মাত্র তোমার জীবন-কাল। 
যদি সমর্থ হও, ইহার মধ্যে আপন ' কর্তব্য-পথ অবধারণ করিয়। লইও 1 
“ইহার পরই আমার সম্পূর্ণরূপ নিদ্রাভঙ্গ হয়।* 
মহারাজ জি্তান৷ করিলেন, "আপনি যে কাল বঙ্গ-সিংহাসনের 
'এবং আমাদের ভাগ্য-বিপর্ধ্যয়ের বিষয় উল্লেখ করিয়াছিলেন, স্বপ্রে সে কথ! 
কিছু শুনিয়াছিলেন কি?” : 
মীরজাফর । গুনিক়াছিলাম বলিয়াই তো! আপনাকে বলিয়া"ছলাম-_ 
মহারাজ সাবধান |-_-আপনার ভবিষ্যৎ বড়ই অমঙলময়। 
নন্দকুমার পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,--স্দৈববাদনী আমার সম্বন্ধে 
কি বলিয়াছিলেন ?" 
মীরজাফর । মহারাজ !--মাপ করিবেন, সে কথা আর বলিব না। 
স্থল মাত্র এই জানিবেন,--আমার জীবনাবসানের সঙ্গে সঙ্গে আপনার 
' পদগৌরব সমস্ত নষ্ট হইবে। ক্লাইবই আলগুন, আর যেই আল্গুন,__ 
কেহই আপনাকে রক্ষা! করিতে পারিবে না। 
এই বলিয়া, মীরজাফর আপন বক্তব্য কহিতে আরম্ভ করিলেন; 
কছিলেন,-_-"নিদ্রাত্ঙ্গ হইব! মানত প্রভাতে শঙ্যাত্যাগ করিক্কাই আপনাকে 
ডাকাইয়া পাঠাই। বিষয়-কম্মের কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর, তাই 
আপনাকে জিজ্ঞাস্টু করিয়াছিলাম,-_-'মহারাজ ! আমার উপায় কি 
হইবে ?--আমি মরণেও কি শাস্তিলাভ করিতে পারিব না ? তাহাতে 
আপনি আমায় পরামর্শ দিয়াছিলেন,-_“মা-কিরীটেশ্বরীর শরণাপন্ন হউন ঃ 
তাহার চরণামৃত পান করুন ১--আপনার সকল যন্ত্রণার বসান হইবে ।৮. 
মহারাজ ।--সত্যই তাই। দেবী কিরীটেশ্বত্রীর চরণায়ূত, পান করার 
পর হইতে আমার ব্যাধির যন্ত্রণা দূরীভূত হইন্থাছে। এই সন্তপ্ত দেহ এখন 
ক্রমশঃ যেন শান্তিধারায় স্গিপ্ধ হইতেছে । কতক্ষণে পূর্ণ-শাস্তি পুর্ণ- 


_ কমজিনী-সাহ্ত্য-মঙ্দির, 


প্রণীত- “মণিবেগম | »প৩ 


'িগ্ধতা লাভ করিব--এখন [কেবল সেই প্রতীক্ষায় বসিয়া আছি । 
মহারাজ !--আপনি যদি অনুগ্রহ করিয়া আর অল্পক্ষণ এখানে অপেক্ষা! 
করেন, হয় তে! আমার কবর পর্ধান্ত দেখিয়! ফাইতে পারেন ? 
মহারাজ নন্দকুমার চমকিয়! উঠিলেন ; বলিলেন,-“পে কি! আপনি 
কি বলেন? ছার কপার আপনি আরোগ্য হইবেন, মার কৃপা আপনি 
শাস্তিলান্ড করিবেন । অকারণ কেন অমঙ্গল ডাকির|! আনেন ?* 
মীরজ্গাফর বাম্পগদগদ-কঠে উত্তর দিলেন,__প্মহারাজ | এখন 
অমঙ্গলই আমার মঙ্গল | এখন মরণই আমার শাস্তি ।” এই বলিয়া, 
অন্দকুমারকে আর একবার আসিবার জন্ত তিনি অনুরোধ করিলেন) 
বলিলেন,--”শেষ দিনের শেষ মুহূর্তে আপনাকে :একবার দেখিতে 
পাইলে, আমার বড়ই তৃপ্তি হইবে ।” পুনঃপুনঃ নবাব কেন তাহাকে 
আর একবার সাক্ষাৎ করিতে বলিতেছেন, নন্দকুমার তাহার কোনই কারণ 
উপলব্ধি করিতে পারিলেন না। মনে মনে ভাবিলেন,-নিবাবের শরীরের 
অবস্থা ভাল নহে । তাই বোধ হয় নাজমকে নবাবী প্রদান-সম্বন্ধে পাকা 
পাকি কোনও ব্যবস্থা করিয়া রাখিবেনঠ আর সেই জন্তই আঙিতে 
বলিতেছেন । সে কাজ যে পৃর্ধ্বেই শেষ তইয় গিয়াছে, নদদকুমার তাহা! 
তো! জানিতেন না! যাহা হউক, সেই কথা মনে করিয়াই নন্দকুমার উত্তর 
'দিজেন,--“সন্ধা। পর্যন্ত আমি নিজামতে উপস্থিত থাকিব । যখনই 
প্রয়োজন হইবে, সংবাদ পাঠাইবেন ) আমি আসিয়! যুাক্ষাৎ করিব ।* 
নন্দকুমার চলিয়া গেলেন। মীরজাফর বাঙ্গালার ডি? নান! 
ভাবনায় বিভোর হইয়। পড়িলেন। 
মহারাজ নন্দকুমারের সহিত কিন্তু মীরজাফরের আর সাক্ষাৎ হইল ন!। 
'ববব, বেগমও আর পতির শহ্যাপার্খে আসিবার ন্ুবিধা পাইলেন ন1। 
কি এক কুহক-জালে সকলের সকল পথ অবরুদ্ধ হইয়া গেল ।. মণিবেগষ 
সতর্কতার সহিত সকলের নকল পথ বন্ধ কারলেন। অথচ, কেহই 


- ১১৪ নং আহিরীট্টোল! রুট, কলিকাত।। 


১৭৪ .. শ্রীদর্গাদাস লাহিভী- 


তাহার বিরুদ্ধাচরণে সমর্থ হইল না। কোষাগার তাহার আদ্বত্বাধীন, 
রহিল। কর্দচারিগণকেও তিনি বশতাপন্ন করিয়া লইলেন। 





পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ । 





পমন্যায় । 


“মা! একজন সন্গ্যাপী আসিয়াছেন। আপনার সহিত সাক্ষাৎ, 
করিতে চাঁন'।* 

সেই উদ্ভান-বাটিক।। 1দবাশ্রমের পর যেখানে আসয়। মীরজাফর 
ক্লান্তি দূর করিতেন, মণি আজ সেই উদ্যান-বাটিকায় বসিয়া মীরজাফরের: 
স্বৃতির-উদ্দেশে নিভৃতে অশ্রু বিসঙ্জন করিতেছেন। সেই রাত্রি-- 
সেই সময়--সেই টার্দ সেই ভাবে আলোক বিতরণ করিতেছে; কিস্তু- 
কোথায় সে ন্িদ্ধতা--+কোথার লে পুর্বরাগের প্রাণারাম আনন্দ! সেদিন 
যে কক্ষ অমিয়ব্বী ছিল, আজ তাহ! বিষাদ-বিষ বর্ষণ করিতেছে ।. 
সংদ্ররক্ষিত সেই +কক্ষেত্( যে সামগ্রীটির প্রতি মণির দৃষ্টি পড়িতেছে,. 
তাহাতেই তাহার অশ্রু অনিবার্ধ্য হইয়া! আদিতেছে। মনে হইতেছে-- 
মীরজাফরের ভালবাসার সঙ্গে সঙ্গে সেই সকল সামগ্রী আনন্দ-গদগদ 
গাব প্রকাশ করিয়া, তাহাকে যেন কতই ভালবামিত ; আর এখন যেন, 
তীহাকে দেখিয়া, বিষাদ-মলিন ভাব প্রকাশ করিয়, তাহার তাহার 
.আনাদর করিতেছে । একজনের অভাবে যে এমন হয়--মণি অন্বে মনে 
এখন তাহা অনুভব করিতেছেন। দেখিতেছেন--যেন চারিদিকেই 


কফমলিনী"মাহিতা-যন্দির, 


প্রণীত-_-'মণিবেগম? ১৭৫ 


ধড়যন্ত্র-_যেন চারিদিকে বিষম বিভীধিক1,---এখন আর মানুব-প্রকৃতি কেছ 
যেন তাহাকে ৬ ইজ্জ্ুক নহে! মণি এইরূপ চিন্তামগ্রা-ন্যনা ; 
সহসা! প্রতিহারী আ' সিয়া কাহল,-_“ম।! এক জন সন্ন্যানী আসিম্লাছেন ; 
আপনার সহিত সাক্ষাৎ করিতে টাঞেন ।” বলিতে বলিতে, মণিবেগমের 
উত্তর পাইবাঞ্ পূর্বেই, সন্গযাসী আসিয়! প্রকোষ্ঠে উপস্থিত হইলেন। 
প্রতিহারী, শাণিত তরবারি উ.স্তালন পূর্বক, সন্যাসীর মস্তকচ্ছেদের 
জন্য অগ্রসর হইল । বিনা অন্মতিতে সন্নাসী কেন নে প্রকোষ্ঠে 
প্রবেশ করিলেন- ইহাই প্রতিহারীর রোষের কারণ। কিন্তু সন্নাসীর 
সেই তেজংপুঞ্জ মুত্তি তাহার সে রোষাঁবেগকে ম্বতঃই প্রতিহত করিল। 
পরন্ত ই'ঙগতে মণিবেগমও প্রতিহারীকে নিরস্ত করিলেন । সন্ন্যাপীকে 
অভিবাদন-পুর্বক মণিবেগম কহিলেন,--প্ঠাকুর ! আন গ্রহণ করুন।” 

প্রতিষ্ঠারী দূরে প্রতীক্ষ/। করিতে লাগিল। মর্ণিবেগম সন্ন্যাসীকে 
সম্বোধন করিয়! কহিলেন,_*্ঠাকুর | বলুন--আপনার কি প্রশ্নোজন? 
কি উদ্দেশ্যে আপনি আমার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছেন ?” 

সন্ন্যাসী । ম। 1 আমার একটা প্রার্থনা আছে? 

মণিবেগম । কি প্রার্থনা, বলুন; বদি সাধ্যাতীত না হয়, আপনি 

যাহা চাহিবেন, দিবার জন্য চেষ্টা পাইব। 

সন্গ্যাপী। মা! আমার নিজের জন্য আমার কিছু প্রার্থনা নাই 
'মাপনার জন্তই আমি আপনার নিকট ভিক্ষার্থ। 

মণিবেগম । কি আপনার বক্তব্য, নিঃসঙ্কোচে বলিতে পারেন। 

সন্ন্যাসা । দেখুন, মা, বন্ধনে যে কি সুখ, তা আপনি বেশ বুঝেছেন। 
এনবাব মীরজাফরও বুঝে গিয়েছেন । রহমন--ষে আপনাকে ক্লাইবের 
শিবির থেকে এখানে এনে মীরজাফরের সঙ্গে আবদ্ধ করে দেয়--তারও 
পরিণাম আপনি'প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে আর কেন? এই যে আজ আপনার 
নয়ন অশ্রভারাক্রান্ত, এই যে আজ আপনার, চিত্ত বিষম চিন্তা -জরা গ্রপ্ত, 


১১৪ নং আহ্রীটোল। ছ্রীট, কলিকাতা । 


১৭৬ | | “মণিবেগম” 


তার কারণটুকু ভেবে দেখেছেন কি? সুখ-শাত্তি কোথাও খু'জে পাচ্ছেন 
নাঃ চারিদিকেই যেন বিভীষিকায় ঘিরে আছে; ইহার কারণ কি? 
_ অনিবেগম। আপনিই বলুন। 

সক্ল্যাসী । এ উদ্বেগের এ কর্মের একমাত্র কারণ--বন্ধন । বন্ধনট। 
একটু শিথিল করুন দেখি! 

মপণিবেগম । বুঝেছি । কফিস্তুকি করে শিথিল করা যায়? 

সন্ন্যাসী । বিছুষী-বুদ্ধিমতী ! তাও কি খোলসা করে বল্‌তে হবে? 
ত্যাগই বন্ধন-মোচনের অমোঘ আন্ত্র। একবার একটু ত্যাগশীল হয়ে, 
দেখুন দেখি--কি আনন্দ! আপনার আক্বত্তাধীনে এখন অতুল ধনসম্পৎ 
--আপনি এখন অসীম প্রভৃত্বের অধীশ্বরী। ত্যাগ করতে আরম্ত 
করুন দেধি--ধনম্পৃহ ১ ত্যাগ কর্তে যত্ববান' হউন দেখি--প্রভূত্ব- 
ক্ষমত। ! তা হ'তেই শ্ুখী হবেন--ত! হ'তেই শাস্তি পাঁবেন। এখন 
বাহার আপনার শক্রতাচরণে প্রবৃত্ত, তাহারাও 1 হতেই বশতাপন্ন 
হ'বে। তন্থারাই আপনার যশোজ্যোতিঃ বিশ্ববিভ্ূতি হ'বে। বলিতে 
বলিতে ন্যাম উঠি! ফাড়াইলেন। চক্ষুর নিমেষ পাল্টাইতে ন! 
পাল্টাইতে অনৃষ্য হইলেন। 

মণি চিত্রপুত্তলির ন্যায় নিশ্চল নি কতক্ষণ পরে এক নূতন 
চিন্তার স্রোত ।তাহার অন্তর অধিকার করিল। সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসীর' 
গু গোপালের-_পার্ধীর বন্ধন”্মোঁচন বিষয়ক-কাহিনী তাহার স্বতিপটে 
জাগিয়। উঠিল। তখন, “ত্যাগেই স্ুখ* এই মহাবাক্য--তীভার হৃদয়ে, 
হৃদরে প্রতিধ্বনিত হইতে লাগিল। | 

সেই প্রতিধ্বনি ফলেই মশিবেগম আজ স্প্-প্রতিগঙ্গ মকলেরই" 


শরীতিভাজন_স্মশিতে্বক্ম £ ৭ স৩7110৮৯ 

রী ক 7৫৮ চি 
1 ঞ্ ফারিয়া লি ূ রি 
(সাও হার ও ০, পা এ 


ক রা চি 2 
ইতি প্রথম ভাগ। এ সন ১ ; 


খর 
০০ শি ৯ 





আমাদের ১২ এক টাকা সংস্করণ উপন্যাস সিরিজে--- 
কি কিস্উপন্তাস প্রকাশিত হইক়্াছে,--দেখিয়া কিন্তুন। 


0 








১। »্শাহ্যান্সী- শ্রীধুক্ষ স্ুরেন্্রমোহন ভট্রাচাধ্য | 

২ ।-ল্রাসত্ভী-- » কালীপ্রস্গ দাশ গুপ্ত, এম-এ। 

৩। ০2ভঞান্লাম্থাভিন--গুযুক্ত হেমেন্্রপ্রসাদ ঘোষ, বি-এ। 

৪ | ক্ছিক্মাত্েেী- শরধুক্া শৈলবাল। ঘোষজায়! । 

৫ ফল্ু ডী-_ ্রীযুক্ত সৌরীন্দরমোহন মুখোপাধায, বি-এল | 

৬1 ০স্পহ্মলূল্ নক শ্রীযুক্ত নারারপচন্দর ভট্টাচাধ্য,বিভ্ভাভৃষণ। 

৭1 টিকিস্পাজ্নী- , ক্ষেত্রমোছন ঘোষ । 

৮। পল্বিডিজ্আ-সাহিতা-সম্রাজ্জী স্বণকুমারী দেবী । 

৯। জ্লাওঞাম্শপ্ল্র- প্রযুক্ত প্রফুল্্জ্জ বছু। 
১*1০22লাঞ্ঞতন ৮. লবরুষ্জ ঘোষ, বিএ । 

১১। স্ভহেকল্ল্র স্ুড-_ , নারাকপচক্ছ্ ভট্টাচার্য, বিভাতৃষণ। 
১২। অন্ন আতন্সাক্দ্রী-প্ীশরৎচন্দ্র পাল পেরিচালক) 
১৩। শউজ্জ্_ ওজর ভশ-_ উপন্তাস-সম্রাজ্ঞী নিরুপম। দেবী । 

১৪1১৩ ব্জি1- শ্রীযুক্তা সরসীবাল! বনু 

১৫। ছুলুঞ্পাভুত্া- * শৈলবালা ঘোষ জার! (সরন্থতী ) 
১৬ । আকাত্েলাতকসত্জে পঞ্ডিত শ্ীনারায়ণচজ্জ ভট্টাচার্ধ;। 
১৭। ভকদল্রম্কাল্ল প্লিস শ্রিবুক্ত। সরসীবাল! বন ॥ 
১৮ মন্পিন্বেঙগহ্স জিযুকত ছুর্গাদাস লাহিড়ী । 

প্রতযোকখানিই ১২ এক টাকা, হাঃ দন] । 
নিয়মিত গ্রানহকগণের জন্য সডাক ১/০। 


জগৌষবিছাযী দব, ॥ গ্বহ।ধিকারী-কমজিলী-সাহিতা-দল্দির । 
ছি শরৎচন্দ্র পাল । ৬ ১১৪ নং জাহির টোল! ভীট, কলিকাত। ) 


যৌতুক দিবার গন্ঠ ১২২ দামের এই বইথানি-ই খুব সরেশ !! 
শ্রীশরৎচন্দ্র পাঁল প্রণীত 


জন্ম-ওনত্ন্লাভ্ী র্‌ 
জিন্ষ-এযোসী 
জন্যু-এ এয়োস্ট্ী 





জন্ম-প্রীয়োস্রী 
জন্ম-এয়োন স্ত্রী 
জন্-এয়োক্সী 


জিন্ম-এয়োক্সী” হাতে দিয় নব-বধূুকে আশীর্বাদ করিতে হয় । 


'জন্ম-এয়োক্ত্রী হাতে পাইয়াই 
বধ মাতাগা উপহার দ্াতাকে নমস্কার করিবেন। 
, বান্ধবীদের সহিত গল্প করিবার সনয়--পবিয়ের সময় একখানা বই 
পেয়েছি, সেখাঁনার নাম-_“জন্ম-এক্োন্্রী”-_-এ কথাটাও 


উত্থাপন করিতে পারেন ! 


বই ত বই, জগং-সংসান্ে এমন অনেক বই-ই পয়সা দিলে মেলে” 
“জন্ম-এয়োস্ী' সম্বন্ধে ধীহারা এ কথা বলিবেন; তৎক্ষণাৎ 
জন্ম-এয়োস্্ীর যে কোন দু'একটা পরিচ্ছেধ পড়িয়! শুনাইবেন) অন্দুষ্ট- 
পূর্ব সমালোচক মহাশয়কে সলজ্জহান্তে বলিতেই হুইবে--ত1, তা, 
আগে ত জ্ানতুম না, ত1 দেখ! বইখান। কোথাদ্ব পাওয়া যায় হা?” 
. অপ্রস্ত না হইয়া তখনি ঠিকানা বলিয়া দিবেন, 


০০০ 


টিভি টপিজি পাখি পক্ষ. এপ হজ | ৬৬৫৬ পি পাপে জাজ] $